Categories
খাদ্য তালিকা

পেটে গ্যাসের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে যে ৫ টি খাবার।

১) শসা শসা পেট ঠাণ্ডা রাখতে অনেক বেশি কার্যকরী খাদ্য। এতে রয়েছে ফ্লেভানয়েড ও অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি উপাদান যা পেটে গ্যাসের উদ্রেক কমায়। 

২) দই দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এতে করে দ্রুত খাবার হজম হয়, ফলে পেটে গ্যাস হওয়ার ঝামেলা দূর হয়। 

৩) পেঁপে পেঁপেতে রয়েছে পাপায়া নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়ায়। নিয়মিত পেঁপে খাওয়ার অভ্যাস করলেও গ্যাসের সমস্যা কমে। 

৪) কলা ও কমলা কলা ও কমলা পাকস্থলীর অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করতে সহায়তা করে। এতে করে গ্যাসের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়াও কলার স্যলুবল ফাইবারের কারণে কলা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ক্ষমতা রাখে। 

৫) আদা আদা সবচাইতে কার্যকরী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান সমৃদ্ধ খাবার। পেট ফাঁপা এবং পেটে গ্যাস হলে আদা কুচি করে লবণ দিয়ে কাঁচা খান, দেখবেন গ্যাসের সমস্যা সমাধান হবে।

Categories
খাদ্য তালিকা রোগ ব্যাধি

পেটে গ্যাসের বেশি সমস্যা করে যে ৫ টি খাবার।

১) ডাল ও ডাল জাতীয় খাবার ডাল, বুট, ছোলা, বীণ, সয়াবিন ইত্যাদি ধরণের খাবার গ্যাস উদ্রেককারী খাবার। এগুলোতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, সুগার ও ফাইবার যা সহজে হজম হতে চায় না। ফলে গ্যাসের সমস্যা সৃষ্টি করে পেটে। 

২) ব্রকলি, পাতাকপি, বাঁধাকপি এইধরনের সবজিগুলোতে রয়েছে ‘রাফিনোজ’ নামক একধরণের সুগার উপাদান যা পাকস্থলীর ব্যাকটেরিয়া ফারমেন্ট না করা পর্যন্ত হয় হয় না। এবং এই অবস্থায় পেটে গ্যাসের সমস্যা বৃদ্ধি পায়। 

৩) দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার পর যদি দেখেন পেটে গ্যাস হচ্ছে তার অর্থ হচ্ছে আপনি লাক্টোজ ইন্টলারেন্ট অর্থাৎ আপনার দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার হজমে সমস্যা রয়েছে। হজম হয় না বলেই এগুলো আপনার পেটে গ্যাস উদ্রেকের জন্য দায়ী। 

৪) আপেল ও পেয়ারা আপেল ও পেয়ারাতে রয়েছে ফাইবার এবং ফ্রুক্টোজ ও সরবিটোল নামক সুগার উপাদান যা সহজে হজম হতে চায় না। এতে করেও গ্যাস হয় পেটে। 

৫) লবণাক্ত খাবার লবণের সোডিয়াম অনেক বেশি পানিগ্রাহী। অতিরিক্ত লবণাক্ত খাবার খেলে দেহে পানি জমার সমস্যা দেখা দেয়। পাকস্থলীতেও সমস্যা শুরু হয় ও খাবার হজম হতে চায় না।

Categories
খাদ্য তালিকা

যে ১০ খাবারে সবচেয়ে বেশী অ্যালার্জি হয়

একজনের যে খাবারে অ্যালার্জি হয়ে, অন্যজনের সেই খাবারে না ও হতে পারে। জেনে নিন যে দশ খাবারে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী মানুষ অ্যালার্জিতে ভুগে:

০১. দুধ: তিন বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আড়াই শতাংশ শিশুর গরুর দুধে অ্যালার্জি থাকে। তবে দুধে অ্যালার্জি থাকা আর ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স, কখনই এক নয়।

০২. গম: গমের আটা, পাঁউরুটি খেলে অ্যালার্জির সম্ভাবনা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। শিশুদের যদি গমে অ্যালার্জি থাকে, তাহলে বার্লি বা অন্যান্য দানাশস্যের ক্ষেত্রেও সেই অ্যালার্জি দেখা যেতে পারে।

০৩. সয়া: সাধারণত শিশুদের ক্ষেত্রেই সয়া থেকে অ্যালার্জি দেখা যায়। সয় বিনস, সয়া মিল্কে অ্যালার্জি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ১০ বছর বয়সের পর থেকে কমে আসে।

০৪. ডিম: অধিকাংশ শিশুই দুধের মতোই ডিমের অ্যালার্জিতে ভোগে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ডিমের সাদা অংশে থাকা প্রোটিন থেকে এই অ্যালার্জি হয়। তবে অ্যালার্জি থাকলে ডিম পুরোপুরি্ এড়িয়ে চলাই ভাল।

০৫. ফল ও সবজি: বেশ কিছু ফল ও সবজি থেকে অনেকেরই অ্যালার্জি হয়। বেগুন, গাজর, টোম্যাটো, পিচ, কলা থেকে অনেকেই অ্যালার্জির সমস্যায় ভোগেন।

০৬. ট্রি নাটস: কাজু, পেস্তা, আমন্ড, আখরোট, ব্রাজিল নাটে অনেকেরই অ্যালার্জি থাকে। তবে কোনও এক ধরনের বাদামে অ্যালার্জি থাকা মানেই অন্য বাদামেও অ্যালার্জি হবে এমনটা নাও হতে পারে।

০৭. শেল ফিশ: এই অ্যালার্জি খুবই কমন। চিংড়ি, কাঁকড়া, ওয়েস্টার, শামুক জাতীয় খাবার যার শক্ত খোল রয়েছে তার থেকেই অ্যালার্জি হয় বিশ্বের প্রায় ৬০% মানুষের।

০৮. চিনা বাদাম: শিশুদের মধ্যে প্রায়ই চিনা বাদামে অ্যালার্জি দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল ক্যাম্পাসগুলোতে ১৯৯৭-২০০৮ সাল পর্যন্ত চিনা বাদাম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

০৯. মাছ: অনেকের কোনও এক বিশেষ প্রকার মাছে অ্যালার্জি থাকে, আবার অনেকের স্যালমন, টুনা, ম্যাকরলে জাতীয় সামুদ্রিক মাছ খেলে অ্যালার্জি হয়।

১০. ফালফাইট: খাবারের রং নষ্ট হয়ে যাওয়া, বা বাদামি রং ধরাতে অনেক খাবারে সালফাইট ব্যবহার করা হয়। এই সালফাইট থেকে অনেকের অ্যালার্জি হয়।

Categories
টিকার তালিকা

শিশুর কোন বয়সে কী টিকা

নবজাতক, শিশু-কিশোরসহ অনেকের বিভিন্ন রোগের প্রতিষেধক টিকা দেওয়া জরুরি। তবে কখন কোন টিকা, অসুস্থ থাকা অবস্থায় টিকা দেওয়া যায় কি না, কোনো কারণে তারিখ পেরিয়ে গেলে কী করতে হবে—এসব বিষয় নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন অনেকেই। লিখেছেন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু রোগ বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী

শিশুর জন্মের পর নির্দিষ্ট সময়েই তাকে টিকা দিতে হয়। বাংলাদেশে সরকারিভাবে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শূন্য থেকে দুই বছরের শিশুদের বিনা মূল্যে টিকা দেওয়া হয়। প্রায় সব সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাদানের ব্যবস্থা রয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারেও রয়েছে এ ব্যবস্থা। বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বা বেসরকারি সংস্থা, যেমন—মেরি স্টোপস, রাড্ডা, সূর্যের হাসি প্রভৃতি এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত।

নবজাতকের টিকা
শিশুর জন্মের ১৫ মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় টিকাগুলোর পুরো কোর্স শেষ করতে হয়। টিকার একটি কার্ড থাকে, যাতে যে টিকা দেওয়া হলো এবং ভবিষ্যতে দেওয়া হবে, তার সম্ভাব্য তারিখ উল্লেখ করা থাকে।

যেসব টিকা এসব কেন্দ্রে দেওয়া হয় সেগুলো হলো—

এসব টিকা ছাড়া অন্যান্য রোগের জন্য আরো কিছু টিকা আছে যেমন—

টাইফয়েড টিকা
শিশুর দুই বছর পূর্ণ হওয়ার পর থেকে যেকোনো বয়সে দেওয়া যায়। এই টিকা প্রতি তিন বছর পর পর নিতে হয়। কারণ সারা জীবনের জন্য এই টিকা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে পারে না।

চিকেন পক্স টিকা
এক বছর বয়সের পর যেকোনো বয়সে দেওয়া যায়। একটি ডোজ।

কিশোর-বয়ঃসন্ধিকালে টিকা
শৈশব পেরিয়ে কৈশোর বা বয়ঃসন্ধিকালে যাদের অবস্থান, তাদের রোগ প্রতিরোধ সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য কিছু টিকাদানের পরামর্শ দেওয়া হয়। যেমন-

টিটেনাস, ডিপথেরিয়া, পারটুসিস (টিডিএপি) : হবু মায়েদের টিটেনাস টিকা নিতে হবে, যেন শিশুর ধনুষ্টঙ্কার না হয়। ১৫ থেকে ৪৯ বছরের মহিলাদের গর্ভধারণের আগেই পাঁচটি টিটি ডোজ নেওয়া জরুরি। প্রথমটির এক মাস পরে দ্বিতীয়টি, তারও এক মাস পরে তৃতীয়টি, তার ছয় মাস পরে চতুর্থ ও শেষ ডোজটি তার এক বছর পরে দিতে হয়।

হিউম্যান পেপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি) : ৯ বছর বয়স পূর্ণ হলে বালিকা ও কিশোরীদের ভবিষ্যতে জরায়ুমুখ ক্যান্সার প্রতিরোধের জন্য এই টিকা শুরু করা যায়। এই টিকার তিনটি ডোজ, যা ১১-১২ বছর বয়সে এবং ১২ থেকে ২৬ বছরের সব নারীর নেওয়া উচিত।

মেনিনগোকক্কাল এমসিভি ৪ : সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এ টিকা নিতে হয়, তবে ১১ থেকে ১৮ বছরের সবাই এ টিকা নিতে পারে। ১৬ বছর বয়সে একটা বুস্টার ডোজ।

ভেরিসেলা : এটি জলবসন্তের টিকা।

ইনফ্লুয়েঞ্জা : প্রতিবছর নিতে হয়।

সতর্কতা
►    ছোটখাটো অসুস্থতা। যেমন—জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি কারণে টিকাদান স্থগিত না করলেও চলে। তবে মারাত্মক অসুস্থ শিশু, খিঁচুনি হচ্ছে এমন শিশু এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল যেমন : কেমোথেরাপি গ্রহণকারী বা এইচআইভি আক্রান্ত শিশুকে টিকা না দেওয়াই উচিত।

►    যেসব শিশুর স্নায়ুরোগ আছে, তাদের ডিপিটি না দিয়ে ডিটি দেওয়াই ভালো।

►    মা যদি এইচআইভি পজিটিভ হয়, তবে নবজাতকের টিকা পিছিয়ে দিতে হবে। যদি শিশুটি এইচআইভি নেগেটিভ শনাক্ত হয়, তবেই শুধু বিসিজি টিকা দেওয়া যাবে।

►    পূববর্তী কোনো টিকা প্রদানের পর মারাত্মক কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলে, পরবর্তী টিকা প্রদানের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

জেনে রাখা ভালো
►    একই দিনে একাধিক টিকা দিতে তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে একই টিকার দুটি ডোজের মধ্যে কমপক্ষে ২৮ দিনের বিরতিতে দিলে ভালো হয়।

►    কোনো কারণে টিকা প্রদানের তারিখ পার হয়ে গেলে পোলিও, ডিপিটি, হেপাটাইটিস ‘বি’ তারিখের অনেক পরে এমনকি এক বছর পরে দিতেও সমস্যা নেই।

►    পোলিও টিকা মুখে খেতে হয় বলে ডায়রিয়া থাকলে শিডিউলের ডোজ খাওয়ানোর পর ২৮ দিন বিরতিতে একটি অতিরিক্ত ডোজ খাওয়ানো হয়।

►    বিসিজি টিকা দেওয়ার এক মাসের মধ্যে টিকার স্থানে ঘা হওয়ার কথা। এতে ঘাবড়ানোর তেমন কিছু নেই।

►    সাধারণত ডিপিটি বাঁ ঊরুতে ও হেপাটাইটিস ডান ঊরুতে দেওয়া হয়।

►    ৯ মাস বয়সের আগে হামের মতো র্যাশ হয়ে থাকলেও যথাসময়ে মানে ৯ মাস পূর্ণ হলেই হামের টিকা দেবেন। 

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য

স্বামী–স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কি সন্তানের জটিলতা হয়?

স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হওয়া ভালো নয়, এটি একটি বহুল প্রচলিত গুজব। এর কোনো সত্যতা নেই। স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ এক হলে কোনো সমস্যা নেই। তবে স্ত্রী নেগেটিভ আর স্বামী পজিটিভ হলে এবং সন্তান পিতার গ্রুপ পেলে নবজাতকের জন্ডিসসহ কিছু জটিলতা হতে পারে, তবে তা আগে থেকে জানা থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

Categories
স্বাস্থ্য পরামর্শ

বাইরে গেলেই হাঁচি-কাশি ?

ঘর থেকে বের হলেই শুরু হাঁচি আর কাশি। গলা খুসখুস, শুকনো কাশি নিয়ে বিব্রত হতে হয় অনেক জায়গায়। কেন এমন হচ্ছে, তা বুঝে উঠতে পারে না অনেকেই। এর অন্যতম কারণ হলো ধুলাবালু। বাতাসে আরও ওড়ে নানা রকম ক্ষুদ্র কণা ও পদার্থ। এগুলো শ্বাসনালি দিয়ে ঢুকে ফুসফুসে অ্যালার্জি সৃষ্টি করে। এ কারণেও কাশি হতে পারে।

কারও কারও আবার এসব ধুলাবালুর কারণে ত্বকে চুলকানি বা র‍্যাশও হতে পারে। এ থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় কী?

আমাদের দেশে এসব দূষণ থেকে মুক্তি পাওয়া আসলেই কষ্টকর। কেবল ধুলাবালু নয়, গাড়ির ধোঁয়া, উড়ে আসা আবর্জনার কণা, বাতাসে ছুড়ে ফেলা মানুষের কফ-থুতু মিলিয়ে পরিস্থিতি সত্যিই করুণ। তারপরও সচেতন হওয়ার চেষ্টা তো করতে হবে। নিজেকে ও পরিবেশকে রক্ষা করার চেষ্টা করা ছাড়া উপায় কী!

যাঁদের ধুলাবালুতে অ্যালার্জি আছে, তাঁরা বাইরে যাওয়ার সময় ফেস মাস্ক পরে নিলে কিছুটা রেহাই পাবেন। কিন্তু তারপরও আক্রান্ত হতে পারেন। যাঁরা মোটরসাইকেল চালান, তাঁরা একটু আঁটসাঁট ও ঢাকা পোশাক পরবেন। এতে অনাবৃত ত্বকে ঠান্ডা খোলা বাতাস লাগবে না।

বাসে বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়লে যে হাত দিয়ে গাড়ির আসন ও হাতল ধরেছেন, পরে তা অবশ্যই ধুয়ে ফেলবেন। বাড়ি ফিরে জামাকাপড় ধুয়ে ফেলুন এবং ভালো করে গোসল করুন।

শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যানবাহনে বাইরের ধুলাবালু কম লাগে। কিন্তু অনেক সময় ব্যক্তিগত গাড়ি থেকেও অ্যালার্জির উপাদান পাওয়া যায়। গাড়ির সিট ও পাপোশ নিয়মিত পরিষ্কার করা উচিত। গাড়ি ঝাড়ার জন্য পালকের ঝাড়ু ভালো নয়; এতে আরও ধুলা উড়বে। ভালো হয় হালকা ভেজা কাপড় দিয়ে গাড়ির ভেতর ও বাইরে যদি পরিষ্কার করা যায়। মাঝেমধ্যে ওয়ার্কশপে নিয়ে ভ্যাকুয়াম ক্লিনিং করা আরও ভালো।

যাঁদের বেশি অ্যালার্জি হয় বা হাঁপানি হয়, তাঁরা বাইরে যাওয়ার আগে দুই পাফ ইনহেলার নিতে পারেন। বাড়ি ফিরে অ্যান্টিহিস্টামিন-জাতীয় কোনো ওষুধ প্রয়োজন পড়লে খেয়ে নেওয়া যায়।

পরিবেশ ভালো রাখতে খোলা জায়গায় আবর্জনা, থুতু বা কফ ফেলা থেকে বিরত থাকুন। লোকজনের সামনে হাঁচি-কাশি দিতে হলে অবশ্যই মুখে হাত বা রুমাল দিন। পরে হাত বা রুমাল ধুয়ে ফেলুন।

Categories
স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্কুলগামী শিশুদের অভিবাবকদের বিশেষ সতর্কতার পরামর্শ

করোনা সংক্রমণের হার বর্তমানে নিম্নমুখী হলেও স্কুলগামী শিশুদের নিয়ে বিশেষ সতর্কতার আহবান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা বলছে, করোনা ভাইরাসের ডেল্টা ধরনে শিশুদের আক্রান্ত হবার হার ও মৃত্যুহার দুটোই বেশি। যা প্রায় ১২ থেকে ১৪ শতাংশ। 

তাই স্কুলে ও স্কুলের বাইরে শিশুদের স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও অভিভাবক দুই পক্ষেরই নজরদারির কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সব শেষ পরিসংখ্যান বলছে, ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে করোনা সংক্রমণ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭৪ জন শিশু মারা গেছে। 

যাদের বয়স নবজাতক থেকে শুরু করে ১০ বছর পর্যন্ত। আর ১১ থেকে ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে মারা গেছে ১৭৫ জন। 

চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের গবেষণা বলছে, দেশে ডেল্টা ধরন শনাক্তের পর শিশুদের আক্রান্তের হার বাড়তে শুরু করে। গেল জুলাই-আগস্ট মাসে এই হার ছিলো সবচেয়ে বেশি।

করোনা সংক্রমণ এখন কিছুটা নিম্নমুখী। তবে স্কুল খুলে দেয়ায় শিশুদের সংক্রমণ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বিশেষ করে শিশুদের স্কুলে যাওয়া আসার পথে অভিভাবকের সতর্কতা আর স্কুল চলার সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা বলছেন তারা।  

টিকা ছাড়া করোনা প্রতিরোধ অসম্ভব। কিন্তু শিশুদের টিকার আওতায় আনার বিষয়ে এখনও যেহেতু সিদ্ধান্ত নেই। তাই, কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনই স্কুলগামী শিশুদের করোনা থেকে রক্ষার একমাত্র উপায় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Categories
খাদ্য ও পুষ্টি খাদ্য তালিকা স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনায় যা খাবেন আর যা খাবেন না।

 ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৬ লাখ, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ ।

এই করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা খাদ্য তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশন বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি যা আমরা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি করতে পারি। এ সময়ে আমাদের কিছু বিষয় জানতে হবে এবং সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

যেসব খাবার খাবেনঃ
১। আমিষ সমৃদ্ধ খাবারঃ পরিমিত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বা ডাল এর যেকোন একটি আমিষ সমৃদ্ধ খাবার খান এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

২। স্যুপ বা তরল জাতীয় খাবারঃ ভেজিটেবল বা চিকেন স্যুপ, ডাবের পানি, হালকা গরম পানির সাথে মধু, লেবু বা আদা রস করে খান। সেই সাথে সকাল-বিকাল হালকা গরম চা পান করুন।

৩। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারঃ স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত সবজি ও ফল খান। সবুজ শাক-সবজি ও হলুদ ফলমূল যেমন আমলকি, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ইত্যাদি ফল খান। ফল ভালভাবে ধুয়ে খেতে হবে, অনেক আগের রান্না সবজি বা কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪। নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ ব্যায়াম আপনার শরীরের মাংসপেশীকে অ্যাকটিভ করে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাই প্রতিদিন ঘরে বসে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেনঃ
১। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবারঃ শর্করা জাতীয় খাবার যেমন- ভাত, রুটি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান এবং অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

২। প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার বা প্রসেস ফুডসঃ অতিরিক্ত সুগার ও সল্ট জাতীয় প্রসেস ফুডস এড়িয়ে চলুন কারন এ জাতীয় খাবার পুরোপুরি হজম না হওয়ায় আপনার শরীরে টক্সিক উপাদান জমা হতে থাকে যা ক্রমশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে। তাই এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩। কাচা সবজি বা অর্ধসিদ্ধ খাবারঃ কাচা সবজি, সালাত ও অর্ধসিদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন । ফ্রিজে রাখা খাবার অবশ্যই গরম করে খেতে হবে।

৪। ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবারঃ ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবার রোগ ক্ষমতা কমাতে পারে তাই এ ধরনের অভ্যাস থাকলে পরিহার করা ভালো।

বাসায় থাকুন নিরাপদ থাকুন। এখন বাসায় বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

কাশির চিকিৎসায় আর নয় অ্যান্টিবায়োটিক

সর্দি কাশির চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভরতা থেকে সরে দাঁড়াতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা। খুঁজছেন প্রাকৃতিক সমাধান।

সর্দি কাশি হলেই এখন আর ঘড়ির কাঁটা গুনে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া জরুরি নয়।

সেক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সহায়ক হতে পারে মধু। নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সেখান থেকে জানা যায় কাশির সমস্যায় ভুগছেন তাদের চিকিৎসায় অব্যর্থ ভূমিকা রাখতে পারে এই মধু। যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক এতো ভাল কাজ করেনা।

তবে কাশি বেশিরভাগ সময় দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনা আপনি ঠিক হয়ে যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের এই পরামর্শ অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সমস্যা মোকাবিলায় সাহায্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেননা অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের প্রয়োগের ফলে মানুষের শরীর ওষুধ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে। ফলে অনেক ধরণের ইনফেকশন সারিয়ে তোলা কঠিন হয়ে যায়।

আপনি কি সর্দি-কাশি বা জ্বরের জন্য ডাক্তার দেখাতে চাচ্ছে কিন্তু কোরোনার কারণে ডাক্তারের চেম্বারে যেতে ভয় পাচ্ছেন?

আপনি বাসায় বসে ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে।

ডাউনলোড করুনঃ https://play.google.com/store/apps/details?id=com.itmedicus.mdoctor

Categories
টিকার তালিকা

রোগ প্রতিরোধ ও টিকা

রোগ প্রতিরোধ ও টিকা

স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী পদক্ষেপ হল টিকাদান কর্মসূচি। এই কর্মসূচি শুরু করার আগে প্রতিবছর আড়াই লাখ শিশু টিকা প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা যেত। বর্তমান এ মৃত্যুর হার অনেক কমে আসলেও আরও বেশি সচেতনতা দিতে পারে আমাদের শিশুদের নিরাপদ ও সুস্থ ভবিষ্যৎ।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এই কর্মসূচি পালিত হয়ে আসছে ৭ এপ্রিল, ১৯৭৯ সাল থেকে। বিভিন্ন সময় প্রয়োজনমত বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই কর্মসূচি সফলতার সাথে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংক্ষিপ্ত ইতিহাসঃ ১৯৭৯ সালে আনুষ্ঠানিক ভাবে পথচলা শুরু করার পর ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত শুধুমাত্র বড় হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে টিকার সেবা সীমিত থাকে। ফলে দেখা যায় মাত্র ২% শিশুদের পূর্ণ মাত্রায় টিকাদান সম্ভব হয়েছে। তাই টিকাদান কর্মসূচিকে জনগণের দোরগোড়ায় নিতে ব্যাপক সম্প্রসারণ ও সফল বাস্তবায়নের জন্য ‘ইপিআই কৌশল ও কর্মসূচি কাঠামো’ তৈরি এবং বাস্তবায়ন করা হয় যা এখনও চলছে।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহঃ  যক্ষ্মা, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি, ইনফ্লুয়েঞ্জা বি, পোলিও, হাম, রুবেলা। এর মধ্যে হেপাটাইটিস ও ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা নতুনভাবে সংযুক্ত এবং বর্তমানে শিশু মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচিত নিউমোনিয়া রোগ প্রতিরোধে নতুন টিকা (পিসিভি) খুব শীঘ্রই টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রতিরোধযোগ্য রোগ সমূহের ভয়াবহতাঃ

১. যক্ষ্মা – শিশু মৃত্যুর কারণ ও ফুসফুস ক্যান্সার এর অন্যতম কারণ।

২. ডিপথেরিয়া – হৃৎপিণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রকে  আক্রান্ত করে এবং শিশুর মৃত্যু ও ঘটতে পারে।

৩. হুপিং কাশি – নিউমোনিয়া, চোখে রক্ত জমাট বাঁধা ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে থাকে।

৪. ধনুষ্টংকার – শিশু মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এটি মাতৃমৃত্যুরও অন্যতম কারণ।

৫. হেপাটাইটিস বি – লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যান্সার এর কারণ।

৬. ইনফ্লুয়েঞ্জা বি – শ্বাসকষ্ট ও শিশু মৃত্যুর কারণ।

৭. পোলিও – পঙ্গুত্ব ও মৃত্যুর কারণ।  

৮. হাম – নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

৯. রুবেলা – মা আক্রান্ত হলে শিশু বিভিন্ন জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম নেয়।