Categories
রোগ ব্যাধি

চোখের ছানি শুধু বয়স্কদেরই রোগ?

চোখের লেন্স ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার নাম হলো ছানি পড়া। ইংরেজিতে একে ক্যাটারেক্ট বলা হয়। এই ছানি সম্পর্কে আমাদের কমবেশি ভুল ধারণা আছে।

বুড়ো হলেই না চোখে ছানি পড়ার কথা—এমন ধারণা অনেকেরই আছে। আসলে তা ঠিক নয়। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অপেক্ষাকৃত কম বয়সে ছানি হতে দেখা যায়। এমনকি ছানি হতে পারে ছোটদেরও। গর্ভবতী মায়ের কিছু জীবাণু সংক্রমণ হলে সন্তানের চোখে ছানি থাকতে পারে জন্ম থেকেই। গর্ভবতী মায়ের গর্ভধারণের তিন মাসের মধ্যে এক্স-রের মতো কোনো বিকিরণ রশ্মির সংস্পর্শে এলেও গর্ভের সন্তানের জন্মগত ছানির ঝুঁকি থাকে। ছোটদের বা বড়দের চোখে মারাত্মক আঘাত থেকে ছানি হতে পারে। ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন কিংবা বিকিরণ এলাকায় কাজ করেন, এমন ব্যক্তির ছানি হওয়ার ঝুঁকি যেকোনো বয়সে।

ছানি পাকলে তবেই না অস্ত্রোপচার

ছানি দেখা দিলে কখন অস্ত্রোপচার করতে হবে সেটি নির্ভর করে রোগীর পেশাগত প্রয়োজনের ওপর। অনেকে মনে করেন, নির্দিষ্ট সময় না পেরোলে বা ভালো করে ছানি না পাকলে অস্ত্রোপচার করানো যাবে না। এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। প্রয়োজনে যেকোনো সময় ছানির অস্ত্রোপচার করানো যেতে পারে। যেমন, শিক্ষক বা নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারকারী ব্যক্তির দ্রুত অস্ত্রোপচার করানোটা পেশাগত প্রয়োজন। অন্যান্য পেশাজীবী, যাঁদের প্রতিনিয়ত খাতা-কলম, কম্পিউটার বা সুই-সুতা ব্যবহার অথবা অন্য কোনো সূক্ষ্ম কাজ করতে হয় না, তাঁদের ক্ষেত্রে কিছুটা সময় অপেক্ষা করা যেতে পারে। তবে কখন অস্ত্রোপচার করা নিরাপদ, সেটি চক্ষু বিশেষজ্ঞ ছানির অবস্থা দেখে বলে দেবেন। অতিরিক্ত দেরি হয়ে গেলে ছানিজনিত জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। যেমন: গ্লুকোমা ও লেন্স ডিজলোকেশন বা চোখের লেন্স নির্দিষ্ট স্থান থেকে সরে যাওয়া, দৃষ্টি হারানোর মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

ছানি কাটলে আর চশমা লাগার কথা নয়

সঠিক সময়ে অস্ত্রোপচার করানো সত্ত্বেও অবশ্য শুধু কাছের জিনিস দেখার জন্য চশমা ব্যবহার করতে হতে পারে। তবে অনাকাঙ্ক্ষিত জটিলতা এড়াতে অস্ত্রোপচারে অবহেলা করা যাবে না কোনোভাবেই। অবশ্য আজকাল অস্ত্রোপচারে উন্নতমানের লেন্স ব্যবহার সাপেক্ষে অস্ত্রোপচার–পরবর্তী সময়ে চশমার আর প্রয়োজন পড়ে না। তবে সেটি বেশ খরচসাপেক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *