Categories
ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্থূলতা যখন কিডনি রোগের কারণ

কিডনি রোগের মূল কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। তবে ধীরগতির কিডনি রোগের অন্যতম কারণ স্থূলতা। স্থূলতা ও কিডনি রোগ বর্তমানে পৃথিবীতে সুপ্ত মহামারির আকার ধারণ করেছে।

যেভাবে ক্ষতি করে
দেহে চর্বি জমা হয়ে মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ অধিক খাদ্য গ্রহণ। এ ছাড়া বংশগত কারণ, কর্ম সম্পাদনে ধীরগতি, নানা হরমোন, ওষুধের প্রভাব ইত্যাদি এর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে হজমের পর কিছুটা চর্বিতে রূপান্তর হয়ে দেহে জমা হয়। এই অতিরিক্ত চর্বির কারণে স্থ্থূলতা তৈরি হয়, ওজন বৃদ্ধি পায়। তখন কিডনির ছাঁকনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। একসময় দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে যেতে পারে।

শুধু কিডনি রোগ নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি, ঘুমানোর সময় শ্বাসকষ্ট, লিভারে চর্বি বা ফ্যাটি লিভার, পিত্তথলির রোগ, হাড়ের রোগ, মানসিক রোগ, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব এবং সর্বোপরি জীবনযাত্রার মানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় এই স্থূলতা।

ফলে পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ও কিডনির রোগ সৃষ্টি করে। স্থূল রোগীর ক্ষেত্রে আকস্মিক বা হঠাৎ কিডনি অকেজো হওয়া প্রায়ই দেখা যায়।

করণীয়
দেহের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করে কিডনির কার্যক্ষমতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা। স্থূলতাজনিত কিডনি রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বা কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু করণীয় হলো :

❏সব সময় সুস্থ, সবল, কর্মচঞ্চল থাকার চেষ্টা করা। মুটিয়ে যাওয়া থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা।

❏কায়িক শ্রম, ব্যায়াম করে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা।

❏উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

❏টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার খাওয়া।

❏ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় পরিহার।

❏দৈনিক দেড় থেকে দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা।

❏তামাক, সিগারেট ও মদজাতীয় পানীয় বর্জন।

❏চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, হারবাল ও গতানুগতিক স্থানীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা।

❏কারো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা অথবা বংশগত কিডনি রোগ থাকলে সচেতন থাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *