Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরামর্শ

এই গরমে ঘামাচি থেকে বাঁচার ঘরোয়া উপায়

ছাতি ফাটা রোদ আর প্রখর তাপে ওষ্ঠাগত হওয়ার সময়ে এসে গেছে। এ সময় ত্বকের সমস্যাও বেড়ে যায়। সারা দিন ঘেমে থাকা শরীরে জায়গা করে নেয় ঘামাচি। আর এই ঘামাচির জেরে লেগেই থাকে চুলকানির সমস্যা।

ঘামাচি অবশ্য থেমে থাকে না। একেক জনের শরীরে এর প্রভাব বিস্তার হয় একেক রকমভাবে। র‌্যাশ, প্রদাহ সব মিলিয়ে ত্বকের ক্ষতি তো হয়ই, সঙ্গে অস্বস্তি ও শারীরিক কষ্টও বাড়ে।

বাজারে কিছু পাউডার বা সাবান এ সমস্যা থেকে দূর করতে পারে বলে প্রস্তুতকারী সংস্থা দাবি করলেও, তাতে নানা রাসায়নিক মেশানো থাকে। ফলে ত্বকের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে তো অনেক সময় এই সব সাবান বা পাউডার বিরূপ প্রভাবও ফেলে। ঘামাচির বাড়াবাড়ি রকমের সমস্যা থাকলে তাই অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কিন্তু সাধারণত এই ঘামাচির সমস্যায় আরাম দিতে পারে ঘরোয়া কিছু উপায়। দেখে নিন কীভাবে তা সম্ভব।

শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির ওপর লাগান। দিনে ৩-৪ বার এভাবে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

চার টেবিল চামচ মাটির সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগান। কিছু ক্ষণ রেখে শুকিয়ে নিন। এর পর ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

এক কাপ ঠান্ডা জলে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় ডুবিয়ে ঘামাচির ওপর ১০ মিনিট পর্যন্ত রেখে আলতো করে মুছতে থাকুন।

ঘামাচির মোক্ষম নিরাময় হলো অ্যালোভেরা। ঘামাচির ওপর শুধু অ্যালোভেরার রস বা হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে লাগান। কিছু ক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

নিম পাতা ঘামাচির উপশম হিসেবে ভালো কাজ করে। নিম পাতার রসের সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগিয়ে তার ওপর নিমের ডাল বোলালেও আরাম পাওয়া যায়।

দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগাতে পারেন। দ্রুত উপশম পাবেন।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

জ্বর নিয়ে যত ভুল ধারণা

মৌসুম পাল্টাচ্ছে। এই গরম, তো এই বৃষ্টি। এই সময় অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন জ্বরে। কিন্তু জ্বর নিয়ে আমাদের কিছু ভ্রান্ত ধারণা আছে।

গা গরম মানেই জ্বর
অনেকে গা গরম লাগা বা শরীর ম্যাজম্যাজ করাকেই জ্বর বলে থাকেন। অনেকে বলেন, আমার তো সব সময়ই গায়ে জ্বর থাকে। কেউ বলেন, জ্বর থাকে, কিন্তু থার্মোমিটারে ধরা পড়ে না! আসলে গা গরম বোধ হওয়া মানেই জ্বর নয়। শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের ওপরে না গেলে তাকে জ্বর বলা ঠিক নয়। জ্বরের সমাধান নিতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে বাড়িতে থার্মোমিটারে কয়েকবার জ্বর মাপুন।

জ্বর মানেই খারাপ কিছু
যেকোনো জীবাণু বা খারাপ কিছুর বিরুদ্ধে শরীরের প্রথম প্রতিরোধ জ্বর। তাই জ্বর খারাপ কিছু নয়। অনেক ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও নানা ধরনের জীবাণু প্রতিনিয়ত আমাদের আক্রমণ করছে। এর বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রথম পদক্ষেপ হচ্ছে জ্বর। তাই জ্বর নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

জ্বর ওঠামাত্র নামিয়ে ফেলতে হবে
জ্বর বাড়া ঠিক নয়, অনেকক্ষণ থাকাও ঠিক নয়—এ ধারণা অনেকের। জ্বর ১০১ ডিগ্রির ওপরে ওঠামাত্র যেকোনো উপায়ে জ্বর নামাতে হবে, নইলে সর্বনাশ হতে পারে—এ ধারণারও কোনো ভিত্তি নেই। বেশির ভাগ জ্বর কয়েক ঘণ্টা পরপর আসে, কিছুক্ষণ থেকে আবার নেমে যায়। খুব কম জ্বরই একটানা চলতে থাকে। এটা নির্ভর করে কারণের ওপর। আর জ্বরে খারাপ লাগা ও অস্বস্তি হয় বলে জ্বর নামাতে হয়, কিছু না করলেও ক্ষতি নেই।

জ্বরের জন্য চাই আলাদা পথ্য
একসময় জ্বর হলে রোগীকে আলাদা পথ্য দেওয়া হতো। এখনো অনেকে রোগীকে স্যুপ, জাউ ইত্যাদি দিয়ে থাকেন। আসলে জ্বরের জন্য কোনো খাবার খেতে নিষেধ নেই। এমনকি ঠান্ডা খাবারও। বরং জ্বরের সময় যথেষ্ট পুষ্টিকর খাবার খাওয়া চাই। আরেকটা কথা, জ্বরের কারণে পানিশূন্যতা হয়। তাই পানি পান করতে হবে প্রচুর।

যতবার জ্বর, ততবার প্যারাসিটামল
জ্বর দিনের মধ্যে যতবারই ওঠে, ততবারই প্যারাসিটামল দিয়ে নামানোর চেষ্টা করারও দরকার নেই। মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল ক্ষতিকর হতে পারে। অনেকের ধারণা, মুখে খাবার বড়ির মাত্রা নির্দিষ্ট থাকলেও সাপোজিটরির কোনো মাত্রা নেই, যত খুশি দেওয়া যায়। এটাও ঠিক নয়।

জ্বরের চিকিৎসা অ্যান্টিবায়োটিক?
জ্বর মানে সংক্রমণ, আর অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়া এর চিকিৎসা অসম্পূর্ণ—এটা হচ্ছে সবচেয়ে বড় ভুল। নানা কারণেই জ্বর আসতে পারে। এর অনেকগুলোতেই অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই। যেমন ভাইরাসজনিত জ্বর, ফ্লু, অ্যালার্জিজনিত জ্বর, ফুড পয়জনিং ইত্যাদি। জ্বর হলে তার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর তোতলানো

তোতলামিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। তোতলামির ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত তিনটি ব্যাপার থাকে: ১. শব্দ বা কথা পুনরাবৃত্তি করা (যেমন: আগামী আগামী আগামীকাল যাব)। ২. শব্দের প্রথম অক্ষর বা উচ্চারণ লম্বা করে বলা (যেমন: পাপাপাপাপানি খাব)। ৩. বাক্যের মধ্যে বা শব্দের মধ্যে হঠাৎ করে থেমে যাওয়া বা আটকে যাওয়া, মুখ নাড়ানোর চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো আওয়াজ বের হয় না। ঠোঁট-মুখ বেঁকে যায়, মুখ থেকে হালকা থুতুও বের হয়, কিন্তু কথাটা পুরো হয় না।

তোতলামির কারণ
মূলত পরিবেশ ও জিনগত কারণে তোতলামির সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা যখন কথা বলি, তখন অনেক স্নায়ু দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে। এই কর্মযজ্ঞে ঝামেলা হলে কথার জড়তা পেয়ে বসে। একধরনের তোতলামি রয়েছে, যা শিশু অনুকরণ করে শেখে। যেসব মা-বাবা শিশুর কথার জড়তাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন, সেসব শিশুর মধ্যে সমস্যা বেশি দেখা যায়। মানসিক উদ্বেগ, ইচ্ছার অবদমন, প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ প্রভৃতিকে শিশুর তোতলামির উল্লেখযোগ্য কারণ বলে ধরা হয়। যেসব শিশু নিজেকে নিয়ে বেশি সচেতন, ভয় পেলে বা রেগে গেলে তাদের কথার অস্পষ্টতা বা তোতলামি বেড়ে যায়।

তোতলামির চিকিৎসা
তোতলামির জন্য অনেকে পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক কিংবা মুখে পারদ বল দিয়ে থাকে। এর কোনোটিই কাজে আসে না। বকুনি আর শাসনেও তোতলামি সারে না; বরং সহানুভূতি, মমতা, ধৈর্য দেখালে শিশু এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে। বাড়ি ও স্কুলের পরিবেশ আনন্দময়, নিরুদ্বেগ ও শিথিল করা জরুরি। শিশু যখন তোতলায় তখন তাকে বারবার বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়া, তাকে থামিয়ে দেওয়া কিংবা একবার উচ্চারণ করা কথার পুনরাবৃত্তি করার জন্য চাপ দেওয়া ঠিক নয়। বরং ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ বাক্য শুনুন এবং চোখে চোখ রেখে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। তাকে প্রতিটি আওয়াজ ধীরে ধীরে ও চাপ দিয়ে বলার অভ্যাস করান।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স বাড়লে কথার জড়তা আপনাতেই কেটে যায়। শিশুর মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। সমস্যা বেশি গুরুতর মনে হলে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া যায়।

Categories
Featured প্রাথমিক চিকিৎসা রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

কীভাবে বুঝবেন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন?

সুস্থ–সবলভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেউ, কোনো সমস্যা নেই, একদিন হঠাৎ শোনা যায় তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়ে গেছে। সমস্যা হলো এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগে প্রায়ই কিছু জানা যায় না। এ রকম হার্ট অ্যাটাকের পরিণতি হয় সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু, নয়তো জীবনের সঙ্গে আপস করে কোনোমতে চলা। তাই হৃদ্‌রোগ হওয়ার আগেই সাবধান হতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন ঝুঁকিতে আছেন?
কোনো সমস্যা বোধ করছেন না, বুকে ব্যথা করে না কখনো, অনেক পরিশ্রমও করতে পারেন, তার মানে কোনো দিন হার্ট অ্যাটাক হবে না—এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে ঝুঁকি কতটুকু আছে, তা জেনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অকালমৃত্যু বা কঠিন পরিণতি এড়ানো যায়।

নিজের ঝুঁকি জানতে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আপনি আপনার ঝুঁকির মাত্রা জানতে পারেন। প্রশ্নের বেশির ভাগ উত্তরই যদি ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তবে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেশি

আপনি কি ধূমপান করেন? আপনার পরিবারে কি হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস বা অল্প বয়সে হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস আছে? আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি আছে? আপনি কি কায়িক শ্রমবিহীন জীবন যাপন করেন? আপনি কি স্থূল বা আপনার কি ওজন বেশি? আপনার মানসিক চাপ কি প্রচণ্ড?

জানতে হবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

* বেশির ভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকে বুকের মধ্যে চাপ বোধ হয়, যা কয়েক মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে। ব্যথাটা মাঝেমধ্যে চলে যায়, আবার ফিরে আসে। একটা অস্বস্তিকর চাপ ও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

* অনেক সময় বাহু, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল অথবা পাকস্থলীতেও অস্বস্তি অনুভূত হয়।

* অনেক সময় বুকে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস ছোট হয়ে আসে।

* অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা হালকা মাথাব্যথা, পিঠে বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে।

হাসপাতালে আসতে হবে গোল্ডেন আওয়ারে

কারও হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম এক ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসকের জরুরি চিকিৎসা নিতে পারলে রোগীর প্রাণ রক্ষা প্রায় নিশ্চিত করা সম্ভব।

এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে বুঝব হার্ট অ্যাটাক, না গ্যাসের কারণে বুকব্যথা? এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে অনেক সময় চলে যায়। বুকে ব্যথা চরমে উঠলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। রোগীর জীবনসংশয় দেখা দেয়। তারপরও চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেন। যদি হার্ট অ্যাটাকের তীব্রতা কম হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো প্রাণ রক্ষা পায়। কিন্তু বাকি জীবন কষ্ট করে চলতে হয়। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপিণ্ডের কিছু অংশ অকেজো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত হয়তো চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাই একটু বেশি বয়সীরা বা যাঁরা ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের বুকে ব্যথা হলে অবহেলা না করে অন্তত একটা ইসিজি করে দেখতে পারেন যে হার্টের ব্যথা নয় তো?

ডায়াবেটিস থেকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত

অধিকাংশ ডায়াবেটিসের রোগী হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই অকালে মৃত্যুবরণ করে থাকেন। ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগ—এ দুটি পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে বিষয়গুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত, যেমন অতি ওজন, ধূমপান, মন্দ খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা বংশগতি, এগুলো হৃদ্‌রোগেরও ঝুঁকি। তাই এ দুটি সমস্যা পরস্পরের হাত ধরেই চলে। একটির ঝুঁকি কমালে অপরটির ঝুঁকিও কমে আসে।

আর তাই—

* রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন ও প্রয়োজনে চর্বি কমানোর ওষুধ গ্রহণ করুন।

* উচ্চ ক্যালরি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত লবণও এড়িয়ে চলুন। ধূমপান করবেন না। সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

* সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটুন বা যেকোনো ব্যায়াম করুন। কায়িক পরিশ্রম বাড়ান। ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। বিশেষ করে পেটের চর্বি কমানোর চেষ্টা করুন।

* নিয়মিত রক্তচাপ, শর্করা পরীক্ষা করুন, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন ও হৃদ্‌রোগ আছে কি না, তা নির্ণয়ে সচেতন হোন। সব সময় যে উপসর্গ থাকবে, এমন কোনো কথা নেই।

ভালো অভ্যাসে সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্র

ছোট্ট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। সুস্থ রাখতে পারে শরীরের হৃদ্‌যন্ত্রকে। এর জন্য কিছু অভ্যাস ছাড়তে হবে, আবার কিছু সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় প্রয়োজন প্রতিজ্ঞা। সঠিক-স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম—এসব অভ্যাস নিজের পাশাপাশি সন্তান ও পরিজনদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরামর্শ

ভ্রমণে দূর করুন মোশন সিকনেস

কারো কারো কাছে ভ্রমণ মানেই মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, যাকে বলে মোশন সিকনেস। কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি প্রয়োগ করে দূর করা যায় এই সমস্যা।

♦ ভ্রমণের আগে কাঁচা লেবু চুষে খেতে পারেন অথবা লেবুপাতার গন্ধও শুঁকতে পারেন। এতে হজমে উপকার পাওয়ার পাশাপাশি বমি ভাব কেটে যাবে।

♦ মুখে রাখতে পারেন সামান্য পরিমাণ আদা যা হজমে সাহায্য করবে, বমি বমি ভাব দূর করবে।

♦ মধ্যমা, তর্জনী অথবা বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে কবজির প্রেসার পয়েন্টে চাপ দিন। কবজির ভাঁজ থেকে দুই ইঞ্চি ওপরে দুই টেন্ডনের মাঝে কয়েকবার চাপ প্রয়োগ করুন।

♦ গাড়িতে যাত্রার শুরুতে কাঁচা আপেল খেতে পারেন। আপেলে থাকা চিনি এসিডিটি কমায়।

♦ কমলালেবুর কোয়ার সঙ্গে বিটলবণ মিশিয়ে খান।

♦ মধু ও পুদিনাপাতা খেলেও বমি বমি ভাব কেটে যায়।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

টানা কাজের বিরতিতে ঘাড়ের সহজ ব্যায়াম

আমাদের অনেককেই দীর্ঘ সময় ধরে টেবিলে বা ডেস্কে মাথা গুঁজে কাজ করতে হয়। পড়াশোনা, লেখালেখি বা কম্পিউটারে কাজ করতে হয়। কেউ কেউ অনেকক্ষণ ধরে সেলাই করেন। এসব কাজ করলে ঘাড়ের পেশিতে ব্যথা করে, শক্ত ও টান টান লাগে। মাসল স্পাজম বা পেশিতে চাপ পড়া ছাড়া তাদের ঘাড়ের মেরুদণ্ডের হাড়ের মাঝখানের নরম জেলির মতো অংশ বের হয়ে আসতে পারে, মেরুদণ্ডের ফাঁক দিয়ে বের হওয়া নার্ভ বা স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে ঘাড়ব্যথা ছাড়াও বাহু, হাত ও আঙুল পর্যন্ত টন টন বা ঝিন ঝিন করা, অবশ হয়ে আসা দেখা দিতে পারে। সে জন্য যাঁরা ঘাড় গুঁজে কাজ করেন, তাঁরা সহজ কিছু নিয়মকানুন পালন করে ও খুবই হালকা কিছু ব্যায়াম করার মাধ্যমে এ ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে পারেন।

ব্যায়ামটি খুবই সহজ

একটি চেয়ারে মেরুদণ্ড সোজা করে বসুন। সামনে দেয়ালের দিকে তাকান। ঘাড় কিন্তু নড়াচড়া করবেন না। এবার ডান হাতের তালু কপালে রাখুন। কপাল দিয়ে হাতের ওপর জোরে চাপ দিতে থাকুন। ঘাড় নড়বে না। চাপ দিয়ে ১০ সেকেন্ড এভাবে রাখুন।

এবার একই ব্যায়াম কপালের বদলে মাথার পেছনে, দুই পাশে ও থুতনিতে হাত দিয়ে চাপ দিয়ে করুন। প্রতিটি ব্যায়াম প্রতিদিন ১০ বার করে করুন।

কী করবেন, করবেন না

■ একটানা অনেকক্ষণ ঘাড় গুঁজে টেবিলে কাজ করবেন না। মাঝেমধ্যে বিরতি নিন।

■ কাজের টেবিলের উচ্চতা নিজের উচ্চতার সঙ্গে সমন্বয় করে নিন।

■ শোবার সময় বালিশটা যেন ঘাড়ের নিচে থাকে, ঘাড় বেঁকে না থাকে।

■ নিয়মিত ওপরের ব্যায়ামটা করুন।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

শীতের শেষে অসুখ-বিসুখ

এখন শেষ রাত এবং ভোররাতে তাপমাত্রা কমে যায় এবং দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাপমাত্রার এই ওঠানামার ফলে কিছু কিছু ভাইরাস শরীরের ওপর আক্রমণের সুযোগ পায়। এমন আবহাওয়ার জেরে বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ছে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়া৷ সে কারণে জ্বর, গলা বসে যাওয়া ও সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে৷ এতে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই৷ ভাইরাসের কারণে জ্বর হলে সাধারণত সাত দিনের মধ্যে এমনিতেই ভালো হয়ে যায়। তবে হঠাৎ ঠান্ডা যাতে না লাগে, তার জন্য বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে।

উপসর্গ

এসব রোগী মূলত জ্বর, কেউ কেউ মাথাব্যথা, সর্দি, অরুচি, গা-ব্যথা, কাশির উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসেন। তবে আক্রান্তদের মধ্যে শিশুদের সংখ্যাই বেশি। সেই সঙ্গে কোনো কোনো শিশু আক্রান্ত হচ্ছে কাশিতে। এ সময় ঠান্ডা সর্দির কারণে কান বন্ধ হতে পারে। কান বন্ধের সঙ্গে কানে ব্যথাও থাকে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত। অনেক সময় শিশুদের প্রচণ্ড সর্দি লেগে যায়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষেত্রে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বরও দেখা দিতে পারে। তবে বড়দের ক্ষেত্রে জ্বর ততটা তীব্রভাবে না-ও হতে পারে।

প্রতিকার

হঠাৎ ঠান্ডা যাতে না লাগে, তার জন্য বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। জ্বর হলে গোসলে বিরত না থেকে প্রতিদিন একই সময়ে করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। চুল ও শরীরের পানি ভালো করে মুছে দিন, যাতে নতুন করে ঠান্ডা না লাগে।

জ্বর হলে কী করবেন?

এ অবস্থায় প্রথমেই জ্বর কমানোর ব্যবস্থা হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে জ্বর কমানোর ওষুধ সেবনের পাশাপাশি সাধারণ তাপমাত্রার পানিতে ভেজানো তোয়ালে দিয়ে সারা শরীর মুছে দেওয়া, অর্থাৎ স্পঞ্জিং করা উচিত। জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত এই স্পঞ্জিং চালিয়ে যেতে হবে। দু-এক ঘণ্টার মধ্যে উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সর্দি, কাশি ও গলাব্যথায় কী করবেন?

সর্দি-কাশি বা সামান্য গলাব্যথা এমন কোনো বড় ব্যাপার নয়। তবে একবার ঠান্ডা লাগলে তা সারতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবেই। আর কাশি তো আরও বেশ কয়েক দিন থাকতে পারে, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। সাধারণ কাশির চিকিৎসা আপনিই করতে পারেন। এ ধরনের কাশি একটি নির্দিষ্ট সময় পর আপনা-আপনি ভালো হয়ে যায়। তবে কাশির সঙ্গে যদি জ্বর হয়, তাহলে গুরুত্ব দিতে হবে। ঠান্ডা খাবার, ফ্রিজের পানি পরিহার করতে হবে। কুসুম গরম পানি পান করতে পারলে ভালো হয়। ধুলোবালি এড়িয়ে চলুন।

ধূমপান করবেন না

খুসখুসে কাশির একটি অন্যতম প্রধান কারণ হলো ধূমপান করা। তাই ধূমপান পরিহার হরতে হবে।

শিশুর কাশি মানেই নিউমোনিয়া নয়

এই সময়ে শিশুরা যে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্ট, তা বেশির ভাগই নিউমোনিয়া নয়। ভাইরাসজনিত এই রোগের নাম ব্রঙ্কিউলাইটিস। এটিকে অনেকে নিউমোনিয়া ভেবে ভুল করেন। ব্রঙ্কিউলাইটিস দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের বেশি হয়ে থাকে। ব্রঙ্কিউলাইটিসে আক্রান্ত শিশুকে বাসায় রেখে চিকিৎসা করা যায়। তবে সুস্থ শিশুদের আক্রান্ত শিশু থেকে দূরে রাখতে হবে।

শিশুকে সিগারেট, মশার কয়েল ও রান্নাঘরের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখুন। ভাইরাসজনিত এই রোগে সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। তবে শ্বাসকষ্ট খুব বেশি হলে খিঁচুনি, ঠোঁট নীল বা কালো হয়ে গেলে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে নিতে হবে।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

কিডনিতে পাথর বুঝবেন কী করে?

আমাদের দেশে কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সংখ্যাটা দিন দিন বেড়েই চলছে! বিশেষ করে কিডনি স্টোন বা বৃক্কে পাথর জমার সমস্যার কথা এখন প্রায়শই শোনা যায়।

কিডনির সমস্যাগুলির মধ্যে অন্যতম হলো স্টোন বা পাথর হওয়ার সমস্যা। কিডনি স্টোনের প্রাথমিক লক্ষণগুলি নির্ভর করে স্টোন কিডনির কোথায় এবং কীভাবে রয়েছে। কিডনিতে স্টোনের আকার-আকৃতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পাথর খুব ছোট হলে সেটি কোনো ব্যথা-বেদনা ছাড়াই দীর্ঘদিন পর্যন্ত শরীরে থাকতে পারে! ফলে টেরও পাওয়া যায় না।

কিডনিতে পাথর জমার কারণ :
কিডনিতে পাথর জমার বা তৈরি হওয়ার প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু বিষয় কিডনিতে পাথর তৈরির কারণ বলে বিবেচিত হয়। যেমন-

* বারবার কিডনিতে ইনফেকশন হওয়া এবং এর জন্য যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা না করা।
* শরীরে পানির স্বল্পতা। কম পানি খাওয়া।
* শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রাতিরিক্ত আধিক্য।
* অত্যাধিক পরিমাণে দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার খাওয়ার অভ্যাস।

কিডনিতে পাথর হওয়ার উপসর্গ :
* রক্তবর্ণের প্রসাব।
* বমি বমি ভাব। অনেক সময় বমিও হতে পারে।

কিডনির অবস্থানে (কোমরের পেছন দিকে) ব্যথা। এই ব্যথা তীব্র তবে সাধারণত খুব বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। ব্যথা কিডনির অবস্থান থেকে তলপেটেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

চিকিৎসা :
কিডনির অবস্থানে ব্যথা এবং রক্তবর্ণের প্রসাব হলে চিকিৎসকরা সাধারণত দুটি সম্ভাবনার কথা চিন্তা করেন। একটি হলো কিডনির ইনফেকশন, অন্যটি কিডনিতে পাথর। তাই কিডনির এক্সরে, আলট্রা সনোগ্রাম এবং প্রসাবের নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি আর যথাযথ ওষুধ খেলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অস্ত্রোপচারই একমাত্র উপায়।

সতর্কতা :
* কিডনি স্টোনের ঝুঁকি এড়াতে হলে অবশ্যই প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে।
* কখনো প্রসাব আটকে বা চেপে রাখবেন না! প্রসাবের বেগ আসলে চেষ্টা করবেন সঙ্গে সঙ্গে প্রসাব করার।
* প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খান।
* দুধ, পনির বা দুগ্ধজাত খাবার অতিরিক্ত মাত্রায় না খাওয়াই ভালো।
* বারবার ইউরিন ইনফেকশন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরামর্শ

খুসখুসে কাশি হলে কী করবেন?

খুসখুসে কাশি একটি বিরক্তকর ও বিব্রতকর অসুখ। একবার কাশি শুরু হলে যেন থামতেই চায় না। যখন-তখন, যেখানে–সেখানে শুরু হয়ে যেতে পারে কাশি। জ্বর নেই, কফ বের হওয়া নেই, বুকে ঘড় ঘড় নেই—কিন্তু খুক খুক কাশি, যা বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। যার অর্থ, কাশির সঙ্গে কখনো কফ বেরোয় না, কিন্তু একটা অস্বস্তি গলায়-বুকে লেগেই থাকে।
এ বিষয়ে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বলেন, খুক খুক শুকনো কাশি যখন-তখন অনেককে ভোগায়, বিব্রতও করে। কারও সারা বছর খুসখুসে কাশি লেগে থাকে। সব সময় কাশি সারাতে অ্যান্টিবায়োটিক বা কাশির ওষুধের দরকার নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এই বারবার শুকনো কাশির কারণ ফুসফুসে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, যক্ষ্মা ইত্যাদি নয়, বরং অন্য কিছু। যার কারণটা খুঁজে বের করে চিকিৎসা করা উচিত।

শ্বাসনালি আক্রান্ত বা সংক্রমণ
তীব্র কাশির জন্য সহজেই অনুমানযোগ্য বা সহজ কারণটি হলো, ঠান্ডা বা অন্য কোনো ভাইরাল সংক্রমণের পরিণাম বা ফল। অনেক ঠান্ডার উপসর্গ কিছুদিন পরে চলে যেতে পারে।
কাশি কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসের জন্যও থাকতে পারে, কারণ ভাইরাসের কারণে শ্বাসনালি ফুলে এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। এই কারণে কাশির স্থায়িত্বকালও বাড়তে পারে, এমনকি ভাইরাস চলে যাওয়ার পরও। ঋতু বদলের সময় ভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাশির প্রকোপ বাড়ে। ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। কাশির সঙ্গে জ্বর, কফ ইত্যাদি থাকলে ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া কি না ভাবতে হবে। দীর্ঘদিনের (যেমন তিন সপ্তাহের বেশি) কাশি, ঘুসঘুসে জ্বর, ওজন হ্রাস, কাশির সঙ্গে রক্ত যক্ষ্মার লক্ষণ হতে পারে।

