Categories
খাদ্য তালিকা

শীতকালে স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সেরা ৯টি খাদ্য

শীতকাল সেরা মৌসুমগুলোর একটি হলেও এর কিছু নেতিবাচক দিকও আছে। যেমনটা অন্যান্য মৌসুমেরও আছে। যেমন, গরমকালে তাপমাত্রা খুব বেশি বেড়ে গেলে অনেকেই পানিশুন্যতা এবং হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হন। তেমনি বর্ষাকালে নানা বায়ু এবং পানিবাহিত ভাইরাল রোগ আক্রমণ করে। যার ফলে ফ্লু এবং এই জাতীয় অন্যান্য রোগ হয়।

শীতকালে তাপমাত্রা কম থাকার কারণে আপনার দেহকে অতিরিক্ত তাপ উৎপাদন করার জন্য বেশি শক্তি ব্যয় করতে হয়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে আসে। আপনার দেহকে যেহেতু অতিরিক্ত তাপ উৎপাদনে করতে গিয়ে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় সেহেতু এই সময়ে আপনি নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন। শীতকালের সচরাচর রোগগুলো হলো, ঠাণ্ডা-সর্দি, ভাইরাল ফ্লু, শ্বাসকষ্ট, কফ এবং অন্যান্য ইনফেকশন।

নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক রোগও এসময় মানুষকে আক্রান্ত করে। বিশেষ করে যেখানে তাপমাত্রা খুব বেশি কমে যায়। শীতকালে সাইনুসাইটিস এবং অ্যাজমার মতো রোগও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। এছাড়া জয়েন্ট পেইন এবং আথ্রাইটিস এর মতো রোগও আরো জোরালো হতে পারে। কেননা শীতকালে ঠাণ্ডার কারণে জয়েন্টে রক্তপ্রবাহের গতি ধীর হয়ে আসে এবং ব্যথা বাড়ে।

কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো শীতকালে খেলে শরীর চাঙ্গা থাকে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়ে ওঠে। আসুন জেনেও নেওয়া যাক..

১. ঘি

যদিও অনেকেই মনে করেন ঘি খেলে মুটিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি আছে তথাপি সীমিত পরিমাণে ঘি খেলে স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে শীতকালে ঘি দেহের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। কারণ ঘি-তে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড।

২. মাখন

সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোর একটি মাখন। এতে আছে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি এবং চর্বি। শীতকালে সামান্য পরিমাণে মাখন খেলে দেহের তাপমাত্রা ঠিক থাকে।

৩. টমেটো

একবাটি ধোঁয়া ওঠা টমেটো স্যুপ বা সুরুয়া খেলে শীতকালে আপনি দারুন উপকার পাবেন। টমেটোতে আছে ভিটামিন সি এবং লাইকোপেন উপাদান যা আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে তুলবে এবং শীতকালীন রোগ-বালাই থেকে মুক্ত রাখবে।

৪. সবুজ শাক-সবজি

বছরের যে কোনো সময়ই সবুজ শাক-সবজি খাওয়া ভালো। তবে শীতকালে দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতোকে শক্তিশালী করতে সবুজ শাক-সবজি বেশ কার্যকর।

৫. হিজলি বাদাম

এই বাদাম খুবই স্বাস্থ্যকর। খাবারের স্বাদ বাড়াতে এই বাদাম ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক মুঠো বাদাম খেলে হৃদরোগ এবং মানসিক অবসাদের মতো সমস্যা প্রতিরোধ হয়। তবে হিজলি বাদাম আপনার দেহের তাপমাত্রা বাড়াতে এবং শীতকালে আপনাকে সুস্থ রাখতেও বেশ কার্যকর।

৬. গোল মরিচ

শীতকালে খাবারের সঙ্গে গোলমরিচ দিলে রোগ-বালাই দূরে রাখে। কালো গোল মরিচে আছে প্রদাহরোধী উপাদান যা নানা ধরনের শীতকালীন রোগের চিকিৎসায় বেশ কার্যকর। যেমন শ্বাসকষ্ট, ঠাণ্ডা-সর্দি, কফ এবং জয়েন্ট পেইন।

৭. আপেল

শীতকালে আপেলের উৎপাদন হয় বেশি। এই সুস্বাদু ফলটিতে আছে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, নানা ধরনের ভিটামিন এবং খনিজ পুষ্টি। এসব উপাদান হজম ক্ষমতা বাড়ানোর পাশপাশি রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও শক্তিশালী করে।

৮. ডার্ক চকোলেট

ডার্ক কোকোয়া পাউডার থেকে তৈরি এক গ্লাস গরম চকোলেট খেতে পারলে শীতকালে আপনার বিপাকীয় প্রক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আরো শক্তিশালী হয়ে উঠবে। এবং দেহের তাপমাত্রাও বাড়াবে। প্রতিদিন আপনি এক টুকরো খাঁটি ডার্ক চিনিহীন চকোলেটও খেতে পারেন।

৯. খেজুর

শীতকালে আপনাকে ভেতর থেকে গরম রাখতে খেজুরের জুড়ি মেলা ভার। এই সুস্বাদু এবং উচ্চ পুষ্টিকর খাবারটি বছরের যে কোনো সময়ই খেলে স্বাস্থ্য চাঙ্গা থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *