Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

সিফিলিস পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কী কী ?

একাধিক ক্ষেত্রে সিফিলিসে আক্রান্ত ব্যক্তির বহু বছর পর্যন্ত কোনও উপসর্গই বোঝা যায় না।

প্রাথমিক অবস্থা

একটি বা অনেকগুলি ক্ষত সৃষ্টি থেকে সাধারণত সিফিলিসের প্রাথমিক অবস্থা বোঝা যায়। সিফিলিসের সংক্রমণ ও প্রথম উপসর্গ শুরুর মধ্যবর্তী সময়সীমা ১০ – ৯০ দিন ( গড় ২১ দিন )। ক্ষত সাধারণত শক্ত, গোল, ছোট ও যন্ত্রণাহীন হয়। যে স্থান দিয়ে সিফিলিস শরীরে প্রবেশ করেছে, ক্ষতটি সাধারণত সেই স্থানেই হয়। এটি ৩ সপ্তাহ থেকে ৬ সপ্তাহ থাকে এবং কোনও চিকিত্সা ছাড়াই সেরে যায়। তবুও, প্রাথমিক স্তরে যথেষ্ট চিকিত্সা না করালে সংক্রমণ দ্বিতীয় স্তরে চলে যায়।

দ্বিতীয় অবস্থা

ত্বকে গুটি বেরনো ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে ক্ষত সিফিলিসের দ্বিতীয় অবস্থা। গুটিগুলি চুলকায় না। গুটিগুলি হাতের তালুতে ও পায়ের পাতার নীচে খসখসে, লালচে বা লালচে খয়েরি দাগের মতও হতে পারে। আবার, অন্য আকারে শরীরের অন্য জায়গাতেও গুটি দেখা দিতে পারে, কখনও কখনও তা অন্যান্য রোগের গুটির মতোও দেখতে হয়। গুটি ছাড়াও, এই অবস্থায় জ্বর, কুঁচকি ফোলা, গলায় জ্বালা, টাক পড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, ওজন কমে যওয়া, মাংসপেশীর খিঁচুনি ও ক্লান্তি প্রভৃতি উপসর্গও থাকতে পারে।

দেরি হলে

দ্বিতীয় অবস্থার উপসর্গগুলি মিলিয়ে গেলেই পরবর্তী অবস্থা ( যা বোঝা যায় না ) শুরু হয়। সিফিলিসের এই অবস্থায় শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রত্যঙ্গ ( যার মধ্যে আছে মস্তিষ্ক, স্নায়ু, চোখ, হৃদযন্ত্র, রক্ত ধমনী, যকৃত, হাড় ও সন্ধি ) ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অভ্যন্তরীণ ক্ষতি বহু বছর পর বোঝা যেতে পারে বহু বছর পর বোঝা যেতে পারে। সিফিলিসের শেষ পর্যায়ের লক্ষণ ও উপসর্গগুলির মধ্যে আছে মাংসপেশী পরিচালনায় অসুবিধা, অসাড়তা, অবশভাব, ক্রমশ অন্ধত্ব ও স্মৃতিভ্রংশ। শরীরের এই ক্ষতি মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *