Categories
Uncategorized মা ও শিশু স্বাস্থ্য রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

স্তন ক্যান্সারের লক্ষণ ও প্রতীকার

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলছেন বাংলাদেশে ক্যান্সার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের হারও।

চিকিৎসকেরা বলছেন, স্তনের কিছু কোষ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে, ওই অনিয়মিত ও অতিরিক্ত কোষগুলো বিভাজনের মাধ্যমে টিউমার বা পিণ্ডে পরিণত হয়।

সেটি রক্তনালীর লসিকা (কোষ-রস) ও অন্যান্য মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাই ক্যান্সার।

কেমন লক্ষণ নিয়ে আসেন রোগীরা?

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রতি বছর দেড় লাখের বেশি মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।

বাংলাদেশে নারীরা যেসব ক্যান্সারে আক্রান্ত হন তার মধ্যে স্তন ক্যান্সার শীর্ষে রয়েছে।  সামাজিক রক্ষণশীলতার কারণে বাংলাদেশের নারীরা যেখানে প্রকাশ্যে স্তন শব্দটি উচ্চারণ পর্যন্ত করতে চান না, সেখানে শরীরে প্রাথমিক কোন লক্ষণ দেখা গেলেও তারা গোপন রাখেন সেসব, যে কারণে বেশিরভাগ রোগী চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন একেবারে শেষ পর্যায়ে।

ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. নাজনীন নাহার বলেন, স্তন ক্যান্সারে শুধু নারীরা নন, পুরুষেরাও আক্রান্ত হতে পারেন। তবে নারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে।

  • অধিকাংশ সময় তারা স্তনে একটি চাকা নিয়ে আসেন। অনেকে স্তনের বোঁটায় ঘা বা ক্ষত বা বোঁটার চারপাশে কালো অংশে চুলকানির লক্ষণ নিয়ে আসেন।”
  • “কারো স্তনের বোঁটা দিয়ে দুধের মত সাদা রস নিঃসৃত হতে থাকে। ব্যথা বা স্তন লাল রং হয়ে গেছে এমন লক্ষণ নিয়ে খুব কমই আসেন।”

স্তন ক্যানসার কেন হয়?

অধ্যাপক নাজনীন নাহার বলছেন, বাংলাদেশে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তবে সেই সঙ্গে কিছুটা সচেতনতা বাড়ার কারণে এখন মানুষ চিকিৎসকের কাছেও আগের তুলনায় বেশি যায় এবং সেজন্য আমরা জানতেও পারি বেশি আগের চেয়ে।

তিনি বলছে, নানা কারণে স্তন ক্যান্সার হতে পারে।

“আমাদের জীবনাচরণে এবং খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে, সেটি একটি কারণ। এছাড়া কারো পরিবারে স্তন ক্যানসারের ইতিহাস থাকলে হতে পারে। কারো যদি বারো বছরের আগে ঋতুস্রাব হয় এবং দেরিতে মেনোপজ বা ঋতু বন্ধ হয়, তারাও ঝুঁকিতে থাকে। সেই সঙ্গে তেজস্ক্রিয় স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।”

অধ্যাপক নাজনীন নাহার বলেন, দেরিতে সন্তান গ্রহণ, আবার যাদের সন্তান নেই, বা সন্তানকে বুকের দুধ না খাওয়ানো, খাদ্যাভ্যাসে শাকসবজি বা ফলমূলের চাইতে চর্বি ও প্রাণীজ আমিষ বেশি থাকলে এবং প্রসেসড ফুড বেশি খেলে, এবং অতিরিক্ত ওজন যাদের তাদেরও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে।

এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল খাচ্ছেন বা হরমোনের ইনজেকশন নিচ্ছেন, তারাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

একই সঙ্গে বয়স বাড়ার সাথে স্তন ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা বাড়ে। বিশেষ করে ৫০ বছর বয়সের পর এই ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে যায়। তখন আর করার কিছু থাকে না।

তিনি বলছেন, প্রাথমিক অবস্থায় সনাক্ত হলে স্তন ক্যান্সার ১০০ ভাগ নিরাময়যোগ্য।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে?

Presentational grey line

• স্তনে চাকা বা পিণ্ড দেখা দিলে

• স্তনের বোঁটার কোন ধরনের পরিবর্তন, যেমন ভেতরে ঢুকে গেলে, অসমান বা বাঁকা হয়ে গেলে

• স্তনের বোঁটা দিয়ে অস্বাভাবিক রস বের হলে

• স্তনের চামড়ার রং বা চেহারায় পরিবর্তন হলে

• বাহুমূলে পিণ্ড বা চাকা দেখা গেলে

Presentational grey line

ম্যামোগ্রাম এক বিশেষ ধরনের এক্স রে যন্ত্র যাতে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে।

তবে অধ্যাপক নাজনীন নাহার বলছেন, বয়স ৩০ বা ৩৫ হবার পর সব নারীর উচিত নিয়মিত নিজের স্তন পরীক্ষা করে দেখা। এজন্য মূলত তিনটি পদ্ধতি প্রচলিত আছে।

• ম্যামোগ্রাম বা বিশেষ ধরনের এক্স রে, যার সাহায্যে স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন ধরা পড়ে।

• সুনির্দিষ্ট নিয়মে চাকা বা পিণ্ড আছে কিনা, চিকিৎসকের মাধ্যমে সে পরীক্ষা করানো।

• নিজে নিজে নির্দিষ্ট নিয়মানুযায়ী স্তন পরীক্ষা করা।

বাংলাদেশে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা

বাংলাদেশে ক্যান্সার বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল আছে চারটি।

বাংলাদেশ ক্যান্সার ইন্সটিটিউটসহ সরকারি বেসরকারি অনেক হাসপাতালে স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর তোতলানো

তোতলামিতে ভোগা মানুষের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। তোতলামির ক্ষেত্রে অনিচ্ছাকৃত তিনটি ব্যাপার থাকে: ১. শব্দ বা কথা পুনরাবৃত্তি করা (যেমন: আগামী আগামী আগামীকাল যাব)। ২. শব্দের প্রথম অক্ষর বা উচ্চারণ লম্বা করে বলা (যেমন: পাপাপাপাপানি খাব)। ৩. বাক্যের মধ্যে বা শব্দের মধ্যে হঠাৎ করে থেমে যাওয়া বা আটকে যাওয়া, মুখ নাড়ানোর চেষ্টা সত্ত্বেও কোনো আওয়াজ বের হয় না। ঠোঁট-মুখ বেঁকে যায়, মুখ থেকে হালকা থুতুও বের হয়, কিন্তু কথাটা পুরো হয় না।

তোতলামির কারণ
মূলত পরিবেশ ও জিনগত কারণে তোতলামির সমস্যা হয়ে থাকে। আমরা যখন কথা বলি, তখন অনেক স্নায়ু দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে। এই কর্মযজ্ঞে ঝামেলা হলে কথার জড়তা পেয়ে বসে। একধরনের তোতলামি রয়েছে, যা শিশু অনুকরণ করে শেখে। যেসব মা-বাবা শিশুর কথার জড়তাকে তীব্রভাবে সমালোচনা করেন, সেসব শিশুর মধ্যে সমস্যা বেশি দেখা যায়। মানসিক উদ্বেগ, ইচ্ছার অবদমন, প্রতিকূল পারিবারিক পরিবেশ প্রভৃতিকে শিশুর তোতলামির উল্লেখযোগ্য কারণ বলে ধরা হয়। যেসব শিশু নিজেকে নিয়ে বেশি সচেতন, ভয় পেলে বা রেগে গেলে তাদের কথার অস্পষ্টতা বা তোতলামি বেড়ে যায়।

তোতলামির চিকিৎসা
তোতলামির জন্য অনেকে পানি পড়া, ঝাড়ফুঁক কিংবা মুখে পারদ বল দিয়ে থাকে। এর কোনোটিই কাজে আসে না। বকুনি আর শাসনেও তোতলামি সারে না; বরং সহানুভূতি, মমতা, ধৈর্য দেখালে শিশু এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারে। বাড়ি ও স্কুলের পরিবেশ আনন্দময়, নিরুদ্বেগ ও শিথিল করা জরুরি। শিশু যখন তোতলায় তখন তাকে বারবার বিষয়টি ধরিয়ে দেওয়া, তাকে থামিয়ে দেওয়া কিংবা একবার উচ্চারণ করা কথার পুনরাবৃত্তি করার জন্য চাপ দেওয়া ঠিক নয়। বরং ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ বাক্য শুনুন এবং চোখে চোখ রেখে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। তাকে প্রতিটি আওয়াজ ধীরে ধীরে ও চাপ দিয়ে বলার অভ্যাস করান।
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বয়স বাড়লে কথার জড়তা আপনাতেই কেটে যায়। শিশুর মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমাতে মনোবিদের পরামর্শ নিতে পারেন। সমস্যা বেশি গুরুতর মনে হলে স্পিচ থেরাপিস্টের সাহায্য নেওয়া যায়।

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

সন্তান জন্মদানের পরের অবস্থা মোকাবিলার উপায়

সন্তান জন্মদানের পর মায়েদের মধ্যে এক ধরনের মনমরা অবস্থা বা বিষণ্নতা দেখা দেয়। এটি পরবর্তী কয়েকদিন বা সপ্তাহ খানেকেরও বেশি সময় স্থায়ী থাকে।

শিশু জন্মদানের পর হরমোন পরিবর্তনই এই অবস্থা সৃষ্টির কারণ। চিকিৎসকদের বক্তব্য অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর এস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটারোনের মাত্রা হ্রাস পায়। এতে মায়েরা পিএমএস (প্রিমেনস্ট্রুয়াল সিনড্রোম)-এর সময় এক ধরনের পরিবর্তন অনুভব করেন।

সন্তান পেটে ধারণের দীর্ঘ সময় কঠোর পরিশ্রমের ক্লান্তি, ঘুমের বিভ্রাট, সিজারের ফলে সেলাইয়ের স্থানে যন্ত্রণা, স্তনবৃন্তে ব্যথা ইত্যাদি অবস্থার ফলে মায়েদের মধ্যে এই ধারণা জন্ম হয় যে, তাঁরা হয়তো নতুন মাতৃত্বকালীন অবস্থা ও দায়িত্বগুলো মোকাবিলা করতে সক্ষম হবেন না।

মায়েদের উচিত সন্তান জন্মের স্বাভাবিক অংশ হিসেবে এই অবস্থা মেনে নেওয়া। এই সময় তাঁদের উচিত নিজেদের শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া। তাঁদেরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া এবং সংযম অনুশীলন করতে হবে। সেইসঙ্গে আশপাশের মানুষের উচিত তাঁদেরকে সামাজিক সহায়তা প্রদান করা।

নবজাতক ঘুমিয়ে পড়ার সাথে সাথে মায়েরও উচিত ঘুমানোর চেষ্টা করা। কেননা, মা তাঁর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম থেকে বঞ্চিত হলে সন্তানের শারীরিক ও আবেগীয় যত্ন নেওয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। অন্যদের কাছ থেকে সহায়তা গ্রহণও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সবকিছু নিজেকেই সচেতনভাবে করতে হবে।

সন্তান জন্মের পর পুষ্টিতে যে ঘাটতি পড়ে তা পূরণ করতে হবে। দিনে তিনবার উদরপূর্তি না করে মায়েদের উচিত সারাদিনই ঘন ঘন পরিমিত খাবার গ্রহণ করা। এই সময় ফল ও সবজিসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে যাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে।

সিজারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হলে সেলাইয়ের স্থানে ক্ষত হওয়ার ঝুঁকি দূর হওয়ার পর হালকা ব্যায়াম করতে হবে। ধীরে ধীরে হাঁটার গতি বাড়াতে হবে যাতে হার্টরেট কিছুটা বাড়ে। নবজাতকের সঙ্গে কথা বলা এবং খেলা করতে হবে। এতে শারীরিক ও মানসিক দুই দিকেই উন্নতি হবে।

গর্ভাবস্থার পর থেকে সন্তান প্রসব এবং তার পরবর্তী সময়েও দৃঢ় সামাজিক সমর্থন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী- সবার সঙ্গে যাতে সন্তানের সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে তা নিশ্চিত করতে হবে। এমন সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে যা শিশুর সঙ্গে খারাপ সম্পর্ক তৈরি করে। এসব ক্ষেত্রে শিশুর বাবাকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

পরিবারের সমস্ত কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এ সম্পর্কিত পূর্বের দায়িত্বগুলো পালনের চেষ্টা করতে হবে। যথেষ্ট ধৈর্য ধারণ এসব ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

মেডিক্যাল সহায়তা এবং নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। কোনো সমস্যা ও এর ধরন সম্পর্কে চিকিৎসককে সঠিকভাবে অবহিত করতে হবে এবং পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য

গরমে শিশুদের যত্নে করণীয়

সারা দেশে তীব্র তাপদাহ বয়ে চলছে। এর মধ্যে কখনো কখনো খানিকটা বৃষ্টির দেখা মিললেও শেষ পর্যন্ত গরম কমছে না। বাতাসে অস্বাভাবিক আর্দ্রতা,  কাঠফাটা রোদ, সব মিলিয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ। তীব্র গরমে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা ও রোগব্যাধি বাড়ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, গরমের সময়ই মানুষের স্বাস্থ্য সমস্যা বেশি দেখা দেয়। তাই এ সময়ে সতর্ক হয়ে না চললে যেকোনো সময়ই আপনি অসুস্থ হতে পারেন।

গরমে শিশুদের জন্য বিশেষ সাবধানতা  

এই গরমে শিশুদের স্বাস্থ্যের দিকটি বিশেষভাবে ভাবতে হবে। শিশুদের বাইরের খাবার যথাসম্ভব এড়িয়ে ঘরে তৈরি টাটকা খাবার খাওয়ান।  এই গরমে নবজাতক ও ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।

প্রতিদিন অন্তত চার থেকে ছয়বার প্রস্রাব হচ্ছে কি না, তা দেখতে হবে। যদি কম হয়,  সে ক্ষেত্রে পানি বা তরল খাবার বাড়িয়ে দিতে হবে। গায়ে ‎র‌্যাশ ও ঘামাচি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিশেষ ওষুধের দরকার নেই। ঘাম হলে সঙ্গে সঙ্গে মুছে দিতে হবে এবং ঠান্ডা বা নিরাপদ পরিবেশে শিশুকে রাখতে হবে।

প্রতিদিন গোসল ও দিনে দুই থেকে তিনবার শরীর মুছিয়ে দিতে হবে। নবজাতকদের জন্য বুকের দুধ বারবার দিতে হবে। নরম ও পাতলা কাপড় পরাতে হবে।

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য

শিশুর দাঁত উঠছে না?

শিশুদের দন্ত কুসুম বিকশিত হওয়ার চক্রের তিনটি পর্ব আছে। প্রথমে দাঁত গঠনের জন্য খনিজ পদার্থের সমাগম ঘটে, দাঁত গজায়, তারপর ঝরে পড়ে।
দাঁতে খনিজ পদার্থের সমাহার শুরু হয় ভ্রূণ অবস্থাতেই। গর্ভকালের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৪ সপ্তাহের দিকে শুরু হয় এবং অস্থায়ী দাঁতের জন্য ৩ বছর বয়স পর্যন্ত চলতে থাকে। স্থায়ী দাঁতের জন্য ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত চলে।
দাঁতের গঠন শুরু হয় মুকুট থেকে, বিস্তৃত হয় শিকড়ের দিকে।

প্রথম দাঁত ওঠে মধ্য চোয়ালের (সেন্ট্রাল ইনসিসর), পরে তা দুপাশে ছড়াতে থাকে। এরপর শুরু হয় দাঁত পড়ে যাওয়ার পর্ব। সাধারণত ৬ বছর বয়সে দাঁত পড়া শুরু হয়, ১২ বছর বয়স অব্দি তা বহাল থাকে।
স্থায়ী দাঁত ওঠে অস্থায়ী দাঁত পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কখনোবা ৪-৫ মাস সময় নিয়ে। এই দাঁত পড়া ও দাঁত ওঠার সময়কাল এদিক-ওদিক হলে শুরু হয় দুশ্চিন্তা। আসলে শিশুদাঁত ওঠার সঙ্গে তার শরীরের বিকাশের তাল বেশির ভাগ সময় মেলে না।

তবে ১৩ মাস বয়সেও শিশুর দাঁত না গজালে একটু দেরি হচ্ছে বলে ধরে নেওয়া যায়। তার সচরাচর কারণ হলো:
* হাইপোথাইরড (থাইরয়েড হরমোনের অভাব)
* পরিবারগত
* অজানা কারণ
* কোনো নির্দিষ্ট দাঁত না গজানোর প্রধান কারণ ঘিঞ্জি দাঁত সমস্যা—বের হয়ে আসার পথ না পাওয়া, মাড়ির ফাইব্রোসিস।

আবার কোনো কোনো শিশুর ৬ বছর বয়সের আগেই অকালে দাঁত পড়া শুরু হয়ে যেতে পারে। এর কারণগুলো হলো হিস্টোসাইটাসিস এক্স, সাইক্লিক নিউট্রোপেনিয়া, লিউকোমিয়া, আঘাতজনিত।
আবার একেবারে প্রথম থেকেই দাঁতের রং অস্বাভাবিক হতে পারে। এর কারণ—পুষ্টি সমস্যা, দীর্ঘ রোগভোগ, ওষুধের প্রতিক্রিয়া যেমন টেট্রাসাইক্লিন।

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিয়ে ভাবনা?

বর্তমানে নবদম্পতিরা চান সংসার ও পেশাগত জীবন গুছিয়ে দু-এক বছর পর সন্তান নিতে। আবার প্রথম সন্তানের পর আরেকটা সন্তান নেওয়ার মধ্যে কেউ কেউ বেশ বিরতি চান। কোন সময় কী ধরনের জন্মনিরোধক পদ্ধতি ব্যবহার করলে ভালো হয়, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগেন অনেকে। এর মধ্যে অন্যতম দুশ্চিন্তা হলো জন্মবিরতিকরণ বড়ি নিয়ে। এটা সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য হলেও নানা প্রতিক্রিয়ার কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন অনেকে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রজননক্ষম যেকোনো নারীই জন্মবিরতিকরণ বড়ি খেতে পারেন।

কাদের গ্রহণ করা উচিত নয়

• বয়স ৪০ বছরের ওপর।

• নতুন মা যাঁরা স্তন্যপান করাচ্ছেন।

• উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির মাত্রা বেশি বা ধমনিতে চর্বির আস্তর পড়েছে।

• ধমনি বা শিরায় রক্ত জমাট হওয়ার রোগ আছে যাদের।

• মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বা স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ইতিহাস।

• জন্ডিসের রোগী ও যকৃৎরোগ বা যকৃতের টিউমার আছে এমন রোগী।

• স্তন ক্যানসারের রোগী, মাইগ্রেনের রোগী।

সুবিধা

• এটি প্রায় ৯৯ শতাংশ কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি।

• অনিয়মিত মাসিকে নিয়মিত করতে সাহায্য করে।

• মাসিকের সময়কার ব্যথা ও অন্যান্য মাসিক-পূর্ববর্তী উপসর্গ কমায়।

• মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের প্রবণতা কমায়।

• জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণের ঝুঁকি কমায়।

• ডিম্বাশয়ের সিস্ট ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

• এটি একটি অস্থায়ী পদ্ধতি, তাই সন্তান নিতে চাইলে পিল বন্ধ করার তিন-চার মাসের মধ্যেই সন্তান ধারণের সম্ভাবনা থাকে।

অসুবিধা

• নিয়মিত প্রতিদিন খেতে হয় তাই ভুলে যাওয়ার বা ডোজ মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

• স্তন্যদানকারী মায়েরা খেলে বুকের দুধ কমে যেতে পারে।

• কনডম বা নিরোধকের ব্যবহারে যৌন সংক্রমণের ঝুঁকি কমে, এই সুবিধা পিলে নেই।

• জন্মবিরতিকরণ পিল গ্রহণের কিছু মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। যেমন: বিষণ্নতা, মাইগ্রেনের প্রকোপ বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা, খিটখিটে মেজাজ, মাসিকচক্রের মাঝামাঝি রক্তক্ষরণ, স্তনে ব্যথা করা ইত্যাদি।

• বর্তমানে চতুর্থ প্রজন্মের স্বল্পমাত্রার পিলে ওজন বাড়া, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বি বাড়ার ঝুঁকি আগের পিলগুলোর তুলনায় কম।

কীভাবে খাবেন
মাসিক শুরু হওয়ার ৫ দিনের মধ্যে শুরু করা যায়, তবে প্রথম দিন থেকে শুরু করাই ভালো। প্রতি রাতে খাবার খাওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় খাবেন। বেশির ভাগ পিলের পাতায় দিন উল্লেখ করা থাকে, সেভাবেই খেতে হবে। টানা ২১ দিন খাওয়ার পর সাতটা আয়রন ট্যাবলেট থাকে। তারপর আবার আরেকটি নতুন পাতা খাওয়া শুরু করতে হবে।

Categories
Featured মা ও শিশু স্বাস্থ্য রোগ ব্যাধি

শিশুর জলবসন্তে

ভীষণ ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত অসুখ জলবসন্ত বা চিকেন পক্স। বসন্তের আগমনের সময় এ রোগ হতে পারে। দায়ী জীবাণু হলো হারপেস জাতের ভেরিসেলা ঝোসটার ডিএনএ ভাইরাস।
রোগের লক্ষণ
চিকেন পক্স সাধারণভাবে শিশু বয়সের অসুখ। বিশেষত ২ থেকে ৮ বছর বয়সে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে সরাসরিভাবে এলে বা হাঁচি-কাশির সাহায্যে বাতাসে ভর করে এ রোগ ছড়ায়। কখনোবা রোগীর ব্যবহৃত সামগ্রী থেকেও ছড়িয়ে পড়ে চিকেন পক্স। ঘরে কারও এ অসুখ দেখা দিলে অন্য সদস্যদের মধ্যে তা ছড়ানোর আশঙ্কা প্রায় ৯০ শতাংশ। শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দ্রুত ছড়ায়। রোগজীবাণু দেহে প্রবেশের ১৪ থেকে ২১ দিনের মাথায় অসুখের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথম কয়েক দিন শারীরিক ক্লান্তি, ম্যাজম্যাজে ভাব, জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা-এসব উপসর্গ থাকে। তারপর শরীরে দেখা দেয় দানাদার ফুসকুড়ি বা র​্যাশ। এক থেকে দেড় হাজার সংখ্যক পর্যন্ত র​্যাশ দেখা দিতে পারে। ছোট শিশুদের বেলায় অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উপসর্গ থাকে না বা বোঝা যায় না। সরাসরি র​্যাশ দিয়ে রোগের প্রকাশ ঘটে। এই র​্যাশ বেশ চুলকানো প্রকৃতির। ম্যাকিউল, পেপিউল ও ভেসিকুলার বিভিন্ন প্রকারের র​্যাশ রোগীর শরীরে একই সময় মেলে। র​্যাশের এই বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত চেহারা, বুকে, পিঠে নজর কাড়ে বেশি। তবে তা হতে পারে মুখগহ্বরের ভেতরে, চোখে, হাতে-পায়ের তালুতে।

জটিলতা

স্বাভাবিক শিশুর ক্ষেত্রে চিকেন পক্স তেমন গুরুতর সংকট সৃষ্টি করে না। কিশোর, যুবক বা বয়স্কজনের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বসন্ত রোগের জটিলতা বেশি। বিশেষত শিশু যদি অন্য কোনো অসুখে ভোগা রোগ প্রতিরোধক ঘাটতিজনিত অবস্থায় থাকে। চিকেন পক্সজনিত তীব্র জটিলতাসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সেপসিস, এনকেফালাইটিস, নিউমোনিয়া।

চিকিৎসা

● বাচ্চার স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যাওয়া। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, ভীষণ চুলকানো বা ব্যথার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ সেবন করানো।

● চিকেন পক্সে কখনোই শিশুকে অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। এতে করে ‘রি-ই সিনড্রোম’ নামক জটিল অসুখে পড়তে পারে শিশু।

● সেপসিস, নিউমোনিয়া বা এনকেফালাইটিসের যথাযথ ব্যবস্থাপনা।

● অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার চিকিৎসকের পরামর্শমতো হওয়া উচিত।

● এসাইক্লোডির ওষুধ বা ইম্যুনোগ্লোবিন বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে দিতে হবে।

রোগ প্রতিরোধক টিকা

চিকেন পক্স প্রতিরোধের কার্যকর ভ্যাকসিন বাজারে পাওয়া যায়। দামি হলেও এটি নিরাপদ। বেশ কিছু দেশে রুটিন মেনে ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সের মধ্যে চিকেন পক্স ভ্যাকসিন শিশুকে দেওয়া হয়। সংস্পর্শ ঘটার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন দেওয়া হলে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে সুফল মেলে।

Categories
Uncategorized মা ও শিশু স্বাস্থ্য

ডায়াপারে শিশুর সুরক্ষা

শিশুর সঠিক যত্ন নেওয়ার পরও রাতের বেলায় একনাগাড়ে কাঁদতে থাকে। আবহাওয়া ঠান্ডা না হলেও ঘন ঘন ঠান্ডা লেগে যায়। আক্রান্ত হতে থাকে সংক্রমণে। শিশুকে পরানো ডায়াপারের মান যদি ভালো না হয়, হতে পারে অনেক কিছুই। শিশুকে ডায়াপার পরিয়ে রাখলে থাকা যায় নিশ্চিন্তে। কিন্তু এটি ব্যবহারের সময় নিয়ম ও পদ্ধতি না জানার কারণে শিশুর অস্বস্তি হতে পারে। দেখা দিতে পারে শিশুর ত্বকে নানা সমস্যা। এমনকি ভেজা ডায়াপারের কারণে ঠান্ডা লেগে শিশু অসুস্থও হয়ে যেতে পারে। ডায়াপার কেনার সময়ও থাকতে হবে সচেতন। জানতে হবে ডায়াপারের মান ও শোষণক্ষমতা। নিশ্চিত করতে হবে আরামের বিষয়টি।

 ডায়াপার বদলানোর সময় করণীয়

ডায়াপার বদলানোর সময় শিশুর নিম্নদেশ ভেজা কাপড়, বেবি ওয়াইপস দিয়ে খুব যত্ন করে পরিষ্কার করতে হবে। সামনে থেকে পেছন দিকে মোছাতে হয়। অন্যথায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে ইউরিনারি ইনফেকশন হয়।

হাঁটু এবং নিতম্বের ভাঁজগুলোও পরিষ্কার করে দিতে হবে। মোছানো শেষে শুকনো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে দিন। এরপর পুনরায় ডায়াপার পরানোর আগে ডায়াপার অয়েন্টমেন্ট অথবা ময়েশ্চারাইজিং বেবি লোশন ব্যবহার করতে পারেন।

 মনে রাখতে হবে
* ময়লা ডায়াপার থেকে শুধু দুর্গন্ধই নয়, বরং অনেক ধরনের জীবাণুরও সংক্রমণ ঘটতে পারে।

* অনেক মা-বাবা তাঁদের শিশুকে সারা রাত ডায়াপার পরিয়ে রাখেন। এটি শিশুদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। সারা রাত ওই ভেজা ডায়াপারে শুয়ে থাকলে শিশুর ত্বকে ভেজা ভাব থেকে র‌্যাশ হয়। এ কারণে ঠান্ডা লেগে যায়। এ ছাড়াও মল–মূত্র দীর্ঘক্ষণ শরীরে লেগে থাকলে তা থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। রাতে শিশুকে প্রয়োজনে ডায়াপার বদলে দিন।

* শক্ত ডায়াপার পরালে অনেক সময় শিশুর পায়ে ও কোমরের আশপাশে দাগ হয়ে যেতে পারে। সেখানে চুলকাতে পারে। সে ক্ষেত্রে শিশু অস্বস্তি বোধ করবে বা বড় শিশু হলে চুলকে ক্ষত তৈরি করতে পারে।
* শিশুর ডায়াপার পরানোর জায়গায় পায়ে ও কোমরে যদি ফুসকুড়ি দেখতে পান, তাহলে কিছুদিন ডায়াপার ব্যবহার করা বন্ধ রাখুন।

* জীবাণু যাতে ছড়াতে না পারে, সে জন্য শিশুর ডায়াপার বদলানোর পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

* র‌্যাশ হলে বা প্রস্রাবে ইনফেকশনের মতো মনে হলে ডায়াপার ব্যবহার কয়েক দিন বন্ধ রাখতে হবে।

* ডায়াপার বেশি আঁটসাঁট করে পরানো যাবে না। অন্তত ৬ ঘণ্টা পরপর পরিবর্তন করে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিতে হবে।

* প্রতিবার পায়খানার পর সঙ্গে সঙ্গেই পরিবর্তন করতে হবে।

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য পরামর্শ

শিশুদেরও ডায়াবেটিস হয়

বড়দের পাশাপাশি শিশুদেরও ডায়াবেটিস হয়। মূলত এটা টাইপ-১ ডায়াবেটিস। দিন দিন এর প্রকোপ বাড়ছে। তবে সময়মতো রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে শিশুটি সুস্থ থাকে।

ইন্টারন্যাশনাল ডায়াবেটিক ফাউন্ডেশনের তথ্য মতে, বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এর মধ্যে ১৭ হাজারের বেশি শিশু টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিসে ভুগছে।

টাইপ-১ ডায়াবেটিস কী?
আমাদের শরীরে ইনসুলিন তৈরি হয় প্যানক্রিয়াসের বিটা সেল থেকে। যদি কোনো কারণে এই বিটা সেল থেকে ইনসুলিন উৎপাদন না হয় অথবা ব্যাহত হয়, তখন রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এতে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হতে পারে। একে জুভেনাইল ডায়াবেটিস বা ইনসুলিননির্ভর ডায়াবেটিসও বলা হয়। এই মারাত্মক ঘাটতির ফলে রক্তপ্রবাহ থেকে গ্লুকোজ সব দেহকোষে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ইনসুলিন দিয়ে ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে শিশুটি মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তবে সঠিক সময়ে রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে শিশুটি সুস্থ থাকে।

যাদের হয়
যেকোনো বয়সী শিশু টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হতে পারে। এমনকি খুব ছোট শিশুদেরও এই রোগ হয়। তবে কিশোর বয়সে যাদের ওজন অনেক বেশি, তাদের টাইপ-২ হওয়ার ঝুঁকি বেশি।

কারণ
ঠিক কী কারণে টাইপ-১ ডায়াবেটিস হয়, সে সম্পর্কে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে রিস্ক ফ্যাক্টরগুলো হলো—

❏ পরিবারের রোগের ইতিহাস থাকলে অর্থাৎ বংশগত (চার-সাত বছর এবং ১০-১৪ বছর বয়সীদের)। তবে এর ব্যতিক্রমও আছে।

❏ পরিবেশগত কিছু উপাদানের সংমিশ্রণ।

❏ মাম্পস, রুবেলা, ককজেকি ধরনের ভাইরাসের কারণে অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন উৎপাদনকারী সেল নষ্ট হলে।

❏ জন্মের প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধ পান না করালে।

উপসর্গ
টাইপ-১ ডায়াবেটিসের লক্ষণগুলো অনেকটা হঠাৎ করেই আসে। এর কিছু লক্ষণ হলো—

❏ অস্বাভাবিক তৃষ্ণা পাওয়া বা বেশি বেশি পানি পান করা।

❏ বারবার প্রস্রাব করা।

❏ তীব্র ক্ষুধা অনুভব করা। রাতে ঘুম ভেঙে পানি বা খাবার খাওয়া।

❏ কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত ওজন কমে যাওয়া।

❏ অবসাদ, ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা। অল্পতে হাঁপিয়ে পড়া, কাজে উৎসাহ কম থাকা।

❏ ক্ষত হলে বা কাটাছেঁড়া থাকলে শুকাতে বেশি সময় লাগা। যেকোনো রোগজীবাণু তাদের বেশি আক্রান্ত করতে পারে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পরও ইনফেকশন নিয়ন্ত্রণে না আসা।

❏ বিরক্ত বা অস্বাভাবিক আচরণ, মানসিক অবস্থার পরিবর্তন।

❏ দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা।

ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস
ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য কিটোএসিডোসিস একটি জরুরি অবস্থা, যা হঠাৎ ঘটে থাকে এবং সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রোগী জ্ঞান হারিয়ে ফেলতে বা শকেও চলে যেতে পারে। রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ অনেক বেড়ে গিয়ে (হাইপারগ্লাইসেমিয়া) চর্বি ভেঙে রক্তে কিটোন নামের অম্ল তৈরি হতে থাকে এবং ক্রমে এই কিটোন দেহে জমে রক্তের অম্লত্ব অস্বাভাবিক বেড়ে বাইকার্বোনেট কমে যাওয়ার মতো (মেটাবলিক এসিডোসিস) মারাত্মক বিপর্যয় ঘটে।

কেউ যদি কয়েক দিন ইনসুলিন না নেয়, না বুঝে ইনসুলিনের ডোজ বেশি কমিয়ে দেয়, জ্বর বা সংক্রমণের কারণে রক্তে শর্করা যদি বেড়ে যায়, তবে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়। তাই  টাইপ-১ ডায়াবেটিক রোগীদের এক দিনও ইনসুলিন বন্ধ করা উচিত নয়।

জটিলতা
দীর্ঘদিন ধরে টাইপ-১ ডায়াবেটিসে শিশুরা আক্রান্ত থাকলে এবং এর মাত্রা বেশি হলে দেহের প্রধান অঙ্গগুলো, বিশেষ করে স্নায়ু, চোখ ও কিডনির ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব বিস্তার করে। যেমন—

রেটিনোপ্যাথি : চোখের রেটিনার রক্তনালিগুলো নষ্ট করে ফেলে। এ ছাড়া চোখে ছানি পড়তে পারে। এমনকি অন্ধও হয়ে যেতে পারে।

নেফ্রোপ্যাথি : এটি হলো ডায়াবেটিসজনিত কিডনি রোগ, যাতে কিডনি আক্রান্ত হয়। দীর্ঘস্থায়ী কিডনি বিকল হতে পারে। তাই রোগীদের শর্করা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখাটা খুব জরুরি।

