Categories
খাদ্য তালিকা

ক্যালরি বৃদ্ধির খাবার তালিকা

ক্যালরি না কিলোক্যালরি?

আমরা সচরাচর খাদ্যের ক্যালরি বলতে কিলোক্যালরি বুঝি। খাদ্যের ক্যালরি মূল্য সাধারণত: কিলোক্যালরিতে প্রকাশ করা হয়। যেমন: কেউ যদি বলেন যে, আজকে তিনি ১৫০০ ক্যালরি খেয়েছেন, তার মানে তিনি ১৫০০ কিলোক্যালরি খেয়েছেন। আবার কোনো খাদ্যের লেবেলে যদি লেখা থাকে, ৯৫ ক্যালরি, তার মানে সেটির ক্যালরি মান ৯৫×১০০০=৯৫০০০ ক্যালরি =৯৫ কিলোক্যালরি।

জেনে রাখা ভালো যে, ১০০০ ক্যালরি=  এক কিলোক্যালরি| এবং ৩৫০০ ক্যালরি = এক পাউন্ড/ এক কেজি শরীরের ওজন বা ফ্যাট।

আমাদের শরীরে ক্যালরির প্রভাব

  • শারীরিক চাহিদার চাইতে বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন বাড়বে, কম ক্যালরি নিলে ওজন কমবে, আর সমান ক্যালরি গ্রহণ করলে ওজন ঠিক থাকবে।
  • ব্যায়াম করলে বা শারীরিক কাজ করলে, শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়ে শক্তি খরচ হয়, ফলে ক্যালরি বার্ন হয়।
  • কম ক্যালরি খাওয়া ছাড়াও, ক্যালরি বার্ন করার একটি সহজ উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। এছাড়াও হাঁটা চলা করা, মানে শরীরটাকে কর্মঠ রাখা ইত্যাদি। এছাড়াও ঘরের কাজ বা নিজের কাজ করলেও কিছু ক্যালরি বার্ন হয়।
  • মাঝে মাঝেই আমরা অনেক ক্যালরির খাবার খেয়ে থাকি, যা ওজন বাড়ার কারণ। অতিরিক্ত ওজন বাড়লে, অনেক স্বাস্থ্য ঝুকিতে পড়তে হতে পারে। যেমন: উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, হাইপারটেনশন, আর্থ্রাইটিস, ক্যান্সার, অবসাদ ইত্যাদি।
  • তাই এই অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমে ফ্যাট হয়ে যাতে ওজন না বাড়ে, তাই আমাদের উচিত কিছু ক্যালরি বার্ন করা, মানে শরীরচর্চা করা।
  • এছাড়া নিয়মিত বেশি ক্যালরি যুক্ত খাবার, যেমন: চিনিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত তেল,ঘি,মাখন যুক্ত খাবার ইত্যাদি বেশি খেলেও ওজন বাড়ে, বা ব্যায়াম করলেও ঠিক মতো ব্যায়ামের ফল পাওয়া যায় না বা ওজন কমে না।
  • গবেষনায় প্রমানিত হয়েছে যে, নিয়মিত কম ক্যালরির খাবার খেলে আয়ু বাড়ে, দেখতে কম বয়স্ক মনে হয়, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, শারীরিক ফিটনেস বজায় থাকে এবং মনও প্রফুল্ল থাকে।
  • দৈনিক ১২০০ ক্যালরির কম খাবার খাওয়া ঠিক নয়, এতে শরীরের কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়, মেটাবলিজম কমে যায়, শরীর ঠিক মতো পুষ্টি পায় না।
  • শারীরিক চাহিদার চাইতে খুব কম ক্যালরি অনেক দিন ধরে খেলে, শরীরের ওজন কমে যাবে, শরীর দুর্বল হবে, অঙ্গ-প্রত্বঙ্গগুলো ঠিক মতো কাজ করবে না এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাবে।
  • আমরা যে খাবারের মাধ্যমে ক্যালরি পাই, তা আমরা সবই ব্যায়ামের মাধ্যমে বার্ন করবো না, আমাদের শরীরকে কাজ করার জন্য, যেমন: হৃদকম্পনের জন্য, শ্বাস নেয়ার জন্যও আমাদের কিছু ক্যালরির দরকার।
  • তাছাড়া দৈনন্দিন অন্যান্য কাজের জন্যও, যেমন: হাঁটা চলা করা, ঘরের কাজ করা, ব্রেইনের কাজ করা ইত্যাদির জন্যেও আমাদের কিছু ক্যালরি দরকার। আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্বঙ্গগুলোর কাজ করার জন্যই অনেক ক্যালরি দরকার।

ক্যালরি গ্রহণ করবেন কিভাবে?

যেহেতু, খাদ্যে বিদ্যমান তাপ বা ক্যালরি দেহযন্ত্রকে সচল রাখে, দেহের কাজ করার শক্তি যোগায়, তাই কিভাবে ক্যালরি গ্রহণ করবেন, তা জানা ও বোঝা খুবই গুরুত্বপুর্ণ।

  • একজন মানুষ দৈনিক কত ক্যালরি গ্রহণ করবেন, তা নির্ভর করে তার উচ্চতা, বয়স, লিঙ্গ, তিনি কত কর্মঠ, এবং তার শরীরের মাসেলের ঘনত্ব কত, BMR, তিনি ওজন বাড়াতে, কমাতে, না ঠিক রাখতে চান, এবং তিনি ব্যায়ামের মাধ্যমে কত ক্যালরি বার্ন করেন, তার ওপর।
  • তাই প্রতিদিন, প্রতি বেলা ক্যালরি মেপে খাবার খেতে হবে।
  • ওজন ঠিক রাখতে বা কমাতে নিয়মিত কম ক্যালরির খাবার খেতে হবে। আর মাঝে মাঝে অল্প পরিমানে বেশি ক্যালরির খাবার খেলেও ক্ষতি নেই। তবে সেদিন একটু বেশি ব্যায়াম করা যেতে পারে। তাহলে, সেদিনের মোট ক্যালরির চাহিদার সমতা বজায় থাকবে।
  • আর অধিক ক্যালরির খাবার খেলে, সেটা দিনের প্রথম ভাগে খেলে ভালো, কারণ, তাহলে তা সারাদিনের কাজের মাধ্যমে বার্ন হয়ে যাবে। রাতে যেহেতু কম কাজ করা হয়, তাই তা রাতে খেলে শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমতে পারে।
  • একবারে বেশি ক্যালরির খাবার না খেয়ে, বারে বারে ২০০ থেকে ৫০০ ক্যালরির খাবার খাওয়া ভালো, এতে একবারে বেশি ক্যালরি শরীরে ফ্যাট হিসাবে জমে যাবার ভয় থাকে না।
  • অধিক ফাইবার যুক্ত খাবার, যেমন: শাক-সবজি, ফল, বিনস, বাদাম ইত্যাদি খেলে তা হজমেও সাহায্য করে। আর এগুলোর অন্যান্য উপকারিতা তো আছেই। এগুলোতে ক্যালরিও কম থাকে।
  • একবেলা বেশি ক্যালরি খেলে অন্য বেলা চেষ্টা করা উচিত যাতে কম ক্যালরি খাওয়া হয়।
  • অধিক ক্যালরি যুক্ত খাবারগুলো হচ্ছে: লাল মাংশ(গরু বা খাসির মাংশ), মাখন, তেল, চর্বি, ফাস্ট ফুড, তেলে ভাজা খাবার, সালাদ ড্রেসিং, কেক, অধিকাংশ বিস্কিট, পনির, মেয়নেইস, বাদাম, চকলেট, আইসক্রিম, ক্রিম, চিনি যুক্ত খাবার, বিরিয়ানি, তেহারি, ফ্রাইড রাইস, কোমল পানীয় ইত্যাদি।
  • অতিরিক্ত ওজনের ব্যক্তির খাদ্যতালিকায় তাই তেল, চর্বি, ভাত, রুটি, শর্করা জাতীয় খাদ্য, তেলে ভাজা খাবার এবং মিষ্টি খাবারের পরিমাণ কম থাকলে, ওজন কমবে। আর ওজন ঠিক রাখতেও এগুলো মেপে খেতে হবে।
  • বেশি ক্যালরি হলেই যে সেটা খাওয়া যাবে না, তা কিন্তু নয়। কিছু ক্যালরি বহুল খাবার, যেমন: বাদাম, চকলেট, পিনাট বাটার, মধু, পনির অল্প পরিমানে খেলে এগুলোর উপকারিতাগুলো পাওয়া যায়।
  • কম ক্যালরির খাবার হতে পারে: ডাল, সালাদ, ফল, শাক-সবজি, লাল আটা বা লাল চাল, সাদা মাছ বা কম তৈলাক্ত মাছ, মুরগির মাংশ, গমের পাস্তা বা নুডুলস, লো ফ্যাট দুধ, লো ফ্যাট টক দই, লো ফ্যাট পনির, চিনি ছাড়া যে কোনো খাবার ইত্যাদি।

যারা ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন তাদের জন্য কোন খাবারে কত ক্যালরি সেটা জানা থাকলে ভালো হয়। নীচের চার্টটি থেকে জেনে নিতে পারেন কোন খাবারে কী পরিমাণে ক্যালরি আছে তার আনুমানিক পরিমাণ। আর প্রতিদিন  আমাদের কী পরিমাণ ক্যালরি প্রয়োজন তা জানা থাকলে ওজন নিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই করা যায়।

 প্রচলিত কিছু খাবারে ক্যালরির পরিমাণ

খাবারপরিমানক্যালরির পরিমান(আনুমানিক)
সকালের নাস্তা

সিদ্ধ ডিম৮০
ডিম পোচ৮০
ডিম ভাজি১১০
ডিমের ওমলেট১২০
এক স্লাইস পাউরুটি৪৫
এক স্লাইস পাউরুটি + বাটার৯০
রুটি বা চাপাতি৬০
পরোটা১৫০
সবজি১ কাপ১৫০



লাঞ্চ/ ডিনার

সাদাভাত১ কাপ১২০
ফ্রাইড রাইচ১ কাপ১৫০
বিরিয়ানী১ কাপ২০০
চাপাতি৬০
পুরি৭৫
পরোটা১৫০
নানরুটি১৫০
ডাল১ কাপ১৫০
দই১ কাপ১০০
সবজির তরকারী১ কাপ১৫০
মাংস১ কাপ১৭৫
সালাদ১ কাপ১০০
কাটলেট৭৫
আচার1 tsp৩০
ক্লিয়ার স্যুপ১ কাপ৭৫
ঘন স্যুপ১ কাপ৭৫
ফল১ টা১৫০

আমার কত ক্যালরি দরকার? 

ওজন কমাতে চাইলে ( সপ্তাহে এক পাউন্ড করে) চার্টে যা ক্যালরি  গ্রহণ করার কথা বলা আছে তার থেকে প্রতিদিন ৫০০ ক্যালরি কম খেতে হবে সাথে সাথে শারীরিক ভাবে আরোও একটিভ হতে হবে।

ওজন বাড়াতে চাইলেঃ প্রতিদিন স্বাভাবিকের চেয়ে ৫০০ ক্যালরি বেশি খেতে হবে। এতে প্রতি সপ্তাহে এক পাউন্ড করে ওজন বাড়বে।

লিঙ্গবয়সসেডেন্টারি বা অপ্রিশ্রমীমোটামুটি পরিশ্রমীপরিশ্রমী
মহিলা১৯-৩০৩১-৫০,৫১+১৮০০-২০০০১৮০০১৬০০২০০০-২২০০২০০০১৮০০২৪০০২২০০২০০০-২২০০
পুরুষ১৯-৩০৩১-৫০৫১+২৪০০-২৬০০২২০০-২৪০০২০০০-২২০০২৬০০-২৮০০২৪০০-২৬০০২২০০-২৪০০৩০০০২৮০০-৩০০০২৪০০-২৮০০

বিভিন্ন খাবারে ক্যালরি তালিকা


খাদ্যের নামপরিমাপক্যলরির পরিমাণ
ভাত জাতীয়সাদা চালের ভাত১ কাপ২০০-২৯০
লাল চালের ভাত১ কাপ২১৮
মুগ ডাল খিচুড়ি৩/৪ কাপ১৭৬-২১৫
প্লেন পোলাউ১ কাপ২৫৮
চিকেন বিরিয়ানি১ কাপ৪১৮
সবজি বিরিয়ানি১ কাপ২২০
খাসির বিরিয়ানি১ প্লেট৪৭০
ফ্রাইড রাইস১ কাপ১২০-৩৯০
রুটি জাতীয়/ অন্যান্য শর্করাসাদা পাউরুটি১ স্লাইস৬৭-৯৬
লাল পাউরুটি১ স্লাইস৬০-৮৯
বান রুটি১টি১৫০
সাদা আটার রুটি১টি৭২
লাল আটার রুটি১টি৬০
পরোটা তেলে ভাজা১টি২৪৩-২৯০
আলু পরোটা১টি৩০০
লুচি১টি১৪০
নান রুটি১টি৩১২
নান রুটি মাখন সহ১টি৪২৪
চালের রুটি১টি১০৫
রুমালি রুটি১টি২০০
রুমালি রুটি ঘি সহ১টি২৪৫
তন্দুরি রুটি ঘি সহ১টি১০২-১২০
তন্দুরি রুটি ঘি ছাড়া১টি১৪৭
নুডুলস সিদ্ধ১ কাপ২২০
চাওমেই১ প্লেট১৮২০-২৪৩০
কর্ণ ফ্লাকেস১ কাপ (৩৫ গ্রাম)৩৭০
ময়দা১ কাপ৪৫৫
সাদা আটা১ কাপ৪০০
লাল আটা১ কাপ৩৫৬
চালের আটা১ কাপ৫৭৮
দুধদুধ১ কাপ১৪৬
লো ফ্যাট দুধ১ কাপ/২৪০ মিলি৯০
কনডেন্সড মিল্ক১/২ কাপ৪৯০
সয়া দুধ১ কাপ৯০
ডালমসুর ডাল রান্না করা১ কাপ২২৬
১০০ গ্রাম১১০
মুগ ডাল রান্না করা১ কাপ১৫০
বুটের ডাল রান্না করা১ কাপ১০৭
১০০ গ্রাম১৪৫
ডিমডিম সিদ্ধ১টি৭৫ (৬০ কুসুম ও ১৫ সাদা অংশ)
ডিম ভাজি১টি৯২-১৭৫
ডিম পোচ (তেল ছাড়া)১টি৮০
ডিম পোচ (তেল দিয়ে)১টি২০২
মুরগিটিক্কা মুরগি১০০ গ্রাম১৪৮
মুরগি ভুনা১০০ গ্রাম/১/২ কাপ১৩২-৩২৩
মুরগির কোর্মা১০০ গ্রাম২৫০
চিকেন ফ্রাই১টি/১২৮ গ্রাম৩৯০
চিকেন কাটলেট১টি৩৭৫
মুরগির কলিজা কারি১০০ গ্রাম১৭২
১ কাপ২৩৪ -৩৫৩
মাছমাছ কারি১০০ গ্রাম৩২৩-৫০০
চিংড়ি মাছ কারি১০০ গ্রাম২৬১
চিংড়ি মাছ (বড়, সেদ্ধ)১০০ গ্রাম১০০
স্যামন মাছ১০০ গ্রাম১৮০
মাছের কাটলেট১টি২২৮
ফিশ ফিঙ্গারতিনটি১৬২
ফিশ ফিঙ্গার১০০ গ্রাম২২০
গরুগরু ভুনা১ কাপ৪৩৪
গরুর কোর্মা১১৫ গ্রাম১৬৭
গরুর শিক কাবাব১টি শিক১৬০
গরুর সামি কাবাব১টি২১০
গরুর কিমা রান্না করা২৫০ গ্রাম/১ কাপ৫৫৫
গরুর কাটলেট১টি৫০০
গরুর কলিজা কারি১০০ গ্রাম১৩৫
খাসিখাসির রোস্ট১০০ গ্রাম৩০০
খাসির কোর্মা১১৪ গ্রাম১৪৩
খাসির রেজালা১০০ গ্রাম৩২৩
খাসির কিমা রান্না১০০ গ্রাম১৭৫
শাক/ সব্জিমিক্সড সবজি সিদ্ধ১ কাপ৫০
মিক্সড সবজি ভাজি১ কাপ১১০
মিক্সড সবজির কোর্মা১/২ কাপ১৭৩
মিক্সড সবজি(লাবড়া/ কারী)২০০ গ্রাম১৯০
সবজির কোফতা কারি১০০ গ্রাম১৪৭
মিক্সড সবজি স্টার ফ্রাই১ কাপ/ ২০৭ গ্রাম৪০-১১২
লাল শাক ভাজি১/২ কাপ৫০
মিষ্টি কুমড়া১০০ গ্রাম৫২
বিট / রুট বিট১০০ গ্রাম৪৫
পালং শাক সিদ্ধ১ কাপ৪১
ভর্তা/ ভাজিবেগুন ভর্তা১০০ গ্রাম৭০
আলু ভর্তা১০০ গ্রাম১৫০
ঢেরস ভাজি১ কাপ১৩০
আলুর দম১০০ গ্রাম১০৫
মিষ্টি আলু১০০ গ্রাম৭০
শালগম১০০ গ্রাম২৩
বেগুন ভাজি১ পিস১১৪
ফাস্ট ফুডআলুর চিপস১ মুঠো১৬০
ফ্রেঞ্চ ফ্রাই১০০ গ্রাম২৯৪
বিফ বার্গার১টি১১০-৬৬০
চিকেন বার্গার১টি২১০-৪৫০
চিকেন স্যান্ডউইচ১টি২৭৫
পিজ্জাছোট আকারের১৬৮০-২৩১০
হট ডগ১টি২৫০
চিকেন রোল১টি২৩৫
চিকেন শর্মা১টি৪৭৫
ফুসকা১টি৫০
চটপটি১/২ কাপ৫০০
পাপড় তেলে ভাজা১টি৪৩
পাপড় গ্রিল্ড/ মাইক্রোওভেন১টি৩০
Categories
খাদ্য তালিকা

শরীরে রক্ত বৃদ্ধির খাবারের তালিকা

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলোর মধ্যে রক্ত অন্যতম। যা দেহের সকল অংশে অক্সিজেন এবং সব ধরনের পুষ্টি উপাদান বয়ে নিয়ে যায়। দেহে রক্তের কোনো উপাদান কম থাকলে সুস্থভাবে বাঁচা সম্ভব নয়। রক্তে আছে লাল রক্তকণিকা, সাদা রক্তকণিকা, এবং প্লেটলেট। লাল রক্ত কোষে আছে বিশেষ কিছু আয়রন কম্পাউন্ড, মেডিকেল টার্মে যাকে বলা হয় হিমোগ্লোবিন।

হিমোগ্লোবিনের প্রধান কাজ হলো হৃদপিণ্ড থেকে দেহের সব অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ করা। হিমোগ্লোবিন দেহকোষ থেকে কার্বন-ডাই-অক্সাইডও সংগ্রহ করে এবং তা পুনরায় ফুসফুসের কাছে পৌঁছে দেয় যাতে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহ থেকে বের হয়ে যেতে পারে। সুতরাং রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে গেলে দেহ অক্সিজেনের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে রক্তশুন্যতার মতো রোগও হয়। আর এ থেকে বাঁচার উপায় হলো হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় এমন কিছু খাবার খাওয়া। এখানে এমন ১০টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো যেগুলো নিয়মিত খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়বে।

১. মাংস : রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ দ্রুত বাড়াতে প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রাণিজ প্রোটিন। সকল ধরনের লাল মাংস; যেমন গরুর মাংস, খাসির মাংস এবং কলিজা আয়রনের সবচেয়ে ভালো উৎসগুলোর একটি। আয়রন হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের জন্য জরুরি। মুরগির মাংস লাল মাংস না হলেও তাও দেহকে বিশাল পরিমাণে আয়রন সরবরাহ করতে পারে।

২. ফল : সবধরনের রসালো সাইট্রাস ফল, যেমন, আম, লেবু এবং কমলা ভিটামিন সি-র সবচেয়ে ভালো উৎস। আর দেহে আয়রন দ্রুত শুষে নেওয়ার জন্য ভিটামিন সি সবচেয়ে জরুরি। এর ফলে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনের গতিও বাড়ে। স্ট্রবেরি, আপেল, তরমুজ, পেয়ারা এবং বেদানাতেও প্রচুর পরিমাণে আয়রন আছে।

৩. সামুদ্রিক খাদ্য : সামুদ্রিক খাদ্যে আয়রন এবং অন্যান্য খনিজ পুষ্টি উপাদান আছে প্রচুর পরিমাণে। সুতরাং অ্যানেমিয়া বা রক্তশুন্যতার রোগীদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অয়েস্টার, ক্লামস এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর সামুদ্রিক খাদ্য রাখতে হবে।

৪. কলাই বা শুটিজাতীয় খাদ্য : সয়াবিন, ছোলা এবং বিনজাতীয় খাদ্যে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। সয়াবিন বর্তমানে সবজিভোজীদের জনপ্রিয় একটি খাদ্য। এ থেকে সুস্বাদু সব খাবার তৈরি হয় এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ায় দ্রুতগতিতে।

৫. পূর্ণশস্যজাতীয় খাদ্য: চাল, গম, বার্লি এবং ওটস রক্তশুন্যতায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য চমৎকার আয়রন সমৃদ্ধ খাবার। এসব খাবার প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেটসও সরবরাহ করে। লাল চাল বিশেষ করে সব বয়সীদের জন্যই আয়রনের একটি সমৃদ্ধ উৎস বলে গণ্য হয়।

৬. সবজি : প্রতিদিন তাজা সবজি খেলে আয়রন ও অন্যান্য খনিজ পুষ্টি এবং নানা ধরনের ভিটামিনের ঘাটতি মিটবে। আলু, ব্রকলি, টমেটো, কুমড়া এবং বিটরুট আয়রনের ঘাটতি মেটাতে সক্ষম। এছাড়া স্পিনাক সহ অন্যান্য সবজিও বেশ আয়রন সমৃদ্ধ।

৭. ডিম : ডিম হলো আরেকটি জনপ্রিয় খাদ্য যাতে আছে উচ্চমাত্রার আয়রন এবং অন্যান্য পুষ্টি উপাদান। ডিমের হলুদ কুসুমে আছে প্রচুর পরিমাণে খনিজ পুষ্টি এবং ভিটামিন। আর এ কারণেই দুর্বল লোকদেরকে প্রতিদিন সেদ্ধ ডিম খেতে বলা হয়।

৮. শুকনো ফল : কিসমিস, অ্যাপ্রিকট বা খুবানি এবং খেজুরে আছে প্রচুর আয়রন, ভিটামিন এবং আঁশ। এসব খাবার খেলে রক্তের হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও বাড়ে দ্রুতগতিতে।

৯. বাদাম : যে কোনো ধরনের বাদামই মানবদেহের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হয়। যে কারণে তরুণদেরকে কাজু বাদাম, হিজলি বাদাম, চীনা বাদাম এবং আখরোট খেলে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বাড়ে দ্রুতগতিতে।

১০. ডার্ক চকোলেট : শিশুদের প্রিয় খাবার ডার্ক চকোলেটেও থাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। আর এ কারণেই এমনকি ডাক্তাররাও ডার্ক চকোলেট খেতে বলে।

এই সবগুলো খাদ্যই দেহে আয়রনের ঘাটতি মিটিয়ে রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ দ্রুতগতিতে বাড়ায়। সুতরাং নিয়মিতভাবে এই খাবারগুলো খেয়ে দেহে রক্তের পরিমাণ, জীবনী শক্তি এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে থাকুন। 

অনেক সময় আমাদের তাৎক্ষণিক শক্তির দরকার হয়। এমন কয়েকটি খাবারের তালিকা দেয়া হল যা আপনাকে দ্রুততম সময়ে শক্তি সরবরাহ করবে এবং রিফ্রেশ ও পুনরুজ্জীবিত করবে।

কলা

শরীরে এনার্জি বৃদ্ধির খাবারের তালিকা

এতে রয়েছে জটিল কার্বোহাইড্রেট, প্রাকৃতিক সুগার, অ্যামাইনো এসিড, ভিটামিন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। কলা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে Nor-Epinephrin নামের একটি হরোমান নিঃসরিত হয়। যা তাৎক্ষণিকভাবে দেহের শক্তি বাড়ায়। এছাড়া রক্তচাপও বাড়ায়। ফলে তাৎক্ষণিকভাবেই ক্লান্তি কেটে যায়। একটি কলায় ৮০ থেকে ১২০ কিলোক্যালোরি থাকে।

বাদাম

যখনই আমাদের তাৎক্ষণিক শক্তির দরকার হয় তখনই একমুঠো বাদাম হতে পারে সেরা স্ন্যাকস। বাদামে রয়েছে প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর চর্বি, আঁশ এবং ম্যাগনেশিয়াম, ফলিক এসিডের মতো খনিজ পুষ্টি উপাদান। এই পুষ্টি উপাদানগুলো শক্তি ও কোষ উৎপাদনে সহায়ক। তবে প্যাকেটজাত বাদাম খাওয়া উচিত নয়। কেননা তাতে অতিরিক্ত লবণ এবং অস্বাস্থ্যকর তেল থাকে।

ডিম

হালকা নাস্তার জন্য ডিম হতে পারে চমৎকার খাবার। ডিমে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন। এছাড়া আমাদের দেহের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামাইনো এসিডের সবকটিই আছে এতে। আরও আছে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স এবং ভিটামিন ডি। সারাদিন ধরে শক্তির জোগান দিতে সক্ষম ডিম। সুতরাং হালকা নাস্তার জন্য এর চেয়ে ভালো আর কী হতে পারে!

অ্যাভোকাডো

এটি একটি সুপার ফুড। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি, সি, কে, খনিজ পুষ্টি এবং মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি এসিড যা হজম করতেও দীর্ঘ সময় লাগে। এর উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ উপাদান আমাদের দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধামুক্ত রাখে। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খেলে সারাদিন ধরে দেহে চার্জ থাকে।

ডার্ক চকোলেট

চকোলেট উচ্চ শক্তিবর্ধক এবং মুড-বুস্টার। এতে আছে ক্যাফেইন এবং থ্রিওব্রোমিন ও ট্রিপটোফ্যান এর মতো উদ্দীপক উপাদান। যা মনকে রিল্যাক্স করে।

পাতাবহুল সবুজ সবজি

দিনের মধ্যভাগে তাৎক্ষণিকভাবে শক্তির জোগানের জন্য সবজি সবচেয়ে ভালো অপশন। কারণ সবজিতে ক্যালোরি থাকে খুবই কম এবং তা আঁশ ও খনিজ পুষ্টিতে সমৃদ্ধ। স্পিনাক, বাঁধাকপি এবং গাজর হজমে সময় লাগে অনেক। ফলে পেটও ভরা থাকে দীর্ঘক্ষণ।

পানি

পানি পান করে দেহকে আর্দ্র রাখার মাধ্যমে শক্তির জোগান দেয়া যায় সবচেয়ে সহজে। সবসময় সঙ্গে একটি পানির পাত্র রাখুন। সারা দিন ধরে পানি পান করুন ও দেহকে উজ্জীবিত রাখুন।

Categories
খাদ্য তালিকা

হাঁপানি রোগীরা, কি কি খাবেন, কি কি খাবেন না

হাঁপানি বা অ্যাজমা এমনই রোগ, যার কোন ওষুধ নেই। একেবারে সেরে যাওয়া বা এসব রোগ নির্মূল করে দেয়ার মতো কোনো ওষুধ এখনও আবিষ্কার হয় নি। ইনহেলার বা ওষুধ নিলে হাঁপানি বা অ্যাজমা কিছু সময়ের জন্য কমে যায় কিন্তু পুরোপুরি ভালো হয় না। খাবারের এলার্জি থেকে অনেক সময় হাঁপানি হতে পারে। হাঁপানি বা অ্যাজমার সমস্যা অনেকের অল্প বয়সে হয় আবার অনেকের বুড়ো বয়সে হয়ে থাকে।

যাদের হাপানি রয়েছে, তাদের বেশ সামলে চলতে হয়। তারপরও কিন্তু হাপানি থেকে নিস্তার পান না। কিন্তু সামান্য কিছু নিয়ম মেনে চললেই হাপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আর রয়েছে বেশ কিছু খাবার, যা নিয়মিত খেলে হাপানি মোটামুটি নিয়ন্ত্রণে থাকে।

হাঁপানির জন্য উপকারী খাবার:

কলা: কলা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কলাতে হাই ফাইভার আছে। তাই হাঁপানি রোগীদের ফুসফুস ভালো রাখতে প্রতিদিন একটি কলা খাওয়া খুবই ভালো। অনেক সময় চিকিৎসকরাও হাঁপানি রোগীদের নিয়মিত কলা খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কারণ প্রতিদিন একটি কলা খেলে ৩৪% পর্যন্ত হাঁপানি ভালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পালং শাক:

এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। কারণ পালং শাকে ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, বিটা ক্যারোটিন ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে। তাই হাঁপানি রোগীদের জন্য পালং শাক খুবই উপকারী।

হলুদ:

এটি জীবাণু ধ্বংসকারী হিসেবে খুবই বড় ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই হাঁপানি রোগীদের খাবারে হলুদের পরিমাণ বেশি দিলে এ সমস্যা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে।

আপেল:

আপেলও প্রচুর স্বাস্থ্যগুন সম্পন্ন একটি খাবার। হাঁপানির হাত থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করার জন্য আপেলের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই হাঁপানি রোগীদের প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় একটি করে আপেল রাখতে হবে।

আভোকাডো:

এটিও হাঁপানির হাত থেকে ফুসফুসকে রক্ষা করার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও হাঁপানি রোগীদের পুষ্টিকর, সুষম ও হালকা মসলাযুক্ত খাবার খেতে হবে। লাল বা হলুদ রঙের ফল, সবুজ শাক সবজি হাঁপানি রোগীদের জন্য খুবই ভালো। কারণ এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন থাকে যা ফুসফুসকে শক্তশালী রাখতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই সমৃদ্ধ খাবারসমূহ ফুসফুসকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। সবুজ রঙের ফল ও শাক সবজিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি পাওয়া যায় আর মারজারিন, সয়াবিন ও অলিভ অয়েলে প্রচুর ভিটামিন ই পাওয়া যায়।

এসব খাবারগুলো হাঁপানি রোগীদের জন্য খুবই উপকারী। আবার অন্য কোনো রোগ থাকলে অনেক ধরণের খাবারে বিধি নিষেধও থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে।

যেসব খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে:

ডিম: স্বাস্থ্যকর ও প্রোটিন সমৃদ্ধ এই খাবারটি হাঁপানির সময় না খাওয়াই ভালো। ডিমের সাদা অংশে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে আর এই প্রোটিন অ্যালার্জির উদ্রেক করে হাঁপানি সমস্যার বৃদ্ধি করে থাকে।

দুধ: ক্যালসিয়ামের প্রধাণ উৎস হলো দুধ। দাঁত ও হাড় মজবুদ করার জন্য ক্যালসিয়ামের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু দুধে থাকা প্রোটিন হাঁপানির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। যখন হাঁপানির সমস্যা বেশি পরিমাণে দেখা দিবে, তখন দুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

চিনা বাদাম: স্বাস্থ্যকর একটি খাবার হলো চিনা বাদাম। হাঁপানি রোগীদের জন্য এই চিনা বাদাম খুবই ক্ষতকর। গবেষণা থেকে জানা যায় যে, চিনা বাদাম হাঁপানি সমস্যা বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করে থাকে।

ফ্রোজেন আলুর চিপস: দোকানে ফ্রোজেন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিনতে পাওয়া যায়। এই ফ্রোজেন আলুর চিপস খাওয়া ত্থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ ফ্রিজে থাকার কারোনে আলু ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। যা হাঁপানি সমস্যা বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করে।

সয়া: প্রোটিন সমৃদ্ধ আরেকটি খাবার হলো সয়া। সয়াতে অ্যালার্জিক প্রোটিন রয়েছে যা হাঁপানি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে থাকে। হাঁপানি রোগীদের অন্য সবার থেকে বেশি সচেতন থাকতে হবে। এসব রোগীদের ঠান্ডা ও ধুলোবালি এড়িয়ে চলাই ভালো। এমনকি আপনার পোষা প্রাণীগুলর কারণেও হাঁপানির সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই শ্বাসকষ্ট বাড়লে ঐসব প্রাণীর কাছেও যাওয়া ঠিক নয়।

Categories
খাদ্য তালিকা

ওজন কমানোর খাদ্য তালিকা

না খেয়ে বা কম খেয়ে নয়, ওজন কমানোর জন্য চাই সঠিক পন্থায় খাওয়া।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কখন কী খাওয়া উচিত সে সম্পর্কে একটা ধারণা দেওয়া হল।

আর এজন্য অনুসরণ করতে হবে তিন ধাপ।

প্রথম ধাপ- চিনি ও শর্করা বাদ

খাবার তালিকা থেকে চিনি ও শ্বেতসার বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেইট বাদ দেওয়া খুবই জরুরি। একবার এটা শুরু করলে ক্যালরি গ্রহণের পরিমাণ কমবে। শক্তি উৎপাদনের জন্য কার্বোহাইড্রেইট না পেলে শরীর চর্বি ভাঙতে শুরু করবে। কার্বোহাইড্রেইট গ্রহণ কমানো হলে তা ইন্সুলিনের মাত্রাও কমায়, সোডিয়াম ও বাড়তি পানি দূর করে কিডনি পরিষ্কার রাখে ।

এই পদ্ধতি অনুসরণ করেই প্রথম মাসে পাঁচ কেজি ওজন কমানো যায়।  

দ্বিতীয় ধাপ- বেশি প্রোটিন, সবজি ও চর্বি

প্রতি খাবারে প্রোটিন, সবজি ও চর্বি রাখুন। এই তিন ধরনের খাবার রাখা হলে এমনিতেই শর্করা গ্রহণের পরিমাণ কমে যাবে।

প্রোটিনের উৎস- ডিম, মুরগি, ভেড়া, স্যামন, চিংড়ি, ইত্যাদি খান। বেশি প্রোটিন খাওয়া শুরু করলে বিপাকে পরিবর্তন দেখতে পাবেন। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার ৬০ শতাংশ ক্ষুধা কমায়। 

সবজির উৎস- শর্করা সমৃদ্ধ সবজি বাদ দিতে হবে, অনেকে হয়ত জানেন না কোন কোন সবজিতে শর্করা থাকে, যেমন- আলু। তাই এটা কম খাওয়া উচিত। নির্দ্বিধায় খেতে পারেন ব্রকলি, ফুলকপি, পালংশাক, ফ্রেঞ্চ বিন, ক্যাপ্সিকাম, বাঁধাকপি, মাশরুম, লেটুস, কপি, শস, টমেটো ইত্যাদি।

চর্বির উৎস- দিনে দুতিন বার খাবার খাওয়া ভালো। তবে ক্ষুধা অনুভব করলে হালকা খাবার বিশিষ্ট চার বেলা খেতে পারেন। তেলের ভালো উৎস হল- জলপাইয়ের তেল, নারিকেল তেল, বাটার, ঘি বা অ্যাভাকাডো তেল।

তৃতীয় ধাপ- শরীরচর্চা

শরীরচর্চা ছাড়াও ওজন কমানো যায়। তবে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন ব্যায়ামাগারে ব্যায়াম করলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ভারী ওজন তোলার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। ওজন তুললে তা ক্যালরি খরচ করে তবে বিপাকের হার কমায় না।

চতুর্থ ধাপ (যদি ইচ্ছা হয়)- পুনরায় শর্করা গ্রহণ

সপ্তাহে একদিন বেশি করে শর্করা খান। তবে নিশ্চিত হন যেন তা স্বাস্থ্যকর হয়। যেমন- ওটস, ভাত, মিষ্টি আলু ও ফল। সপ্তাহে চারবার এগুলো খেতে পারেন। এর বেশি খেলে আশানুরূপ ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে।

Categories
খাদ্য তালিকা

ওজন বৃদ্ধির খাদ্য তালিকা

ওজন কমাতে যেখানে অনেক মানুষের চেষ্টার কমতি নেই, সেখানে কিছু মানুষ আবার চান ওজন বাড়াতে। তবে ওজন বাড়ানো কিন্তু ওজন ঝড়ানোর মতোই কঠিন। অবশ্য কিছু কিছু খাবার রয়েছে যা সময় মত খেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাড়বে ওজন।

সকাল ৮টায়ঃ

(১) হাফ লিটার পানি

(২) একটি সিদ্ধ ডিম

(৩) দুই স্লাইস পাউরুটি

(৪) একটি গাজর/কলা

(৫) এসময়ে চা বা কফি পান না করাই ভালো।

সকাল ১০টায়ঃ

ভাত বা রুটি সবজি যা আপনি নিয়মিত খেয়ে থাকেন।

দুপুর ১২টায়ঃ

(১) একটি কলা

(২) এক গ্লাস ফলের জুস বা গ্লুকোজ পানি।

(৩) একমুঠো বাদাম

দুপুর ২টায়ঃ

আপনি নিয়মিত যা দুপুরে খান। তবে খেয়াল রাখবেন সবজি এবং মাছ/মাংস যাতে থাকে। দুপুরে খাবারের পর যেকোনো একটি ফল খাবেন।

বিকাল/সন্ধ্যার নাস্তাঃ

(১) এক চামচ ঘি

(২) এক বাটি সিদ্ধ নুডুলস (নুডুলডে ওজন খুব বাড়ে)

(৩) চারটি আমলকী

রাত ৯টায়ঃ

সাধারণত যা খেয়ে থাকেন আপনি তাই খাবেন। খাবারের পর একটি কলা, একমুঠো বাদাম ও ২৫০গ্রাম দুধ খাবেন।

কিছু প্রয়োজনীয় কথাঃ

১. দিনে কমপক্ষে দুই লিটার পানি খেতে হবে।

২. সকাল অথবা বিকেলে আধা ঘন্টা হাঁটতে হবে।

৩. রাতে ৮ঘন্টা ঘুমাতে হবে।

৪. শাকসবজি, ফলমূল, ডিম ফরমালিন মুক্ত খেতে হবে।

একেকজনের শরীরের গড়ন একেকরকম। কারো জলদি ওজন বাড়বে, কারো আস্তে আস্তে বাড়বে। তবে এই চার্ট অনুসরণ করলে গড়ে মাসে দুই থেকে তিন কেজি বাড়বে।

Categories
খাদ্য তালিকা

স্মৃতি শক্তি বৃদ্ধির খাবার

স্বাস্থ্যকর খাবার শুধু শরীর ঠিক রাখে না, মস্তিষ্কও সুস্থ রাখে। এমন ঘটনা মাঝে মাঝেই ঘটে, আপনি শোবার ঘর থেকে রান্নাঘরে গেলেন কিছু একটা চিন্তা করে। কিন্তু রান্নাঘরে গিয়েই ভুলে গেলেন কী জন্যে এসেছেন?

 এখানে কিছু খাবারের কথা বলা হলো যা আপনার এক ঝলকে দেখে নিন সেগুলি কী কী ?

মাছ

তৈলাক্ত মাছ স্মৃতিশক্তি বাড়াতে বিশেষ উপকারী। যেমন—স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকরেল প্রভৃতি মাছ নিয়মিত খাওয়া উচিত।

মাছের চর্বি

মাছের চর্বিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে, যা মস্তিষ্ক গঠন ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক। অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য গর্ভবতী নারীদের সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন মাছ খেতে পরামর্শ দেয়া হয়। মাছ শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। স্যামন এবং টুনা মাছ ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের সবচেয়ে ভালো উৎস।

টমেটো

টমেটো স্মৃতিশক্তি সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন, যা খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত খাবারের সঙ্গে সালাদ হিসেবে টমেটো খেলে তা মস্তিষ্কের পক্ষে বিশেষ উপকারী।

ভিটামিন ‘বি’ সমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি, বি৬, বি১২ সমৃদ্ধ খাবার বেশি বেশি খাওয়া প্রয়োজন। মাছ, মুরগির মাংস, ডিম এবং শাক জাতীয় খাবারে এর পরিমাণ বেশি থাকে।

শস্য জাতীয় খাবার

শস্য জাতীয় খাবার, বাদাম, ব্রকোলি, কুমড়োর দানা মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ উপকারী। এ কারণে নিয়মিত ডায়েট চার্টে এগুলো বেশি বেশি রাখা উচিত।

কাঠবাদাম

কাঠবাদাম একটি চমৎকার আয়ুর্বেদিক উপাদান। এটি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের জন্যও ভালো।

যা করতে হবে

– ৫ থেকে ১০টি কাঠবাদাম সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন।

– পরের দিন সকালে খোসা ছাড়িয়ে নিন এবং একে গুঁড়া করুন।

– এক গ্লাস দুধের মধ্যে এই গুঁড়া মিশিয়ে ফুটান।

– স্বাদ বাড়ানোর জন্য সামান্য চিনি বা মধু মেশাতে পারেন।

– ৩০ থেকে ৪০ দিন এটি প্রতিদিন খান।

মধু ও দারুচিনি

মধু ও দারুচিনি স্নায়ুকে শিথিল করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। গবেষণায় বলা হয়, কেবল দারুচিনি একটু নাকের কাছে নিয়ে শুঁকলেও স্মৃতিশক্তি ভালো হয়, এতে মস্তিষ্কের কার্যক্রম বাড়ে।

অনেকে এও বলেন, ঘুমের আগে মধু খেলে মানসিক চাপ কমে; ঘুমেও সাহায্য হয়। এটি স্মৃতি একত্রীকরণে ভূমিকা রাখে।

যা করতে হবে

– এক চা চামচ কাঁচা মধুর মধ্যে এক চিমটি দারুচিনি মেশান।

– কয়েক মাস ধরে প্রতি রাতে এটি খান।

ডিম:

যেকোনো পুষ্টিবিদই আপনাকে ডিম খাওয়ার পরামর্শ দিবেন। ডিমে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পুষ্টিগুণ। ডিমের হলুদ অংশে কোলিন (দ্রবণীয় নিউট্রিয়েন্ট) রয়েছে, যা মস্তিষ্কের জন্য বেশ দরকারি। বিশেষ করে ক্ষণস্থায়ী স্মৃতিশক্তির ক্ষেত্রে এটি ভালো কাজ করে।

সূর্যমুখীর বীজ:

এই বীজে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন-ই রয়েছে, যা স্মৃতিশক্তির কার্যাবলীকে মসৃণ গতিতে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি রক্ষার্থে ত্রাণকর্তা হিসেবেও কাজ করে সূর্যমুখীর বীজ। এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে কোলিন রয়েছে, যা স্বল্পস্থায়ী স্মৃতিশক্তির ঘাটতি পূরণে কাজ করে।

বেরি

স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি এবং ব্লুবেরিতে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ, যা মস্তিষ্কের সংকেত পাঠানোর পথকে শক্তিশালী করে। মস্তিষ্কের কোষের মৃত্যু এবং প্রদাহ প্রতিরোধ করে বেরি। এটি বললে ভুল হবে না, বেরির মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ডিমেনশিয়া এবং অ্যালজেইমার বিলম্বিত করতেও সহায়তা করে।

শাক

শাক শরীর গঠনের খাবার হিসেবে পরিচিত। তাছাড়া শাকে লুটেনিন নামে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এটি কগনিটিভ (জ্ঞান অর্জন ও চিন্তা করার ক্ষমতা) পতন প্রতিরোধ করে। লুটেইন মস্তিষ্কের প্রধান কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতার উন্নয়ন করে।

বিটমূল

মেরুন রঙের এই সবজিটি নাইট্রেটের সবচেয়ে ভালো উৎস, যা মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ উন্নতি করে মস্তিষ্কের কার্যাবলী বৃদ্ধি করে। ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করে।

শস্যদানা

আস্ত শস্যদানা পুরো শরীরে রক্ত সরবরাহ বৃদ্ধি করে এবং হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে।

কালো চকোলেট

এতে প্রাকৃতিক উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। পরিমিত মাত্রায় চকোলেট খেলে এরমধ্যে থাকা ক্যাফেইন আপনার মস্তিষ্ক এবং মেজাজ স্বাভাবিক রাখবে।

…  স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিকারক এসব খাবার গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির ব্যায়াম করা যেতে পারে। আর অবশ্যই প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়াও জরুরি।

মস্তিষ্কে খেলা খেলুন

নিয়মিত ব্রেনের কাজ করলে মস্তিষ্ক ভালো থাকে। সুডোকো কিংবা ক্রসওয়ার্ডস খেলাসহ ব্রেনের ব্যায়াম হয় এমন খেলা খেললে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায় সেইসঙ্গে মস্তিষ্ক অধ:পতন হওয়া থেকে রক্ষা করে।

সঠিক খাবার

পরিমিত ঘুম

ঠিকমতো ঘুম না হলেও স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। ঘুমের সময়ের উপর স্মৃতিশক্তি হ্রাস ও বৃদ্ধি পায়। দৈনিক আট ঘণ্টা গভীর ঘুম হলে স্মৃতিশক্তি অস্থায়ী থেকে দীর্ঘমেয়াদী হবে।

নতুন দক্ষতা অর্জন করা

সম্প্রতি সুইডিশ এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা নতুন নতুন ভাষা শেখেন, নতুন নতুন মানুষের নাম মনে রাখেন কিংবা নতুন নতুন বিষয় শিখেন তাদের স্মৃতিশক্তি অন্যান্যদের তুলনায় ভালো থাকে। যারা এই বিষয়গুলো চর্চা করেন না তাদের স্মৃতিশক্তি খানিকটা লোপ পায়।

কায়িক পরিশ্রম

গবেষণায় দেখা যায়, প্রতিদিন সামান্য কাজ করলে বিশাল মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। যারা একসঙ্গে ৬ মিনিট সাইকেল চালায় এবং যারা নিয়মিত দলবেধে পাহাড়ে ওঠে। যারা নিয়মিত কায়িক পরিশ্রম করে তাদের অন্যদের তুলনায় স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে। প্রতিদিন কমপক্ষে ২০ মিনিট হাটলে স্মৃতিশক্তি ভালো থাকে, সেই সঙ্গে স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়।

একসঙ্গে অনেক কাজ থেকে বিরত থাকা

একই সময়ে এক সঙ্গে একাধিক কাজ না করে একটি মাত্র কাজ করতে হবে। অনেক কাজ একসঙ্গে করলে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। কাজ করার পাশাপাশি তা মুখে উচ্চারণ করলে তা মনে থাকবে দীর্ঘসময়। যেমন আপনি টেবিলে চাবি রাখছেন তখন চাবি রাখার পাশাপাশি মুখেও বলুন ‘আমি টেবিলে চাবি

Categories
খাদ্য তালিকা

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির খাবার

১। টমেটো

 টমেটো পুষ্টির একটি বড় উৎস। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা ত্বকের কোলাজেন তৈরি ত্বরান্বিত করে ত্বকের দৃঢ়তা আর তারুন্যতা বজায় রাখে। এতে আরও রয়েছে লাইকোপেন, যা ত্বকের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।

২। তেলযুক্ত মাছ

তেলযুক্ত মাছ যেমন স্যামন আর টুনা মাছ। এসবে আছে ওমেগা- ৩ এর ফ্যাটি এসিড যা ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে সাহায্য করে। ফলে ত্বক টানটান হয়। তাছাড়া ত্বকের প্রদাহ, ফোলা ভাব কমিয়ে ত্বককে নিখুঁত হতে সাহায্য করে।

৩। লাল আঙুর

এতে রয়েছে শক্তিশালী এন্টি অক্সিডেন্ট সমূহ। যা ত্বকের প্রদাহ, একজিমা, এলার্জি প্রতিরোধ করে। ফ্রি র‍্যাডিকেলের দরুন ত্বকের ড্যামেজিং ইফেক্ট যা বলিরেখা তৈরি করতে পারে, তার বিরুদ্ধে এন্টি অক্সিডেন্ট কাজ করে।

৪। হোলগ্রেইন খাবারসমূহ

এধরণের খাবারসমূহে পুরো শস্য শাঁস বা গ্রেইন কার্নেল থাকে। ওটমিল, ব্রাউন রাইস এধরণের কিছু খাবার। এসবে কার্বোহাইড্রেট থাকে যা আমাদের দেহে ভাঙতে অনেক সময় লাগে ফলে ব্লাড শ্যুগার লেভেলের সাথে না মিশে শক্তির উৎস হিসেবে বজায় থাকে।

৫। ডালিম

পরিষ্কার ত্বক পাওয়ার জন্য খুবই উপকারী একটি ফল  হচ্ছে ডালিম। প্রতিদিন ১-২ গ্লাস ডালিমের জ্যুস খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়। এই ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনল এন্টি অক্সিডেন্ট যা বয়সের ছাপ পড়া থেকে ত্বককে রক্ষা করে। তাছাড়া ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে ত্বকে গোলাপি আভা ফুটিয়ে তুলে।

৬। সবুজ, হলুদ ক্যাপসিকাম

এগুলো গ্রহণে চোখের চারপাশের ত্বক ভালো থাকে। এতে বিদ্যমান ক্যারোটিনয়েডস রোদে ত্বকের সেনসিটিভিটি কমায়।

৭। বাদাম

বাদাম খেলে ত্বকের একনির সমস্যা দূর হয়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে রয়েছে সেলেনিয়াম, জিংক, ভিটামিন- ই যা ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।

৮। কলমি শাক

এতে যেই ম্যাঙ্গানিজ, পটাশিয়াম, বিটা ক্যারোটিন আর এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে তা ত্বকের জন্য খুবই উপকারী। দেহের বিষাক্ত পদার্থ বের করে দেয়ার মাধ্যমে এটি ত্বকের প্রাণবন্ত করে তুলে।

৯। ওট মিল্ক

এতে প্রছুর পরিমাণে ভিটামিন- ই, ফলিক এসিড রয়েছে যা ত্বককে পরিষ্কার করতে ভূমিকা পালন করে।

১০। বিটরুট

বিটরুটে রয়েছে ভিটামিন এ এবং ই, সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম যা আমাদের ত্বকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় উপাদান। অনেক ক্ষেত্রে এটি বডি ক্লিনজার নামেও পরিচিত। কেননা বিটরুট দেহের টক্সিন অপসারণের কাজ করে। তাই খাদ্য তালিকায় বিটরুট রাখুন।

Categories
খাদ্য তালিকা

আয়রন জাতীয় খাবার

শরীরে রক্ত উৎপাদনের জন্য আয়রন অতি দরকারী।

একজন প্রাপ্ত বয়স্ক একজন পুরুষ মানুষের জন্য দৈনিক ৮ মিলিগ্রাম ও নারীদের জন্য প্রয়োজন ১৮ মিলিগ্রাম আয়রন। এছাড়া গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে দৈনিক ২৭ মিলিগ্রাম আয়রন প্রয়োজন হয়।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে দুর্বল ও ক্লান্ত লাগার পাশাপাশি মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। সাধারণত শিশু ও গর্ভবতী মহিলাদের আয়রনের ঘাটতি জনিত অ্যানেমিয়া হয়ে থাকে। আয়রনের ঘাটতি পূরণের জন্য প্রাণীজ আয়রন ও উদ্ভিজ আয়রন এই দুই ধরণের আয়রন  গ্রহণ করা জরুরি।

আসুন জেনে নেয়া যাত আয়রন আছে কোন কোন খাবারে:

কলিজা

আয়রনের সমৃদ্ধ উৎস হচ্ছে কলিজা। এছাড়াও এতে ভিটামিন, খনিজ লবন ও প্রোটিন থাকে। গরুর কলিজাতে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। কলিজা খেতে পছন্দ না করলে ডিম ও লাল মাংস খাওয়া যেতে পারে। আধা কাপ ডিমের কুসুমে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং ৩ আউন্স লাল মাংসে ২-৩ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে।

ডার্ক চকলেট

ডার্ক চকলেট শরীরের জন্য ভালো। এটি আয়রনের একটি ভালো উৎস এবং এতে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্টও থাকে।

ছোলা

এক কাপ ছোলাতে ৫ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং এতে পরিমিত প্রোটিনও থাকে। নিরামিষ ভোজীদের জন্য ছোলা আদর্শ খাদ্য। ছোলা খুবই উপাদেয় খাবার।

কুমড়ার বিচি

এক কাপ কুমড়ার বিচিতে ২ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। সুস্বাদু কুমড়ার বীচি রান্না করে,সালাদের সাথে,সিদ্ধ করে বা ভেঁজে বিভিন্ন ভাবে খাওয়া যায়।

ডালজাতীয় খাবার

আয়রনের একটি ভালো উৎস হল ডাল। এক কাপ ডালে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে এবং প্রচুর ফাইবার থাকে।এতে কোলেস্টেরল এর পরিমাণ কম থাকে এবং রক্তের সুগার লেভেল ঠিক রাখে।

পালং শাক

এক কাপ রান্না করা পালংশাকে ৬ মিলিগ্রাম আয়রন থাকে, এছাড়াও এতে প্রোটিন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-এ এবং ভিটামিন ই থাকে। রান্না করা পালং শাক এর পুষ্টি উপাদান খুব সহজেই শরীর শোষণ করে নিতে পারে।

সিদ্ধ আলু

সিদ্ধ আলুতে ভিটামিন সি, বি ভিটামিন, প্রচুর পটাশিয়াম থাকার পাশাপাশি উচ্চমাত্রার আয়রনও থাকে। খোসা সহ একটি সিদ্ধ আলুতে থাকে ৩ মিলিগ্রাম আয়রন।

এছাড়াও আয়রন সমৃদ্ধ আরও অনেক খাবার রয়েছে। যেমন: কাজুবাদাম, কিশমিশ, টমাটো, মটরশুঁটি, শিমের বীচি ইত্যাদি। আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরে চা বা কফি খাওয়া ঠিক নয়।

Categories
খাদ্য তালিকা

মস্তিষ্ক সুস্থ রাখার খাবারের তালিকা

মানবদেহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মস্তিষ্ক। আমরা যেসব কাজ করি, যা চিন্তা করি তা মূলত মস্তিষ্ক দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত। আমরা যা খাই তা আমাদের মস্তিষ্কের উপর প্রভাব ফেলে। অন্যভাবে বলা যায় হৃদপিণ্ড, ফুসফুস এবং পেশীর মত মস্তিষ্কেরও পুষ্টি প্রয়োজন হয়। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। তবে নির্দিষ্টভাবে কোন খাবারগুলো আমাদের মস্তিষ্কের গ্রে ম্যাটারকে স্বাস্থ্যবান রাখতে সাহায্য করে সেটা জানা প্রয়োজন। আসুন জেনে নেই সে খাবার গুলো সম্পর্কে।

১। গাজর

গাজর চোখের জন্য ভালো এটা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এটি মস্তিষ্কের জন্যও উপকারী এটা অনেকেই জানি না। ২০১০ সালের নিউট্রিশন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণা মতে,গাজরে উচ্চমাত্রার লুটিওলিন থাকে, যা বয়স সংক্রান্ত স্মৃতিক্ষয় এবং মস্তিষ্কের ইনফ্লামেশন কমাতে পারে। গাজর ছাড়াও অলিভ অয়েল, মরিচ এবং সেলেরিতেও উচ্চ মাত্রার লুটিওলিন থাকে।

২। পালংশাক

আপনার মা সবসময় শাকসবজি খাওয়ার কথা বলেন, যা হয়তো আপনার পছন্দ নয় কিন্তু এটি বিজ্ঞান দ্বারাও সমর্থিত। সবুজ শাকসবজি ভিটামিন সি এবং ই তে সমৃদ্ধ যা চিন্তার, পড়ার, শোনার, মনে রাখার এবং মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। জেরন্টোলজি নামক জার্নালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, ভিটামিন ই মস্তিষ্কের ডোপামিনের নিঃসরণ বৃদ্ধি করে। এই আনন্দ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশে তথ্যের প্রবাহকে নিয়ন্ত্রণ করে।

৩। বেরি ধরণের ফল

বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, ভিটামিন সমৃদ্ধ বেরি বা জাম জাতীয় ফল আপনার ডায়েটে যুক্ত করাটা আপনার স্মৃতিশক্তির উন্নতির জন্য ভালো। ২০০৯ সালের নিউট্রিশন নামক জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ স্ট্রবেরি এবং ব্লুবেরির মত ফল কোষের বয়স সংক্রান্ত স্ট্রেস কমাতে পারে এবং মস্তিষ্কের সংকেত পাঠানোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পারে।

৪। চা ও কফি

চা ও কফি আপনাকে সজাগ থাকতে সাহায্য করা ছাড়াও আলঝেইমার্স রোগ প্রতিরোধেও সাহায্য করে এবং মস্তিষ্কের দক্ষতার উন্নতি ঘটায়। মস্তিষ্কের উপর চায়ের সুরক্ষাকারী প্রভাব দেখা যায়। যারা চা পান করেন তারা স্মৃতির পরীক্ষা এবং তথ্য প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে ভালো করেন যারা চা পান করেন না তাদের তুলনায়। নিউট্রিশন, হেলথ এন্ড এজিং নামক জার্নালে গবেষণাটি প্রকাশিত হয় ২০১০ সালে। এতে ৫৫ বছর বয়সের এবং এর চেয়ে বেশি বয়সের ৭১৬ জন চীনা নাগরিক অংশগ্রহণ করে।

৫। আখরোট

আখরোট দেখতে অনেকটা মস্তিষ্কের মত। যেন এর আকারের মাধ্যমে প্রকৃতিই আমাদের বোঝাতে চায় যে, আখরোট মস্তিষ্কের জন্য ভালো। ২০০৯ সালে নিউট্রিশন নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় জানা যায় যে, বাদাম বৃদ্ধ ইঁদুরের বয়সবৃদ্ধির লক্ষণ খুব সামান্য পরিমাণে প্রায় ২% কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও মস্তিষ্কের কাজ করার ক্ষমতা এবং তথ্য বিন্যাসের ক্ষমতার উপর ও প্রভাব ফেলে এই বাদামটি। আখরোটে উচ্চ মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে বলে কিছু গবেষকের মতে, আমাদের শরীরের ফ্রি র‍্যাডিকেলের দ্বারা মস্তিষ্কের কোষের ডিএনএ এর যে ক্ষতি হয় তার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

৬। মাছ

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ফিশ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা আলঝেইমার্স রোগীদের স্মৃতি কমে যাওয়া কমাতে সাহায্য করে না। তবে অন্য একটি গবেষণায় দেখানো হয়েছে যে, ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ মাছ খাওয়া বয়সের সাথে সাথে আসা মস্তিষ্কের দক্ষতা কমে যাওয়ার প্রক্রিয়াকে ধীর করে। ২০১০ সালের নিউরোলজি নামক জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা মতে আলঝেইমার্স রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে ভিটামিন বি ১২ যা মাছে অনেক বেশি পরিমাণে থাকে।

Categories
খাদ্য তালিকা

এলার্জি যুক্ত খাবারের তালিকা

এলার্জি বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কাছে এক অসহনীয় ব্যাধি। এলার্জিতে হাঁচি থেকে শুরু করে খাদ্য ও ওষুধের ভীষণ প্রতিক্রিয়া ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এলার্জি সামান্যতম অসুবিধা করে আবার কারও ক্ষেত্রে জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘরের ধুলাবালি পরিষ্কার করছেন? হঠাৎ করে হাঁচি এবং পরে শ্বাসকষ্ট অথবা ফুলের গন্ধ নিচ্ছেন বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলিশ, গরুর দুধ খেলেই শুরু হলো গা চুলকানি বা চামড়ায় লাল লাল চাকা হয়ে ফুলে ওঠা। এগুলো হলে আপনার এলার্জি আছে ধরে নিতে হবে। আজ জেনে নিন এলার্জি কি এবং কোন কোন খাবারে এলার্জি বাড়ে-

এলার্জি:

আমাদের শরীর সব সময়ই ক্ষতিকর বস্তুকে (পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস, এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করে। এই প্রচেষ্টাকে রোগ প্রতিরোধ প্রক্রিয়া বা ইমিউন বলে। কিন্তু কখনও কখনও আমাদের শরীর সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন অনেক ধরনের বস্তুকেও ক্ষতিকর ভেবে প্রতিরোধের চেষ্টা করে। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন সব বস্তুর প্রতি শরীরের এ অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে এলার্জি বলা হয়।

খাবারে এলার্জি:

অনেকেই ভাবে খাবারের এলার্জি কেবল নির্দিষ্ট খাবারেই হয়। সাধারণত ভাবা হয়, গরুর মাংস, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ- এসব খাবার খেলে এলার্জি হয়। তবে এগুলো সঠিক নয়। ব্যক্তি বিশেষে নিদির্ষ্ট একটি খাবারে এলার্জির সমস্যা থাকতে পারে। এতগুলো উপাদানের ফলে সাধারণত একজন মানুষের এলার্জির সমস্যা হয় না।

ইলিশ মাছ সরাসরি এলার্জির জন্য দায়ী নয়। তবে চিংড়ি মাছে এলার্জি হতে পারে। খোসা জাতীয় মাছ যেটাকে ইংরেজিতে শেল ফিস বলে এসবে সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

দুধে এলার্জি থাকে। বিশেষ করে গরুর দুধে। যখন গরুকে কোনো কারণে চিকিৎসা দিতে হয় তখন যে দুধ পাওয়া যায় সেখান থেকে এলার্জি হতে পারে। চিকিৎসা বলতে বোঝানো হচ্ছে, যদি গরুটিকে পেনিসিলন জাতীয় এন্টি বায়োটিক দিতে হয় তখন এটির প্রভাব দুধে চলে আসে। যাদের এলার্জি আছে তারা ওই দুধ খেলে তার এলার্জির সমস্যা হতে পারে।

এ ছাড়া লাল জাতীয় সবজি খেলে এলার্জির সমস্যা হতে পারে। যেমন : গাজর, মিষ্টি কুমড়া, টমেটো- এ ধরনের রঙিন সবজিতে এলার্জির সমস্যা থাকে। তাই  ব্যক্তি বিশেষে কোন খাবারে এলার্জির সমস্যা হচ্ছে সেটি জানতে হবে এবং সেভাবেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চলতে হবে।

এলার্জি প্রতিরোধক খাবারের তালিকা

অ্যালার্জি সমস্যা খুবই সাধারণ একটি শারীরিক সমস্যা। কমবেশী সকলেরই অ্যালার্জির সমস্যা থাকে। মূলত অ্যালার্জির সমস্যা বহু কিছু থেকেই হতে পারে। যেমন ধুলাবালি থেকে হতে পারে ডাস্ট অ্যালার্জি, ঠাণ্ডার সমস্যা থেকে হতে পারে কোল্ড অ্যালার্জি, অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খাওয়ার ফলে হতে পারে ফুড অ্যালার্জি। সকলে ধরণের অ্যালার্জির মধ্যে ফুড অ্যালার্জিটা সবচেয়ে বেশী মানুষের মাঝে দেখা যায়। মূলত গরুর মাংশ, ইলিশ মাছ, চিংড়ি মাছ, বেগুন, ডিম ইত্যাদি খাবারে অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাবটা বেশী থাকে।

১/ কলা

কলার পুষ্টিগুণ সম্পর্কে কমবেশী আমরা সকলেই জানি। তবে খুব দারুণ একটা ব্যপার হচ্ছে, অ্যালার্জি জাতীয় কোন খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে তার প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য। শরীরে লাল রঙের ছোট র‍্যাশ দেখা দিলে অথবা পেটের সমস্যা দেখা দিলে কলা খুবই উপকারী একটি খাদ্য। কারণ কলা শরীরের মেটাবলিজব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে থাকে।

অতিরিক্ত পরিমাণে কলা খেলে সেটি অ্যালার্জির সমস্যা পুরোপুরি ভালো করে দেয় না, তবে শরীরে অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে কলা খেলে অ্যালার্জির সমস্যা অতিরিক্ত হওয়া থেকে বাধা দেয়।

২/ ভিটামিন সি অথবা কমলা জাতীয় ফল

অনেক সময় পাকস্থলীতে খুব বেশী পরিমাণে প্রোটিনের আধিক্য হলেও অ্যালার্জির প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে থাকে। সেক্ষেত্রে এসিড জাতীয় খাদ্য অর্থাৎ ভিটামিন সি জাতীয় খাদ্য বেশী পরিমাণে খেতে হবে।

৩/ লেবু

লেবু হলো অন্যতম সাইট্রাস জাতীয় ফল যা অ্যালার্জির ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করে থাকে। পানি এবং মধুর সাথে লেবুর রস মেশালে শরীরের জন্য দারুণ এক ডিটক্সিফাইং পানীয় তৈরি হয়ে যায়। নিয়মিত এই পানীয় পান করলে শরীরের টক্সিক পদার্থগুলো বের হয়ে যেতে সাহায্য করবে এবং অ্যালার্জির সমস্যা কমে আসবে।

৪/ শসা এবং গাজরের রস

কোন খাবার খাওয়ার পরে হুট করেই শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা শসা এবং গাজরের রস একসাথে মিশিয়ে খেয়ে ফেললে খুব দ্রুত কাজে দেবে। শসা এবং গাজর দুইটি সবজীতেই এন্টি- অ্যালার্জিক উপাদান শরীরে অ্যালার্জির সমস্যাকে কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

৫/ আদা এবং আদা চা

আদা গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল এবং অ্যালার্জির সমস্যার ক্ষেত্রে খুব ভালো কাজে দেয়। প্রদাহজনক বিরোধী এবং এন্টিঅক্সিডেন্ট মূলক উপাদান আদাতে থাকায় বমি ভাব, মাথা ঘোরানো, হজমের সমস্যার এমনকি ডায়েরিয়ার ক্ষেত্রেও খুব কাজে দেয় আদা।

আদা চা তৈরি করতে কিছু আদা কুঁচি ফুটন্ত পানিতে দিয়ে ১০ মিনিট ধরে ফুটিয়ে নিতে হবে। এরপর সেই পানি ছেঁকে নিয়ে কিছুটা আদার রস এবং মধু দিয়ে মিশিয়ে গরম গরম খেয় নিতে হবে।

৬/ ক্যাস্টর অয়েল

ক্যাস্টর অয়েল শুধুমাত্র আপনার চুলের জন্য নয়, আপনার পাকস্থলী এবং এলার্জি জাতীয় কোন খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিলেো ক্যাস্টর অয়েল দারুণ কাজ করে। অ্যালার্জির সমস্যা থেকে দূরে থাকতে চাইলে প্রতিদিন সকালে এক কাপ পরিমাণ পানিতে ৫-১০ ফোঁটা ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে খেয়ে ফেলুন।

৭/ গ্রিন টি

গ্রিন টি শুধুমাত্র ওজন কমাতেই নয় অ্যালার্জির সমস্যা কমাতেও সাহায্য করে থাকে। গ্রিন টিতে থাকা এন্টি-অক্সিডেন্ট, এন্টি-হিস্টাসিন এবং প্রদাহ বিরোধী উপাদানের জন্য অ্যালার্জিক খাবার খাওয়ার ফলে যে সকল সমস্যা দেখা দেয় তা বাঁধা দিয়ে থাকে।

অ্যালার্জির সমস্যা যাদের প্রকট তাদের জন্য অ্যালার্জি জাতীয় খাবার থেকে দূরে থাকাই শ্রেয়। তবে ভুলবশত অথবা শখ করে অ্যালার্জি জাতীয় খাবার খাওয়া হয়ে গেলে দুশ্চিন্তা না করে অ্যালার্জির সমস্যা প্রতিরোধে উপরোক্ত খাবারগুলো খেয়ে ফেলার চেষ্টা করুন এবং কোরবানির ঈদের সময় জুড়ে থাকুন সুস্থ এবং নিশ্চিন্ত।