Categories
Bangla রোগ ব্যাধি

ক্যান্সার, যা সকলের জানা দরকার

ক‍্যান্সার কি?

শরীরের কোন কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিত ভাবে বাড়তে থাকে  তখন তা একটা চাকা বা পিন্ড তৈরি করে । যদি তা আশেপাশের টিস‍্যু ভেদ করার ক্ষমতা সম্পন্ন হয় তবে তাকে ক‍্যান্সার বলে। যদি তা আশেপাশের টিস‍্যু ভেদ করার ক্ষমতা সম্পন্ন না হয় তবে তাকে বিনাইন টিউমার বলে।

 

বাংলাদেশের প্রধান প্রধান ক‍্যানসার সমূহ।

পুরুষদের ক্যান্সার

১. ফুসফুস ক্যান্সার

২. লিম্ফোমা

৩. খাদ্যনালীর ক্যান্সার

৪. পাকস্থলির ক্যান্সার

৫. লিভার ক্যান্সার

 

মহিলাদের ক্যান্সার

১. স্তন ক্যান্সার

২. জরায়ুমুখের ক্যান্সার

৩. ফুসফুস ক্যান্সার

৪. লিম্ফোমা

৫. খাদ্যনালীর ক্যান্সার

 

ক‍্যান্সারের প্রধান লক্ষণ সমূহ

১. অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস।

২. প্রতিনিয়ত  স্বল্পমাত্রার শারীরিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি।

৩. তিল ও আচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন।

৪. ক্ষত সারতে বিলম্ব হ‌ওয়া।

৫. স্বাভাবিক প্রসাব ও পায়খানার অভ‍্যাসের পরিবর্তন।

৬. খাদ‍্যে অরুচি ও বমি বমি ভাব।

৭. ত্বকের স্থূলতা ও চাকা।

৮. অস্বাভাবিক রক্তপাত।

৯. প্রতিনিয়ত ক্লান্ত হয়ে পড়া।

১০. খুসখুসে কাশি ও স্বরভ‌ঙ্গ।

 

ক‍্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

১. ধূমপান ও মদ‍্যপান থেকে বিরত থাকুন। পরোক্ষ ধূমপান থেকেও দূরে থাকুন।

২. ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন।

৩. প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাস করুন।

৪. স্বাস্থ‍্যকর খাবার খান।

৫. পরিবেশ দূষণ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে রক্ষা করুন।

৬. তেজস্ক্রিয় রশ্মি থেকে দূরে থাকুন।

৭. সময়মত টিকা গ্ৰহন: হেপাটাইটিস বি, এইচ পি ভি

৮. শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ান।

সচেতনতাই হোক ক‍্যান্সার প্রতিরোধের প্রধান উপায়।

 

ক্যান্সারের চিকিৎসা

ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রকারভেদ

১. কেমোথেরাপি

২. অপারেশন

৩. রেডিওথেরাপি

৪. হরমোন থেরাপি

৫. ইমুনোথেরাপি

৬, বায়োলজিক্যাল থেরাপি

 

ক্যান্সারের মূল চিকিৎসার দায়িত্ব হল ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের বা অঙ্কোলজিস্টের। তিনি কখন অপারেশন করলে বা কেমোথেরাপি দিলে ভাল ফল পাওয়া যাবে তা বলে দেবেন।

 

ক্যান্সারের বেশ ভাল চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। সরকারি পর্যায়ে বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল হলো জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল, মহাখালী ঢাকা। এছাড়াও বেশিরভাগ পুরাতন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসা করা হয়। বেসরকারী পর্যায়েও অনেক ক্যান্সার হাসপাতাল আছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার চিকিৎসা করলে ক্যান্সার নিরাময় করা সম্ভব। এজন্য ক‍্যান্সার প্রতিরোধে সচেতনতাই মূল উপায়।

ডাঃ মো: লুৎফুল কবীর
এসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার
জাতীয় ক‍্যান্সার গবেষণা ইনিস্টিটিউট ও হাসপাতাল

Categories
Bangla রোগ ব্যাধি

কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্যের সঠিক কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসা নিন।

বয়স্ক এবং যারা পরিশ্রমের কাজ করেন না, এদের মধ্যে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদের উচিত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ

১. আঁশযুক্ত খাবার এবং শাকসবজি কম খাওয়া

২. পানি কম খাওয়া

৩. দুশ্চিন্তা

৪. কায়িক পরিশ্রমের অভাব

৫. অন্ত্রনালিতে ক্যানসার

৬. ডায়াবেটিস

৭. মস্তিষ্কে টিউমার ও রক্তক্ষরণ

৮. দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা

৯. বিভিন্ন ধরনের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

কোষ্ঠকাঠিন্যের লক্ষণ

১. শক্ত ও কঠিন মল

২. মলত্যাগে অনেক বেশি সময় লাগা

৩. অনেক বেশি চাপের দরকার হওয়া

৪. অধিক সময় ধরে মলত্যাগ করার পরও অসম্পূর্ণ মনে হওয়া

৫. মলদ্বারের আশপাশে ও তলপেটে ব্যথা

৬. প্রায়ই আঙুল, সাপোজিটরি বা অন্য কোনো মাধ্যমে মল বের করার চেষ্টা

কোষ্ঠকাঠিন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা। এর চিকিৎসা না করা হলে যেসব সমস্যা হতে পারে

১. মল ধরে রাখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়া

২. পাইলস

৩. এনাল ফিশার

৪. মলদ্বার বাইরে বের হয়ে আসা

৫. মানসিকভাবে অশান্তি

৬. প্রস্রাবের সমস্যা

৭. খাদ্যনালিতে প্যাঁচ লেগে পেট ফুলে যাওয়া

৮. খাদ্যনালিতে আলসার বা ছিদ্র হয়ে যাওয়া l

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়ঃ

১. কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার জন্য বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল ও আঁশযুক্ত খাবার খেতে হবে;

২. বেশি করে পানি খেতে হবে;

৩. দুশ্চিন্তা দূর করতে হবে;

৪. যারা সারাদিন বসে কাজ করেন তাদের নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

৫. ফাস্ট ফুড, ভাঁজা পোড়া খাবার, গরু ও খাশির মাংস এবং অন্যান্য চর্বিযুক্ত খাবার যেগুলো মল শক্ত করে তা বাদ দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হতে পারে।

৬. বয়স্ক এবং যারা পরিশ্রমের কাজ করেন না, এদের মধ্যে যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য হয় তাদের উচিত কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ নির্ণয় করে সে হিসেবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া।

 কোষ্ঠকাঠিন্যের নিরাময়ে ঘরোয়া টিপসঃ

ইসবগুল

দীর্ঘমেয়াদি হজমের সমস্যা সমাধানের জন্য অত্যন্ত প্রচলিত একটি পদ্ধতি হলো ইসবগুলের সরবত খাওয়া। ইসবগুলের সরবত খেলে পেট ঠান্ডা থাকে এবং হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হয়। ২ চা চামুচ ইসুফগুলের ভুসি ১ গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে সাথে সাথে খেয়ে ফেলুন;

ঘৃতকুমারীর রস (অ্যালোভেরা)

যাদের হজমে প্রায়ই গন্ডগোল হয় তাঁরা ঘৃতকুমারীর রস খেলে উপকার পাবেন। ঘৃতকুমারীর রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসের সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করে। ঘৃতকুমারী পাতা থেকে চামচ দিয়ে রস বের করে নিন। এরপর ২ টেবিল চামচ অ্যালোভেরার রসে কিছুটা পানি মিশিয়ে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ও রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে খান। এতে হজম শক্তি বাড়বে, পরিপাকতন্ত্র সতেজ থাকবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। আর ওজনও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

পেঁপে, বেল, পেয়ারা বা আনারস

এসব ফল হজম সমস্যা সমাধানের জন্য বেশ উপকারী । পেঁপেতে আছে পাপেইন ও কাইমোনপ্যাপাইন নামক এনজাইম। এই দুটি এনজাইমই হজমে সহায়ক। এই এনজাইম দুটি পেট পরিষ্কার করে এবং হজম সমস্যার সমাধান করে। আনারসে ব্রোমেলাইন এনজাইম আছে। ব্রোমেলাইন বদহজমের জন্য দ্বায়ী প্রোটিনগুলোকে ধ্বংস করে। ফলে আনারস খেলে পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া ও বদহজম সমস্যার সমাধান হয়। এসব ফল জুস করে কিংবা টুকরো করে চিবিয়ে খেলে পেটের সব ধরণের হজমের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

টক দই

টক দইয়ের ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত উপকারী। এটা শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলে এবং উপকারি ব্যাকটেরিয়া বাড়িয়ে হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয়। টক দইয়ে আছে ল্যাকটিক অ্যাসিড, যা কোষ্টকাঠিন্য দুর করে। এটি কোলন ক্যান্সার রোগীদের খাদ্য হিসাবে উপকারি। টক দই শরীরে টক্সিন জমতে বাধা দেয় | তাই অন্ত্রনালী পরিষ্কার রেখে শরীরকে সুস্থ রাখে ও বুড়িয়ে যাওয়া বা অকাল বার্ধক্য রোধ করে|

মৌরি

যে কোনো মশলার দোকানেই মৌরি কিনতে পাওয়া যায়। খেতে কিছুটা মিষ্টি স্বাদের এই মশলাটি। প্রতিবার খাওয়ার পরে অল্প কিছু শুকনো মৌরি চিবিয়ে খেয়ে নিন। সকালের নাস্তায়, দুপুরের খাবারে কিংবা রাতের খাবার খাওয়ার পড়ে আধা চামচ বা তার চেয়ে একটু কম শুকনো মৌরি ভালো করে চিবিয়ে গিলে ফেলুন। শুকনা গিলতে সমস্যা হলে একটু পানি দিয়ে গিলুন। নিয়মিত খেলে হজমের সমস্যা দূরে থাকবে চিরকাল এবং স্বাস্থ্য ভালো থাকবে।

আদা ও লেবু

হজমের গন্ডগল ঠিক করতে আদাও লেবুর রস মিশিয়ে খেলে বেশ উপকার পাওয়া যায়। ১ চা চামচ আদা বাটা এবং অর্ধেকটা লেবুর রস হাল্কা গরম পানির সাথে এক সাথে মিশিয়ে পান করুন। হজমের গন্ডগোল থেকে নিস্তার মিলবে।

কমলার রস

দুটি কমলা লেবুর রস প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খেলে, ৮-১০ দিনের মধ্যে স্থায়ী ভাবে কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়।

রুটি

তিন ভাগের দু’ভাগ গম এবং একভাগ ছোলা মিশিয়ে আটা তৈরি করে, রুটি বানিয়ে খেলেও পেট পরিষ্কার থাকে।

শাক সবজি ও ফল

পালং শাক, পুই শাক, কলমি শাক বা শাকের স্যুপ, বেথোর শাক, মেথির শাক, টমেটো, গাজর, কাঁচা পিঁয়াজ, পুদিনা, সফেদা, আমলকি, কিছমিছ, আলু বোখারা ও অন্যান্য শাঁস বা ফাইবার যুক্ত খাবার খেলেও পেট পরিষ্কার হয়ে মলত্যাগ হবে।

Categories
Bangla রোগ ব্যাধি

ব্রণ

ব্রণ কি

ব্রণের অন্য নাম এক্নি (ACNE)। এক্নি বা ব্রণ হচ্ছে আমাদের শরীরের ত্বকের ফলিকলের এক প্রকার দীর্ঘমেয়াদী রোগ। মুখমন্ডল, গলা, বুকে ও পিঠের উপরিভাগ আর হাতের উপরিভাগে এই রোগটা হয়। এসব জায়গায় ছোট ছোট দানা, ছোট ছোট ফোড়া, সিস্ট এমনকি নোডিউল (Nodule) হতে পারে। এ রোগটা মুখমন্ডলেই সাধারণত বেশি হয়। ব্রণ বেশিরভাগ সময়ে গালে, নাকে কপালে আর থুতনিতে হয়ে থাকে।

পিউবার্টি বা বয়ঃসন্ধিকালে হরমোন টেস্ট্রোরেন আর প্রোজেস্ট্রোরেনের প্রভাবে ত্বকের সিবেসিয়াস গ্রন্থি বেশি করে তেল নিঃসরণ শুরু করে। তবে এই তেল বের হয়ে আসতে পারে না। কারণ তেল বেরিয়ে আসার পথটি ক্রটিযুক্ত থাকে। তাই তেল গ্রন্থির ভিতর জমতে শুরু করে। জমতে জমতে এক সময়  গ্রন্থিটা ফেটে যায়। ফলে তেল আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ে। তখন ব্যাকটেরিয়া তেলকে ভেঙে টিস্যুতে ফ্যাটি এসিড তৈরী করে। এই ফ্যাটি এসিড ত্বকের ভেতর সৃষ্টি করে প্রদাহ। এর ফলে চামড়ার মধ্যে দানার সৃষ্টি হয়। যা ব্রণ নামে পরিচিত।

কাদের বেশী হয় 

  • বয়ঃসন্ধিকালে এ রোগটা শুরু হয়। ১৮ থেকে ২০ বছরের ছেলেমেয়েদের মধ্যে এ রোগটা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বলা যেতে পারে, এটা টিনএজারদের রোগ।
  • অনেকে অনেক বছর ধরে এ রোগ  ভোগে। ২০ বছর বয়সের পর রোগটা কমে আসে। তবে কিছু মেয়েদের ক্ষেত্রে ৩০ বছর বয়স পর্যন্ত ও এ রোগ দেখা যায় । ছেলেদের বেলায় যদি ২১ বছরের পরও রোগটা হয় তবে তাকে একনি কংলোবেটা বলে।

প্রতিরোধের উপায় 

  • মুখের তৈলাক্ততা কমাতে হবে।
  • তৈলাক্ততা কমানোর জন্য সাবান দিয়ে দিনে কয়েকবার মুখ ধুতে হবে।
  •  তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছতে হবে, সেটাও বারবার ধুয়ে পরিস্কার রাখতে হবে।
  •  বেশি করে শাক-সব্জি খেতে হবে ।
  •  তৈলাক্ত, ঝাল, ভাজাপোড়া খাবারসহ চকলেট, আইসক্রিম ও অন্যান্য ফাস্টফুড খাওয়া কমাতে হবে।
  • ব্রণ একবার হয়ে গেলে খোঁটা যাবে না। খুঁটলে গর্ত হয়ে যাবে। তাছাড়া হাত আর নখ থেকে জীবাণু বেয়ে ব্রণকে আক্রান্ত করে। ফলে ব্রণটা ফোঁড়ায় রূপান্তরিত হয়। মুখে গর্ত তৈরী করে। তাই হাত দিয়ে বার বার ব্রণ স্পর্শ করা যাবে না বা গালানো যাবে না।
  • অনেকে ফর্সা হওয়ার জন্য আর ব্রণের প্রতিকার হিসেবে স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করে। এটা কোনোভাবেই করা যাবে না। এতে চামড়ার প্রচন্ড ক্ষতি হয়। স্টেরয়েড অয়েনমেন্ট ব্যবহার করার জন্য উল্টো ব্রণের সৃষ্টি হতে পারে।
  • ব্রণের জন্য যে দাগ গর্ত হয়, তা দূর করার ব্যবস্থা এখন দেশেই রয়েছে। তার মধ্যে পাঞ্চ স্কাররিমুভার, স্কার এলিভেশন, ডার্মাব্রেশন পদ্ধতিতে গর্ত আর দাগ দূর করে  মুখের ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছে।
  • ব্রন পেকে গেলে বা বেশী হয়ে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

ব্রণের দাগ ও গর্ত কিভাবে দূর করা করা যায়? 

ব্রণের জন্য যে দাগ গর্ত হয়, তা দূর করার ব্যবস্থা এখন দেশেই রয়েছে। তার মধ্যে পাঞ্চ স্কার  রিমুভার, স্কার এলিভেশন, ডার্মাব্রেশন পদ্ধতিতে গর্ত আর দাগ দূর করে  মুখের ত্বক স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যাচ্ছে।

Categories
রোগ ব্যাধি

জন্ডিস

জন্ডিস

ত্বক, মিউকাস মেমেব্রেণ এবং চোখ হলুদ হয়ে যাওয়াকে জন্ডিস বলে। সাধারণত: আমাদের শরীরে প্রতিদিন ১% পুরনো লোহিত কণিকার স্থলে নতুন লোহিত রক্ত কণিকা স্থানান্তরিত হয়। পুরনো লোহিত রক্ত কণিকা গুলো বিলিরুবিন উৎপন্ন করে, যা পায়খানার মাধ্যমে শরীর থেকে বের হয়ে যায়। কোন কারণে শরীর থেকে বিলিরুবিন না বের হতে পারলে এই অধিক বিলিরুবিনের জন্য জন্ডিস হয়। বিলিরুবিনের কারণে ত্বক, চোখ ইত্যাদি হলুদ হয়ে যায়। জন্ডিসের কারণে অন্যান্য সমস্যাও দেখা দেয়।

কখন ডাক্তার দেখাবেন

শিশু এবং বড়দের ত্বক, চোখ ইত্যাদি হলুদ হয়ে গেলো জন্ডিস হয়েছে বলে মনে করতে হবে এবং দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

কি ধরণের পরীক্ষানিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

  • রক্ত পরীক্ষা
  • যকৃতের কার্যকারিতা এবং কোলেস্টরল পরীক্ষা
  • প্রোথোম্বিন টাইম (Prothrombin time)
  • পেটের আল্ট্রাসাউন্ড
  • রক্তের পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • যকৃতের বায়োপসি

কি ধরণের চিকিৎসা আছে

রোগের ধরণ, মাত্রা, রুগীর বয়সের উপর জন্ডিসের চিকিৎসা নির্ভর করে।  চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে:

  • ডাক্তারের পরামর্শ অনুসারে ঔষধ সেবন এবং অন্যান্য বিষয় মেনে চলতে হবে
  • শিশুদের ফিজিওলজিকাল জন্ডিসের (Physiological Jaundice) ক্ষেত্রে কিছু দিনের লাইট থেরাপী দেয়ার প্রয়োজন হতে পারে
  • নবজাতক শিশুদের ক্ষেত্রে বিলিরুবিনের মাত্রা মারাত্মক আকার ধারণ করলে রক্ত পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে

জন্ডিস রোগীর বাড়ীতে যত্ন

  • চিকিৎসার আগে জন্ডিস হবার কারণ খুঁজে বের করতে হবে
  • কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
  • প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে এবং তাজা ফল খেতে হবে
  • রান্না সহ বিভিন্ন কাজে টিউবয়েলের পানি ব্যবহার করতে হবে
  • হাতের নখ কেটে ছোট রাখতে হবে
  • রুগীকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে
  • খাবার-দাবার সবসময় ঢেকে রাখতে হবে
  • স্বাস্থ্য সম্মত পায়খানা ব্যবহার করতে হবে

জন্ডিস কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়

  • যকৃতের কার্যকারিতার সাথে জন্ডিসের কারণ জড়িত তাই যকৃত এবং এর কার্যকারিতা যেন ভালো থাকে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে
  • সুষম খাবার খেতে হবে, অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত খাবার খাওয়া যাবে না
  • মাদক, ধূমপান, শিরাপথে নেশা দ্রব্য নেওয়া পরিহার করতে হবে
  • জন্ডিসের টীকা নিতে হবে
  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে

জন্ডিস হবার কারণ গুলো কি কি?

উত্তর.জন্ডিস হবার কারণ গুলো হলো:

  • যকৃতের কার্যক্ষমতার উপর চাপ পড়লে
  • যকৃত অকেজো হয়ে গেলে
  • পিত্ত থেকে বিলিরুবিন অন্ত্রে যেতে না পারলে

শিশুদের ক্ষেত্রে

  • পিত্তনালী চিকন থাকা বা তৈরী না হওয়া (Biliary Atresia)
  • জন্ম থেকেই বিলিরুবিনের তৈরী ও নি:সরণে সমস্যা থাকলে

বড়দের ক্ষেত্রে

  • হেপাটাইটিস এ, বি,সি, ডি, ই এর জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হলে 
  • মদ্য পান করার কারণে যৃকতে সমস্যা হল্যে 
  • সংক্রমণ, টিউমার বা পিত্তপাথুরীর জন্য পিত্তনালী বন্ধ বা সংকীর্ণ হয়ে গেলে 
  • জন্ম থেকেই বিলিরুবিন প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকলে 
  • মাদক সেবনের কারনে  হেপাটাইটিস হলে 
  • রক্ত অতিরিক্ত ভাঙ্গার কারণে রক্তশূণ্যতা হলে (Hemolytic anemia) 

 

Categories
Bangla Featured রোগ ব্যাধি

ডায়াবেটিস

ডায়াবেটিস একটি বিপাক জনিত রোগ। আমাদের শরীরে ইনসুলিন নামের হরমোনের সম্পূর্ণ বা আপেক্ষিক ঘাটতির কারনে বিপাকজনিত গোলযোগ সৃষ্টি হয়ে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বৃদ্ধি পায় এবং এক সময়  তা প্রস্রাবের সংগে বেরিয়ে আসে। এই সামগ্রিক অবস্থাকে ডায়াবেটিস বলে। ডায়াবেটিস ছোঁয়াচে বা সংক্রামক কোন রোগ নয়।

ডায়াবেটিস হয়েছে কিভাবে বুঝবেন 

ডায়াবেটিস হলে সাধারণত: যেসব লক্ষন ও উপসর্গ গুলো দেখা দেয়:

  • ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া
  • খুব বেশী পিপাসা লাগা
  • বেশী ক্ষুধা পাওয়া
  • যথেষ্ঠ খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যাওয়া
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা বোধ করা
  • ক্ষত শুকাতে দেরী হওয়া
  • খোশ-পাঁচড়া,ফোঁড়া প্রভৃতি চর্মরোগ দেখা দেওয়া
  • চোখে কম দেখা

ডায়াবেটিসের প্রকারভেদ

ডায়াবেটিসের মূলত চারটি ধরন রয়েছে।

) ধরন ১ (টাইপ.)- এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন একেবারেই তৈরী হয় না। সাধারণতঃ ৩০ বৎসরের কম বয়সে (গড় বয়স ১০-২০ বৎসর) এ ধরনের ডায়াবেটিস দেখা যায়। সু্‌স্থ্য থাকার জন্য এ ধরনের রোগীকে ইনসুলিন নিতে হয়। এই ধরনের রোগীরা সাধারনত কৃষকায় হয়ে থাকেন।

) ধরন ২ (টাইপ.)-এই শ্রেণীর রোগীর বয়স অধিকাংশ ক্ষেত্রে ত্রিশ বৎসরের উপরে হয়ে থাকে। তবে ত্রিশ বৎসরের নিচে এই ধরনের রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলেছে। এই ধরনের রোগীদের শরীরে ইনসুলিন তৈরী হয় তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ঠ নয় অথবা শরীরে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক সময় এই দুই ধরনের কারণ একই সাথে দেখা দিতে পারে। এই  ধরনের রোগীরা ইনসুলিন নির্ভরশীল নন। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং নিয়িমিত ব্যয়ামের সাহায্যে এদের চিকিৎসা করা সম্ভব। এই ধরনের রোগীরা বেশীরভাগ ক্ষেত্রে স্থূলকায় হয়ে থাকেন।

) অন্যান্য নির্দিষ্ট কারণ ভিত্তিক শ্রেণী

  • জেনেটিক কারনে ইনসুলিন তৈরী কম হওয়া
  • জেনেটিক কারনে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া
  • অগ্ন্যাশয়ের বিভিন্ন রোগ
  • অন্যান্য হরমোনের আধিক্য
  • ঔষধ ও রাসায়নিক দ্রব্যের সংস্পর্শ
  • সংক্রামক ব্যধি
  • অন্যান্য কোন প্রতিরোধ ক্ষমতার জটিলতা

এই ধরনের রোগী ক্ষীণকায় ও অপুষ্টির শিকার হয়ে থাকে এবং ইনসুলিন ছাড়া অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারে। এই ধরনের রোগীর বয়স ৩০ বৎসরের নিচে হয়ে থাকে।

)গর্ভকালীন ডায়াবেটিসঅনেক সময় গর্ভবতী অবস্থায় প্রসূতিদের ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। আবার প্রসবের পর ডায়াবেটিস থাকে না। এই প্রকারের জটিলতাকে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়। গর্ভবতী মহিলাদের ডায়াবেটিস হলে গর্ভবতী,ভ্রুণ,প্রসূতি ও সদ্য-প্রসূত শিশু সকলের জন্যই বিপদজনক হতে পারে। বিপদ এড়ানোর জন্য গর্ভকালীন অবস্থায় ডায়াবেটিসের প্রয়োজনে ইনসুলিনের মাধ্যমে বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। এই ধরনের রোগীদের প্রসব হাসপাতালে করা প্রয়োজন।

কি কি পরীক্ষা নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে

  • খালি পেটে রক্ত পরীক্ষা
  • ভরা পেটে রক্ত পরীক্ষা
  • প্রস্রাব পরীক্ষা
  • কোলেস্টরল,থাইরয়েডের কার্যাবলী,যকৃত এবং কিডনী পরীক্ষা

ডায়াবেটিসের চিকিৎসা

ডায়াবেটিস সম্পূর্ণ সারানো বা নিরাময় করা যায় না। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা যায়। এবং এই বিষয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে করণীয়

) নিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ -ডায়াবেটিস হলে খাদ্যের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়। খাদ্যের নিয়ম মেনে চলার প্রধান উদ্দেশ্য থাকে: ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, স্বাস্থ্য ভাল রাখা।

  • আঁশবহুল খাবার ডাল, শাক (পালং, পুই, কচু, কলমি, লাল শাক, সবজি (ফুলকপি, বাধাকপি, লাউ, কাচা পেঁপে, চাল কুমড়া, ডাঁটা, চিচিঙ্গা, পটল, টমেটো, শশা), টক ফল (কচি ডাব, লেবু, আমড়া, কাল জাম, কামরাঙ্গা, জাম্বুরা, বাঙ্গি, কাচা আম, পেয়ারা, ইত্যাদি) ইচ্ছামতো খাওয়া যাবে।
  • শর্করা জাতীয় খাদ্য, মিষ্টি ফল ও মিষ্টি সবজি পরিমানমতো খেতে হবে।
  • উদ্ভিদ তেল, অর্থাৎ সয়াবিন তেল, সরিষার তেল ইত্যাদি এবং সব ধরনের মাছ খাওয়া অভ্যাস করতে হবে
  • চিনি/গুঁড়-মিষ্টি জাতীয় খাবার, শরবত  (কেক, পেস্তি, জ্যাম, জেলি, মিষ্টি, মিষ্টি বিস্কুট, সফট ড্রিক কোক, পেপসি, ট্যাং, ওভাল্টিন, হরলিক্স কনডেন্সড মিল্ক, আইস্ক্রিম ইত্যাদি) খাওয়া যাবেনা।  প্রয়োজনে ডায়াবেটিক চিনি ও ডায়েট ড্রিংকস খাওয়া যাবে।
  • ঘি, মাখন, চর্বি,ডালডা, মাংস, তেলে ভাঁজা খাবার, ফাস্ট ফুড  ইত্যাদি কম খেতে হবে।
  • অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হলে অর্থাৎ অসু্‌স্থ অবস্থায় বিশেষ খাদ্য-ব্যবস্থা জেনে নিতে হবে।

) ব্যায়াম-রোগ নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যায়াম বা শরীর চর্চার ভূমিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ব্যায়াম করলে শরীর সু্‌স্থ থাকে,ইনসুলিনের কার্যকারিতা ও নি:সরনের পরিমাণ বেড়ে যায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে থাকে। প্রতিদিন সকালে অথবা বিকালে অন্তত: ৩০-৪৫ মিনিট দ্রুত হাঁটতে হবে ।

) ঔষধসকল ডায়াবেটিক রোগীকেই খাদ্য,ব্যায়াম ও শৃঙ্খলা মেনে চলতে হবে। অনেক ডায়বেটিস রোগীর ক্ষেত্রে খাবার বড়ি অথবা ইনসুলিন ইনজেকশনের দরকার হতে পারে।

) শিক্ষা ডায়াবেটিস আজীবনের রোগ। সঠিক ব্যবস্থা নিলে এই রোগকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ব্যবস্থাগুলি রোগীকেই নিজ দায়িত্বে মেনে চলতে হবে। এ রোগের সুচিকিৎসার জন্য ডায়াবেটিস সর্ম্পকে রোগীর যেমন শিক্ষা প্রয়োজন, তেমনি রোগীর নিকট আত্মীয়দেরও এই রোগ সর্ম্পকে কিছু জ্ঞান থাকা দরকার।

কাদের ডায়াবেটিস হতে পারে?

যে কেউ যে কোন বয়সে যে কোন সময় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারেন। তবে তিন শ্রেণীর লোকের ডায়াবেটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে:

  • যাদের বংশে, যেমন-বাবা-মা বা রক্ত সর্ম্পকিত নিকট আত্মীয়ের ডায়াবেটিস আছে
  • যাদের ওজন অনেক বেশী
  • যারা ব্যায়াম বা শারীরিক পরিশ্রমের কোন কাজ করেন না
  • বহুদিন ধরে কর্টিসোল জাতীয় ঔষধ ব্যবহার করলে

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস থেকে কি ধরনের বিপদ হতে পারে?

  • পক্ষাঘাত
  • স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতা
  • হুদরোগ
  • পায়ে পচনশীল ক্ষত
  • চক্ষুরোগ
  • মুত্রাশয়ের রোগ, প্রস্রাবে আমিষ বের হওয়া, পরবর্তীতে কিডনীর কার্যক্ষমতা লোপ পাওয়া
  • পাতলা পায়খানা
  • যক্ষা
  • মাড়ির প্রদাহ
  • চুলকানি
  • ফোঁড়া
  • পাঁচড়া
  • রোগের কারণে যৌন ক্ষমতা কমে যাওয়া
  • মহিলাদের ক্ষেত্রে বেশী ওজনের শিশু, মৃত শিশুর জন্ম, অকালে সন্তান প্রসব, জন্মের পরই শিশুর মৃত্যু এবং নানা ধরনের জন্ম ত্রটি দেখা দিতে পারে

কিভাবে বুঝবেন আপনার ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে?

উত্তর.ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আছে কিনা বোঝার উপায় হচ্ছে রক্তের শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা পরীক্ষা করে দেখা। যদি খালি পেটে রক্তের শর্করার (গ্লুকোজ) মাত্রা ৬.১ মিলি মোল/লিটার থাকে এবং খাওয়ার পর ৮.০ মিলি মোল/লিটার পর্যন্ত হয়, তবে ডায়াবেটিস খুব ভাল নিয়ন্ত্রণে আছে বলে মনে করতে হবে।

ডায়াবেটিস কি সারানো যায়?

উত্তর. ডায়াবেটিস রোগ সারে না । এ রোগ সারা জীবনের রোগ। তবে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহন করলে এ রোগকে খুব ভালভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে থাকলে প্রায় স্বাভাবিক কর্মঠ জীবন যাপন করা যায়।

যা মনে রাখতে হবে

  • নিয়মিত ও পরিমাণ মতো সুষম খাবার খেতে হবে
  • নিয়মিত ও পরিমাণমতো ব্যায়াম বা দৈহিক পরিশ্রম করতে হবে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ও ব্যবস্থাপত্র সুষ্ঠভাবে মেনে চলতে হবে
  • শরীর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে
  • পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হবে
  • নিয়মিত প্রস্রাব পরীক্ষা করতে হবে এবং ফলাফল প্রস্রাব পরীক্ষার বইতে লিখে রাখতে হবে
  • চিনি, মিষ্টি, গুড়, মধুযুক্ত খাবার সম্পূর্ণ বাদ দিতে হবে
  • ধূমপান করা যাবে না
  • শারীরিক কোন অসুবিধা দেখা দিলে দেরী না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে
  • ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোন কারণেই ডায়াবেটিস রোগের চিকিৎসা বন্ধ রাখা যাবে না
  • তাৎক্ষনিক রক্তে শর্করা পরিমাপক যন্ত্র দিয়ে নিজে নিজেই রক্তের শর্করা পরিমাপ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে সবচেয়ে ভাল
  • রক্তে শর্করা পরিমাপক বিশেষ কাঠি দিয়েও তাৎক্ষনিকভাবে রক্তের শর্করা পরিমাপ করা যায়

সংকলনে-

ডাঃ তানভীর  আহমদ   সিদ্দিকী

Categories
Bangla

গর্ভবতী ও প্রসুতি নারীর করনীয়

গর্ভবতী ও প্রসুতি নারীর খাবার ও ওষুধ

 

Categories
Bangla স্বাস্থ্য পরামর্শ

দাঁত ভালো রাখার উপায়

সুস্থ ও সবল দেহের জন্য দাঁত ও মাড়ির তথা মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা একান্ত প্রয়োজন।

টুথব্রাশ

নরম থেকে মধ্যম টুথব্রাশ ব্যবহার করাই উত্তম। লক্ষ রাখবেন যে শলাকাগুলোর মাথা শক্তভাবে মেলানো ও সব শলাকা মিলে একটি পরিষ্কার সমতল ভূমির মতো তৈরি আছে। তবে যত ধরনের ব্রাশই থাকুক না কেন, দাঁত ও মাড়ির ওপর থেকে খাদ্যকণা দূর করে ফেলাই দাঁত ব্রাশ করার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। নিয়মিত ব্যবহূত একটি ব্রাশ সাধারণত দুই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়।

কতবার দাঁত ব্রাশ করবেন

প্রতিদিন দুবার দাঁত ব্রাশ করা প্রয়োজন—সকালে এবং রাতে ঘুমানোর আগে। প্রতিবারই তিন-চার মিনিট দাঁত ব্রাশের পর প্লাক পরিষ্কার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। যদিও বলা হয় দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করতে হয়_রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে আর সকালে নাশতার পর। কিন্তু প্রতিবার খাবার খাওয়ার পরই দাঁত ব্রাশ করা দরকার। অনেক কারণেই তা আমাদের অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। সম্ভব না হলে অন্তত প্রতিবার খাওয়ার পর ভালো করে কুলকুচি করে নিন, সকালে ও রাতে দুইবার ব্রাশ করুন।

কীভাবে দাঁত ব্রাশ করবেন

ব্রাশটিকে দাঁতের ৪৫ ডিগ্রি অবস্থানে রেখে দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থল থেকে শুরু করতে হবে। ব্রাশটিকে দাঁতের গোড়ার দিকে খুব ধীরে অথচ শক্তভাবে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটু ঝাঁকিয়ে সব দাঁতের ফাঁকের কাছে নিতে হবে। এমনভাবে ব্রাশ করতে হবে, যাতে দাঁতের বাইরের অথবা ভেতরের কোনো অংশ বাদ না পড়ে।

ব্রাশ ও পেস্ট ছাড়াও দাঁত পরিষ্কার করা যেতে পারে। যেমন, নিমের ডালকে ব্রাশের মতো ছিলে ব্যবহার করা যায়। লক্ষ রাখতে হবে, দাঁতের ফাঁকে বা দাঁতের গায়ে লেগে থাকা খাদ্যকণা পরিষ্কার হয়েছে কি না। দাঁত পরিষ্কার করার পর একবার আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখে নেওয়া ভালো, সত্যি সত্যি দাঁত পরিষ্কার হয়েছে কি না।

১) প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে টুথপেস্ট ও ব্রাশ দিয়ে ওপর থেকে নিচে এবং নিচ থেকে ওপরের দিকে ভালো করে দাঁত ব্রাশ করে নেবেন এবং দাঁতের ভেতর দিকেও ভালো করে মাজবেন।

২) যেসব জায়গা ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করা সম্ভব নয় সেসব জায়গায় ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার করবেন এবং মাড়ির সুরক্ষায় জিহ্বাও পরিষ্কার করে নেবেন। ফ্লসিং হচ্ছে সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা বের করা হয়। অনেকেই কাজটি করেন টুথপিক বা খিলালের মাধ্যমে। অনেকে ব্যবহার করেন পিন জাতীয় ধাতব কিছু। বাস্তবে দুটোই ক্ষতিকর। ভালো হলো সুতা দিয়ে দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা খাদ্যকণা বের করা। তবে সাধারণ সুতা থেকে ভালো হলো ফ্লসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি সুতা ব্যবহার।

৩) বিশেষ বিশেষ খাবার যেমন-পাউরুটি, বিস্কুট, কেক, চকলেট-লজেন্স, আইসক্রিম ইত্যাদি খাওয়ার পর খুব ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করে নেবেন। তা না হলে ক্যাভিটি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

৪) ফ্লোরাইড যুক্ত যে কোনো টুথপেস্ট দাঁতের জন্য বেশ উপকারী। দু-তিন মাস পর পর টুথপেস্টের ব্র্যান্ড বদল করে নেয়া ভালো, কারণ বিভিন্ন পেস্টে বিভিন্ন ধরনের উপাদান থাকে। ফ্লুরাইড দাঁতের ক্ষয়রোগ প্রতিরোধ করে। ফ্লুরাইড এনামেলের সঙ্গে মিলিত হয়ে এনামেলকে আরও শক্তিশালী করে এবং এসিডের আক্রমণ থেকে দাঁতকে রক্ষা করে।

৫) কয়লা, গুল, টুথ পাউডার, ছাই, মাটি, গাছের ডাল ইত্যাদি ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। এতে দাঁত ও দাঁতের মাড়ির সুরক্ষা হয় না মোটেই।

৬) ধূমপান করা এড়িয়ে চলুন। কারণ এতে মুখ ও দাঁতের ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও তামাক পাতা ও পান-সুপারিও খাবেন না একেবারেই এতে দাঁত ক্ষয় হয়ে যায় বেশ দ্রুত।

৭) হাঁ করে ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে তা দূর করার চেষ্টা করুন, কারণ হাঁ করে ঘুমানোর ফলে মুখ ও দাঁতের রোগ বেড়ে যায়।

৮) ঘুমানোর আগে কখনো বিস্কুট, কেক, চকলেট-লজেন্স খাবেন না কারণ এগুলো খুব সহজে দাঁতে আটকে যায়। আর খেলেও ভালো করে দাঁত পরিষ্কার করে ফেলবেন। নতুবা দাঁতের ক্ষতি হয় অনেক বেশি।

৯) আঁশযুক্ত ও শক্ত খাবার যেমন-গাজর, পেঁয়ারা, আমড়া, ইক্ষু, আনারস, নাশপাতি, আপেল, নারকেল ইত্যাদি দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এগুলো চোয়ালের স্বাভাবিক গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

১০) ভিটামিন সি জাতীয় খাবার দাঁত ও মাড়ির জন্য অত্যন্ত উপকারী। লেবু, আমলকী, কমলা, টমেটো ও বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও অন্যান্য ভিটামিন থাকে। তাই দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় খাদ্য তালিকায় রাখুন এইসকল খাবার।

১১) অতিরিক্ত চা-কফি পানও দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। কোমল পানীয়, বোতলজাত জুসও দাঁতের জন্য ক্ষতিকর। এগুলো খেলেও সঙ্গে সঙ্গে পানি পান করুন বা কুলি করে নিন।

১২) দাঁতে কোনো ক্ষত ধরা পড়লে, দাঁতে বা মাড়িতে ব্যথা হলে, মাড়ি থেকে রক্ত ঝরলে কিংবা দাঁত শিরশির করলে অবশ্যই দাঁতের চিকিত্সকের কাছে যান। সঠিক সময়ে চিকিত্সা করালে দাঁতের সুরক্ষা নিশ্চিত হতে পারে। বছরে অন্তত দুবার দন্ত চিকিৎসকের কাছে মুখ ও দাঁত পরীক্ষা করানো ভালো। কেননা অনেক সময় দাঁত ও মাড়ির এমন কিছু সমস্যায় আমরা আক্রান্ত হই, যা মারাত্মক পর্যায়ে না পৌঁছালে আমরা টের নাও পেতে পারি।

Categories
Bangla স্বাস্থ্য পরামর্শ

চোখ ও চোখের দৃষ্টি ভাল রাখার উপায়

  • সুষম খাবারঃ
    চোখ ও চোখের দৃষ্টি ভাল রাখতে নিয়মিত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, চর্বি, খনিজ লবন, পানি ও ভিটামিন জাতীয় খাবার প্রয়োজনীয় পরিমানে গ্রহন করতে হবে।
    ভিটামিনের মধ্যে ভিটামিন “এ”, ভিটামিন “ই”, ভিটামিন “সি”, এবং জিংক দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শাকসবজী, ফলমূল, ছোট মলাঢেলা মাছ ইত্যাদি বেশী বেশী খেতে হবে। শিশুদের ৬ মাস বয়স থেকে বুকের দুধের পাশাপাশী শাকসবজী, ফলমূল অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। খাঁটি দুধ আপনার চোখের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিন এক গ্লাস দুধপান আপনার চোখের দৃষ্টিকে বহুদিন পর্যন্ত অক্ষত রাখবে। এছাড়া ছানি পড়া বা গ্লুকোমার হাত থেকে রক্ষা করতেও দুধের জুড়ি নেই।

 

  • পানি পান

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন চোখ ভালো রাখতে শরীরে আর্দ্রতা থাকা আবশ্যক। বেশি করে পানি পান করলে শরীর আর্দ্র থাকে।

 

  • আলোর সঠিক ব্যবহারঃ
    চোখ ভাল রাখার জন্য কম আলো বা তীব্র আলোতে লেখাপড়া এবং অন্যান্য কাজ কর্ম করা উচিৎ নয়। দিনের বেলা সূর্যের আলো সরাসরি ব্যবহার করা উচিৎ নয়। রাতে টিউব লাইটের আলো চোখের জন্য আরাম দায়ক। টেবিলল্যাম্পের আলোতে লেখাপড়ার সময় ল্যাম্পটি দেয়ালের দিকে রেখে প্রতিফলিত আলোতে পড়া ভালো। যে আলো কম্পমান নয় সে আলো ব্যবহার করা ভালো।

 

  • টিভি দেখাঃ
    টিভি দেখার সময় টিভির পিছনের দিকের দেয়ালে একটি টিউব লাইট বা শেড যুক্ত ৪০ বা ৬০ পাওয়ারের বাল্ব লাগানো উচিৎ। সাধারণত ১০ ফিট দূর থেকে টিভি দেখা উচিৎ তবে ৬ ফিটের কম দুরত্ব থেকে টিভি দেখা উচিৎ নয়। ঝিরঝির করা, কাঁপাকাঁপা ছবি এবং ভৌতিক ছায়া যুক্ত ছবি না দেখাই ভাল। রঙ্গিন টিভিতে রং (কালার), উজ্জলতা (ব্রাইটনেস) এবং কন্ট্রাস্ট ঠিক রেখে টিভি দেখা উচিৎ। একটানা অনেকক্ষন টিভি দেখা উচিৎ নয়, মাঝে মাঝে দর্শন বিরতি দিয়ে টিভি দেখা চোখের জন্য ভাল।

 

  • কম্পিউটার ব্যবহারঃ

অন্ধকার ঘরে কম্পিউটার চালাবেন না। কম্পিউটার ব্যবহারের সময় মনিটর বরাবর উপরের দিকে টিউব লাইট জ্বালিয়ে রাখুন। মনিটরের উল্টাদিকে মনিটরে প্রতিফলিত হয় এমন কোন বাতি জ্বালিয়ে রাখবেন না। মনিটরের দিকে সরাসরি মুখ করে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করুন। একটানা অনেকক্ষন মনিটরের দিকে তাকিয়ে থাকা ঠিক নয়। এক্ষেত্রে কিছুক্ষণ পর পর চোখকে বিশ্রাম দেয়া উচিৎ। বিশ্রামের জন্য কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে রেখে আবার কাজ শুরু করুন।

  • ধুলো ময়লা ও দূষিত পরিবেশঃ
    দূষিত পরিবেশ, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক গ্যাস কিংবা কল – কারখানার পরিবেশ চোখের জন্য ক্ষতিকর। এসব ক্ষেত্রে প্রতিদিন কাজের শেষে চোখ ঠান্ডা ও পরিষ্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

    সূর্যালোকের অতি বেগুনী রশ্মি চোখের শত্রু তাই সূর্যালোক থেকে দূরে থাকা উত্তম । রোদে গেলে সানগ্লাস পড়া উচিৎ। যাদের এমনিতেই চশমা পড়তে হয় তাদের ফটোক্রোমেটিক লেন্স ব্যবহার করা আরাম দায়ক হবে।

 

  • চোখের বিশ্রামঃ

একনাগাড়ে কম্পিউটার বা প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করবেন না। চোখকে সাময়িক বিশ্রাম দিন। কাজ করতে করতে বা পড়তে পড়তে যখনই আপনার মনে হবে যে চোখ যেন আর চলছেই না, বা ক্লান্ত হয়ে চোখে ব্যথা করছে, তখনই আপনি ৫ থেকে ১০ মিনিট এভাবে হাতের তালু দিয়ে চোখ ঢেকে কল্পনায় সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্যে হারিয়ে যান। প্রতিদিন রাতে আটঘন্টার ঘুম চোখের স্বাস্থ্য এবং সৌন্দর্য ধরে রাখতে খুবই জরুরী।

 

  • ধূমপান ও মদ্যপান ত্যাগ

ধূমপান আপনার চোখের ছানি, অপটিক নার্ভ ক্ষতি, এবং পেশীর বৃদ্ধির অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। ধূমপান ও মদপানের অভ্যাস ছাড়লে চোখ ভালো থাকে।

 

  • চোখে প্রসাধনীর ব্যবহারঃ

প্রসাধনী চোখের জন্য ক্ষতিকর। অতিরিক্ত প্রসাধনী চোখে ব্যবহার করলে এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস, ব্লেফারাইটিস, স্টাই ইত্যাদি রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে।

মাথায় খুশকী থাকলে সপ্তাহে ২ বার খুশকী নাশক শ্যাম্পু ব্যবহার করে মাথা খুশকী মুক্ত রাখতে হবে। নইলে মাথার খুশকী থেকে চোখ আক্রান্ত হয়ে চোখে ব্লেফারাইটিস দেখা দিতে পারে।

 

  • বিভিন্ন রোগের সময় চোখের যত্নঃ

বাচ্চাদের হাম, জল বসন্ত, হুপিংকাশি, ডায়রিয়া ইত্যাদি রোগে বিশেষ যত্ন নেয়া আবশ্যক। এই সব রোগের ঠিকমত চিকিৎসা না করালে চোখের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, যৌন রোগে (এইডস্, সিফিলিস, গনোরিয়া) চোখের ক্ষতি বা অন্ধ হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। তাই যথা সময়ে এসবের চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ।

ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপের রোগীদের সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে চোখের স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস অনিয়ন্ত্রিত থাকলে চোখে ডায়াবেটিস রেটিনোপেথি হতে পারে। এই সব রোগে নিয়মিত ও সঠিক নিয়ে ডায়াবেটিস বা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রন রাখতে পারলে চোখ ভাল রাখা সম্ভব।

  • শিশুদের চোখের যত্নঃ

গর্ভাবস্থায় পুষ্টিকর খাবার গ্রহন গর্ভজাত শিশুর চোখ ভাল রাখা সম্ভব। এছাড়া গর্ভাবস্থায় সংক্রামক রোগ থাকলে গর্ভজাত শিশুর ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়ে তাই এসময় সংক্রমক রোগ মুক্ত থাকা উচিৎ। জন্মের সাথে সাথেই খেয়াল করুন শিশুর চোখে কোন সমস্যা আছে কিনা থাকলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

  • চোখের ব্যায়ামঃ

শরীরের অন্যান্য অংগের মত চোখের জন্যও রয়েছে ব্যায়াম। চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা কিন্তু শরীর শিথিল করে বসতে হবে। শরীরের কোন পেশীকে অহেতুক শক্ত করে রাখা যাবে না।

এবার প্রথমে দৃষ্টি সামনে সোজাসুজি রাখুন। ৫ সেকেন্ড পর মুখ সোজা রেখে ডান দিকে ঘোরাবেন চোখের মণি। ৫ সেকেন্ড এভাবেই থাকুন। এবার চোখের মণি ওপরে নিন। ৫ সেকেন্ড পরে চোখের মণি বাম দিকে নিন। একইভাবে ৫ সেকেন্ড পরে চোখের মণি নিচে নিন। নিচের দিকে ধরে রাখুন ৫ সেকেন্ডে।

এরপর পুরো প্রক্রিয়া উল্টে দিন। অর্থাৎ প্রথমে বামে, তারপর ওপরে, তারপর ডানে, তারপর নিচে। এভাবে ৫ বার ডান থেকে বাম দিকে আবার ৫ বার বাম থেকে ডানে করলেই ব্যায়াম সম্পন্ন হবে।

 

চোখে পানির ঝাপটা :  সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে প্রথম কাজ হবে চোখে পানির ঝাপটা দেয়া। বেসিনের সামনে গিয়ে চোখ পুরোপুরি বন্ধ করে প্রথমে ২০ বার কুসুম কুসুম গরম পানির ঝাপটা দিন। এরপর ২০ বার ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিন। আবার রাতে শোয়ার আগে শেষ কাজ হবে চোখে পানির ঝাপটা দেয়া। এবারে উল্টোভাবে। অর্থাৎ প্রথম ২০ বার ঝাপটা দেবেন ঠাণ্ডা পানিতে এবং পরের ২০ বার ঝাপটা দেবেন হালকা গরম পানিতে। এতে চোখে রক্ত চলাচল বাড়বে। চোখ হবে প্রাণবন্ত।

চোখ ঢাকা :  আরাম করে শিথিলভাবে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। সামনের টেবিলে কনুই রেখে হাতের তালু দিয়ে চোখ ঢাকুন। এমনভাবে ঢাকুন, চোখের পাতা যেন হাতের তালু স্পর্শ না করে। এরপর খুব মনোহর প্রাকৃতিক দৃশ্য কল্পনা করুন। আগে দেখে মুগ্ধ হওয়া কোনো প্রাকৃতিক দৃশ্য মনের আয়নায় অবলোকন করুন।

দূরে নিকটে তাকান :  নিকট ও দূরে তাকানোর অভ্যাস বাড়ান। এই তাকানোর অনুশীলন আপনি দুই হাতের দুই আঙ্গুল দিয়েও করতে পারেন। ডান হাতের তর্জনী চোখ থেকে আধ হাত দূরে রাখুন। আর বাঁ হাত যতটা সম্ভব দূরে নিয়ে তর্জনী সোজা করে রাখুন। এবার প্রথমে ডান- অর্থাৎ কাছের হাতের তর্জনীর দিকে দুই চোখ দিয়ে ৫ সেকেন্ড এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন। ক্ষণিকের জন্যে চোখের পাতা ফেলুন। এরপর আবার দূরে অবস্থিত বাম হাতের তর্জনীর ডগায় এক দৃষ্টিতে ৫ সেকেন্ড তাকান। ক্ষণিকের জন্যে পলক ফেলুন। আবার কাছের আঙুলের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করুন। এভাবে ১০ বার একই অনুশীলন করুন।

পলক ফেলুন :  দশ-পনেরো সেকেন্ড পরপর চোখের পাতা মুহূর্তের জন্যে বন্ধ করার অভ্যাস করুন। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে না থেকে মাঝে মাঝে চোখের পাতা পড়তে দিন। এতে চোখ পরিষ্কার ও পিচ্ছিল থাকবে।

 

  • নিয়মিত চেকআপঃ

যদি আগে থেকে কোনো রোগ ধরে ফেলা যায় তাহলেই তা চিকিৎসার মাধ্যমে ঠিক করা সম্ভব। তাই বছরে ২ বার সাধারণ চেকআপের জন্য ডাক্তারের কাছে যান। এতে করে যদি চোখে কোনো সমস্যা থেকে থাকে তাহলে তা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়বে এবং আপনি বড় কোনো ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে যাবেন।

  • চোখে চশমার ব্যবহারঃ

যাদের চোখে চশমা প্রয়োজন তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো পাওয়ার পরীক্ষা করে চশমা পড়া উচিৎ। স্বাভাবিক ভাবেই ৪০ বছরের কাছাকাছি বয়স থেকেই পড়াশুনা করতে ও কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা হয়। এসময়ে দূরের বস্তু ভাল দেখলে কাছে দেখার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ মত বাইফোকাল চশমা গ্রহন করতে হয়। দূরের দৃষ্টি ভাল না থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ মত দূরের ও কাছে দেখার জন্য বাইফোকাল চশমা ব্যবহার করা উচিৎ। চোখে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা চোখ পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চশমা পড়া উচিৎ। আবার অনেকে মনে করেন এসময় চশমা ব্যবহার করলে সারাজীবন চশমা ব্যবহার করতে হবে তাই চশমা ব্যবহার করেননা। আসলে এ সময় চশমা ব্যবহার করলেই চোখ ভাল নতুবা পড়াশুনা বা কাচের জিনিস দেখতে চোখে চাপ পড়ে এই চাপ চোখের ক্ষতি করতে থাকে। কন্টাক্ট লেন্স ব্যাবহারে সতর্ক থাকুন।

Categories
Bangla রোগ ব্যাধি

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের উপায়

উচ্চ রক্তচাপ কি?

একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের স্বাভাবিক রক্তচাপ ১২০/৮০ মিমি অফ মার্কারী। বয়সভেদে এই রক্তচাপ বাড়তে পারে বা কমতে পারে। কারো রক্তচাপ সব সময়ের জন্য যদি বেশি মাত্রায় থাকে (যেমন১৩০/৯০ বা ১৪০/৯০ বা তারও বেশি) যা তার দৈনন্দিন কাজ বা স্বাভাবিক কাজকর্মকে ব্যাহত করে, তখনই এই অবস্থাটিকে আমরা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন বলি। রক্তচাপের স্বাভাবিক রেঞ্জ হল ১০০-১৪০, যা সিস্টলিক প্রেসার, ডায়াস্টলিক এর ক্ষেত্রে রেঞ্জ হল ৬০-৯০.

উচ্চ রক্তচাপের কারনঃ

প্রাপ্ত বয়স্কদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণ নির্ণয় করা যায় না। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে স্বাভাবিক শারীরিক পরিবর্তনের ফলে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে হরমোন ও কিডনির ফাংশনজনিত জটিলতায় উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। অনিয়মিত লাইফ স্টাইল, অনিয়ন্ত্রিত ওজন, ধূমপান, এলকোহল, ফাস্টফুড খাবার গ্রহণ, রক্তে কোলেস্টেরল-এর আধিক্য এইসব কারণগুলোতে উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

ছোটদের ও অপ্রাপ্ত বয়স্কদেরও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। জেনেটিক কারণে, ফ্যামিলিয়ার হাইপারটেনশনের ক্ষেত্রে (মানে বাবা-মায়ের আছে বাচ্চারও হতে পারে), কিডনির অসুখে, হৃৎপিন্ডের মহাধমনীর কোন একটি জায়গা সংকুচিত থাকলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টি হয়। কিডনির ওপরে এডরেনালগ্রন্থি ঠিকমত কাজ না করলেও উচ্চ রক্তচাপ হয়।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণঃ

(১) মাথা ব্যথা, মাথার পেছন দিকে ব্যথা হতে পারে, সকালবেলা এবং হাঁটার সময় ব্যথার তীব্রতা বাড়ে। কারও কারও ক্ষেত্রে মাথা গরম অনুভূত হতে পারে। (২) ঘাড় ব্যথা (৩) চোখে ঝাপসা দেখা বা অস্বস্তি বোধ। (৪) ঘুমের ব্যাঘাত হওয়া। (৫) বুকে চাপ অনুভব হওয়া। (৬) বুক ধড়ফড় করা। নিঃশ্বাসে সমস্যা হওয়া। (৭) সব সময় খিটখিটে মেজাজ থাকা। (৮) ক্লান্তি বোধ করা।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনের উপায়:

উচ্চ রক্তচাপ সম্পূর্ণ নিরাময় যোগ্য ব্যাধি নয় । উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধ যোগ্য রোগ। একটু সচেতন থাকলে এটি সহজে প্রতিরোধ করা সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জীবন যাত্রার নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিক ওষুধ গ্রহণ একান্ত জরুরী। স্বাস্থ্যকর জীবন যাত্রায় অভ্যস্ত হয়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আমাদের জীবন যাত্রায় একটু পরিবর্তন বয়ে আনতে পারে উচ্চ রক্তচাপ মুক্ত সুস্থ জীবন।

জীবনযাত্রা পরিবর্তন পদ্ধতিঃ

(১) ওজন নিয়ন্ত্রণঃ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে ওজন বৃদ্ধির আনুপাতিক হারে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। নিজ উচ্চতা এবং দেহ গঠনের উপর ভিত্তি করে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

(২) নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রমঃ সপ্তাহে ন্যুনতম ৫ দিন ৩০-৬০ মিনিটের ব্যায়াম রক্ত চাপ ৪-৯ মিঃ মিঃ পর্যন্ত কমাতে পারে।

(৩) পুষ্টিকর খাবার গ্রহনঃ পরিমিত পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস ১৪ মিঃ মিঃ পর্যন্ত রক্ত চাপ কমাতে পারে। দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় শস্য জাতীয় খাবার, প্রচুর ফল মূল এবং শাক এর পরিমান বৃদ্ধি করে কোলেস্টেরল সমৃদ্ধ খাবার কমাতে হবে।

(৪) অতিরিক্ত লবন পরিহারঃ খাবার গ্রহনের সময় অতিরিক্ত লবন পরিহারে রক্তচাপ ২-৮ মিঃ মিঃ পর্যন্ত কমে আসতে পারে। পাতে আলগা লবন নেয়া এবং অতিরিক্ত লবন সমৃদ্ধ খাদ্য যেমন –পনির, পটেটো চিপ্স, শুঁটকী ইত্যাদি পরিহার করা উচিত।

(৫) ধুম পানএলকোহল পরিহারঃ ধূমপানের অন্যান্য ক্ষতিকর প্রভাবের পাশাপাশি তা ১০ মিঃ মিঃ পর্যন্ত রক্ত চাপ বাড়াতে পারে। তাই প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে।

(৬) অতিরিক্ত চা / কফি পান পরিহারঃ রক্তে ক্যাফেইনের পরিমান বেড়ে গেলে তা অনিদ্রা, ক্ষুধামান্দ্য রোগের কারন হতে পারে। ফলশ্রুতিতে বাড়তে পারে রক্ত চাপ।

(৭) দুশ্চিন্তা পরিহারঃ অকারন দুশ্চিন্তা রক্ত চাপ বাড়ায়। অহেতুক টেনশন না করে যার যার ধর্ম মতে প্রার্থনায় মনোনিবেশ করলে দুশ্চিন্তার প্রবনতা কমে আসে।

(৮) নিয়মিত রক্ত চাপ মাপাঃ যাদের উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা।

(৯) নিয়মিত বিশ্রাম নেয়াঃ রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো। সপ্তাহে একদিন পূর্ণ বিশ্রাম নেয়া।

(১০) ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ: যাদের ডায়াবেটিস আছে, তা অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

(৯) উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের অবগত করাঃ পরিবারের সকলের সাথে উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ে কথা বলুন, এর প্রতিকার আর প্রতিরোধ সম্পর্কে নিজে জানুন এবং অন্যদের ও জানতে সাহায্য করুন।

নিয়মিত সঠিক ওষুধ গ্রহণ

ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ঔষধ গ্রহন করা উচিত। অনেকে ঔষধ সেবনের পর রক্ত চাপ স্বাভাবিক দেখে হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করে দেয় যা মারাত্মক ক্ষতিকর। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি ২০-৪০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের স্মরণ রাখা উচিত যে পরিমিত মাত্রার ঔষধ দ্বারা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা যায়, কিন্তু ঔষধ বন্ধ করা কিংবা ঔষধের মাত্রা বাড়ানো কমানো শুধু মাত্র ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করতে হবে। নিজের ইচ্ছামাফিক ওষুধের ডোজ বাড়ানো বা কমানো যাবে না। নতুন কোন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া।

উচ্চ রক্তচাপ জনিত সমস্যা

শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের ওপর এর স্বল্প থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে। বিশেষত ব্রেইনে স্ট্রোক, হার্ট ফেইলিউর, হৃদক্রিয়া বন্ধ (হার্ট অ্যাটাক), চোখের ক্ষতি এবং কিডনি বা বৃক্কের বিকলতা ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

মনে রাখবেন

  • ৪০ বছর বয়স পার হলেই প্রত্যেকেরই বছরে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত।
  • হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ রাখা বা অনিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ না করা।
  • ওষুধ গ্রহণ অবস্থায়ও অন্তত প্রতি মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা।
  • ফাস্টফুড ও ফ্রোজেন ফুড খাওয়ায় সতর্ক থাকা।
  • যেহেতু এ রোগে দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয়, কাজেই বছরে অন্তত একবার কিডনি, চোখ ও হূৎপিণ্ড পরীক্ষা করানো উচিত।
  • প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে হবে।
  • চিকিৎসকের পরামর্শে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • এ ছাড়া বাড়িতে নিয়মিত রক্তচাপ মাপতে হবে।

সংকলনে-

ডাঃ তানভীর  আহমদ   সিদ্দিকী

 

 

Categories
Bangla স্বাস্থ্য পরামর্শ

শরীরের যত কলকব্জা ১

আমাদের দেহ কেমন করে কাজ করে? কেমন তার জটিলতা ? কোথায় কোনটি থাকে? কার কাজ ই বা কি ? আমরা কি তা নিয়ে খুব একটা জানি কিম্বা ভাবি ! অথচ প্রত্যেকেরই এই গাড়ি নিয়ে নিত্য কারবার।  শারীরবৃত্তীয় নানা খুটিনাটি, যা আমাদের অগোচরে সর্বক্ষন কাজ করে যাচ্ছে তার কিছু ধারনা দেবার চেষ্টায় এই পোষ্ট।
লেখাটাতে যেটা বেশী প্রচলিত বা সহজবোধ্য সেই term ই ব্যবহার করা হয়েছে, English বা বাংলা যেটাই হোক। অন্যটি প্রয়োজনে ব্রাকেটে দেয়া আছে। আর সহজবোধ্য করার জন্য technical details ও কিছুটা পরিহার করা হয়েছে।

Respiratory System (শ্বষন তন্ত্র)
প্রথমেই দেখা যাক শ্বাস-প্রশ্বাস কিভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। আমরা প্রতিবার প্রায় আধা লিটার(৫০০ মি.লি.) বাতাস নিঃশ্বাসে গ্রহন করি, আবার আধা লিটার বাতাস ছেড়েও দেই। প্রায় সকলেরই জানা আছে, নেওয়ার সময়ে অক্সিজেন এবং ছাড়ার সময়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়। এভাবে মিনিটে স্বাভাবিক অবস্থায় ১২-১৮ বার শ্বাস-প্রশ্বাস চলে যা আমাদের মনের অজান্তেই চলতে থাকে। অর্থাৎ মিনিটে আমরা প্রায় ৬ লিটার বাতাস গ্রহন করে থাকি। বায়ুমন্ডলে কিন্তু মাত্র ২১% অক্সিজেন। অবশিষ্ট সিংহভাগই নাইট্রোজেন। উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় উপাদান যেমন এই নাইট্রোজেন তেমনি মানুষের জন্যও এটা ক্ষতিকর হোত যদি ২১% অক্সিজেনের বদলে বায়ুমন্ডল ১০০% অক্সিজেন দিয়ে পূর্ন থাকত।
এই অক্সিজেন নাকের ছিদ্র দিয়ে ঢোকার সময়ে নাকের পশম আবর্জনাকে কিছুটা filter করে, আরও ছোট ছোট ধুলিকনাকে filter করার জন্য আরেকটু অভ্যন্তরে শ্বাসনালীর গায়ে অতি সূক্ষ রোমের মত cilia থাকে। এসবের ফলে আবর্জনা বের করার জন্য সময়ে সময়ে যে হাচি দেয়া হয় তার গতিবেগ ঘন্টায় প্রায় ৯৬৫ কি.মি. বা ৬০০ মাইল ! কাশির সময়েও এই গতিবেগে বাতাস বের করা হয়।

এরপর আরও খানিকটা পথ পাড়ি দিয়ে একদম ফুসফুস পর্যন্ত চলে যায় এই বাতাস। ফুসফুসে রয়েছে অসংখ্য বায়ু কুঠুরি বা alveoli। এই alveoli এর চারপাশের দেয়ালের অপর প্রান্তে জালের মত রক্তনালীর শাখা বিদ্যমান থাকে যার ফলে অক্সিজেন এই alveoli থেকে রক্তে মিশে যায়, অপরদিকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে এই alveoli এ চলে আসে। লক্ষনীয় যে একই জায়গায় অক্সিজেন ফুসফুস থেকে রক্তে চলে যাচ্ছে অপরদিকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্ত থেকে যাচ্ছে ফুসফুসে। আবার এই অক্সিজেন রক্তের মধ্যে হিমোগ্লোবিনের সাথে সংযুক্ত হয়ে যখন দেহের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র cell (কোষ) এর পাশ দিয়ে যায়, তখন কিন্তু অক্সিজেন হিমোগ্লোবিনের থেকে পৃথক হয়ে কোষের মধ্যে ঢুকে যাচ্ছে। সেই সাথে cell থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড রক্তে মিশে যাচ্ছে ( হিমোগ্লোবিনের সাথে নয়)। এখানে জটিল কিছু প্রক্রিয়া কাজ করছে বলে এটা সম্ভব হচ্ছে। Pressure difference এবং অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য আছে বলেই এ রকম সামঞ্জস্যপূর্ণ ঘটনা ঘটে। আর ফুসফুসের যে পরিমান জায়গা জুড়ে এই গ্যাসীয় আদান প্রদান চলে তার আয়তন একটা প্রায় ১৮ফুট বাই ২০ফুট ঘরের সমান।

 

Cardiovascular (হৃদযন্ত্র) System
এখন জানা যাক আরেক গুরুত্বপূর্ন সিস্টেম রক্ত সরবরাহ এবং Heart এর কথা।
আমাদের হৃদপিন্ডে চারটি chamber আছে। দুইটি Ventricle দুইটি Atria.
হৃদপিন্ডের ডানদিকে উপরে থাকে Right atria তার নিচে Right Ventricle. সমস্ত শরীর থেকে দূষিত অর্থাৎ কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত এই Right atria তে এসে জমা হয়। Right atria বলা চলে একটা Collecting chamber. এখান থেকে রক্ত সাথে সাথে Right Ventricle এ পাঠিয়ে দেয়া হয়। Ventricle গুলোর পাম্প করার ক্ষমতা থাকে যা Atrium এর অতটা থাকে না। Right Ventricle থেকে এই রক্ত একটা মোটা রক্তনালী (Artery) দিয়ে Lungs (ফুসফুসে) এ চলে যায়। Lungs এ গিয়ে এই রক্ত সমস্ত ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশে ছড়িয়ে পড়ে। রাজপথ যেমন ছোট রাস্তায়, তার পর আরেকটু ছোট রাস্তায় এরপর গলিতে ভাগ হয়ে যায়, Artery গুলোও ছোট হতে হতে সবশেষে Capillary –তে পরিনত হয়। এই অতিক্ষুদ্র Capillary, Lungs এর ক্ষুদ্রতম অংশ Alveoli এর চারপাশ ঘিরে অবস্থান করে এবং Alveoli থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইড নিয়ে নেয় আর অক্সিজেন চালান করে দেয়।
অর্থাৎ সমস্ত শরীরের কার্বন-ডাই-অক্সাইড যুক্ত রক্ত Right atria সংগ্রহ করে ফুসফুসে পাঠিয়ে দেয় যার ফলে রক্ত সেখানে গিয়ে কার্বন-ডাই-অক্সাইড মুক্ত হয়ে অক্সিজেন এ ভরপুর হয়ে ফিরে আসে Left atrium এ। এই Left atrium থেকে আবার Left Ventricle হয়ে সমস্ত শরীরে রক্ত পৌছে যায়। অক্সিজেনে পরিপূর্ন রক্ত পৌছে যায় মস্তিষ্কে, পাকস্থলী এবং অন্ত্রে (Intsetine) , কিডনীতে এবং অন্যান্য অঙ্গে, মাংসপেশীতে, ত্বকে। চোখে,নাকে,অস্থির জোড়ায় জোড়ায় (Joint) ও এই রক্ত পৌছে দেয় অক্সিজেন এবং আরো কিছু উপাদান (পুষ্টি) । এই ভাবে সমস্ত cell এর চারপাশ ঘিরে capillaryর network রক্ত চলাচল করে চলেছে। সমস্ত শরীরে যে পরিমান capillary আছে তার surface area একটা ফুটবল মাঠের সমান। অর্থাৎ এত বিশাল জায়গা জূড়ে সে gas exchange করছে, খাদ্য আদান-প্রদান করছে।

এ কারনে হার্ট কিছুক্ষন বন্ধ থাকলেই এই রক্ত চলাচল তথা অক্সিজেন সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। প্রথমেই আক্রান্ত হয় মস্তিষ্ক। কয়েক সেকেন্ড অক্সিজেনের ঘাটতিতেই মস্তিষ্ক সাময়িক ভাবে বিকল হয়ে যায়, পরিনামে মানুষ অচেতন হয়ে পড়ে। আরো বেশীক্ষন এই ঘাটতি চলতে থাকলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, প্রানে বেচে গেলেও এই ঘাটতি আর পূরন হয় না।

হার্ট মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার (যেটা অনেকের কাছে মিনিটে ৭২ বার বলে জানা আছে) পাম্প করে সমস্ত শরীরে রক্ত সরবরাহ করে। কারো যদি ৬০ বার পাম্প করে, তবুও এটা যথেষ্ট আবার কারো ১০০ বার করলেও এটা স্বাভাবিক।
সাধারনতঃ ঘুমের সময়ে হৃদস্পন্দন কমে আসে আবার উত্তেজিত অবস্থায় এটা বেড়ে যায় কারন শরীরের চাহিদা বেড়ে যায়। যেমন জ্বরের সময়, অথবা দৌড়ের সময় মাংসপেশীতে অনেক রক্ত সরবরাহ করতে হয়। যারা ব্যয়াম করে অভ্যস্ত (athlete) তাদের স্বাভাবিক ভাবেই হৃদস্পন্দন কিছুটা কম থাকে কারন তাদের হার্টের মাংসপেশী কিছুটা সবল থাকে যার ফলে একবার পাম্পেই অনেকটা রক্ত পাঠিয়ে দেয়। তবে গড়ে প্রতিবার হার্ট প্রায় ৭০ মি.লি. রক্ত পাম্প করে। এভাবে কারু হার্ট ৮৫ বার পাম্প করলে মিনিটে প্রায় ৬ লিটার রক্ত হার্ট থেকে সমস্ত শরীরে যাচ্ছে। চাহিদা বেড়ে গেলে হার্ট মিনিটে এমনকি ১৫০ বার পর্যন্ত পাম্প ও করে থাকে। অর্থাৎ চাহিদা অনুযায়ী যদি ১৫০ বার Heart Beat হতে থাকে তাহলে প্রায় ১০ লিটার রক্ত প্রতি মিনিটে হার্টের মধ্যে দিয়ে ঘুরতে থাকে। এই রক্ত কিন্তু একই রক্ত। Total রক্তের পরিমান একই থাকছে ( ভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটা যদিও বাড়ে)। অর্থাৎ একই রক্ত বারবার হার্ট হয়ে ফুসফুসে যাচ্ছে বেশী বেশী অক্সিজেন আনার জন্য। এই অবস্থায় নিঃশ্বাস ও ঘন হয়ে যায় বেশী অক্সিজেন ভিতরে পাঠিয়ে ভেতরের অতিরিক্ত জমে যাওয়া কার্বন-ডাই-অক্সাইড দ্রুত খালি করার জন্য।

Blood Circulation System (রক্ত সঞ্চালন তন্ত্র)
শরীরের মোট রক্তের পরিমান প্রায় ৫ লিটার। এর মধ্যে ৫৫% বা প্রায় ৩ লিটার জলীয় অংশ বাকী ৪৫% Cellular component বা কোষ। রক্তের মধ্যে তিন ধরনের কোষ থাকে। Red Blood Cell / RBC বা লোহিত রক্ত কনিকা অক্সিজেন আদান প্রদান করে থাকে, রক্তে আরও দুই প্রকারের cell আছে। White Blood Cell/WBC (শ্বেত রক্তকনিকা) এবং Platelet (অনুচক্রিকা)। বলা বাহূল্য এদের মধ্যে RBC সবচেয়ে জরুরী কাজটি করে কিন্ত অন্যরাও গুরুত্বপূর্ন। WBC আমাদের শরীরের প্রহরীর ভূমিকা পালন করে, অর্থাৎ রোগজীবানু প্রবেশ করলে তাদের প্রতিহত করে (এই কাজের মধ্যেও অনেক আকর্ষনীয় দিক আছে)। আর Platelet এর কাজ মূলতঃ রক্ত জমাট বাধা। যেমন রক্তনালী ছিড়ে গেলে Platelet আরো কিছু বাহিনীর সহায়তায় এটা আটকে দেয়।

RBC এর life span বা আয়ুষ্কাল ১২০ দিন বা চার মাস। এ কারনেই চার মাস পরপর রক্তদানের অনুমতি দেয়া হয়। যদিও যেই রক্ত দেওয়া হচ্ছে তার মধ্যে সব বয়সী RBC ই বিদ্যমান থাকে তবে ৪৫০ মি.লি. রক্ত দিলে শরীর সেটাকে পুষিয়ে নিতে সক্ষম। পুরুষের দেহের ওজনের প্রায় ৬০% (মেয়েদের ওজনের ৭০%) জলীয় অংশ। অর্থাৎ ৬০ কেজি ওজনের একজন পুরুষের জলীয় অংশই ৩৬ কেজি।

WBC এর অবস্থা যা বলছিলাম; শরীরে Foreign body বা শত্রূবাহিনী ঢুকলে প্রথমে এদের মধ্যে একদল এগিয়ে আসে। এরা পারলে তো ভাল নইলে দ্বিতীয় সারির দল কে খবর দেয়, শত্রুর প্রকৃতি বর্ননা করে। দ্বিতীয় দল সেইভাবে প্রস্ততি নিয়ে শত্রুর উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এমনকি আরেকদল এই যুদ্ধক্ষেত্রের চারপাশ ঘিরে ফেলে যেন শত্রুবাহিনী খাদ্যের যোগান না পায়। এক পর্যায়ে কুপোকাত করে ফেলার পরও তার কাজ শেষ হয় না। সে একটা memory cell করে রাখে যেন পরবর্তীতে এ ধরনের শত্রু আসলে নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত যুদ্ধ শুরু করে দিতে পারে। এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে দেখা যায় সারা জীবন সে এই শত্রুকে মনে রাখে ( যেমন chicken pox এর জীবানু , যার ফলে একজনের দ্বিতীয়বার আর chicken pox হয়না, গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া)। রক্ত বন্ধ করবার জন্যও এরকম কয়েক স্তরের ব্যবস্থা আছে। Platelet এদের প্রধান বলা চলে। আর যে সমস্ত উপাদান একাজে নিয়োজিত তাদের মধ্যে কিছু Coagulation Factors রয়েছে যার বেশীরভাগ Liver থেকে তৈরী হয়। একারনে Liver এর রোগে ( Especially Cirrhosis) অতিরিক্ত রক্তক্ষরন হয়ে থাকে যেহেতু রক্তকে জমাট রাখার উপাদান তৈরী হতে সমস্যা হয়।

আর একটি জিনিষ জানিয়ে প্রথম পর্ব শেষ করছি। রক্ত থেকে কোষে কোষে এই আদান প্রদান করার জন্য Blood Pressure একটা মূখ্য ভূমিকা রাখে। বলাই বাহুল্য pressure যদি fall করে তবে পুরো সিস্টেম ই collapse করে যায়। তবে এর মধ্যেও গুরুত্ব অনুযায়ী শরীর আচরন করে থাকে। যেমন Brain যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন সেহেতু Brain এ রক্ত পৌছানোর জন্য শরীর সবচেয়ে সচেষ্ট থাকে। দরকার হলে লোড-শেডিং এর মত অন্য জায়গায় রক্ত চলাচল বন্ধ করে দেয়। শুরুতেই Skin এ বন্ধ করে দেয়, মাংসপেশীতে বন্ধ করে দেয়। এরপর kidney তে বন্ধ করে দেয়। এজন্য দেখা যায় কারু ডায়রিয়া বা প্রচুর রক্তক্ষরন হলে হাত পা ঠান্ডা হয়ে যায়, কিছু পরে প্রসাবও বন্ধ হয়ে যায়। Brain, Heart, Lungs এগুলোতে কিন্তু শেষ সময় পর্যন্ত রক্ত সরবরাহের চেষ্টা চলতে থাকে।

ডা. মুহাম্মাদ জুবায়ের হোসেন

এমবিবিএস, এমআরসিপি

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