Categories
খাদ্য ও পুষ্টি খাদ্য তালিকা স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনায় যা খাবেন আর যা খাবেন না।

 ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৬ লাখ, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ ।

এই করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা খাদ্য তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশন বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি যা আমরা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি করতে পারি। এ সময়ে আমাদের কিছু বিষয় জানতে হবে এবং সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

যেসব খাবার খাবেনঃ
১। আমিষ সমৃদ্ধ খাবারঃ পরিমিত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বা ডাল এর যেকোন একটি আমিষ সমৃদ্ধ খাবার খান এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

২। স্যুপ বা তরল জাতীয় খাবারঃ ভেজিটেবল বা চিকেন স্যুপ, ডাবের পানি, হালকা গরম পানির সাথে মধু, লেবু বা আদা রস করে খান। সেই সাথে সকাল-বিকাল হালকা গরম চা পান করুন।

৩। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারঃ স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত সবজি ও ফল খান। সবুজ শাক-সবজি ও হলুদ ফলমূল যেমন আমলকি, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ইত্যাদি ফল খান। ফল ভালভাবে ধুয়ে খেতে হবে, অনেক আগের রান্না সবজি বা কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪। নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ ব্যায়াম আপনার শরীরের মাংসপেশীকে অ্যাকটিভ করে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাই প্রতিদিন ঘরে বসে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেনঃ
১। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবারঃ শর্করা জাতীয় খাবার যেমন- ভাত, রুটি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান এবং অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

২। প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার বা প্রসেস ফুডসঃ অতিরিক্ত সুগার ও সল্ট জাতীয় প্রসেস ফুডস এড়িয়ে চলুন কারন এ জাতীয় খাবার পুরোপুরি হজম না হওয়ায় আপনার শরীরে টক্সিক উপাদান জমা হতে থাকে যা ক্রমশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে। তাই এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩। কাচা সবজি বা অর্ধসিদ্ধ খাবারঃ কাচা সবজি, সালাত ও অর্ধসিদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন । ফ্রিজে রাখা খাবার অবশ্যই গরম করে খেতে হবে।

৪। ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবারঃ ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবার রোগ ক্ষমতা কমাতে পারে তাই এ ধরনের অভ্যাস থাকলে পরিহার করা ভালো।

বাসায় থাকুন নিরাপদ থাকুন। এখন বাসায় বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

কাশির চিকিৎসায় আর নয় অ্যান্টিবায়োটিক

সর্দি কাশির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। খুঁজছেন প্রাকৃতিক সমাধান।

সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়।

সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখান থেকে জানা যায় কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে এই মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এতো ভাল কাজ করেনা।

তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

আপনি কি সর্দি-কাশি বা জ্বরের জন্য ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছে কিন্তু কোরোনার কারণে ডাক্তারের চেম্বারে যেতে ভয় পাচ্ছেন?

আপনি বাসায় বসে ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে।

ডাউনলোড করুনঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.itmedicus.mdoctor

Categories
টিকার তালিকা

রোগ প্রতিরোধ ও টিকা

রোগ প্রতিরোধ ও টিকা

স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ হল টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি শুরু করার আগে প্রতিবছর আড়াই লাখ শিশু টিকা প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যেত। বর্তমান এ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসলেও আরও বেশি সচেতনতা দিতে পারে আমাদের শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে ৭ এপ্রিল, ১৯৭৯ সাল থেকে। বিভিন্ন সময় প্রয়োজনমত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই কর্মসূচি সফলতার সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ ১৯৭৯ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে পথচলা শুরু করার পর ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র বড় হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে টিকার সেবা সীমিত থাকে। ফলে দেখা যায় মাত্র ২% শিশুদের পূর্ণ মাত্রায় টিকাদান সম্ভব হয়েছে। তাই টিকাদান কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিতে ব্যাপক সম্প্রসারণ ও সফল বাস্তবায়নের জন্য ‘ইপিআই কৌশল ও কর্মসূচি কাঠামো’ তৈরি এবং বাস্তবায়ন করা হয় যা এখনও চলছে।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহঃ  যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, পোলিও, হাম, রুবেলা। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নতুনভাবে সংযুক্ত এবং বর্তমানে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে নতুন টিকা (পিসিভি) খুব শীঘ্রই টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহের ভয়াবহতাঃ

১. যক্ষ্মা – শিশু মৃত্যুর কারণ ও ফুসফুস ক্যান্সার এর অন্যতম কারণ।

২. ডিপথেরিয়া – হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রকে  আক্রান্ত করে এবং শিশুর মৃত্যু ও ঘটতে পারে।

৩. হুপিং কাশি – নিউমোনিয়া, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে থাকে।

৪. ধনুষ্টংকার – শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি মাতৃমৃত্যুরও অন্যতম কারণ।

৫. হেপাটাইটিস বি – লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার এর কারণ।

৬. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি – শ্বাসকষ্ট ও শিশু মৃত্যুর কারণ।

৭. পোলিও – পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর কারণ।  

৮. হাম – নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

৯. রুবেলা – মা আক্রান্ত হলে শিশু বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়। 

Categories
টিকার তালিকা

শিশুর টিকা প্রদানের তালিকা (Immunization Schedule)

1. বিসিজি (Bacillus Calmette-Guerin Vaccine (BCG)

বিসিজি টিকা বাচ্চার জন্মের পর থেকে ১৫ দিন সময়ের মধ্যে যে কোনও সময় দেওয়া যায়। এই টিকা টিউবারকুলোসিস মেনিনজাইটিস (Tuberculous Meningitis) বা বাচ্চাদের একরকম যক্ষ্মা রোগ থেকে রক্ষা করে। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে এই বিসিজি টিকা বাচ্চাকে দেওয়া হয়ে থাকে।আদর্শ বিসিজির ডোজে ১ মিলিলিটার টিকার তরলে ০.১ মিলিগ্রাম ওষুধ থাকে।বাচ্চাকে একটাই বিসিজি ডোজ দেওয়া হয়।

2. হেপাটাইটিস বি টিকা (Hepatitis B vaccine)

আমাদের শরীরে হেপাটাইটিস বি নামক ভাইরাসের আক্রমণ হলে, লিভার প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লিভার ক্যান্সার হতে পারে, লিভার কাজ করা বন্ধ করে দেয়, এমনকী মৃত্যুও হতে পারে। রোগীর অজান্তেই এই রোগ অন্যদের মধ্যেও সংক্রামিত হতে পারে। এই সব রোগের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য তিনটি ডোজে হেপাটাইটিস বি টিকা দেওয়া হয়। জন্মের এক-দু’দিনের মধ্যে প্রথম ডোজ, শিশুর বয়স এক মাস হলে দ্বিতীয় ডোজ এবং ৬ মাস হলে তৃতীয় বা শেষ ডোজটি দেওয়া হয়।

3. পোলিও টিকা (Oral Polio Vaccine (OPV)

এই টিকাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং পোলিও রোগের হাত থেকে শিশুকে রক্ষা করে। পোলিও রোগের প্রকোপে শিশুর পা বিকৃত হয়ে যায় এবং সারাজীবনের জন্য শিশু প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারে। এই পোলিও টিকা চারটি ডোজে শিশুকে দেওয়া হয়। প্রথম ডোজ জন্মের পর থেকে ২ মাসের মধ্যে, দ্বিতীয় ডোজ ৪ মাস বয়সে, তৃতীয় ডোজ ৬-১৮ মাসের মধ্যে এবং শেষ ডোজটি বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হয় ৪-৬ বছর বয়সের মধ্যে। ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে এই ডোজগুলি দেওয়া যায় আবার ওষুধের মতো খাইয়েও দেওয়া যায়।

4. ডিটিএপি/ডিটিপি (DTaP/DTP)

এই টিকাটি টিটেনাস (Tetanus), ডিপথেরিয়া(Diphtheria) ও হুপিং কাশি(whooping cough) –এর মতো রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা শরীরে গড়ে তোলে। বাচ্চার ১.৫ মাস, ২.৫ মাস ও ৩.৫ মাস বয়সে এই টিকাটি দেওয়া হয়ে থাকে। এরপর, ১.৫ বছর বয়সে DPT-র দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয় এবং ৫ বছর বয়সে Double DT-র আর একটি ডোজ দেওয়া হয়। DTaP টিকাই বর্তমানে ব্যবহার করা হয়, কারণ এটায় শিশু ব্যথা পায় না এবং আগের থেকে নিরাপদ। এর আগে শিশুকে DTP টিকা দেওয়া হত, এই DTP টিকা শিশুর জন্য খুবই যন্ত্রণাদায়ক ছিল।

5. রোটাভাইরাস টিকা (Rotavirus Vaccine)

রোটা ভাইরাসের আক্রমণে শিশুর মারাত্মক ডিহাইড্রেশন ও ডায়রিয়া হতে পারে। শিশুকে এই রোটাভাইরাস টিকা ওষুধের মতো খাওয়ানো হয়ে থাকে। শিশুর জন্মের ৬-১৫ সপ্তাহের মধ্যে এই টিকার প্রথম ডোজ খাওয়ানো হয়। মোট তিনটি ডোজে এই টিকা শিশুকে দেওয়া হয়। শিশুর ২ মাস বয়সে একটি, ৪ মাস বয়সে একটি এবং ৬ মাস বয়সে একটি, মোট তিনটি ডোজ দেওয়া হয়।

শিশুর টিকা, প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ (Essential Vaccination Chart for Babies in Bangla)

6. এইচ আই বি টিকা (Haemophilus influenzae B (HiB) Vaccine)

এই টিকা নিলে শিশুর শরীর হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা (Haemophilus Influenzae) নামক ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে পারে। এর আক্রমণে শিশুর ত্বক, গলা এবং মস্তিস্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মেনিনজাইটিস, এপিগ্লটিস এবং নিউমোনিয়ার মতো রোগ থেকে শিশুকে রক্ষা করে।এই টিকাটিও বাচ্চাকে তিনটি ডোজে দেওয়া হয়ে থাকে। বাচ্চার ২ মাস এবং ৪ মাস বয়সে যথাক্রমে প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। বাচ্চার বয়স ১৫ মাস হয়ে গেলে শেষ ডোজটি বুস্টার ডোজ হিসেবে দেওয়া হয়ে থাকে।

7. এম এম আর (Measles Mumps Rubella (MMR) Vaccine)

হাম বা মিসলস, মাম্পস এবং রুবেলার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এই টিকা। এই টিকাটি তিনটি ডোজে শিশুকে দেওয়া হয়ে থাকে। প্রথম ডোজটি ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়।

8. পি সি ভি (Pneumococcal Conjugate Vaccine (PCV)

এই টিকা বাচ্চাদের নিউমোনিয়া রোগের হাত থেকে রক্ষা করে। শিশুর ২ মাস বয়সে প্রথম, ৪ মাস বয়সে দ্বিতীয়, ৬-১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয়। ৪-৬ বছরের মধ্যে একটি বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।

9. ভ্যারিসেলা টিকা (Varicella Vaccine)

চিকেনপক্সের জন্য দায়ী ভাইরাসের বিরুদ্ধে শিশুর শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলে এই টিকা। প্রথম ডোজ দেওয়া হয় শিশুকে ১২-১৮ মাসের মধ্যে। এর পরের ডোজটি দেওয়া হয় প্রথম ডোজের তিন মাস পরে।

10. হেপাটাইটিস এ টিকা (Hepatitis A Vaccine)

লিভারজনিত সমস্যার হাত থেকে রক্ষা পেতে এই টিকা দেওয়া হয়। হেপাটাইটিস এ নামক ভাইরাসের আক্রমণের বিরুদ্ধে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। দুটি ডোজে এই টিকা শিশু পেয়ে থাকে। শিশুর ১২-২৩ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং তার ৬-১০ মাস পরে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়।

11. টি সি ভি টিকা (Typhoid Conjugate Vaccine (TCV)

টাইফয়েড রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করে এই টিকা। এই টিকাও দুটি ডোজে দেওয়া হয়। শিশুর ৯-১২ মাসের মধ্যে প্রথম ডোজ দিয়ে দেওয়া উচিত।

কিছু বিষয় মাথায় রাখুন(Essential Vaccination Chart for Babies)

  • বাচ্চা নিজের মায়ের কোলে সবথেকে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত বোধ করে। কিন্তু টিকার জন্য ইঞ্জেকশন নেওয়ার সময় যদি আপনি ওকে কোলে নিয়ে থাকেন, তা হলে ও আপনার মুখ দেখতে পাবে না। বাবা বা পরিবারের অন্য কাউকে সঙ্গে নিয়ে যান, বাচ্চাকে ওনার কোলে দিন। আপনি এমনভাবে বাচ্চাটির পাশে তার গায়ে হাত দিয়ে থাকুন, যেন বাচ্চা বুঝতে পারে আপনি তার পাশেই আছেন এবং ওর কোনও ক্ষতি হবে না। এতে বাচ্চা ভয় কম পাবে।
  • টিকা নেওয়ার পরেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওকে বুকের দুধ খাওয়ান বা ও যদি ফর্মুলা খেতে শুরু করেছে তা হলে তাই দিন। তবে বাচ্চা খুব কাঁদলে একটু শান্ত করে নিয়ে তবেই খাওয়ান। না হলে গলায় আটকে যেতে পারে।
  • টিকা নেওয়ার পর বাচ্চার জ্বর আসতে পারে, এতে ঘাবড়ে যাবেন না। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
  • ডাক্তারের সাথে কথা বলে বাচ্চার টিকাকরণের সময় এবং ঠিক কোন সময় কী টিকা দিতে হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে নিন। টিকার পরে ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে তবেই ওই জায়গায় ব্যথা কমানোর মলম লাগান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ব্যথা কমানোর কোনও ওষুধ বাচ্চাকে দেবেন না।
  • কোনও রকম কুসংস্কার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বাচ্চার স্বাস্থ্যের সাথে ঝুঁকি নেবেন না। এই সমস্ত টিকা আপনার সন্তানকে সারা জীবন নানা জটিল রোগের হাত থেকে রক্ষা করবে। নিজের মনে কোনও সন্দেহ বা দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ডাক্তারের সাথে বিশদে আলোচনা করুন।
Categories
খাদ্য তালিকা

রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে ৩ বেলার ডায়েট প্ল্যান

ইফতার

১. ইফতারে সবার আগে পানি পান করবেন। খালি পেটে তেলে ভাজা খাবার খেলে এর ফল ভয়াবহ হতে পারে। তাই এক গ্লাস না পারলেও অন্তত আধা গ্লাস পানি পান করে অন্য কিছু খান।

২. পেঁয়াজু/ বেগুনী/ কাবাবঃ ইফতারের সময় আমাদের দেশে পেঁয়াজু বেগুনী থাকবেই। আপনি ২টি পেঁয়াজু বা ২টি বেগুনী অথবা ২টি কাবাব খেতে পারেন। ১টি পেঁয়াজু আর একটি বেগুনী, একটি বেগুনী আর একটি কাবাব এভাবেও মিলিয়ে খেতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন এ ধরনের খাবার ২টির বেশি না খান। কারণ প্রতিটি পেঁয়াজু, বেগুনী বা অন্য যে কোন তেলে ভাজা খাবারে ক্যালোরির পরিমাণ ৫০ থেকে ৭০ এর মত হতে পারে। একটি টিকিয়া কাবাবে ক্যালরি হলো ৮০ আর চপে ৮৫। যদি সিঙ্গারা খান তাহলে অবশ্যই একটি খাবেন কারণ তাতে ১৪০ ক্যালরি থাকে যা ২টি রুটির সমান! আর সিঙ্গারা খেলে পেঁয়াজু/ বেগুনী/ কাবাব খাবেন না।

৩. হালিমঃ হালিমে বিভিন্ন রকমের ডাল আর মাংস মেশানো থাকে তাই এতে প্রচুর ক্যালরি থাকে। এক বাটি ভরে হালিম না খেয়ে আধা বাটি হালিম খান। দোকানের হালিম না খেয়ে বাসায় তৈরি করুন। এখন বিভিন্ন হালিম মিক্স মসলা পাওয়া যায় মার্কেটে। তাই বাসায় হালিম তৈরি করাটা এখন সবার কাছেই সহজ।

৪. ছোলা মুড়িঃ যদি হালিম না খান তাহলে এক বাটি ছোলা মুড়ি খান কিন্তু যদি আধা বাটি হালিম খান তাহলে আধা বাটি ছোলা মুড়ি খান। কারণ এক কাপ মুড়িতে ৭০ ক্যালরি। আপনি যদি একই সাথে হালিম আর এক বাটি ছোলা মুড়ি খান তাহলে সেটাতে অনেক ক্যালরি হবে।

৫. শরবতঃ অতিরিক্ত চিনি দিয়ে শরবত না তৈরি করে ডাবের পানি পান করুন। শরবত যে একদম ছেড়ে দিবেন তা বলছিনা। ৩/৪ দিন পর পর চিনি মেশানো লেবুর শরবত বা অন্য কোন ফলের শরবত খেতে পারেন। তবে বাইরে থেকে রঙ মেশানো শরবত এনে খাবেন না।

৬. ১ টুকরো শশা খেতে পারেন।

৭. একটি আপেল/ একটি ছোট কলা/ ৩/৪ টি লিচু। (প্রায় ৪০ ক্যালরি)

রাতের খাবার

০১. একটি রুটি / আধা কাপ ভাত/ অর্ধেক পরোটা (যে কোন একটি খাবেন)।

০২. ২ টুকরো মাছ অথবা মাংস। ২টি মাছ আর ২টি মাংসের টুকরো এক সাথে খাওয়া যাবেনা।

০৩. যে কোন শাক।

০৪. ২/৩ চা চামচ টক দই।

সেহেরি

অনেকেই সেহেরিতে কিছু খান না। কেউবা এক বা দুই কাপ চা খান। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের জন্য খুবই খারাপ। আপনি সেহেরিতে কম খাবেন কিন্তু নিয়ম মেনে খাবেন। যেমন –

০১ আধা কাপ ভাত অথবা একটি রুটি

০২ ১ টুকরো মুরগীর মাংস

০৩ সবজি ১ কাপ

০৪ টক দই ১ কাপ

যারা টক দই খেতে পারেন না তারা ১ কাপ সর ছাড়া দুধ খেতে পারেন।

রমজান মাসে ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে কিছু টিপস

১. যদি পিৎজা খেতে চান তাহলে এক স্লাইসের বেশি খাবেন না। এক স্লাইসে প্রায় ৩০০ ক্যালরি !!

২. বিভিন্ন দোকানে ফ্রাই করা মুরগীর প্রতিটি টুকরোতে প্রায় ২০০ ক্যালরি থাকে। তাই বুঝে শুনে খাবেন।

৩. একটি ছোট প্যাকেটের ফ্রেঞ্চ ফ্রাই এ ২৭০ ক্যালরির মত থাকে।

৪. ঝাল খাবার খাবেন না।

৫. প্রচুর পানি পান করবেন ইফতারের পর থেকে।

৬. মেয়নিজ বেশি না খেয়ে মার্জারিন খেতে পারেন।

৭. গ্রিন টি পান করলে ভালো, নাহলে দুধ চিনি ছাড়া চা পান করুন। কারণ ইফতারে এমনিতেই প্রচুর ক্যালরি যুক্ত খাবার খাওয়া হয় তাই চায়ের সাথে দুধ চিনি মিশিয়ে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। রমজান মাস শুরু হওয়ার ৩/৪ দিন আগে থেকেই ক্যাফেইন গ্রহণ কমিয়ে দিলে ভালো। কারণ যারা বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ করেন তারা রোজা পালনের কারণে হঠাৎ সারা দিন ক্যাফেইন গ্রহণ না করলে মাথা ব্যথায় ভোগেন।

৮. ইফতারের পর অন্তত ২০-২৫ মিনিট হাঁটুন।

৯. সেহেরি তে খাওয়া শেষ করে ১৫ মিনিট হাঁটুন। সেহেরিতে সময় নিয়ে উঠুন যেন শেষ মুহূর্তে তাড়াতাড়ি খেতে গিয়ে বেশি খেয়ে না ফেলেন।

এভাবে একটু নিয়ম মেনে আর ক্যালরি হিসাব করে যদি খান তাহলে আশা করছি এই মাসে তেলে ভাজা আর দোকানের খাবার খেয়ে আপনার ওজ়ন বাড়বেনা। যাদের ওজন বেশি তারা বাসার বাইরে খেলে এমন ভাবে খাবেন যেন আপনাদের ক্যালরি গ্রহণ ১৪০০ এর মধ্যে থাকে।

Categories
খাদ্য তালিকা

রোজা রেখে স্বাস্থ্য-সম্মত স্বাভাবিক খাবার

রোজার মাসের খাবার, অন্যান্য মাসের থেকে আলাদা হওয়া উচিত না। যতটা সম্ভব সাধারণ ও স্বাভাবিক খাবারই থাকা উচিত। কিন্তু সারাদিনের রোজার পর ইফতারে অনেক কিছুই খেতে ইচ্ছে করে। ভাজাপোড়া ও ভারী খাবার খেলে পেটের সমস্যা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, অবসাদ, আলসার, অ্যাসিডিটি, হজমের সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। অনেকের ওজনও বেড়ে যায়।

তাই সুস্থ শরীরে ও দেহের ওজন না বাড়িয়ে পুরো রোজার মাস ভালো থাকার জন্য একটা ব্যালেন্স ডায়েট বা সুষম খাবারের দরকার। রোজায় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন ডায়েটিশিয়ান শওকত আরা সাঈদা লোপা

এবারের রোজায় প্রচণ্ড গরম থাকতে পারে তাই শরীরকে হাইড্রেট রাখতে প্রচুর পানি, মৌসুমি ফল ও সবজির জুস বা স্মুদি এই ধরনের তরল, ঠাণ্ডা খাবার ও আঁশ জাতীয় খাবার রাখতে হবে। অতিরিক্ত চিনিযুক্ত জুস বা খাবার না খেয়ে প্রাকৃতিক খাবার থেকে এনার্জি নেয়াই ভালো।

চা, কফির মাত্রা কমাতে হবে। তা না হলে পানিশূন্যতা, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ঘুমের সমস্যা হতে পারে। ভাঁজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত তৈলাক্ত খাবার বেশি খেলে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে তাই এসব যত কম খাওয়া যায় ততই ভালো। চলুন রোজার খাবার দাবার সম্পর্কে একটু জেনে নেই-

সেহেরির খাবার

রোজায় সেহেরির খাবার হচ্ছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তাই এটি যেন কোনোভাবেই বাদ না পড়ে কারণ না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। আবার অতিরিক্ত খাবার খেয়ে সারা দিনের ক্ষুধা মেটানোও সম্ভব না। কিন্তু খাবার নির্বাচনের ক্ষেত্রে একটু খেয়াল রাখলেই ক্ষুধাকে বিলম্বিত করা সম্ভব। আঁশযুক্ত খাবার এবং খাবারগুলো ভুনা না হয়ে কম তেল মশলার ঝোলের তরকারি হলে সবচেয়ে ভালো হয়। তাহলে সারাটা দিন ভালো যাবে।

সেহেরিতে থাকতে পারে যে খাবারগুলো

লাল চালের ভাত এক কাপ, মিক্সড সবজি যেমন লাউশাক, মিষ্টিকুমড়া, শসা, পটোল, ঝিঙে, কচুশাক, কচু ইত্যাদি ১ কাপ, মাছ বা মুরগি ১ টুকরা, ডাল আধা কাপ, সঙ্গে দই বা লো ফ্যাট দুধ ১ কাপ। তখন ১-২টি খেজুর খেলে সারাদিন কিছুটা পিপাসা কম লাগবে। এছাড়া কেউ ভাত খেতে না চাইলে রুটি, চিড়া-দই, কর্ন ফ্ল্যাক্স-দুধও খেতে পারেন। অনেকেই সেহেরির সময় একসঙ্গে বেশি পানি খেয়ে ফেলেন, এটা করা যাবে না। ইফতারের পর থেকে রাত পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি বা অন্যান্য তরল খেয়ে দেহকে আর্দ্র রাখতে হবে।

ইফতার

স্বাভাবিকভাবেই সারাদিন রোজার পর রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা কমে যায়। সে জন্য ইফতারের সময় শরীর, ব্রেইন ও স্নায়ুকোষ খাবারের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শক্তির জোগান চায়। তাই ইফতারের খাবারটা হতে হবে ঠাণ্ডা ও সহজে হজম হয় এমন। ইফতার খাবার সময়কে দুই ভাগে ভাগ করে খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। মাগরিবের নামাজের আগে কিছুটা খেয়ে আর দ্বিতীয় ভাগ মাগরিবের নামাজের পর খেতে হবে। কারণ একসঙ্গে খেলে বেশি খাবার খাওয়া হয়ে যায়, ফলে নানারকম জটিলতা তৈরি করে শরীরকে ক্লান্ত করতে পারে।

ইফতারে রাখা যায় যে খাবার

খেজুর ৩-৪টি, হালকা গরম সবজি, মাশরুম, চিকেন বা ওটস স্যুপ ১ বাটি, সেদ্ধ ছোলা আধা বাটি, মুড়ি, ১টি সেদ্ধ ডিম, যে কোনো ফলের জুস যেমন আখের রস, কচি ডাবের পানি, দইয়ের লাচ্ছি, কয়েক ধরনের ফল ও দই মিলিয়ে তৈরি করা যায় স্মুদি অথবা খেতে পারেন ১ গ্লাস লাবাং। মাগরিবের নামাজের পর কম মিষ্টির পায়েস, পুডিং বা চিড়া-দই অথবা মিক্সড ফল দিয়ে ওটস ১ বাটি, প্যানকেক, কাটা ফল, ফলের সালাদ, ফলের কাস্টার্ড অথবা খেতে পারেন বেশি করে সবজি দিয়ে নুডুলস, চিকেন মোমো, ঘরে তৈরি মুরগির হালিম।

রাতের খাবার

রোজার মাসে রাতের খাবারটাও সেহেরির মতো কিছুটা হালকা থাকতে হবে। ভাত ১ কাপ বা রুটি ২টি, মাছ বা মুরগি ১ টুকরো, সবজি ১ কাপ ও সালাদ ১ বাটি। যদি কেউ একটু বেশি ইফতার করে ফেলেন সে ক্ষেত্রে রাতে ভাত বা ভারী কিছু না খেয়ে হাল্কা কিছু খেতে পারেন। সেটা কিছু ফল ও দুধ বা দই হতে পারে।

সবশেষে এটাই বলব বেশি খেয়ে ওজন না বাড়িয়ে বা অসুস্থ হয়ে রোজার মাসটা না কাটিয়ে নিয়ম মেনে পরিমিত ও সুষম খাবার খেয়ে সুস্থ থেকে আল্লাহর ইবাদতের জন্য সময় বেশি পাওয়া যাবে সেই সঙ্গে মিলবে শারীরিক ও মানসিক শান্তিও।

Categories
খাদ্য তালিকা

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফলমূল

ভিটামিন সি এমন একটি পুষ্টি উপাদান যা মানব শরীরের জন্য খুবই জরুরি। কারণ রক্ত চলাচল থেকে শুরু করে শিরা ও ধমনীর কর্মক্ষমতা বজায় রাখা, কোষ গঠন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি সব কিছুতেই ভিটামিন সি-এর উপস্থিতি অপরিহার্য। ভিটামিন সি অত্যন্ত উচ্চ মানের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা বিভিন্ন দূষণ থেকে রক্ষা করে। নানা ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধেও সাহায্য করে ভিটামিন সি। এছাড়া এটিপি, ডোপেমিন ও পেপটাইন হরমোনের ক্ষেত্রেও ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মোটকথা আমাদের শরীরের চালিকাশক্তি বজায় রাখার জন্য ভিটামিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের ভিটামিন সি-এর প্রাত্যহিক চাহিদা হলো ৬০ মিলিগ্রাম। এই ভিটামিন সি আমরা আমাদের প্রতিদিনের খাবার থেকেই পেয়ে থাকি। ভিটামিন সি-এর একটি ভালো উত্‍সের কথা ভাবতেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে লেবুর ছবি! কিন্তু জানেন কি, সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ প্রথম দশটি খাবারের মধ্যেই লেবুর স্থান নেই? এটা সত্যি! অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়ই? লেবুর চেয়ে আরো অনেক বেশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার আমাদের চোখ এড়িয়ে যায়। আসুন জেনে নিই সারাবিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত দশটি খাবারের কথা –

কাঁচা মরিচ :

সর্বোচ্চ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারের তালিকার প্রথমেই রয়েছে আমাদের অতি চেনা কাঁচা মরিচ। আমরা স্যুপ, সালাদ, ভর্তার সাথে বা এমনিতেই কাঁচা মরিচ খেয়ে থাকি। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচে রয়েছে ২৪২.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। এর পরেই রয়েছে লাল মরিচের স্থান। প্রতি ১০০ গ্রাম লাল মরিচে রয়েছে ১৪৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

পেয়ারা :

দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পেয়ারা। পেয়ারা প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। একটি মাঝারি আকারের পেয়ারায় প্রায় ১২৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি পাওয়া যায়। তবে পেয়ারার জাতভেদে এর পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

বেল মরিচ :

বেল মরিচ পাস্তা সস বা পিজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি মেক্সিকান মরিচ। প্রতি ১০০ গ্রাম বেল মরিচে রয়েছে ১৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

টাটকা ভেষজ :

বেশির ভাগ ভেষজই নানান পুষ্টিগুণে ভরপুর। সেটা তাজা হোক অথবা শুকনো। তবে তাজা থাইম ও পোর্সলেতে রয়েছে আর সব ভেষজ থেকে বেশি ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম থাইমে রয়েছে ১৬০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি এবং প্রতি ১০০ গ্রাম পোর্সলেতে রয়েছে ১৩৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

গাঢ় সবুজপাতা এবং শাক :

আমার খাবার হিসেবে যেসব কাঁচা পাতা খাই যেমন পুদিনা বা লেটুস তেমনই একটি হলো Kale। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম Kaleতে রয়েছে ১২০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। শাকের ভেতরে সরিষা শাক সর্বোচ্চ ভিটামিন সি যুক্ত। প্রতি ১০০ গ্রাম সরিষা শাকে রয়েছ ৭০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

ব্রকোলি :

সবুজ টাটকা ব্রকোলি ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উত্‍স। প্রতি ১০০ গ্রাম ব্রকোলিতে রয়েছে ৯৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

কিউয়ি ফল :

কিউয়ি ফল ভিটামিন সি-এর আরেকটি উত্‍কৃষ্ট উত্‍স। প্রতি ১০০গ্রাম কিউয়িতে রয়েছে ৯৩ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

পেঁপে :

আমাদের অতি পরিচিত ফল পেঁপে রয়েছে অষ্টম স্থানে। পেঁপেকে ভিটামিন এ এবং ফোলেটের আধার হিসেবে প্রাধান্য দেয়া হলেও এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। প্রতি ১০০ গ্রাম পেঁপেতে রয়েছে মিলিগ্রাম ৬২ ভিটামিন সি।

কমলা :

কমলার খাদ্যযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

স্ট্রবেরী :

চমত্‍কার স্বাদের ফল স্ট্রবেরী এমনিতে খাওয়ার পাশাপাশি কেক, আইসক্রিম, ডেজার্ট এবং আরো বিভিন্নভাবে খাওয়া হয়ে থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম স্ট্রবেরীতে রয়েছে ৫৯ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

Categories
রোগ ব্যাধি রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

করোনা ভাইরাস কী? লক্ষণ ও প্রতিরোধে আমাদের করণীয়!

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, সেই রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই ভাইরাস- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- এর মধ্যেই চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটা কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

রোগের লক্ষ্মণ কী:

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

প্রতিরোধে করণীয়!


করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি রোধে নিম্নের নিয়মাবলী কঠোর ভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ করছি ঃ১। বাসা বা অফিসে প্রবেশের সময় সবাইকে বাধ্যতা মুলক ভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে দু হাত ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।


২। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যাবহার করতে হবে এবং ব্যাবহ্রিত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং দু হাত সাবান পানি বা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে।


৩। যেখানে সেখানে থুতু বা কফ ফেলা যাবেনা এবং অপরিস্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা যাবেনা।


৪। ঘন ঘন দুই হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়া হাঁচি কাশির পর, টয়লেট করার পর, খাবার খাওয়া ও প্রস্তুত করার আগে ও পরে, পশু পাখির সংস্পর্শে আসার পর এবং হাত অপরিস্কার হলে হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে।


৫। হাঁচি, কাশি হলে কিম্বা জনবহুল স্থান হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কটি এমন ভাবে পরুন যেনো তা নাক, মুখ ভালো ভাবে ঢেকে থাকে।


৬। মাস্কটি ব্যাবহারের সময় হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন, খোলার সময় পিছন দিক দিয়ে মাস্ক খুলুন। একবার ব্যাবহারের পর মাস্কটি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যাবহার করুন।


৭। যথাসম্ভব কারো সাথে হাত মেলানো/ হ্যান্ড সেক বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


৮। হাঁচি, কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত বাক্তি হতে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


৯। যারা খাবার তৈরি বা সারভ করবে তারা খাবার তৈরির আগে ও পরে অবশ্যই দু হাত ভালো করে সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করবে।


১০। মাছ, মাংস ও ডিম ভালো করে ধুয়ে, ভালো ভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অসুস্থ পশু পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে সমস্যা হলে বাসায় বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে।

Categories
খাদ্য তালিকা

ক্যালসিয়াম যুক্ত খাবারের তালিকা

বয়স ভেদে শরীরে ক্যালসিয়ামের চাহিদা ভিন্ন হয়।

শূন্য থেকে ছয় মাস – প্রতিদিন ২০০ মিলিগ্রাম

সাত থেকে ১২ মাস- প্রতিদিন ২৬০ মিলিগ্রাম

এক থেকে তিন বছর- প্রতিদিন ৭০০ মিলিগ্রাম

চার থেকে আট বছর- প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম

নয় থেকে ১৮ বছর – প্রতিদিন এক হাজার ৩০০ মিলিগ্রাম

১৯ থেকে ৫০ বছর – প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম

৫১ থেকে ৭০ বছর – প্রতিদিন এক হাজার মিলিগ্রাম (পুরুষ), এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম (নারী)

৭১ বছরের উপরে – প্রতিদিন এক হাজার ২০০ মিলিগ্রাম

বেশির ভাগ মানুষ শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে দুধ পান করেন। আবার অনেককে বিভিন্ন ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের সাহায্য নিতে হয়। কিন্তু অনেকেই আছেন, যাঁরা দুধ এবং ক্যালসিমায় সাপ্লিমেন্ট দুই-ই পছন্দ করেন না। তাঁরা কিছু খাবার খেয়েই ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মিটিয়ে ফেলতে পারেন।

ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ এমন কিছু খাবারের কথা জানুন।

১। তিল বীজ: তিলের বীজে উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়ামের পাশাপাশি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও মিনারেলও থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা তিল বীজে এক হাজার মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।

২। কমলালেবু: এই ফলেও ভিটামিন সি থাকে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে।

৩। বাদাম: কাঠ বাদামে উচ্চমাত্র্রায় ক্যালসিয়াম থাকে। ১০০ গ্রাম কাঁচা অথবা নাট বাটারে ব্যবহৃত চূর্ণ করা কাঠ বাদামে ২৬৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে।প্রায় সব ধরনের বাদামে রয়েছে প্রচুর প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, ফাইবার, ভাইটামিন, পটাসিয়াম, আয়রন ও খনিজ পদার্থ। এটি দেহের জন্য অতি উপকারি যা শক্ত হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে।

৪। ভেন্ডি: ঢেঁড়স একটি গ্রীষ্মকালীন সবজি. এক কাপ ভেন্ডিতে প্রায় ১৭২ মিলিগ্রাম ক্যাসিয়াম থাকে। যা আপনার শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৫। ব্রোকলি: ক্যালসিয়ামে ভরপুর এই সব্জিও শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি মেটাতে সাহায্য করে।

৬। শালগম: শালগম ক্যালসিয়াম ও পটাসিয়ামের উত্তম একটি উৎস। এটি হাড়ের নমনীয়তা, অস্টেয়োপরোসিস, ফ্রাকচার ইত্যাদি রোধ করতে সাহায্য করে এবং পেশীতে শক্তি যোগায় ও কর্মদক্ষতা বাড়ায়। এক কাপ শালগমে থাকে প্রায় ২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম যা একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের এক-পঞ্চমাংশ ক্যালসিয়ামের চাহিদা পূরণ করে।

বিশেষ সতর্কতা

বাদ দিন ক্যাফেইন

অনেকেই দিন শুরু করে কফি পানের মধ্য দিয়ে। আপনি যদি ক্যালসিয়ামের ঘাটতিতে ভুগে থাকেন, তাহলে কফি পানের অভ্যাস বাদ দেওয়াই উত্তম। গবেষণায় বলা হয়, দিনে চার কাপের বেশি কফি পান হাড় ক্ষয় রোগ বাড়ায়। বিশেষ করে যেসব নারীর ক্যালসিয়ামের ঘাটতি রয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এমনটা বেশি হয়।

লবণ খাওয়া কমান

বেশি লবণ খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হয়। এটি ক্যালসিয়াম শোষণে বাধা দেয়। লবণ ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াও বাদ দিন। এতে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি হবে না। শরীরে ক্যালসিয়ামও বাড়বে।

Categories
খাদ্য তালিকা

পটাসিয়াম আছে যেসব খাবারে

দেহে ঝটপট শক্তি সরবরাহে পটাশিয়াম সমৃদ্ধ কলার রয়েছে বিপুল ব্যবহার। স্ট্রোক ও হৃদরোগ প্রতিরোধে প্রধান খাদ্য উপাদান হতে পারে পটাশিয়াম। কলা ছাড়াও এমন কিছু খাবার আছে যেগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের পটাশিয়ামের চাহিদা মেটাতে সক্ষম এবং সহজেই কলার বিকল্প হিসেবে খাওয়া যেতে পারে।

১. সাদা ও মিষ্টি আলু

একটি মিষ্টি আলুতে ৪৩৮ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম থাকতে পারে। অন্যদিকে, সাদা আলুর ক্ষেত্রে এ পরিমাণ হতে পারে দ্বিগুণ, প্রতিটি আলুতে ৯৫০ মিলিগ্রাম। দুই ধরনের আলুতেই উচ্চমাত্রায় ভিটামিন-এ বিদ্যমান।

২. বীট

মাত্র ১ কাপ বীটে পাওয়া যেতে পারে ৬৫৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। বাড়তি হিসেবে পাচ্ছেন ফলেট, ম্যাঙ্গানিজ, কপার, আঁশ, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন-সি, আয়রন এবং ভিটামিন বি-৬।

৩. টমেটো সস

টমেটো সস যে পটাশিয়ামের ভালো উৎস হতে পারে তা শুনে হয়তো অনেকেই অবাক হবেন। তবে পিজা, পাস্তা ও বার্গারসহ ফাস্টফুডে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এ সসের এক কাপে থাকতে পারে ৯০৫ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম।

৪. মটরশুটি

আশ্চর্যজনক ভাবে, মটর শুঁটি থেকে আপনি পেতে পারেন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে পটাশিয়াম। এক কাপ মটর শুঁটিতে থাকতে পারে ১ হাজার ১৯০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম, যা প্রতিদিনকার প্রয়োজনের চার ভাগের এক ভাগ। এছাড়া উপরি পাওনা হিসেবে প্রোটিন, আঁশ ও ভিটামিন তো রয়েছেই।

৫. তরমুজ

মাত্র দু’ফালি তরমুজে থাকতে পারে ৬৪০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত পটাশিয়াম। পাশাপাশি তরমুজের প্রধান খাদ্য উপাদান হচ্ছে লাইকোপেন, যেটি এক ধরনের উদ্ভিদ পিগমেন্ট। ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস করতে লাইকোপেনের ভূমিকা বহুলভাবে স্বীকৃত।

৬. দই

ক্যালসিয়ামের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলো দই, পাশাপাশি প্রতি কাপ দই এ ৩৮০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। সঙ্গে এক টেবিল চামচ হ্যাজেলনাট আইসক্রিম মিশিয়ে নিলেই হলো। পেয়ে যাবেন বাড়তি ২১১ মিলিগ্রাম পটাসিয়াম, যা সমপরিমাণ কলায় উপস্থিত পটাশিয়ামের থেকেও বেশি।

শরীর সুস্থ রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পটাশিয়ামের উৎস হিসেবে এখন থেকে কলার পাশাপাশি এসব খাবারও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।