Categories
রোগ ব্যাধি

ফোঁড়া

ফোড়া খুবই ব্যথাদায়াক। শরীরের বিভিন্ন অংশে বিশেষ করে ত্বকের উপরিভাগে ফোড়া হয়। এছাড়া বগলে, কুচকিতে, যোনিপথের বাইরে ফোড়া হতে দেখা যায়। ফোড়া মাথার ত্বক, যকৃত, পাকস্থলী,  কিডনী, দাঁত এবং টনসিলেরও ফোড়া হতে পারে।

ফোড়া কি

শরীরের কোন অংশে সংক্রমণের কারণে যদি একটি নির্দিষ্ট জায়গায় পুঁজ জমা হয়, তখন তকে ফোড়া বলে। ফোড়ার চারপাশের ত্বক গোলাপী বা লালচে বর্ণের হয়।

ফোড়া হয়েছে কি করে বুঝবেন

ফোড়ার লক্ষণ ও উপসর্গ নির্ভর করে ত্বকের কোন জায়গায় ফোড়া হয়েছে তার উপর । সাধারণত: ফোড়ার লক্ষণ ও উপসর্গগুলো হলো:

  • ফোড়া সাধারণত খুবই ব্যথাদায়ক হয়, লালচে রঙের পিন্ডের মত ঠেসে থাকে (Compressible Mass), স্পর্শ করলে গরম মনে হয় এবং অল্পতেই ব্যথা লাগে।
  •  ফোড়া হলে এর মাথা ফোঁটা আকারে দেখা দেয়। অনেক সময় এটা ব্রণের মত হয় এবং ফেটে যেতে পারে।
  • সঠিকভাবে কাটা অথবা পরিষ্কার করতে না পারলে এর অবস্থা আরও খারাপ হয়। এমনকি এর সংক্রমণ ত্বকের ভিতরের কোষে এবং রক্ত প্রবাহে ছড়িয়ে যেতে পারে।
  • ফোড়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে জ্বর, বমি বমি ভাব, বমি করা, ব্যথা এবং ত্বক লাল বর্ণ হওয়া ইত্যাদি বেড়ে যেতে পারে।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

নিচের উপসর্গগুলো দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে :

  • ফোড়াটি ১ সে. মি. অথবা এক থেকে আধা ইঞ্চি বড় হলে
  • ফোড়া বড় হতে থাকলে এবং এর ব্যথা বাড়তে থাকলে
  • আক্রান্ত ব্যক্তির যদি বহুমূত্র, ক্যান্সার, লিউকেমিয়া,  রক্তনালীর সমস্যা যেমন-পেরিফেরাল ভাসকুলার ডিজিজ (Peripheral Vascular disease), রক্তের রোগ যেমন- সিকেল সেল এনিমিয়া (Sickle-cell Anemia), এইডস থাকলে
  • স্টেরয়েড থেরাপী, কেমোথেরাপী অথবা ডায়ালাইসিস করানোর ইতিহাস থাকলে এবং যিনি মাদক গ্রহণ করেন
  • কুঁচকি অথবা মলদ্বারের কাছাকাছি ফোড়া হলে
  • ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট অথবা এর বেশি জ্বর হলে

কি ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

  • ফোড়া এবং তার চারপাশের স্থান পরীক্ষার জন্য শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা
  • রক্তের পরীক্ষা
  • আল্ট্রাসোনোগ্রাফী

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

ডাক্তারের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যেমন:

  • শল্য চিকিৎসা
  • মুখে ঔষধ সেবন
  • আক্রান্ত স্থানে ঔষধ বা মলম লাগানো

বাড়িতে যত্ন

  • ফোড়া কখনোই ফাটানো যাবে না নিজে নিজে। এর ফলে সংক্রমণ ছড়িয়ে যেতে পারে
  • ফোড়ার মধ্যে সুচ অথবা ধারালো কিছু দিয়ে পুঁজ বের করা যাবে না
  • সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে

কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  • সাধারণত পানি ব্যবহার করে নিজেকে সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • দাড়ি কামানোর সময় যেন ত্বকের কোন অংশ কেটে না যায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
  • কোন ক্ষতের সৃষ্টি হলে দ্রুত ডাক্তরের সাথে যোগাযোগ করতে হবে

ফোড়া সম্পর্কে সাধারণ কিছু তথ্য

  • চিকিৎসা করানো হলে ফোড়া দ্রুত ভালো হয়ে যায়
  • অধিকাংশ লোকেরই এ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার প্রয়োজন পড়ে না
  • ফোড়া কেটে পুঁজ বের করে দিলে ফোড়া দ্রুত ভালো হয়
  • ফোড়া ভালো হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিদিন আক্রান্ত স্থান পরিষ্কার করতে হবে

ফোড়া কেন হয় ?

জীবাণু দ্বারা শরীরের কোন স্থানে সংক্রমণের মাধ্যমে প্রদাহ হয়ে ফোড়া সৃষ্টি হয়। এছাড়া সুচ অথবা সুচের মত যন্ত্র দিয়েও এর সংক্রমণ ঘটতে পারে।

কাদের ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি রয়েছে ?

যাদের ফোড়া হওয়ার ঝুঁকি বেশি তারা হলেন-

  • যারা ক্রনিক স্টেরয়েড থেরাপী নেন
  • যারা কেমোথেরাপী নেন
  • যাদের ডায়াবেটিস আছে
  • যাদের ক্যান্সার আছে
  • যারা কিডনি ডায়ালাইসিস করেন
  • যাদের এইডস আছে
  • যাদের রক্তের রোগ আছে
  • যাদের লিউকেমিয়া আছে
  • যাদের রক্তনালীর সমস্যা আছে (Peripheral vascular Disease)
  • যাদের অন্ত্রনালীতে সমস্যা আছে (Crohn’s Disease, Ulcerative coilts)
  • মারাত্মক পোড়া
  • মারাত্মক আঘাত (Severe trauma)

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *