Categories
Featured খাদ্য ও পুষ্টি ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

রোজায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস

আমাদের দেশে রমজান মাস এলেই খাওয়াদাওয়ার ধুম পড়ে যায়। মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে কী খাবে, কী খাবে না। স্বল্প ভোজনের বদলে চলে অতিভোজনের আয়োজন। অন্য সময়ের চেয়ে তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া খাবার প্রবণতা বাড়ে যা অস্বাস্থ্যকর।

ইফতারে যা খাবেন

♦ রমজানে অনেক মুখরোচক খাবার বানিয়ে বিক্রি করা হয়। এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে কি না কিংবা ভেজাল তেল, বেসন ও কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে কি না, সে দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাই পারতপক্ষে দোকানের তৈরি ইফতারি ও সাহরি না খাওয়াই ভালো।

♦ যে তেলে খাবার ভাজা হয়, সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ একই তেল বারবার আগুনে ফুটালে তা থেকে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামের ক্যান্সার হতে পারে এমন পদার্থের মাত্রা বেশি থাকে। তা ছাড়া অপরিষ্কারভাবে ইফতারি তৈরি করলে পেটের পীড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য খোলা খাবার না খাওয়াই উচিত। এটা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়।

♦ খুব কম ফলই পাওয়া যাবে, যা ভেজালমুক্ত। তা ছাড়া শরবতের পানীয় বিশুদ্ধ কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

♦ ইফতারের জন্য তৈরি প্রায় সব খাবার তেলও উচ্চ চর্বিযুক্ত। সাধারণত বেশি মুনাফার আশায় এসব খাবার মানসম্মত তেলে এবং সঠিক নিয়মে ভাজা হয় না, তাই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

♦ সুস্থ রোজাদারের জন্য ইফতারে খেজুর, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পিঁয়াজু, বুট, ফরমালিন অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইডমুক্ত মৌসুমি ফল থাকা ভালো। কারণ ফলে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, সহজে হজম হয়।

♦ বাসায় রান্না করা নুডলস খেতে পারেন।

♦ বেশি ভাজা-ভুনা, তেহারি, হালিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে বদহজম হতে পারে।

♦ রুচি পরিবর্তনের জন্য দু-একটি জিলাপি খেতে পারেন।

♦ এখন প্রচণ্ড গরমকাল বলে পরিমাণমতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত।

♦ এশা ও তারাবির নামাজের পর অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণমতো ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খাবেন।

 

সাহরিতে যা খাবেন

♦ শরীর সুস্থ রাখার জন্য সাহরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

♦ সাহরির খাবার মুখরোচক, সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া প্রয়োজন। বেশি তেল, বেশি ঝাল, বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

♦ ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ অথবা মাংস অথবা ডিম, ডাল থাকা প্রয়োজনীয়।

♦ পাকস্থলীতে বেশি উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়।

♦ বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খেলে রোজাকালীন শরীর অসুস্থ লাগতে পারে, ক্লান্তি কিংবা ঘুম আসতে পারে।

♦ রমজান মাস ওজন কমানোর জন্য সুবর্ণ সুযোগ মেদবহুল মোটা মানুষের জন্য। রমজান মাসের রোজাগুলো রেখে এই সুযোগ অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

♦ যাঁরা ধূমপানে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য রমজানই ধূমপান ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

Categories
Featured স্বাস্থ্য পরামর্শ

হিটস্ট্রোকের লক্ষণ জেনে নিন

যত দিন যাচ্ছে, তত বাড়ছে তাপমাত্রা। বৈশাখ মাস পড়তে না পড়তেই গরমে রীতিমতো হাঁসফাঁস অবস্থা! আর গরম যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকিও। তাই এই গরমে ঘরের বাইরে পা রাখার আগে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ সম্পর্কে জেনে নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক হিট স্ট্রোকের লক্ষণ আর সতর্ক হয়ে যান আগেভাগেই।

হিট স্ট্রোকের লক্ষণ
১) ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়া হিট স্ট্রোকের একটি অন্যতম লক্ষণ।

২) হিট স্ট্রোকের আগে ত্বক শুষ্ক আর লালচে হয়ে ওঠে।

৩) হিট স্ট্রোকের আগে রক্তচাপ অস্বাভাবিক ভাবে কমে যায়।

৪) এ সময় শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে প্রস্রাবের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

৫) হিট স্ট্রোকের সময় নাড়ির স্পন্দন অত্যন্ত ক্ষীণ ও দ্রুত হয়ে যায়।

৬) হিট স্ট্রোকের আগে মাথা ঝিমঝিম করা, শরীরে খিঁচুনি হতে পারে।

৭) হিট স্ট্রোকের আগে বমি বমি ভাব বা বমি হতে পারে।

৮) শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক মাত্রায় বেড়ে যায়। হিট স্ট্রোকের সময় শরীরের তাপমাত্রা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড) বা তার চেয়ে বেশি হতে পারে।

হিট স্ট্রোক প্রতিরোধ কী করণীয়
১) হালকা ঢিলেঢালা পোশাক পড়ুন। হালকা রঙের পোশাক পড়ুন যাতে সহজেই বাতাস চলাচল করতে পারে। খুব আঁটোসাটো পোশাক না পরাই ভাল।

২) হিট স্ট্রোক হলে আক্রান্তকে যত দ্রুত সম্ভব ঠাণ্ডা পরিবেশে সরিয়ে আনতে হবে। সম্ভব হলে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তকে তাপানুকূল (এয়ারকন্ডিশন্ড) ঘরে রাখতে হবে।

৩) যেকোনো উপায়ে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করতে হবে। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীর জলে ভেজানো কাপড় দিয়ে মুছিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে ভেজা কাপড় দিয়ে কিছু ক্ষণ জড়িয়ে রাখতে হবে। সেই সঙ্গে ঘরের পাখা চালিয়ে রাখতে হবে।

৪) যাদের দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে খোলা আকাশের নীচে কাটাতে হয় বা রোদে ঘোরাঘুরি করতে হয়, তাদের একটানা বেশিক্ষণ পরিশ্রমের কাজ না করাই ভালো। ছোট ছোট বিরতি নিয়ে কাজ করা উচিত।

৫) প্রথমিক পর্যায়ে হিট স্ট্রোকের মোকাবিলা করার পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

Categories
Featured স্বাস্থ্য পরামর্শ

বাড়িতে অ্যালার্জির গোপন শত্রু

হাঁচি–কাশি সারছেই না, শ্বাসকষ্ট, অল্পতেই খুক খুক করা, ত্বকে চুলকানি, র‌্যাশ—অ্যালার্জির সমস্যা কখনো কখনো খুবই কষ্ট দেয়। অ্যালার্জির সমস্যা এড়াতে একটি বড় সমাধান হলো, যে বস্তুতে অ্যালার্জি হয় বা অ্যালার্জেনগুলো এড়িয়ে চলা। অ্যালার্জি কিছুতেই যখন সারছে না, তখন একটু ভাবুন, আশপাশেই কি লুকিয়ে আছে আপনার শত্রু?

বিছানাপত্র: বিছানার চাদর, বালিশের কভার, বালিশ, লেপ, তোশক, মেট্রেস, কাঁথা-কম্বল—এগুলোতে থাকে ধুলাবালু ও ডাস্ট মাইট (এক জাতের খুব ছোট পোকা)। বিছানার ধুলাবালি আর ডাস্ট মাইট থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার বিছানার চাদর, বালিশের কভার, লেপের কভার ধুয়ে দিতে হবে। মাঝেমধ্যে লেপ, কাঁথা, কম্বল রোদে দিতে হবে। তোশক, মেট্রেসও রোদে দেওয়া উচিত। রোদের অতিবেগুনি রশ্মিতে ডাস্ট মাইট দূর হয়।

আসবাব: চেয়ার, টেবিল, সোফা, খাট, আলমারি, ওয়ার্ডরোব ইত্যাদির ওপরে ও ফাঁকে ফাঁকে ধুলাবালু ও ডাস্ট মাইট থাকে। আর্দ্র জায়গা হলে ছত্রাকও জন্মায়। এগুলো প্রতিদিনই ঝাড়া–মোছা করতে হবে। বদ্ধ বা ভ্যাপসা ঘর হলে মাঝেমধ্যে এগুলো বাইরে বা ছাদে রোদে দেওয়া ভালো।

কার্পেট, ম্যাট: ঘরের মেঝেতে বিছানো কার্পেট ও ম্যাট প্রচুর ধুলা ও ডাস্ট মাইট জমা হওয়ার উৎকৃষ্ট স্থান। নিয়মিত ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। যাদের অ্যালার্জি আছে, তাদের বাড়িতে বরং কার্পেট না থাকাই ভালো। মেঝেতে কার্পেট বা ম্যাটা না থাকলে প্রতিদিনই ঘর ঝাড়ু দিয়ে ঘরের মেঝে ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিতে হবে।

দরজা–জানালা: দরজা, জানালা ও দরজা-জানালার পর্দায় জমে থাকে ধুলাবালু, মাকড়সার জাল, ডাস্ট মাইট নিয়মিত ঝেড়ে, মুছে, ধুয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।

রান্নাঘর: আর্দ্র রান্নাঘরে বাসা বাঁধতে পারে ছত্রাক। কাজ শেষে রান্নাঘর ঝেড়ে মুছে পরিষ্কার করে শুকনো রাখতে হবে। রান্নাঘরের ধোঁয়া বাইরে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যথেষ্ট আলো–বাতাস থাকা চাই রান্নাঘরে।

বই–পুস্তক: টেবিলে, বইয়ের তাকে বা আলমারিতে রাখা বই দীর্ঘদিন নাড়াচাড়া না করলে এগুলোতে ধুলা জমে, ডাস্ট মাইট বাসা বাঁধে। বই যত্ন করে শুধু তুলে না রেখে নিয়মিত নাড়াচাড়া করতে হবে, পড়তে হবে। তাহলে পরিষ্কার থাকবে।

শিশুর খেলনা: শিশুর নরম খেলনা, যেগুলোর ওপরে কাপড়ের আবরণ বা প্রাণীর লোমের মতো থাকে, সেগুলোতে ধুলা ও ডাস্ট মাইট জমে থাকে। ধোয়া যায়, এমন খেলনাগুলো পানি দিয়ে ধুয়ে দিতে হবে। অন্যগুলো ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে।

পোষা প্রাণী: বিড়াল, কুকুর, খরগোশ ইত্যাদি প্রাণীর লোম থেকে অ্যালার্জি হয়। পাখি বা প্রাণীর মলমূত্রও হতে পারে অ্যালার্জির কারণ। পশুপাখি পুষলে তাকে নিয়মিত গোসল করানো, তার থাকার জায়গা নিয়মিত পরিষ্কার করা ও মলমূত্র সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করা উচিত।

Categories
Featured প্রাথমিক চিকিৎসা রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

কীভাবে বুঝবেন হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিতে আছেন?

সুস্থ–সবলভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কেউ, কোনো সমস্যা নেই, একদিন হঠাৎ শোনা যায় তাঁর ‘ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক’ হয়ে গেছে। সমস্যা হলো এমন ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগে প্রায়ই কিছু জানা যায় না। এ রকম হার্ট অ্যাটাকের পরিণতি হয় সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু, নয়তো জীবনের সঙ্গে আপস করে কোনোমতে চলা। তাই হৃদ্‌রোগ হওয়ার আগেই সাবধান হতে হবে।

কীভাবে বুঝবেন ঝুঁকিতে আছেন?
কোনো সমস্যা বোধ করছেন না, বুকে ব্যথা করে না কখনো, অনেক পরিশ্রমও করতে পারেন, তার মানে কোনো দিন হার্ট অ্যাটাক হবে না—এমন মনে করার কোনো কারণ নেই। তবে ঝুঁকি কতটুকু আছে, তা জেনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে অকালমৃত্যু বা কঠিন পরিণতি এড়ানো যায়।

নিজের ঝুঁকি জানতে নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আপনি আপনার ঝুঁকির মাত্রা জানতে পারেন। প্রশ্নের বেশির ভাগ উত্তরই যদি ‘হ্যাঁ’ হয়ে থাকে, তবে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেক বেশি

আপনি কি ধূমপান করেন? আপনার পরিবারে কি হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস বা অল্প বয়সে হঠাৎ মৃত্যুর ইতিহাস আছে? আপনার কি উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি আছে? আপনি কি কায়িক শ্রমবিহীন জীবন যাপন করেন? আপনি কি স্থূল বা আপনার কি ওজন বেশি? আপনার মানসিক চাপ কি প্রচণ্ড?

জানতে হবে হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ

* বেশির ভাগ সময় হার্ট অ্যাটাকে বুকের মধ্যে চাপ বোধ হয়, যা কয়েক মিনিটের বেশি সময় ধরে থাকে। ব্যথাটা মাঝেমধ্যে চলে যায়, আবার ফিরে আসে। একটা অস্বস্তিকর চাপ ও ঝাঁকুনি অনুভূত হয়।

* অনেক সময় বাহু, পিঠ, ঘাড়, চোয়াল অথবা পাকস্থলীতেও অস্বস্তি অনুভূত হয়।

* অনেক সময় বুকে অস্বস্তির সঙ্গে সঙ্গে শ্বাস ছোট হয়ে আসে।

* অন্য লক্ষণগুলোর মধ্যে ঘাম দিয়ে শরীর ঠান্ডা হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব বা হালকা মাথাব্যথা, পিঠে বা চোয়ালে ব্যথা হতে পারে।

হাসপাতালে আসতে হবে গোল্ডেন আওয়ারে

কারও হার্ট অ্যাটাক হলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের পর প্রথম এক ঘণ্টা হলো গোল্ডেন আওয়ার, অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে হাসপাতালে চিকিৎসকের জরুরি চিকিৎসা নিতে পারলে রোগীর প্রাণ রক্ষা প্রায় নিশ্চিত করা সম্ভব।

এখন প্রশ্ন হলো, কীভাবে বুঝব হার্ট অ্যাটাক, না গ্যাসের কারণে বুকব্যথা? এই দ্বিধাদ্বন্দ্বে অনেক সময় চলে যায়। বুকে ব্যথা চরমে উঠলে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়। রোগীর জীবনসংশয় দেখা দেয়। তারপরও চিকিৎসকেরা চেষ্টা করেন। যদি হার্ট অ্যাটাকের তীব্রতা কম হয়ে থাকে, তাহলে হয়তো প্রাণ রক্ষা পায়। কিন্তু বাকি জীবন কষ্ট করে চলতে হয়। কারণ, হার্ট অ্যাটাকের ফলে হৃৎপিণ্ডের কিছু অংশ অকেজো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত হয়তো চরম ঝুঁকিতে পড়তে হয়। তাই একটু বেশি বয়সীরা বা যাঁরা ঝুঁকিতে আছেন, তাঁদের বুকে ব্যথা হলে অবহেলা না করে অন্তত একটা ইসিজি করে দেখতে পারেন যে হার্টের ব্যথা নয় তো?

ডায়াবেটিস থেকে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত

অধিকাংশ ডায়াবেটিসের রোগী হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়েই অকালে মৃত্যুবরণ করে থাকেন। ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগ—এ দুটি পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যে বিষয়গুলো ডায়াবেটিসের ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত, যেমন অতি ওজন, ধূমপান, মন্দ খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা বংশগতি, এগুলো হৃদ্‌রোগেরও ঝুঁকি। তাই এ দুটি সমস্যা পরস্পরের হাত ধরেই চলে। একটির ঝুঁকি কমালে অপরটির ঝুঁকিও কমে আসে।

আর তাই—

* রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।

* রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন। রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করুন ও প্রয়োজনে চর্বি কমানোর ওষুধ গ্রহণ করুন।

* উচ্চ ক্যালরি ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত লবণও এড়িয়ে চলুন। ধূমপান করবেন না। সুষম খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।

* সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট হাঁটুন বা যেকোনো ব্যায়াম করুন। কায়িক পরিশ্রম বাড়ান। ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। বিশেষ করে পেটের চর্বি কমানোর চেষ্টা করুন।

* নিয়মিত রক্তচাপ, শর্করা পরীক্ষা করুন, চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন ও হৃদ্‌রোগ আছে কি না, তা নির্ণয়ে সচেতন হোন। সব সময় যে উপসর্গ থাকবে, এমন কোনো কথা নেই।

ভালো অভ্যাসে সুস্থ হৃদ্‌যন্ত্র

ছোট্ট কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন জীবনটাকে বদলে দিতে পারে। সুস্থ রাখতে পারে শরীরের হৃদ্‌যন্ত্রকে। এর জন্য কিছু অভ্যাস ছাড়তে হবে, আবার কিছু সাদরে গ্রহণ করতে হবে। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন ও খাদ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়া। ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে বড় প্রয়োজন প্রতিজ্ঞা। সঠিক-স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম—এসব অভ্যাস নিজের পাশাপাশি সন্তান ও পরিজনদের মধ্যেও গড়ে তুলতে হবে।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য

গরমে শিশুদের যত্নে করণীয়

সারা দেশে তীব্র তাপদাহ বয়ে চলছে। এর মধ্যে কখনো কখনো খানিকটা বৃষ্টির দেখা মিললেও শেষ পর্যন্ত গরম কমছে না। বাতাসে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা,  কাঠফাটা রোদ, সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। তীব্র গরমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধি বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময়ই মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই এ সময়ে সতর্ক হয়ে না চললে যেকোনো সময়ই আপনি অসুস্থ হতে পারেন।

গরমে শিশুদের জন্য বিশেষ সাবধানতা  

এই গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষভাবে ভাবতে হবে। শিশুদের বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে ঘরে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়ান।  এই গরমে নবজাতক ও ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয়বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। যদি কম হয়,  সে ক্ষেত্রে পানি বা তরল খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে। গায়ে ‎র‌্যাশ ও ঘামাচি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধের দরকার নেই। ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিতে হবে এবং ঠান্ডা বা নিরাপদ পরিবেশে শিশুকে রাখতে হবে।

প্রতিদিন গোসল ও দিনে দুই থেকে তিনবার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। নবজাতকদের জন্য বুকের দুধ বারবার দিতে হবে। নরম ও পাতলা কাপড় পরাতে হবে।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য রোগ ব্যাধি

শিশুর জলবসন্তে

ভীষণ ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত অসুখ জলবসন্ত বা চিকেন পক্স। বসন্তের আগমনের সময় এ রোগ হতে পারে। দায়ী জীবাণু হলো হারপেস জাতের ভেরিসেলা ঝোসটার ডিএনএ ভাইরাস।
রোগের লক্ষণ
চিকেন পক্স সাধারণভাবে শিশু বয়সের অসুখ। বিশেষত ২ থেকে ৮ বছর বয়সে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সরাসরিভাবে এলে বা হাঁচি-কাশির সাহায্যে বাতাসে ভর করে এ রোগ ছড়ায়। কখনোবা রোগীর ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও ছড়িয়ে পড়ে চিকেন পক্স। ঘরে কারও এ অসুখ দেখা দিলে অন্য সদস্যদের মধ্যে তা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দ্রুত ছড়ায়। রোগজীবাণু দেহে প্রবেশের ১৪ থেকে ২১ দিনের মাথায় অসুখের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথম কয়েক দিন শারীরিক ক্লান্তি, ম্যাজম্যাজে ভাব, জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা-এসব উপসর্গ থাকে। তারপর শরীরে দেখা দেয় দানাদার ফুসকুড়ি বা র​্যাশ। এক থেকে দেড় হাজার সংখ্যক পর্যন্ত র​্যাশ দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের বেলায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উপসর্গ থাকে না বা বোঝা যায় না। সরাসরি র​্যাশ দিয়ে রোগের প্রকাশ ঘটে। এই র​্যাশ বেশ চুলকানো প্রকৃতির। ম্যাকিউল, পেপিউল ও ভেসিকুলার বিভিন্ন প্রকারের র​্যাশ রোগীর শরীরে একই সময় মেলে। র​্যাশের এই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত চেহারা, বুকে, পিঠে নজর কাড়ে বেশি। তবে তা হতে পারে মুখগহ্বরের ভেতরে, চোখে, হাতে-পায়ের তালুতে।

জটিলতা

স্বাভাবিক শিশুর ক্ষেত্রে চিকেন পক্স তেমন গুরুতর সংকট সৃষ্টি করে না। কিশোর, যুবক বা বয়স্কজনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বসন্ত রোগের জটিলতা বেশি। বিশেষত শিশু যদি অন্য কোনো অসুখে ভোগা রোগ প্রতিরোধক ঘাটতিজনিত অবস্থায় থাকে। চিকেন পক্সজনিত তীব্র জটিলতাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেপসিস, এনকেফালাইটিস, নিউমোনিয়া।

চিকিৎসা

● বাচ্চার স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ভীষণ চুলকানো বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করানো।

● চিকেন পক্সে কখনোই শিশুকে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। এতে করে ‘রি-ই সিনড্রোম’ নামক জটিল অসুখে পড়তে পারে শিশু।

● সেপসিস, নিউমোনিয়া বা এনকেফালাইটিসের যথাযথ ব্যবস্থাপনা।

● অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শমতো হওয়া উচিত।

● এসাইক্লোডির ওষুধ বা ইম্যুনোগ্লোবিন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধক টিকা

চিকেন পক্স প্রতিরোধের কার্যকর ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যায়। দামি হলেও এটি নিরাপদ। বেশ কিছু দেশে রুটিন মেনে ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে চিকেন পক্স ভ্যাকসিন শিশুকে দেওয়া হয়। সংস্পর্শ ঘটার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুফল মেলে।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর নিউমোনিয়া প্রতিরোধযোগ্য

সামান্য শীতেও ঠাণ্ডা লেগে সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, এমনকি নিউমোনিয়া হতে পারে। নিউমোনিয়া মৃদু বা হালকা থেকে জীবনহানিকরও হতে পারে। তবে এটি সহজে প্রতিরোধযোগ্য এবং চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য একটি রোগ।

পাঁচ বছরের নিচের শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া। সেভ দ্য চিলড্রেনের ২০১৪ সালে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ১৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয় নিউমোনিয়ার কারণে, যা পাঁচ বছরের কম বয়সী ১৬ শতাংশ শিশুমৃত্যুর কারণ।

নিউমোনিয়া কী?
নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের এক ধরনের ইনফেকশন বা প্রদাহ। এটি ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ফাঙ্গাস অথবা পরজীবীর কারণে হতে পারে। এটি একটি জটিল সংক্রমণ, যা প্রাথমিকভাবে ফুসফুসের বায়ুথলি অ্যালভিওলিতে (ফুসফুসের মধ্যে থাকা আণুবীক্ষণিক ঝিল্লি, যা অক্সিজেন শোষণ করে) বেশ জ্বালাপোড়ার সৃষ্টি করে বা ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক সময় এতে তরল অথবা পুঁজ জমে যায়। তখন কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা অথবা পুঁজ, উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর, ঠাণ্ডা লাগা, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হতে পারে। তবে সব সর্দি-কাশিই নিউমোনিয়া নয়।

লক্ষণ
কোনো শিশুর নিউমোনিয়া হয়েছে কি না—এটা বোঝা যাবে কিছু লক্ষণ দেখে। তবে কাশি, শ্বাসকষ্ট ও জ্বর—এই তিনটি হলো নিউমোনিয়ার প্রধান লক্ষণ। জ্বর থাকতে পারে ১০০-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি। নিউমোনিয়ার মাত্রা একটু বেড়ে গেলে বুকের খাঁচা (পাঁজরের নিচের অংশ) দেবে যেতে পারে। তখন শিশুটি দ্রুত শ্বাস নেয়। দুই মাসের কম বয়সী শিশুদের মিনিটে ৬০ বার বা তার চেয়ে বেশি শ্বাস নিতে দেখা যায়। দুই মাস থেকে ১২ মাস বয়সী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু মিনিটে ৫০ বার বা তার চেয়ে বেশি শ্বাস নেয় এবং এক বছরের বড় শিশু ৪০ বার বা তার চেয়ে বেশিবার শ্বাস নেয়।

এ ছাড়া নিঃশ্বাসের সময় বুকে ব্যথা, ঘাম, চুপচাপ থাকা, খাবারে অরুচি, ক্ষুধামান্দ্য, পেট ব্যথা ইত্যাদি লক্ষণও থাকতে পারে। এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে খিঁচুনিও হতে পারে।

পরীক্ষা
প্রথমে রোগের লক্ষণগুলো দেখে বোঝা যাবে শিশুটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে কি না। এরূপ লক্ষণ থাকলে অভিভাবকদের উচিত শিশুটিকে চিকিৎসকের পরামর্শে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করা।

রক্ত পরীক্ষা ও বুকের এক্স-রে করলে বোঝা যাবে তার নিউমোনিয়া হয়েছে কি না। যদি দেখা যায় চিকিৎসায় তেমন উন্নতি হচ্ছে না, তখন কফ বা থুতু পরীক্ষা, রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা নির্ণয় ইত্যাদি পরীক্ষা করলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরো অ্যাডভান্স লেভেলে চলে গেলে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে পালস অক্সিমেটরি যন্ত্রের মাধ্যমে রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা দেখা হয়। আউটডোরে রোগীকে অনেক সময় রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার অনুপাত দেখে ভর্তি বা পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হয়।

ঝুঁকি বেশি যাদের

প্রি-ম্যাচিউর বা স্বল্প ওজনের নবজাতক।

পুষ্টিহীন শিশু

ঘরের মধ্যে ধোয়া (ইনডোর হাউস পলিউশন)।

পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের বেশি হয়।

শালদুধ, এমনকি পূর্ণ দুই বছর বুকের দুধ পান করে না যেসব শিশু।

যাদের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও আবদ্ধ ঘরে বসবাস যাদের।

পরোক্ষ ধূমপায়ী শিশু।

অন্য শারীরিক সমস্যা থাকলে বা মারাত্মক রোগে আক্রান্ত হলে, বিশেষ করে এইচআইভি, হাম, কিডনির রোগ ইত্যাদিতে আক্রান্ত শিশু। হামের সময় অথবা হাম থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পরও অনেক সময় জটিল ধরনের নিউমোনিয়া হয় শিশুদের।

চিকিৎসা
নিউমোনিয়া হয়েছে এমন মনে হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে, বিশেষ করে শিশুটি বুকের দুধ বা খাওয়াদাওয়া ছেড়ে দিলে, খিঁচুনি হলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা দেওয়া উচিত। এর চিকিৎসা ও করণীয় হতে পারে—

গাইডলাইন অনুযায়ী সঠিক অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগ।

সর্দি-কাশির জন্য লেবুর শরবত, অল্প গরম পানি, হালকা লিকারের চা, তুলশী/বাসক পাতার রস, মধু পান।

জ্বর থাকলে জ্বর কমানোর ওষুধ প্রয়োগ।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম থাকলে মাস্কের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া।

প্রয়োজনে আইভি স্যালাইনও দিতে হতে পারে।

অনেক সময় রোগটি এমন মাত্রায় চলে যায়, তখন সি প্যাপ (কনটিনিউয়াস পজিটিভ এয়ারওয়ে প্রেসার) মেশিনে তোলার প্রয়োজন হয়।

গুরুতর পর্যায়ে ভেন্টিলেশন লাগতে পারে।

প্রতিরোধে করণীয়
নিউমোনিয়া একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ। আগেভাগে সতর্ক হয়ে কিছু পদক্ষেপ নিলে নিউমোনিয়ার মতো জটিল অসুখ থেকে শিশুদের রক্ষা করা যায়। এর জন্য কিছু করণীয় বা পরামর্শ হলো—

জন্মের পর শালদুধ ও পূর্ণ দুই বছর বুকের দুধ পান নিশ্চিত করা।

সব সময় শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়া।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, বিশেষ করে সাবান-পানি দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করা।

শীতকালে শীত উপযোগী হালকা ও নরম গরম কাপড় ব্যবহার করা।

সহনীয় গরম পানিতে গোসল করানো।

বেশি মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

অসুস্থ লোক, বিশেষ করে হাঁচি-কাশিতে আক্রান্ত লোকের সামনে শিশুদের যেতে না দেওয়া।

সুস্থ শিশুকে সর্দি-কাশি, ব্রঙ্কিওলাইটিস, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুর কাছে যেতে না দেওয়া।

আবদ্ধ ঘরে বসবাস না করা।

শিশুর সামনে বড়দের হাঁচি-কাশি না দেওয়া বা মুখে রুমাল বা কাপড় ব্যবহার করা।

শিশুকে কোলে নেওয়ার আগে হাত ধোয়া।

নাক পরিষ্কার রাখা।

ব্যবহূত টিস্যু ডাস্টবিন বা গর্তে ফেলা।

চুলার ধোঁয়া, মশার কয়েল ও সিগারেটের ধোঁয়া থেকে দূরে রাখা।

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার দেওয়া, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘ডি’ গ্রহণ।

ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত ব্যায়াম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা।

শিশু জন্মের পর ইপিআই শিডিউলের সব ভ্যাকসিন দেওয়া, বিশেষ করে বিসিজি, পিসিভি (নিউমোকক্কাল কনজোগেইট ভ্যাক্সিন), হিব (হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েনজি টাইপ বি ব্যাকটেরিয়া) ভ্যাকসিন বা টিকা নেওয়া।

অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

Categories
Featured রোগ ব্যাধি স্বাস্থ্য পরামর্শ

জেনে নিন আপনার ডায়াবেটিস নির্ণয় পদ্ধতি

ডায়াবেটিস একটি হরমোন সংশ্লিষ্ট রোগ। দেহের অগ্ন্যাশয় যথেষ্ট ইনসুলিন তৈরি করতে অথবা উৎপন্ন ইনসুলিন ব্যবহারে শরীর ব্যর্থ হলে যে রোগ হয় সেটাই ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র।

এ রোগ হলে রক্তে চিনি বা শকর্রার উপস্থিতিজনিত অসামঞ্জস্য দেখা দেয়। ইনসুলিনের ঘাটতি বা রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে শরীরের অক্ষমতাই এ রোগের মূল কথা।

ডায়াবেটিস নির্ণয় পদ্ধতি
ডায়াবেটিস মেলিটাস রক্তে গ্লুকোজ বা চিনির উচ্চ স্তরের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়। পুরনো চিকিৎসা ধারা কিংবা ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষার পর চিকিৎসক ডায়াবেটিস সন্দেহ করেন। নির্ণয়ের জন্য রক্ষে চিনির স্তর পরীক্ষা করা হয়।

ফাস্টিং প্লাজমা গ্লুকোজ টেস্ট
এই পরীক্ষায় রোগীকে সারারাত অথবা অন্তত আট ঘণ্টা উপবাস থাকতে বলা হয়। এরপর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। এ সময় স্বাভাবিক প্লাজমা গ্লুকোজ মাত্রা ১১০ মিগ্রা / ডিএল-এর কম থাকে। ১২৬  মিলিগ্রাম / ডিএল এর বেশি থাকলে সাধারণত ডায়াবেটিস মেলিটাস বা রোগীর ডায়াবেটিস হয়েছে বলে নির্ধারণ করা হয়। ১১০-১২৫ মিগ্রা / ডিএল স্তরকে দুর্বল উপবাস গ্লুকোজ বা ইম্পায়ার্ড ফাস্টিং গ্লুকোজ বলা হয়।

পোস্ট প্রান্ডিয়াল (পিপি) প্লাজমা গ্লুকোজ
এই প্রক্রিয়ায় খাবার খাওয়ার দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় পিপি স্তর ১৪০ মিগ্রা / ডিএল-এর বেশি থাকলে তাকে স্বাভাবিক বলে বিবেচনা করা হয়।  আর ২০০ মিলিগ্রাম / ডিএল-এর বেশি থাকলে ডায়াবেটিস মিলিটাস হিবেবে নির্ধারণ করা হয়। পিপি স্তর ১৪০-১৯৯ মিগ্রা / ডিএল এর মধ্যে থাকলে তা সহনশীলতা মাত্রায় রয়েছে বলে বিবেচনা করা হয়।

র‍্যানডাম প্লাজমা গ্লুকোজ টেস্ট
এ প্রক্রিয়ায় রক্তে গ্লুকোজ মাত্রা ২০০ মিগ্রা / ডিএল কিংবা তার বেশি থাকলে সাধারণত সরাসরি রোগীর  ডায়াবেটিস উপস্থিতি নির্ধারণ করা হয়।

ওরাল গ্লুকোজ চ্যালেঞ্জ টেস্ট (ওজিটিটি)
এ প্রক্রিয়ায় শরীরে ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ দেওয়ার দুই ঘণ্টা পর পরীক্ষা করা হয়। এটি বর্ডার লাইন ডায়াবেটিস ও ‘ইম্পায়ার্ড গ্লুকোজ টলারেন্স’  শনাক্তকরণে বেশ উপযোগী।

ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস নির্ণয়ে এ পদ্ধতি বেশ কার্যকর। সকালে খালি পেটে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৬.১ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে বেশি এবং ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ খাওয়ার ২ ঘণ্টা পর রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ৭.৮ মিলিমোল/লিটার বা তার চেয়ে বেশি হলে তা  গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর প্রথম শক্ত খাবার

ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব নবজাতক শিশুকে এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের বুকের দুধ দেওয়া উচিত। তারপর পূর্ণ ৬ মাস বয়স পর্যন্ত (১৮০ দিন) শিশু শুধু মায়ের দুধ পান করবে, অন্য কোনো খাবার বা পানি খাওয়ানোর প্রয়োজন নেই। ছয় মাস পর শুরু হবে মায়ের দুধের বাইরে অন্যান্য খাবার দেওয়া। এটা কীভাবে করবেন, তা নিয়ে অনেকে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভোগেন। কোন খাবার সহজে হজম হবে, কোনটায় অ্যালার্জি হতে পারে, পেট খারাপ হতে পারে—এসব ভয় থাকে।

*  ১৮১তম দিবস থেকে শিশুকে বুকের দুধের পাশাপাশি পরিপূরক খাবার দেওয়া চাই। কেননা এ সময় বাড়তি ক্যালরি দরকার, যা শুধু দুধে পূরণ হয় না। এ বয়সে শিশুর বিকাশের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সমাপ্ত হয়, যেমন বসতে পারা, মাথা সোজা করে ধরে রাখতে পারা।

*  শিশুর ওজন জন্ম-ওজনের দ্বিগুণ (১৩ পাউন্ডের মতো) হওয়ার পর থেকে শক্ত খাবার গ্রহণে তার সামর্থ্য তৈরি হয়। সে প্রতি তিন ঘণ্টা অন্তর খাবার গ্রহণে আগ্রহী থাকে।

*  শুরুটা অনেকে ফলের রস দিয়ে করে থাকেন। জুসের ভিটামিন সি আয়রন শোষণে সাহায্য করে। এটা সহজে চামচ দিয়ে খাওয়ানোও যায়। কিন্তু অতিরিক্ত জুস না খাওয়ানোই ভালো (২ আউন্সের বেশি নয়)। এতে ডায়রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এটি ধীরে ধীরে বাড়িয়ে ৪ আউন্স পর্যন্ত দেওয়া যায়।

*  প্রথম দিকের খাবার খিচুড়ি, কলা, গাজর, ফলমূল-শাকসবজি দিয়ে শুরু করা যায়। ডিম, দুধ, গমজাতীয় খাবার কিছুদিন পর শুরু করা ভালো।

*  শিশুর দৈনন্দিন খাবারের মেন্যুতে সপ্তাহে একটি বা দুটির অধিক নতুন খাবার না থাকা ভালো; তাতে কোন খাবার সে সহ্য করতে পারছে বা পারছে না, তা বোঝা যায়।

*  ছয় থেকে নয় মাস বয়সে শিশুকে দ্বিতীয় পর্বের খাবার দেওয়া যায়। যেমন মিশ্র দানাদার খাবার, ডাল-ভাত, শাকসবজি, ফলমূল, মাছ, মাংস।

*  ১২ মাস বয়সের পর থেকে গাভির দুধ দেওয়া যেতে পারে, আর তা ‘ডি’ ভিটামিনযুক্ত হলে উত্তম।

Categories
Featured স্বাস্থ্য পরামর্শ

চার অক্ষরে স্ট্রোকের লক্ষণ জানুন

স্ট্রোক বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত বয়স্ক নারী–পুরুষকে শয্যাশায়ী করে ফেলে। শুধু বয়স্ক নয়, কখনো কখনো অপেক্ষাকৃত কম বয়সী ব্যক্তিরাও স্ট্রোকে আক্রান্ত হন এবং কর্মক্ষমতা হারান।

মস্তিষ্কে রক্ত চলাচলে ব্যাঘাত ঘটলে বা কখনো রক্তনালি ফেটে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে গেলে মস্তিষ্কের কোনো অংশের কোষে যে স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যায়, সেটাই স্ট্রোক। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে চর্বির আধিক্য, ধূমপান ইত্যাদি স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। সময়মতো স্ট্রোকের লক্ষণগুলো বুঝতে পারলে ও দ্রুত চিকিৎসা নিলে ক্ষতিকর দিকগুলো অনেকটাই এড়ানো যায়। স্ট্রোকের উপসর্গ বুঝতে ‘ফাস্ট’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি বর্ণমালার চার অক্ষরের ফাস্ট মানে হলো:

এফ-(ফেস): মুখের একদিক বেঁকে যাওয়া বা ঝুলে যাওয়া।

এ (আর্ম): কোনো হাত ঝুলে পড়া বা হাত নাড়াতে না পারা বা হাতের শক্তি কম মনে হওয়া।

এস (স্পিচ): কথা জড়িয়ে যাওয়া বা কথা বলতে অপারগতা।

টি (টাইম): উপরের উপসর্গগুলো টের পেলে দেরি না করে সময়মতো চিকিৎসকের সাহায্য নিন।

ফাস্ট–এর বাইরে আরও কিছু উপসর্গ স্ট্রোক বুঝতে সাহায্য করে। যেমন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, মাথা হালকা বোধ হওয়া, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীন মনে হওয়া, দৃষ্টিতে সমস্যা, ভুল কথা বলা বা চেতনা লুপ্ত হওয়া। কখনো বমিও হতে পারে। হঠাৎ রক্তচাপ অনেক বেশি বেড়ে যেতে পারে। স্ট্রোকের পর অনেকের খাবার গ্রহণে সমস্যা হয়, খাবার গিলতে গিয়ে গলায় আটকে যায় বা বিষম খান। খাবার বা পানি মুখের কাছ থেকে গড়িয়ে পড়তে পারে।

স্ট্রোক প্রতিরোধ করতে মধ্যবয়স থেকেই সচেতনতা দরকার। নিয়মিত নিজের রক্তচাপ মাপুন। রক্তচাপ বেশি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করুন। রক্তের শর্করা ও চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখুন। ধূমপান বর্জন করুন। বেশি করে তাজা শাকসবজি ও ফলমূল খান। ওজন ঠিক রাখুন। খাবার লবণ কমিয়ে দিন। স্ট্রোক আপনার কর্মমুখর জীবনকে হঠাৎ করেই স্থবির করে দিতে পারে। তাই এখনই সচেতন হোন।