ধুলাবালু থেকে হাঁপানি, অ্যালার্জি ও খুসখুসে কাশি
সবার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমস্যা না করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সবারই করে। ধুলার আকার-আয়তন দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্যমান হতে পারে। সাধারণত যেসব ধুলা খালি চোখে দেখা যায় না, সেগুলো সাধারণত বেশি ক্ষতিকর। সাধারণত শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুতে ধুলার পরিমাণ অন্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। ধুলার ধরন ও আকার-আয়তনের ওপর নির্ভর করে ক্ষতির মাত্রা। আবার ধুলার ঘনত্বের মাত্রা ও কত দিন ধুলায় বসবাস, তার ওপরও নির্ভর করে ক্ষতির মাত্রা। সামান্য পরিমাণ ধুলাও তাৎক্ষণিক সমস্যা করতে পারে। যেমন চোখ জ্বালাপোড়া, খুসখুসে কাশি, হাঁচি, আল্যার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। আবার যাঁদের আগে থেকে ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাঁদের অল্পতেই সমস্যা জটিল করে তুলতে পারে।
শ্বাসকষ্ট নয়, কেবল কাশিও হতে পারে হাঁপানি বা অ্যাজমার লক্ষণ। অ্যালার্জি ও অ্যাজমা হচ্ছে কাশির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া, বুকে শব্দ ও পরিবারে হাঁপানির ইতিহাস থাকলে অ্যাজমা হতে পারে। একে বলে কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা। লক্ষ করুন, ধুলাবালু, ফুলের রেণু, এসির ঠান্ডা বাতাস ইত্যাদি কারণে কাশির প্রকোপ বেড়ে যায় কি না। তাহলে এটি অ্যালার্জিজনিত। কাজের দিন বেড়ে যায়, আবার ছুটির দিনে কমে আসে, এমন হলে বুঝতে হবে আপনার কর্মস্থলের পরিবেশে কোনো সমস্যা রয়েছে। ডাস্ট বা ধুলাবালুতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অ্যাসিডিটি বা অম্লতা
ভারী বা চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর বুকে জ্বালাপোড়া বা টক ঢেকুরের সঙ্গে খুক খুক কাশিও হতে পারে। পাকস্থলীর অম্ল খাদ্যনালিতে উঠে এসে এই কাশির সৃষ্টি করে। অনেক সময় ঠান্ডা–সর্দি লাগা থেকে নাকের পেছন দিক থেকে গলায় নিঃসরণের জন্য ইরিটেসন ও শুষ্ক কাশি হয়।

ক্যানসার
বয়স্ক ও ধূমপায়ী ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, পুরোনো কাশির নতুন ধরন, কফের সঙ্গে রক্ত এসব উপসর্গ থাকলে সাবধান। ফুসফুসের ক্যানসার হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

হৃদরোগ
হৃদরোগের কারণেও ক্রনিক কাশি হয়। শরীরে পানি জমা, দুর্বলতা, সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট এগুলো হৃদ্রোগের দিকেই নির্দেশ করে।

পর্যাপ্ত তরল পান না করা
যখন ঠান্ডা অথবা ফ্লু হবে, তখন প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। পানি, জুস ও স্যুপ শ্বাসনালি থেকে কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। কিন্তু ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন চা বা কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যা বিপরীত কাজ করতে পারে। এ সময় শ্বাসনালিতে আর্দ্রতা যুক্ত করতে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

মানসিক চাপ
মানসিক চাপ, বিশেষ করে যখন এটি তীব্রতর হয়, তখন এটি ঠান্ডার স্থায়িত্বকালকে বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশির মোকাবিলা করতে, যখন আপনি অসুস্থ থাকবেন, তখন আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। নিজের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করলে আপনি হয়তোবা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। প্রশান্তিতে থাকার একটি উপায় হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিন, রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান।

ওষুধ
কোনো কিছুতেই কাশি না সারলে ও পরীক্ষায় কিছু না পাওয়া গেলে লক্ষ করুন কোনো ওষুধের জন্য এটি হচ্ছে কি না। যেমন উচ্চ রক্তচাপের জন্য কোনো ওষুধ সেবনের কারণেও কাশি এত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তীব্র শুকনো কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তবে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

নিরাময়ের উপায়
 ধূমপান ও বায়ুদূষণ কাশির একটি অন্যতম কারণ। তাই ধূমপান বর্জন করুন।
 ধুলাবালুতে কাশি হলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঝুল ঝাড়া ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।
 ঠান্ডায় সমস্যা হলে গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব ঠান্ডা পানি খাবেন না।
 লিকার চা, কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস, গরম স্যুপ ইত্যাদি কাশি সারাতে সাহায্য করে।
 গরম পানির ভাপ নিতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশিতে ভুগলে, বিশেষ করে ধূমপায়ীরা সতর্ক হোন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরামর্শ

নাক বন্ধ হলে

নাক বন্ধ থাকা একটি প্রচলিত সমস্যা। সাধারণ থেকে জটিল, বিভিন্ন কারণে নাক বন্ধ থাকে। কিন্তু এই সময়ে হঠাৎ নাকের ভেতর বন্ধ হয়ে গেছে। কথা বলার সময়ও নাকে কথা বেঁধে আসছে। শীতের সময় এমন সমস্যা হতেই পারে। শুষ্ক আবহাওয়ায় ধুলাবালুর কারণে অ্যালার্জি হলে নাক বন্ধ হওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। ভাইরাসজনিত কারণে এ সময়ে নাক বন্ধ হতে পারে। নাক বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি ঘ্রাণ নিতে অসুবিধা হওয়া, মাথাব্যথা, হালকা সর্দি, জ্বর বা কাশিও থাকতে পারে। এ ছাড়া কথা বলার সময় অসুবিধা হতে পারে।

জাতীয় নাক কান গলা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান বলেন, দেখা যায় সাধারণত ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে যায়। নাকের ভেতরে কিছু টিস্যু রয়েছে। এগুলো ছোট হয়ে যায়, কখনো বড় হয়। এটি নাকের বাতাস চলাচলের রাস্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া নাকের মাঝখানের যে ভাগটি রয়েছে, সেটিও মাঝেমধ্যে সমস্যা করে। অনেক সময় দেখা যায়, সর্দি হয়ে নাক বন্ধ হয়ে গেল, মুখ দিয়ে শ্বাস ফেলছে।

কী করবেন

গরম পানিতে মেনথলের দুই-তিনটি দানা ছেড়ে দিয়ে সেই পানির ভাপ নিতে পারেন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নাকের ড্রপ ব্যবহার করতে পারেন।

অ্যান্টি হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। তবে নাকের ড্রপগুলো দীর্ঘদিন বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ, একটানা দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে একসময় সেটির কারণেই আবার নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে।

এক পাশের নাক বন্ধ নাকি উভয়?

এ সময়ে ভাইরাস বা অ্যালার্জির কারণে নাক বন্ধ হলে দুপাশের নাকই বন্ধ হয়ে থাকে। যদি কারও শুধু এক পাশের নাক বন্ধ হয়, সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ নাকের কোনো টিউমার, নাকে ছত্রাক সংক্রমণ বা অন্য কোনো কারণে এক পাশের নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

শিশুর নাক বন্ধ?

নাক বন্ধ থাকার কারণে ঘুমাতে পারে না, বিরক্ত হয় ও কাঁদে। আধা কাপ হালকা কুসুম গরম পানিতে চার ভাগের এক চামচ লবণ মিশিয়ে স্যালাইন ড্রপ তৈরি করুন। শিশুকে চিত করে শুইয়ে কাঁধের নিচে একটা তোয়ালে গোল করে মাথাটা খানেক উঁচু করে দিন। এবার ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড পর পর দুই বা তিন ফোঁটা করে নাকে এই ড্রপ দিয়ে দিন। একটু পর কাত করে নাকের সর্দি বের হতে দিন এবং টিস্যু বা পাতলা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করে দিন। কখনোই নাকের ভেতর টিস্যু বা কটন বাড ঢোকাবেন না।

প্রতিরোধ

ভাইরাসজনিত সর্দি-জ্বরে অসুস্থ ব্যক্তি হাঁচি-কাশির সময় নাকেমুখে রুমাল বা টিস্যু পেপার চেপে ধরলে অন্যদের মধ্যে জীবাণু ছড়াবে না। বাইরে থেকে ফিরে প্রত্যেকেরই হাত ধোয়া উচিত। কারণ, হাতের মাধ্যমেও জীবাণু ছড়াতে পারে। বাসায় ধুলাময়লা জমতে দেওয়া চলবে না। এতে অন্তত ঘরের মধ্যে ধুলাবালুর কারণে অ্যালার্জির সমস্যা থেকে বাঁচা যাবে।