নিউরোপ্যাথি : রক্তে মাত্রাতিরিক্ত গ্লুকোজ কৈশিক নালিকার দেয়ালে ক্ষত সৃষ্টি করে, যেগুলো স্নায়ুর দেখাশোনা করে, বিশেষ করে পায়ের স্নায়ুগুলোর। ফলে পায়ের পাতা থেকে শুরু হয়ে ধীরে ধীরে দেহের ওপরের দিকে অসাড়তা, জ্বলুনি বা ব্যথা অনুভূত হয়। একপর্যায়ে অনুভবক্ষমতা হারিয়ে শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়ে যেতে পারে।

ডায়াবেটিক ফুট : ডায়াবেটিক রোগীদের পায়ের রোগ ডায়াবেটিক ফুট বা ডায়াবেটিক পা। এতে পায়ে ইনফেকশন বা ক্ষত হয়। ফলে শিশুটি হাঁটতে পারে না, জটিলতা বাড়ে। অনেক ক্ষেত্রে পা কেটেও ফেলতে হয়।

হরমোনাল সমস্যা : টাইপ-১ ডায়াবেটিসের সঙ্গে থাইরয়েড হরমোন বা অন্যান্য এন্ডোনাল গ্রান্ড আক্রান্ত হতে পারে।

এ ছাড়াও টাইপ-১ ডায়াবেটিসের কারণে আরো কিছু অঙ্গের মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। তবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে জটিলতাগুলো অনেকটাই কমে যায়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা
ব্ল্যাড সুগার টেস্ট : এই পরীক্ষাটা করালে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কত তা জানা যায় বা ডায়াবেটিস আছে কি না তা জানা যায়।

এইচবিএওয়ানসি : এই পরীক্ষায় গত তিন মাসের গড় সুগারের মাত্রা পাওয়া যায়।

অন্যান্য পরীক্ষা : এ ছাড়া কিছু ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, যেমন চোখের পরীক্ষা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, সিরাম ইলেকট্রোলাইটস, ইউরিন ফর মাইক্রো অ্যালবুমিন, ইউরিন আরএমই ইত্যাদি।

চিকিৎসা ও করণীয়
❏ টাইপ-১ ডায়াবেটিসের প্রধান চিকিৎসা ইনসুলিন যার কোন বিকল্প নেই। ইনসুলিন না নিলে বরং জীবন বিপন্ন হবে।

❏ আক্রান্ত শিশুদের প্রতিদিন এক ঘণ্টা করে শারীরিক ব্যায়াম করাতে হবে।

❏ পুষ্টিবিদদের পরামর্শে সঠিক খাদ্যতালিকা তৈরি করে হেলদি ডায়েট দিতে হবে। রিফাইন সুগার বা সরাসরি চিনিজাতীয় খাবার বর্জন করা উচিত।

❏ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে এবং নিয়মিত ফলো আপে থাকতে হবে।

প্রতিরোধে যা করবেন

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস
অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বিশেষ করে ফাস্ট ফুড ও চর্বিজাতীয় খাবার পিত্জা, বার্গার, কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চকোলেট ইত্যাদি খাবার বর্জন করতে হবে। খাদ্যতালিকায় তাজা ফল ও শাকসবজি রাখতে হবে।

খেলাধুলা ও ব্যায়াম
শিশুরা যাতে মুটিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। খোলা মাঠে প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টার মতো খেলাধুলা করা বা ব্যায়াম করার অভ্যাস করতে হবে। বেশিক্ষণ টিভি না দেখা, মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে দুই ঘণ্টার বেশি থাকা বা অবস্থান করা ঠিক নয়। বসে বসে ভিডিও দেখা বা কম্পিউটার গেমস খেলার অভ্যাস বন্ধ করাসহ জোরে হাঁটা বা জগিং, সাঁতার কাটা, সাইক্লিংয়ের মতো ব্যায়াম বেছে নিতে হবে। শিশুরা যাতে স্বাভাবিক শারীরিক ওজনের হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

মায়ের দুধ ও টিকা
জন্মের পর ছয় মাস পর্যন্ত শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানো নিশ্চিত করতে হবে। যথাসময় মামস্, রুবেলা ইত্যাদি ভাইরাসের টিকাগুলো দিতে হবে।

Categories
মা ও শিশু স্বাস্থ্য

আপনার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ান

আগামী শনিবার ১৯/০১/২০১৯ তারিখে সারা দেশে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন পালিত হবে।

ঐ দিন সকাল ৮.০০ টা থেকে বিকাল ৪.০০ টা পর্যন্ত আপনার নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে ফ্রি প্রতি বছরে ভিটামিন A ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। সকল ৬মাস(৫মাস ৩০ দিন পুর্ন) থেকে ৫৯মাস(৪.৫বছর) বাচ্চাদের প্রতি বছর এটা খাওয়াতে হবে।

  •  ০৬ মাস – ১১ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি নীল রংয়ের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
  •  ১২ মাস – ৫৯ মাস বয়সী সকল শিশুকে একটি লাল রংয়ের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বিঃদ্রঃ শিশু অসুস্থ থাকলে ক্যাপসুল খাওয়াবেন না। সেক্ষেত্রে ক্যাপসুল সংগ্রহ করে রাখুন শিশু সুস্থ হওয়ার পর সঠিকভাবে খেতে দিন।