Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

করোনা ভাইরাস কী? লক্ষণ ও প্রতিরোধে আমাদের করণীয়!

করোনাভাইরাস, যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯, সেই রোগটিকে এখন বিশ্ব মহামারি ঘোষণা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

এই ভাইরাস- যা পূর্বে বিজ্ঞানীদের অজানা ছিল- এর মধ্যেই চীনে অনেক মানুষের ফুসফুসের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করেছে এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে এরই মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

ভাইরাসটা কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা এর আগে কখনো মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি।

সারাবিশ্বে এরই মধ্যে ১৫০টির বেশি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস, বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে ৭ হাজারের বেশি মানুষের।

ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯ – এনসিওভি বা নভেল করোনাভাইরাস। এটি এক ধরণের করোনাভাইরাস। করোনাভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে মাত্র ছয়টি প্রজাতি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে। তবে নতুন ধরণের ভাইরাসের কারণে সেই সংখ্যা এখন থেকে হবে সাতটি।

২০০২ সাল থেকে চীনে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া সার্স (পুরো নাম সিভিয়ার এ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম) নামে যে ভাইরাসের সংক্রমণে পৃথিবীতে ৭৭৪জনের মৃত্যু হয়েছিল আর ৮০৯৮জন সংক্রমিত হয়েছিল। সেটিও ছিল এক ধরণের করোনাভাইরাস।

নতুন এই রোগটিকে প্রথমদিকে নানা নামে ডাকা হচ্ছিল, যেমন: ‘চায়না ভাইরাস’, ‘করোনাভাইরাস’, ‘২০১৯ এনকভ’, ‘নতুন ভাইরাস’, ‘রহস্য ভাইরাস’ ইত্যাদি।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রোগটির আনুষ্ঠানিক নাম দেয় কোভিড-১৯ যা ‘করোনাভাইরাস ডিজিজ ২০১৯’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ।

রোগের লক্ষ্মণ কী:

জ্বর, কাশি, গলা ব্যথা, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ দেখা দেয়, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচদিন সময় নেয়।

প্রতিরোধে করণীয়!


করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুকি রোধে নিম্নের নিয়মাবলী কঠোর ভাবে পালন করার জন্য অনুরোধ করছি ঃ১। বাসা বা অফিসে প্রবেশের সময় সবাইকে বাধ্যতা মুলক ভাবে হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে দু হাত ভালোভাবে পরিস্কার করতে হবে।


২। হাঁচি কাশির সময় টিস্যু বা রুমাল ব্যাবহার করতে হবে এবং ব্যাবহ্রিত টিস্যু ঢাকনা যুক্ত ডাস্টবিনে ফেলতে হবে এবং দু হাত সাবান পানি বা হ্যান্ড সেনিটাইজার দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে।


৩। যেখানে সেখানে থুতু বা কফ ফেলা যাবেনা এবং অপরিস্কার হাত দিয়ে নাক, মুখ ও চোখ স্পর্শ করা যাবেনা।


৪। ঘন ঘন দুই হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে পরিস্কার করতে হবে। এছাড়া হাঁচি কাশির পর, টয়লেট করার পর, খাবার খাওয়া ও প্রস্তুত করার আগে ও পরে, পশু পাখির সংস্পর্শে আসার পর এবং হাত অপরিস্কার হলে হাত সাবান পানি দিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে ধুতে হবে।


৫। হাঁচি, কাশি হলে কিম্বা জনবহুল স্থান হলে মাস্ক পরিধান করতে হবে। মাস্কটি এমন ভাবে পরুন যেনো তা নাক, মুখ ভালো ভাবে ঢেকে থাকে।


৬। মাস্কটি ব্যাবহারের সময় হাত দিয়ে ধরা থেকে বিরত থাকুন, খোলার সময় পিছন দিক দিয়ে মাস্ক খুলুন। একবার ব্যাবহারের পর মাস্কটি সাবান পানি দিয়ে ধুয়ে আবার ব্যাবহার করুন।


৭। যথাসম্ভব কারো সাথে হাত মেলানো/ হ্যান্ড সেক বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকতে হবে।


৮। হাঁচি, কাশি বা জ্বরে আক্রান্ত বাক্তি হতে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।


৯। যারা খাবার তৈরি বা সারভ করবে তারা খাবার তৈরির আগে ও পরে অবশ্যই দু হাত ভালো করে সাবান পানি দিয়ে পরিস্কার করবে।


১০। মাছ, মাংস ও ডিম ভালো করে ধুয়ে, ভালো ভাবে রান্না করে খেতে হবে এবং অসুস্থ পশু পাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

করোনা হটলাইন নাম্বারঃ
HOTLINE
333

10655

16263+8801944333222
+8801937000011
+8801937110011

করোনা ভাইরাস COVID-19 এ আক্রান্ত বা সন্দেহ নিয়ে মৃত ব্যাক্তির দাফন কাফনে
সরকার অনুমোদিত আল-মারকাজুল ইসলামী সংস্থার একদল নির্ভীক কর্মী দেশব্যাপী সেবা প্রদানের জন্য মাঠে আছেন।
প্রয়োজনে ফোন করুনঃ ০১৩১৬১১১৬৮৮
০১৮১৮৭৩২৯০৫

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

মাইগ্রেন এর সমস্যা ও সমাধান

কেন মাইগ্রেন হয় :

মাথার ভেতরের রক্ত চলাচলের তারতম্যের কারণে মাইগ্রেন হয়। রক্ত চলাচল কমে গেলে হঠাৎ করে চোখে সব অন্ধকার দেখা যায় এবং পরে রক্ত চলাচল হঠাৎ বেড়ে গিয়ে প্রচণ্ড মাথাব্যথার অনুভূতি তৈরি হয়। চকলেট, পনির, কফি ইত্যাদি বেশি খাওয়া, জন্মবিরতিকরণ ওষুধ, দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ভ্রমণ, ব্যায়াম ইত্যাদির কারণে এ রোগ হতে পারে।

সাধারণ মাইগ্রেনের লক্ষণ :

মাথাব্যথা, বমি ভাব এ রোগের প্রধান লক্ষণ। তবে অতিরিক্ত হাই তোলা, কোনো কাজে মনোযোগ নষ্ট হওয়া, বিরক্তি বোধ করা ইত্যাদি উপসর্গ মাথাব্যথা শুরুর আগেও হতে পারে। মাথার যে কোনো অংশ থেকে এ ব্যথা শুরু হয়। পরে পুরো মাথায় ছড়িয়ে পড়ে। চোখের পেছনে ব্যথার অনুভূতি তৈরি হতে পারে। চোখের ওপর হালকা চাপ দিলে আরাম লাগে। মাথার দুই পাশে কানের ওপর চাপ দিলে এবং মাথার চুল টানলেও ভালো লাগে। তখন শব্দ ও আলো ভালো লাগে না। কখনও কখনও অতিরিক্ত শব্দ ও আলোয় মাথাব্যথা বেড়ে যায়।

ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের লক্ষণ :

এতে দৃষ্টি সমস্যা, যেমন- চোখে উজ্জ্বল আলোর অনুভূতি, হঠাৎ অন্ধকার হয়ে যাওয়া, দৃষ্টিসীমানা সরু হয়ে আসা অথবা যে কোনো একপাশ অদৃশ্য হয়ে যাওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হতে পারে। ২০ মিনিট স্থায়ী এসব উপসর্গের পর বমির ভাব এবং মাথাব্যথা শুরু হয়, যা সাধারণত এক পাশে হয়। দৃষ্টির সমস্যা এক ঘণ্টার বেশি স্থায়ী হলে ধরে নিতে হবে এটি মাইগ্রেন নয়। মস্তিষ্ক অথবা চোখে অন্য কোনো সমস্যার কারণে দৃষ্টির এ সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। মাথাব্যথা ছাড়া শুধু দৃষ্টির সমস্যাও ক্লাসিক্যাল মাইগ্রেনের লক্ষণ হতে পারে।

যা করতে হবে :

মাইগ্রেন থাকলে প্রতিদিন অন্তত আট ঘণ্টা ঘুম দরকার। যেসব খাবার খেলে ব্যথা শুরু হতে পারে, যেমন-কফি, চকলেট, পনির, আইসক্রিম, মদ ইত্যাদি একদম বাদ দিতে হবে। বেশি সময় না খেয়ে থাকা যাবে না। জন্মবিরতিকরণ ওষুধ যারা খায়, তাদের সেটা সেবন না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে অন্য পদ্ধতি বেছে নেয়া যেতে পারে। পরিশ্রম, মানসিক চাপ ও দীর্ঘ ভ্রমণ বর্জনের মাধ্যমে মাইগ্রেন অনেকাংশে কমিয়ে আনা যায়।

চিকিৎসা :

বারবার মাইগ্রেনের আক্রমণ কমানোর জন্য পিজোটিফেন, অ্যামিট্টিপটাইলিন, বিটাব্লকার-জাতীয় ওষুধ কার্যকর। মাথাব্যথা শুরু হলে প্যারাসিটামল, এসপিরিন, ডাইক্লোফেনাক-জাতীয় ওষুধ ভালো। বমির ভাব কমানোর জন্য মেটোক্লোর প্রোমাইড, ডমপেরিডন-জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব ওষুধে মাথাব্যথা না কমলে সুমাট্টিপটান, আরগোটামাইন-জাতীয় ওষুধে অনেক সময় যথেষ্ট স্বস্তি পাওয়া যায়। সবচেয়ে বড় কথা, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই বারবার এ রোগের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, সব মাথাব্যথাই মাইগ্রেন নয়, দৃষ্টিস্বল্পতা, মস্তিষ্কের টিউমার, মাথায় রক্তক্ষরণ প্রভৃতি কারণেও মাথাব্যথা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে চক্ষুবিশেষজ্ঞের পাশাপাশি স্মায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

এপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ

এপেন্ডিসাইটিস (Appendicitis) বলতে সাধারনভাবে এ্যাপেন্ডিক্সের প্রদাহ বোঝায়। অ্যাপেনন্ডিক্স হচ্ছে ২ থেকে ২০ সে.মি. দৈর্ঘের নলাকার একটি অঙ্গ। এটি বৃহদন্ত্রের সাথে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে। যদি কোনো কারণে অ্যাপেনন্ডিক্সের মধ্যে ইনফেকশন হয়, তখন এটি ফুলে যায় এবং প্রদাহ হয়। একেই অ্যাপেনডিসাইটিস বলে। দ্রুত এর চিকিৎসা না করা হলে মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকায় অ্যাপেন্ডিসাইটিসকে অত্যন্ত জরুরী অবস্থা হিসাবে বিবেচনা করা হয় এবং অপারেশনের মাধ্যমে দ্রুত এ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়।

এপেনন্ডিক্স কোন কারনে ফেটে গেলে জীবাণু সমগ্র পেটে ছড়িয়ে পড়ে। এ অবস্থা পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থা। এরকম হলে রোগীর মৃত্যুঝুকি থাকে। আবার কম তীব্রতার এ্যাপেন্ডিসাইটিস আছে যেটা এ্যাপেন্ডিসাইটিস রাম্বলিং হিসাবে পরিচিত। তলপেটে হঠাৎ করে ব্যথা উঠলেই সেটা অ্যাপেনডিসাইটিসের ব্যথা নাও হতে পারে। এরকম ক্ষেত্রে, চিকিৎসকের পরামর্শ মত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে পেটের ব্যথা থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

এপেন্ডিসাইটিসের কারণ

এ্যাপেন্ডিক্সের ভেতরে প্রতিবন্ধকতার ফলে ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি হয়ে এ্যাপেন্ডিক্স ফুলে ওঠে এবং এতে পুঁজ জমতে শুরু করে। দ্রুত চিকিৎসা করা না হলে এই এ্যাপেন্ডিক্স ফেটে রোগীর জীবননাশের সম্ভাবনা আছে।

কাদের এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে

  • এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্তের কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। যেকোনও বয়সেই এ্যাপেন্ডিসাইটিস হতে পারে। তবে ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে যাদের বয়স, তাদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • অনেক ক্ষেত্রে এ্যাপেন্ডিসাইটিস জন্ম বা বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। পরিবারে পূর্বে কারো এই রোগটি হয়ে থাকলে তবে শিশুদের এই রোগটি হতে পারে।
  • এ্যাপেন্ডিসাইটিস সারা বছরই হতে পারে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শীতকালে অর্থাৎ অক্টোবর থেকে মে মাসের মধ্যেই হয়ে থাকে।
  • পুরুষদের এই রোগ হওয়ার সম্ভাবনা মহিলাদের তূলনায় কিছুটা বেশি।
  • ফাইবার জাতীয় খাবার কম খেলে এবং রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট সমৃদ্ধ বেশি খেলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • ছেলে শিশুর ক্ষেত্রে, সিস্টিক ফাইব্রোসিসে ভুগছে এরকম শিশুদের এ্যাপেন্ডিসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
  • Gastrointestinal infections যেমন Amebiasis, Bacterial Gastroenteritis, Mumps, Coxsackievirus B এবং Adenovirus এর ইনফেকশনের ফলে এ্যাপেন্ডিসাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

অ্যাপেন্ডিসাইটিস এর লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ

অ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে নিম্নলিখিত লক্ষণ বা উপসর্গসমূহ দেখা যেতে পারেঃ

  • পেটে একটানা ব্যথা হতে পারে। ব্যথা নাভির চারদিকে থেকে শুরু হয় এবং ক্রমশ বাড়তে বাড়তে কিছুক্ষণের মধ্যেই নাভির নিচের অংশে ডানদিকে সরে যায়।
  • ক্ষুধামন্দা অর্থাৎ খিদে কমে যেতে পারে।
  • কাশি হতে পারে।
  • কোষ্ঠকাঠিণ্য হতে পারে।
  • জ্বর হতে পারে।
  • পেটফাঁপা
  • ডায়রিয়া
  • ঠাণ্ডায় কাঁপুনি
  • শরীরে সাইড পেইন হতে পারে।

এপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগী দেখে এবং তার অভিজ্ঞতা থেকে অনেক সময় কোন পরীক্ষা না করিয়েও রোগীর এপেন্ডিসাইটিস হয়েছে কিনা তা কিছুটা নিশ্চিত করতে পারেন। যেমন- যদি রোগীর কাশতে গেলে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়। আবার যদি তলপেটের বামদিকে চাপ দিলে ডানদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয় অথবা তলপেটের ডানদিকে চাপ দিলে বামদিকের তলপেটে তীব্র ব্যথা অনুভুত হয়, তাহলে সেটা এপেন্ডিসাইটিসের ব্যথা হতে পারে। আবার পেটের ডান দিকের নিচের অংশে নানান কারনে ব্যথা হতে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে। তাই, অপারেশনের পূর্বে চিকিৎসককে নানান বিষয় যাচাই করে নিশ্চিত হতে হবে যে এটা এ্যাপেন্ডিক্সের ব্যথা কিনা। আলট্রাসনোগ্রাম বা রক্ত পরীক্ষা অ্যাপেনডিসাইটিস নির্ণয়ে সহায়ক হতে পারে।

চিকিৎসা

এপেন্ডিসাইটিস হলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন- সময় মত অপারেশন না করলে অ্যাপেনন্ডিক্স ছিদ্র হয়ে ইনফেকশন পুরো পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং এতে রোগীর মৃত্যুর আশংকা আছে। যেহেতু এপেনডিসাইটিসের সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন, তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অপারেশনের ব্যবস্থা করতে হবে। অনেক্ষেত্রে প্রয়োজন মনে করলে চিকিৎসকেরা এই রোগে আক্রান্ত রোগীকে Ampicillin, hemihydrate, cefepime hydrochloride, metronidazole, ciprofloxacin, gentamicin, levofloxacin, moxifloxacin, morphine sulphate ইত্যাদি ঔষধ গ্রহনের পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

অপারেশন পরবর্তী সতর্কতা

  • ল্যাপ্রোস্কোপির মাধ্যমে অপারেশন করা হলে, কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপরদিকে যদি ওপেন এপেনডেকটোমি করা হয়, তাহলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১৪ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। অপারেশন পরবর্তী সম্পূর্ণ সুস্থ্য হতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
  • ঘুম বোধ হলে বা ক্লান্ত লাগলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। কাশি, হাসি অথবা নড়াচড়া করার পূর্বে তলপেটের উপর একটি বালিশ রেখে চাপ প্রয়োগ করতে হবে। এটি ব্যথা কমাতে সাহায্য করবে। পেইনকিলার খাওয়া সত্ত্বেও ব্যাথা না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
  • অপারেশন পরবর্তী ঝুকি কমাতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিশ্রাম করতে হবে। শিশুরা অপারেশনের এক সপ্তাহ পরে স্কুলে যাওয়া শুরু করতে পারবে তবে শ্রমসাধ্য কাজ যেমন জিম বা খেলাধুলা পুনরায় শুরু করার পূর্বে কমপক্ষে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ সময় নেয়া উচিত। নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে হলে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরে যেতে হবে।

সবশেষে

এপেন্ডিসাইটিস আছে এমনটা সন্দেহ হলে দেরি না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কারন সঠিক সময়ে চিকিৎসা করা না হলে এ্যাপেন্ডিক্স ফেটে যেতে পারে এবং জীবাণু পেটে ছড়িয়ে যেতে পারে। এটা পেরিটোনাইটিস নামে পরিচিত। এ্যাপেন্ডিসাইটিস হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ব্যথানাশক ঔষধ, এ্যান্টাসিডস বা গরম প্যাড ব্যবহার করা যাবে না, এতে এপেন্ডিক্স ফেটে মারাত্মক বিপদ হতে পারে।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

পানি শূন্যতায় শরীরে যা ঘটে

ডিএমপি নিউজঃ  শরীরে পানিশূন্যতা বা পানির স্বল্পতাকে ডাক্তারি পরিভাষায় বলে ডিহাইড্রেশন। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শরীর থেকে প্রতিদিন মূত্র, ঘাম, বাম্পীভবন, মলত্যাগ ইত্যাদির মাধ্যমে পানি বের হয়ে যায়। এছাড়াও গরমের দিন অতিরিক্ত ঘাম এর ফলে অথবা ডায়রিয়া জনিত রোগ এর কারণেও শরীরে পানিস্বল্পতা দেখা দেয়।

পানিশূন্যতার কারণে সৃষ্ট সমস্যাগুলোঃ

পানি শূন্যতা যে কোন সময়ে হতে পারে তবে গ্রীষ্মকালে এর প্রকোপ বেড়ে যায় কারণ দেহে অন্য সময়ের তুলনায় বেশী পানির প্রয়োজন হয়। পানিশূন্যতার কারণে যে যে সকল সমস্যা দেখা যায়-

  • এজমা বা এলার্জি
  • ক্লান্তি বা অবসাদ
  • উচ্চ রক্তচাপ
  • কোলেস্টেরল
  • ত্বকের সমস্যা
  • কিডনির সমস্যা
  • পরিপাকে সমস্যা
  • কোষ্ঠকাঠিন্য
  • সংযোগস্থলে ব্যথা
  • ওজন বৃদ্ধি
  • অকালে বার্ধক্য

পানি শূন্যতার লক্ষণ সমূহঃ

  • প্রচন্ড তৃষ্ণাবোধ
  • মুখ শুকিয়ে যাওয়া
  • শারীরিক দুর্বলতা
  • মাথা ঘোরানো
  • বুক ধড়ফড় করা
  • প্রস্রাব কম হওয়া
  • গাঢ় হলুদ প্রস্রাব
  • কোষ্ঠ কাঠিন্য
  • জ্ঞান হারানো

কিভাবে শরীরের পানি স্বল্পতা দূর করা যায়?

১) সঠিক পানীয় নির্বাচনঃ এই গরমে চা কফি না হলে যেন চলেই না। চা কফি খেতে পারেন তবে অবশ্যই পরিমাণে বেশি নয়। কারণ এইসব পানীয় এক ধরণের ডাইউরেটিক (Diuretic) যা প্রস্রাবের সাথে শরীর হতে পানির নির্গমন বাড়িয়ে দেয়। তাই চা-কফির বদলে স্ট্যু, স্যুপ,গরম দুধ হতে পারে ভালো বিকল্প। এছাড়াও ফলের রসও খেতে পারেন।

২) ফল খানঃ ফলে প্রচুর পানি আছে। তাই পানি সল্পতা রোধে ফল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখতে পারে। এই শীতে বাজারে নানা ধরণের ফল ও শাকসবজি পাওয়া যায়। সেগুলো প্রচুর পরিমাণে খেতে পারেন।৩) ব্যাগে পানি রাখুনঃ স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি বা কর্মক্ষেত্র; গন্তব্য যাই হোক,ব্যাগে পানির বোতল রাখুন। যাতে প্রয়োজনবোধে হাতের কাছেই পানি পেতে পারেন।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

রিউমাটিক ফিভার/বাত জ্বরের লক্ষণ

রিউমাটিক ফিভার/বাত জ্বরের লক্ষণ

বাতজ্বর (Rheumatic fever) একটি প্রদাহজনিত রোগ যা হার্ট, জয়েন্ট, চর্ম, মস্তিষ্ক কে আক্রান্ত করতে পারে। সাধারণত গলায় সংক্রমণের ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পরে এই রোগ শুরু হয়। বিটা-হিমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণে এই রোগ হয়। বাতজ্বর রোগীদের বয়স সাধারণত ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। আবার ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও এই রোগ হতে পারে। বাতরোগের অনেক উপসর্গ ও বাতজ্বরের অনেক উপসর্গের মধ্যে মিল থাকায় এই রোগের নাম রাখা হয়েছে বাতজ্বর। বাতজ্বরের সাধারন লক্ষণসমূহ হচ্ছে জ্বর, জয়েন্টে ব্যথা, ইরায়থেমা মারজিনেটাম ইত্যাদি। এ রোগে প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই হার্ট আক্রান্ত হয়। এই রোগে ব্যক্তির নিজের শরীরের টিস্যুর বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। আবার যাদের শরীরে এই রোগের জিন রয়েছে তারা অন্যদের তুলনায় খুব সহজেই এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। এছাড়াও পুষ্টিহীনতা, দারিদ্র্য ইত্যাদি কারনেও এ রোগ হয়।

বাতজ্বর নির্ণয়ের সময় কিছু জরুরি বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে

  • বাতজ্বর নির্ণয় করা সম্ভব হলে একটি শিশুকে দীর্ঘদিন অর্থাৎ বছরের পর বছর ধরে পেনিসিলিন ইনজেকশন বা বড়ি গ্রহন করতে হয়। তাই, এ রোগ আছে কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে চিকিৎসা শুরু করা উচিত।
  • বাতজ্বরে সাধারনত গলা, পিঠ, হাত ও পায়ের ছোট ছোট গিরা আক্রান্ত হয় না।
  • স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে টনসিল অথবা গলার প্রদাহ হলে রক্তে এএসও টাইটার বাড়ে। যেহেতু যেকোনো নিরীহ টনসিল সংক্রমণেই এ পরীক্ষার রিপোর্ট অস্বাভাবিক আসতে পারে, তাই রক্তে এএসও টাইটার বৃদ্ধি পেলেই এটি বাতজ্বরের কোনো নিশ্চিত ও একমাত্র প্রমাণ নয়। বাতজ্বরের অনেকগুলো সুস্পষ্ট লক্ষণ ও উপসর্গ রয়েছে, যেগুলোর সমন্বয়ে রোগটি নির্ণয় করতে হয়।
  • ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে হূৎপিণ্ডে প্রদাহ হয় না।

বাতজ্বর কেন হয়?

বাতজ্বরে সাধারনত বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাস নামক এক ধরনের জীবাণুর সংক্রমনের কারনে হয়। দারিদ্র্য, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, ঠাণ্ডা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে এবং অজ্ঞতাই এ রোগের প্রধান কারণ। এছাড়াও, যেসব শিশু দীর্ঘ দিন ধরে খোসপাঁচড়া ও টনসিলের রোগে আক্রান্ত, তাদেরও বাতজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি।

বাতজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গসমূহ

বাতজ্বরের মুখ্য ও গৌণ কিছু উপসর্গ আছে, যার সমন্বয়ে রোগ নির্ণয় করতে হয়। যদি দুটি মুখ্য উপসর্গ ও একটি গৌণ উপসর্গ মিলে অথবা একটি মুখ্য উপসর্গের সঙ্গে দুটি গৌণ উপসর্গ মিলে যায় এবং এর সঙ্গে স্ট্রেপটোকক্কাস ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ প্রমাণিত হয়, তবেই কেবল বাত জ্বর হয়েছে বলে নিশ্চিত হতে হবে।

মুখ্য উপসর্গ

চামড়ার নিচে ক্ষুদ্র ব্যথাহীণ পিন্ড অথবা ত্বকে লালচে দাগ, অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত ব্যথা ও ফুলে যাওয়া, একটি সন্ধি ভালো হয়ে গেলে এটি আবার অন্যটিকে আক্রমণ করে, স্নায়ুজটিলতায় পেশির অস্বাভাবিক চলন, হূৎপিণ্ডের প্রদাহ বা কার্ডাইটিস ইত্যাদি।

গৌণ উপসর্গ

জ্বর, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, রক্তে ইএসআর বা সিআরপি বৃদ্ধি, অল্পতে ক্লান্ত বা দুবর্ল বোধ করা, বুকে ব্যথা বা বুক ধড়ফড় করা, শ্বাসকষ্ট, ইসিজিতে বিশেষ পরিবর্তন ইত্যাদি।

কখন ডাক্তার দেখাবেন?

শিশুর গলায় ব্যথা হলে অথবা টনসিলের সমস্যা হলে এবং এর লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথেই শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে। উপযুক্ত চিকিৎসা গ্রহনের মাধ্যমে বাত জ্বর প্রতিরোধ করা যায়। কিছু কিছু লক্ষণ এবং উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে শিশুকে ডাক্তারের কাছে নিতে হবে, যেমন- গলায় ব্যথার সাথে গলায় ফোলা ভাব থাকলে, কোন কিছু খেতে সমস্যা হলে, ঠান্ডার কোন উপসর্গ ছাড়াই নাক দিয়ে পানি পড়লে, গিরা বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকলে, নাক দিয়ে রক্ত আসলে যা সাধারনত ৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ইত্যাদি।

কাদের বাতজ্বর হওয়ার ঝুঁকি বেশি?

  • পরিবারের অন্য কেউ বাতজ্বরে আক্রান্ত থাকলে।
  • ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, সুষ্ঠ পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাব, দারিদ্র, পুষ্টির অভাব ইত্যাদি নানান কারন রোগের জীবাণু বিস্তারে সহায়ক।

কি ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে?

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু শারীরিক পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাফী ইত্যাদি করতে হতে পারে।

চিকিৎসা

ব্যথা এবং রোগের অন্যান্য উপসর্গ ভালো না হওয়া পর্যন্ত রোগীকে প্রয়োজনে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে এবং আক্রান্ত জয়েন্ট নড়াচড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। ব্যথানাশক ঔষধ হিসেবে অ্যাসপিরিন খাওয়া যেতে পারে। প্রদাহ কমানোর জন্য অ্যাসপিরিনের পাশাপাশি কর্টিকোস্টেরয়েড যেমন- প্রেডনিসোলন ব্যবহার করা যেতে পারে। এর পাশাপাশি অ্যান্টিবায়োটিক যেমন- বেনজাথিন পেনিসিলিন, ফিনক্সিমিথাইল পেনিসিলিন, ইরাইথ্রোমাইসিন প্রভৃতি ব্যবহার করা যেতে পারে। যেকোনো ঔষধ সেবনের পূর্বে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহন করতে হবে।

প্রতিরোধ

শিশুর পরিমিত পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে। শিশুর শরীরের পুষ্টিমান সঠিক হলে গলায় জীবাণুর আক্রমণের পরেও বাত জ্বর হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে। অপরদিকে ছোটবেলায় দীর্ঘদিন ধরে অপুষ্টিতে আক্রান্ত, যেসব শিশুর রক্তে আমিষ ও লৌহের অভাব রয়েছে, তাদের বাতজ্বর হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই শিশুর সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।

বাতজ্বরের জীবাণু নাক, গলা ও ত্বকে বাস করে। অপরিষ্কার থাকলে, ঘরদোর পরিচ্ছন্ন-পরিচ্ছন্ন না রাখলে এ রোগের জীবাণু একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে। প্রতিদিন সাবান দিয়ে গোসল করলে, হাত ও নাক পরিষ্কার রাখলে, প্রতিদিন অন্তত একবার গড়গড়া করে গলা পরিষ্কার করলে এ রোগের জীবাণুর আক্রমন প্রতিরোধ করা সম্ভব হতে পারে। প্রথম থেকেই গলায় সংক্রমণের সঠিক চিকিৎসা গ্রহন করলে বাত জ্বর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। স্ট্রেপ্টোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া দ্বারা কণ্ঠ নালীর সংক্রমণ হলে, অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করে বাতজ্বর প্রতিরোধ করা যায়।

বাত জ্বর নিয়ে কিছু কথা

বাতজ্বর কোন ছোঁয়াচে রোগ নয়

বাতজ্বর ছোঁয়াচে রোগ নয়। বাতজ্বরের রোগীর সঙ্গে থাকলে, খেলে, ঘুমালে এমনকি ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশা করলেও বাত জ্বর হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। গর্ভাবস্থায় মা থেকে শিশুর দেহে সংক্রমণের কোন আশঙ্কা নেই। কিন্তু স্ট্রেপ গলদাহের সময় কাছাকাছি থাকলে অথবা বেশি কাছ কথা বললে অন্যের মধ্যে জীবাণুর সংক্রমন হতে পারে।

জ্বর ও গিরাব্যথা হলেই কিন্তু বাতজ্বর নয়

গিরা ফোলা অথবা ব্যথাসহ জ্বর আরও অনেক রোগে হতে পারে, তাই গিরাব্যথা হলেই বাতজ্বর হয়েছে বলে মনে করা যাবে না। বাত জ্বরের গিরা ফোলা বা ব্যথা কিন্তু সহজেই ভালো হয়ে যায়। তাই চিকিৎসা নেওয়া সত্ত্বেও কোনো রোগীর গিরাব্যথা ভালো না হলে, সেক্ষেত্রে বাতজ্বর না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

রক্তের এএসও টাইটার বেশি হলেই কিন্তু বাতজ্বর নয়

বাতজ্বর নির্ণয়ের জন্য রক্তের কোনো সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা নেই। তাই সাধারনত বাত জ্বর সন্দেহ হলেই চিকিৎসকেরা রক্তের অ্যান্টি-স্ট্রেপটোলাইসিন-ও বা এ এস ও পরীক্ষা করে থাকেন। এএসও বেশি হওয়ার অর্থই কিন্তু বাতজ্বর নয়। বাতজ্বর হলে অবশ্যই উপরোল্লিখিত মূখ্য ও গৌণ লক্ষণ বা উপসর্গগুলো থাকতে হবে। কোন লক্ষণ বা উপসর্গের উপস্থিতি না থাকলে বাতজ্বর হয়নি বলে ধরা হবে।

উপসর্গ ভালো হলেও ওষুধ খাওয়া চালিয়ে যেতে হবে

উপসর্গ ভালো হয়ে গেলেই বাত জ্বরের চিকিৎসা বন্ধ করা যাবে না। বাতজ্বর একবার হলে বারবার হতে পারে। তাই বাতজ্বরে আক্রান্ত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পেনিসিলিন ব্যবহার করতে হবে, যাতে পুনরায় বাতজ্বরে আক্তান্ত হতে না হয়।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

হাইপারটেনশনের লক্ষণ

যখন কোন ব্যাক্তির রক্তের চাপ সব সময়েই স্বাভাবিকের চেয়ে ঊর্ধ্বে থাকে তখন তাকে হাইপারটেনশন (Hypertension) বা উচ্চ রক্তচাপ বলে। এমন কোনও সুনির্দিষ্ট বিন্দু নেই যখন থেকে রক্তচাপকে উচ্চ বলে বিবেচনা করা হয়। হাইপারটেনশনকে সাধারনভাবে প্রাথমিক (আবশ্যিক) হাইপারটেনশন এবং গৌণ হাইপারটেনশন এ দুই শ্রেণীতে ভাগ করা হয়। শতকরা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ ভাগ হ্মেত্রেই প্রাথমিক হাইপারটেনশন হয়। উচ্চ রক্ত চাপের নির্দিষ্ট করে কোন কারণ এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

উচ্চ রক্তচাপ একটি নীরব ঘাতক। অনেকের ক্ষেত্রে এই রোগ খুব সহজে ধরা পড়ে না আবার ধরা পড়ার পর এর সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ না করলে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে না থাকলে তা অনেক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। পৃথিবীতে ২৫ বছরের উর্ধে জনসংখ্যার প্রায় শতকরা ৪০ ভাগ উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ১৭.৩ মিলিয়ন মানুষ উচ্চ রক্তচাপ অথবা উচ্চ রক্তচাপ সম্পর্কিত জটিলতায় মৃত্যু বরণ করেন।

সাধারনভাবে বলা হয়, যদি কোনও ব্যক্তির উভয় বাহুতে রক্তচাপ ১৪০/৯০ টর (টর চাপের একটি একক) অথবা এর উপরে থাকে, তাহলে সেটাকে উচ্চ রক্ত চাপ বলা যেতে পারে। আবার রক্তচাপ ১৩৯/৮৯ টর থেকে ১২০/৮০ টর হলে সেটাকে প্রিহাইপারটেনশন বলা হয়। প্রিহাইপারটেনশন কোন রোগ নয়, কিন্তু প্রিহাইপারটেনশন আছে এমন ব্যক্তির উচ্চড়ক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী থাকে। আবার, ডায়াবেটিস অথবা কিডনী রোগীদের ক্ষেত্রে, ১৩০/৮০ টরের অধিক রক্তচাপ হলেই সাবধান হতে হবে এবং বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে প্রয়োজনে চিকিৎসা শুরু করতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপের লক্ষণ

  • অস্বস্তি বোধ করা
  • নিয়মিত বা অতিরিক্ত মাথা ব্যথা
  • ঘাড়ে ব্যথা
  • চোখে ঝাপসা দেখা

উচ্চ রক্তচাপের কারণ

সাধারনভাবে নিম্নলিখিত কারনে উচ্চ রক্তচাপ হয়ে থাকেঃ

  • অতিরিক্ত কাজের চাপ
  • অতিরিক্ত মদ্যপান
  • উচ্চমাত্রার লবণের ব্যবহারের
  • মেদ
  • পরিবারের আকার বড় হওয়া
  • বেশী আওয়াজ
  • ঘিঞ্জি পরিবেশ
  • গর্ভধারণের কারণে

উচ্চমাত্রার লবণের ব্যবহারের কারনে প্রায় শতকরা ৬০ ভাগ রোগী এই রোগে আক্রান্ত হন। উত্তরাধিকার সূত্রে উচ্চ রক্তচাপ একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সাধারণত শতকরা ১০ ভাগ পর্যন্ত মহিলা গর্ভধারণের কারণে উচ্চ রক্তচাপের স্বীকার হন। বৃক্কের উচ্চড়ক্তচাপ সাধারণত বৃক্কজনিত অসুস্থতার কারণে ঘটে থাকে।

কিভাবে বুঝবেন আপনি হাইপারটেনশনে আক্রান্ত?

সাধারনভাবে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশী রক্তচাপ হলেই ধরে নেয়া হয় সে হাইপারটেনশনে আক্রান্ত। স্বাধারণত এক সপ্তাহের বিরতিতে কমপক্ষে তিনবার মাপতে হবে। সঠিক চাপ নির্ণয়ের জন্য কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে যেমন- দুশ্চিন্তামুক্ত অবস্থায় মাপতে হবে, কমপক্ষে পাঁচ মিনিট সময় বসা অবস্থায় থাকতে হবে, রক্তচাপ মাপার কমপক্ষে আধা ঘন্টা আগে থেকে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে, মাদক গ্রহণের কমপক্ষে একঘন্টা পরে মাপতে হবে।

উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা বা নিয়ন্ত্রনের উপায়

সাধারনভাবে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের রক্তচাপের জন্য চিকিৎসকেরা ওজন কমানো এবং নিয়মিত ব্যায়ামকেই চিকিৎসার প্রথম ধাপ হিসেবে বিবেচনা করেন। এই পদ্ধতিগুলি রক্তচাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসু, কিন্তু এগুলো সবাই ঠিকমতো মেনে চলতে পারেন না। বেশিরভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই, মাঝারী থেকে উচ্চ রক্তচাপে যারা ভূগছেন, তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঔষধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর রক্তচাপ কমাতে নিম্নমাত্রায় লবণ, ফল, শাক সব্জি, স্নেহ বিহীন দুগ্ধজাত খাদ্য ও তেল কম খাওয়া ইত্যাদি অনেকটা সাহায্য করে।

ধূমপান ছেড়ে দেয়া সরাসরি রক্তচাপ না কমালেও, উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর ফলে উচ্চ রক্তচাপের বেশকিছু উপসর্গ যেমন- স্ট্রোক অথবা হার্ট-এটাক নিয়ন্ত্রণে আসে। উচ্চরক্তচাপ মৃদু হলে সেটা সাধারণত খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, ব্যায়াম এবং শারিরীক সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা যায়।

এছাড়াও, পরিবেশগত চাপ যেমন উঁচু মাত্রার শব্দ, অতিরিক্ত আলো বা ঘিঞ্চি পরিবেশ ইত্যাদি পরিহার করলেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সেটা খুব উপকারী হতে পারে।

অকারন দুশ্চিন্তা রক্ত চাপ বাড়ায় তাই জীবনের যে সকল ঘটনাবলী মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা নিয়ে অহেতুক দুশ্চিন্তা না করে যার যার ধর্ম মতে প্রার্থনায় মনোনিবেশ করলেই দুশ্চিন্তা কমে আসবে।

যাদের উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের নিয়মিত রক্তচাপ মাপা এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক মাত্রার ঔষধ সেবন করা উচিত। অনেকে ঔষধ গ্রহনের পর রক্ত চাপ স্বাভাবিক হলেই হঠাৎ ঔষধ গ্রহণ বন্ধ করে দেয় যেটা কোনভাবেই উচিত নয়। এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি শতকরা ২০ থেকে ৪০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। উচ্চ রক্ত চাপের রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ঔষধ বন্ধ করা কিংবা ঔষধের মাত্রা বাড়ানো কমানো ইত্যাদি করা যাবে না। পরিমিত মাত্রার ঔষধ সেবনে উচ্চ রক্তচাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগী অনেক সময় জেনেও নিজের রোগ চেপে রাখেন, এটা কোনভাবেই উচিত নয়। কারন এতে রোগীর জীবনের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায় এবং বড় ধরণের কোন অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

যদিও উচ্চ রক্তচাপ আলাদাভাবে কোন অসুস্থতা নয়, কিন্তু এর চিকিৎসা করা খুবই জরুরি কারণ শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপর এর স্বল্প থেকে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষভাবে, স্ট্রোক, হার্ট-ফেইলিউর, চোখের ক্ষতি এবং বৃক্কের বিকলতা ইত্যাদি নানান রোগের ঝুঁকি অনেক বৃদ্ধি পায়.

চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হল রক্তচাপ স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসা অর্থাৎ, ১৪০/৯০ টরের নিচে কিন্তু, ডায়বেটিস বা কিডনীর রুগীদের ক্ষেত্রে তা ১৩০/৮০ টরের নিচে নিয়ে আসতে হবে। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের প্রতিটি ঔষধ আলাদাভাবে সিস্টোলিক চাপ ৫ থেকে ১০ টর পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে তাই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনে একাধিক ঔষধ ব্যবহার করতে হয়।

উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইল

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবশ্যই জীবনযাত্রা বা লাইফস্টাইলে কিছু পরিবর্তন করতে হবে। শুধুমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণই এর চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট নয়, ওষুধ গ্রহণের পাশাপাশি আরও কিছু বিষয় গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে। যেমনঃ

  • খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন
  • অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করতে হবে
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা
  • রাতে সঠিকভাবে এবং পর্যাপ্ত ঘুম
  • ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে
  • অতিরিক্ত মানসিক দুশ্চিন্তা না করা

ওপরের বিষয়গুলোর মধ্যে ডায়েটের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। সঠিক ডায়েট শুধু রক্তচাপকেই নিয়ন্ত্রণে রাখে না বরং রক্তচাপের মাধ্যমে যেসকল সমস্যা হতে পারে সেগুলো নিয়ন্ত্রনে রাখতেও সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণ ও সঠিক ওজন বজায় রাখার জন্য উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই খাদ্যের ক্যালরি যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ফ্যাট বা চর্বিজাতীয় খাদ্য, মিষ্টি, চিনি, অতিরিক্ত ভাত, আলু ইত্যাদি শর্করা জাতীয় খাবার কম খেতে হবে।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিডসমৃদ্ধ ফ্যাটজাতীয় একটি খাবার যা ব্লাড প্রেশার কমাতে অনেক সাহায্য করে। মাছ, জলপাইয়ের তেল, ফুলকপি, বাদাম ইত্যাদিতে ওমেগা-৩ পাওয়া যায়।

চর্বিজাতীয় খাদ্য যেমন- গরুর মাংস, খাসির মাংস, মগজ, কলিজা, বড় চিংড়ির মাথা, ডিমের কুসুম, বেকারির খাদ্য, ঘি, বাটার, ভাজাপোড়া খাবার ইত্যাদি।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য পটাশিয়ামযুক্ত খাবার খাওয়া অনেক জরুরি। ডাবের পানি, সবজি, কলা, টমেটো, গাঢ় সবুজ শসা, সালাদ ইত্যাদি পটাশিয়ামের ভালো উৎস, যা উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীর খাদ্যতালিকায় থাকলে তা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক সাহায্য করে।

সোডিয়াম নিয়ন্ত্রণের সাহায্যে উচ্চ রক্তচাপ খুব সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়। লবণ হলো সোডিয়ামের সবচেয়ে বড় উৎস। প্রতিদিনের রান্নায় সর্বোচ্চ ৪ থেকে ৫ গ্রাম (সর্বোচ্চ ১ চা চামচ) পর্যন্ত লবণের ব্যবহার করতে হবে। খাবারের সময় আলাদাভাবে লবণের ব্যবহার পরিত্যাগ করতে হবে। চানাচুর, আচার, চিপস, পাপড় ইত্যাদি খাবারে লবন থাকে, তাই এগুলো না খাওয়াই ভাল।

তাই এ রোগ নিয়ন্ত্রণে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি একটি বিষয়। সঠিক নিয়ম মেনে এবং সময়মতো পরিমিত খাবার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে খুবই জরুরি।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

অ্যাজমা বা হাঁপানির লক্ষণ ও প্রতিকার

অ্যাজমা বা হাঁপানি মূলত শ্বাসনালির প্রদাহজনিত একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ। এই প্রদাহের ফলস্বরূপ শ্বাসনালি ফুলে যায় এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে হাঁপানির বিভিন্ন উপসর্গ (যেমন— শ্বাস-কষ্ট, কাশি, বুকের মধ্যে শোঁ শোঁ শব্দ, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া ইত্যাদি) দেখা যায়। সঠিক সময়ে ও নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহনের মাধ্যমে এ উপসর্গগুলো সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

হাঁপানি কেন হয়? এবং হাঁপানি রোগের লক্ষণসমূহ

হাঁপানি রোগের কারণ এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি এবং এ রোগের জন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণকেও এককভাবে দায়ী করা যায় না। অনেক ক্ষেত্রে বংশগত বা পরিবেশগত কারণে এ রোগ হতে পারে। কারও নিকটাত্মীয় যদি এ রোগে আক্রান্ত থাকে অথবা কারও যদি বিভিন্ন দ্রব্যের প্রতি অতিমাত্রায় অ্যালার্জি থাকে, তাহলে তার এ রোগ হতে পারে। এ ছাড়াও শ্বাসনালি অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হলে এ রোগ হতে পারে।

অ্যাজমা বা হাঁপানি হওয়ার কোন নির্দিষ্ট বয়স নেই। এটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগও নয়। প্রদাহের ফলে শ্বাসনালির সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি পায়, ফলস্বরূপ ঘন ঘন কাশি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা হওয়া, শোঁ শোঁ আওয়াজ, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া বা নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সঠিকভাবে ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না নিলে অনেক সময় এ রোগে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

ধুলোবালির মধ্যে থাকা মাইট নামক একধরনের ক্ষুদ্র কীট, ফুলের পরাগরেণু, পাখির পালক, ছত্রাক, ইস্ট এবং সিগারেটের ধোঁয়ার মধ্যে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে থাকেন তাদের এ রোগ হতে পারে। ধূমপান শুধু শ্বাসকষ্টের অন্যতম কারণই নয়, বহুক্ষেত্রে এটা হাঁপানির তীব্রতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়, হাঁপানির ঔষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং কোন কোন ক্ষেত্রে ধূমপান ফুসফুসের কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ীভাবে কমিয়ে দেয়।

পেশাগত কারণেও কখনো কখনো এ রোগটি হতে পারে। কিছু উত্তেজক উপাদান (যেমন- শ্বাসনালির সংক্রমণ, অ্যালার্জি জাতীয় কোন বস্তুর সংস্পর্শ, ধুলা, বায়ুদূষণ, সিগারেটের ধোঁয়া ইত্যাদি) অনেক সময় অতি সংবেদনশীল রোগীর শ্বাসকষ্টের কারন হতে পারে।

কিছু ওষুধ, যেমন বিটা ব্লকার (উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য এ ওষুধটি ব্যাবহার করা হয়), এন এস এ আই ডি (ব্যথা নিরাময়ের জন্য ব্যাবহার করা হয়), এসপিরিন ইত্যাদি ওষুধের কারনেও হাঁপানি হতে পারে।

মানসিক চাপও অনেক ক্ষেত্রে হাঁপানির তীব্রতা বাড়াতে পারে।

কারও কারও গরুর মাংস, চিংড়ি মাছ, ইলিশ মাছ, হাঁসের ডিম, পুঁইশাক, বেগুন, মিষ্টিকুমড়া, ইত্যাদি খাবারের প্রতি সংবেদনশীলতা আছে, খেলে চুলকায় অথবা নাক দিয়ে পানি পড়ে। তবে সাধারনভাবে খাবারের মাধ্যমে যে অ্যালার্জি হয় তাতে খুব কম সংখ্যক মানুষেরই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। কারও কারও আবার নানান রকম সুগন্ধি, মশার কয়েল বা কীটনাশকের গন্ধের কারনেও শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি পেতে পারে।

রোগ নির্ণয়

অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো শ্বাসকষ্ট, কাশি, বুকে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়া, বুকে চাপ অনুভূত হওয়া এবং অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে যাওয়া। হাঁপানি বা অ্যাজমা নির্ণয়ের প্রথম ধাপে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার রোগীর মুখে রোগের বিস্তারিত ইতিহাস জেনে সিদ্ধান্ত নেবেন। সাধারণত এ উপসর্গগুলো রাতে বা সকাল সকাল বেশি অনুভূত হয় এবং শ্বাসনালীতে কোনো ধরনের অ্যালজেন প্রবাহ প্রবেশ করার ফলে অথবা অল্প-মাত্রায় পরিবর্তনের কারনে এ লক্ষণসমূহের তীব্রতা অনেক বেড়ে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বা কাশি শুরুর আগে নাক চুলকায়, নাক দিয়ে পানি পড়ে, হাঁচি হয়, চোখ লাল হয়ে যায়। ওপরের উপসর্গসমূহের সঙ্গে বংশে কারও হাঁপানিতে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে ধরে নেওয়া হয় যে তারও হাঁপানি রয়েছে।

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে বা প্রতিরোধে রোগীর ভূমিকা

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রোগীকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। রোগীকে অ্যাজমা বা হাঁপানি সম্পর্কে, রোগের প্রকৃতি, চিকিৎসা, ইনহেলারের কাজ, ইনহেলার কখন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন এই বিষয়ে ভালভাবে জানতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো রোগীকে সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যবহার করতে জানতে হবে।

কি ধরনের চিকিৎসা তার প্রয়োজন, তার হাঁপানির উপসর্গ কখন বৃদ্ধি পায়, কখন ইনহেলার ব্যবহার করতে হবে, রোগটি তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে না বাইরে চলে যাচ্ছে এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে সেই বিষয়ে রোগীর বিস্তারিত ধারনা থাকতে হবে।

হাঁপানি একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, তাই স্বাভাবিকভাবেই এ রোগের ওষুধও অনেক দিন ধরে ব্যবহার করতে হয়। হঠাৎ উপসর্গ কমে গেলে বা না থাকলেও কখনোই হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করা উচিত নয়। অবশ্যই মনে রাখতে হবে, অ্যাজমার চিকিৎসা প্রায় সব সময়েই দীর্ঘমেয়াদি হয়। অবশ্য এ কথার মানে এই নয় যে একজন হাঁপানি রোগীকে জীবনভর ওষুধ নিতে হবে। একজন অ্যাজমা রোগী নিয়মিত হাঁপানি প্রতিরোধক ওষুধ ব্যবহার করলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তিন থেকে পাঁচ বছর সময়ের মধ্যে ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে রোগীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

উপসর্গের তীব্রতা ও সময়ের সাথে সাথে ওষুধের মাত্রাও সাধারণত কমতে থাকে অর্থাৎ রোগের উপসর্গ কমার সাথে সাথে ধীরে ধীরে ওষুধের পরিমাণও কমিয়ে আনতে হয়। কখনোই হঠাৎ করে কমিয়ে ফেলা উচিত নয়।

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রোগীর  ভূমিকা সবসময়েই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীকে কিছু কিছু বিষয় সম্পর্কে খুব ভালভাবে জানতে হবে। যেমন- কখন ওষুধের পরিমাণ বাড়াতে হবে, কী কী উপসর্গ দেখলে রোগী চিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন ইত্যাদি। অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণের জন্য রোগীকে অবশ্যই ওষুধ দেওয়ার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। অর্থাৎ, সঠিকভাবে ইনহেলার ব্যাবহারের পদ্ধতি, সঠিকভাবে নেবুলাইজার ব্যবহার এবং সাথে সাথে এ যন্ত্রগুলো কীভাবে কাজ করে, সে সম্পর্কেও ভাল ধারনা থাকতে হবে।

নিয়মিতভাবে সঠিক ওষুধ ব্যবহারের পাশাপাশি হাঁপানির উত্তেজক দ্রব্য থেকেও নিজেকে রক্ষার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। প্রত্যেক রোগীর উত্তেজক দ্রব্য অথবা অ্যালার্জি ভিন্ন হবে সেটাই স্বাভাবিক। সেজন্য রোগীকে তার জন্য নির্দিষ্ট কোনো উত্তেজক আছে কি না সে বিষয়ে জানতে হবে এবং পরিহার করতে হবে। এ ছাড়াও  কিছু সাধারণ ব্যাপারে সবসময় সচেতন থাকতে হবে, যেমন—প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ধূমপান ও ধুলা থেকে সাবধান থাকতে হবে। বাসায় বড় কার্পেট ব্যাবহার না করা, বিশেষ করে শোয়ার ঘরে। বাসায় কোনো পোষা জীব, যেমন—পাখি, কুকুর, বিড়াল ইত্যাদি না রাখা। বাসায় কোনো ধরনের কীটনাশক স্প্রে ব্যবহার না করা, ভেকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার না করাই ভাল।

পূর্ব থেকে অ্যাজমা সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারনা থাকলে খুব সহজেই হঠাৎ অ্যাজমার আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায় এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হয় না।

হাঁপানি বা অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণে করনীয়

হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রোগীর ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একজন রোগী একটু সতর্ক হলে খুব সহজেই নিজের হাঁপানি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। একজন রোগীর তার রোগ, ওষুধপত্র, উত্তেজক দ্রব্য ও খাবার, ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, ইনহেলারের কাজ ও ব্যাবহার ইত্যাদি সম্পর্কে সঠিকভাবে ধারণা থাকলে খুব সহজেই হাঁপানির উপসর্গগুলো সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

চিকিৎসা

হাঁপানির চিকিৎসায় নানান ধরনের ওষুধ ব্যবহৃত হয়, যেমন—রোগ উপশমকারী ওষুধ, রোগ প্রতিরোধ বা বাধাপ্রদানকারী ওষুধ। এ ওষুধগুলো সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকার পাশাপাশি কীভাবে কাজ করে, সঠিক মাত্রা এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও ভাল ধারনা থাকতে হবে।

হাঁপানি সম্পূর্ণভাবে ভালো করার এখনো কোনো ওষুধ আবিষ্কার হয়নি। তবে সঠিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে এ রোগ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে জীবন যাপন করতে পারেন।

হাঁপানি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে তা মারাত্মক হতে পারে এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে কোন কোন উপসর্গে রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ সব রোগীর রোগের উপসর্গ কমা বা বাড়ার ব্যাপারে একই উত্তেজক দায়ী নয়। সঠিক চিকিৎসা ও হাঁপানির ওষুধ সঠিকভাবে ব্যবহার করলে সম্পূর্ণ সুস্থ্য ও স্বাভাবিক জীবন যাপন করা সম্ভব।

অ্যাজমা সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর

শ্বাসকষ্ট মানেই কি অ্যাজমা?

শ্বাসকষ্ট মানেই কিন্তু অ্যাজমা নয়। অ্যাজমা ছাড়াও আরও নানান কারণে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। যেমন- হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট হতে পারে, যাদের রক্তশূন্যতা আছে, তাদের হতে পারে এছাড়াও কিডনি রোগের ক্ষেত্রেও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।

সব খাবারে কি সবারই অ্যালার্জি হতে পারে?

ব্যক্তিভেদে বিশেষ খাবারে অ্যাজমা হতে পারে। যেমন- গরুর মাংস কারও কারও ক্ষেত্রে অ্যাজমার তীব্রতা বৃদ্ধি করলেও সবার ক্ষেত্রে একই রকমের সমস্যা হয় না। একইভাবে চিংড়ি মাছ কারও কারও ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করলেও আরেকজনের ক্ষেত্রে হয়তো কিছুই হয় না, আবার এমনও হতে পারে, গরুর মাংস অথবা চিংড়ি মাছ খেলে কিছুই হয় না কিন্তু বেগুন খেলেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। অর্থাৎ, ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন ভিন্ন খাবারের প্রতি অ্যালার্জি থাকতে পারে।

অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ কিনা?

অ্যাজমা ছোঁয়াচে রোগ নয়। বংশগতভাবে অর্থাৎ বংশে কারও অ্যাজমা থাকলে বংশধরদের ভেতর এই রোগ হতে পারে।

বুকের দুধ খেলে শিশুর অ্যাজমা হওয়ার আশঙ্কা আছে কিনা?

আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খেলে শিশুর অ্যাজমা হওয়ার কোন আশঙ্কা নেই এবং মায়ের সংস্পর্শেও অ্যাজমা হওয়ার কোন সম্ভবনা নেই।

অ্যাজমা বা হাঁপানি কি সম্পূর্ণভাবে নিরাময়যোগ্য?

অ্যাজমা সম্পূর্ণভাবে ভালো হয় না। তবে এখন অ্যাজমার অনেক আধুনিক চিকিৎসা আছে, অর্থাৎ সঠিকভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করলে একজন অ্যাজমা রোগী প্রায় সুস্থভাবে জীবন যাপন করতে পারবে।

ইনহেলার ব্যবহার কখন করবেন?

ইনহেলার দিয়েই প্রথমে চিকিৎসা শুরু হয়। কারন ইনহেলার দেওয়ার দু-তিন মিনিটের মধ্যেই শ্বাসকষ্ট আর থাকে না। যদিও অনেকের ধারনা সর্বশেষ ওষুধ হিসেবে ইনহেলার ব্যাবহার করা হয় অর্থাৎ ট্যাবলেট, সিরাপ অথবা ক্যাপসুল সবই যখন ব্যর্থ তখন অ্যাজমার চিকিৎসায় ইনহেলার ব্যাবহার করা হয় কিন্তু কথাটা মোটেও সত্য নয়।

সবশেষে

পৃথিবীতে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অ্যাজমা বা হাঁপানি রোগে আক্রান্ত। এর মধ্যে কিছু সংখ্যক মানুষের ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে অ্যাজমার চিকিৎসা করা যাচ্ছে কিন্তু সম্প্রতি একটি গবেষণা প্রতিবেদনে প্রকাশ হয়েছে যে, এমন কিছু ওষুধ নিয়ে বর্তমানে গবেষণা করা হচ্ছে, যার ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে অ্যাজমা রোগ পুরোপুরিভাবে দূর করা সম্ভব হবে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাজমা তৈরিকারী দ্রব্যসমূহ শ্বাসনালির টিস্যুতে গিয়ে সি এ এস আর কে কার্যকরি করে তোলে এবং এর ফলস্বরূপ অ্যাজমার লক্ষণসমূহ যেমন প্রদাহ এবং শ্বাসনালি সরু হয়ে যাওয়া প্রকাশ পায়। ক্যালসিলাইটিস সরাসরি ফুসফুসে ব্যবহার করলে এটি অ্যাজমার লক্ষণ অনেকাংশে হ্রাস করে।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

সিফিলিস পূর্ণবয়স্ক ব্যক্তির শরীরে এর লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কী কী ?

একাধিক ক্ষেত্রে সিফিলিসে আক্রান্ত ব্যক্তির বহু বছর পর্যন্ত কোনও উপসর্গই বোঝা যায় না।

প্রাথমিক অবস্থা

একটি বা অনেকগুলি ক্ষত সৃষ্টি থেকে সাধারণত সিফিলিসের প্রাথমিক অবস্থা বোঝা যায়। সিফিলিসের সংক্রমণ ও প্রথম উপসর্গ শুরুর মধ্যবর্তী সময়সীমা ১০ – ৯০ দিন ( গড় ২১ দিন )। ক্ষত সাধারণত শক্ত, গোল, ছোট ও যন্ত্রণাহীন হয়। যে স্থান দিয়ে সিফিলিস শরীরে প্রবেশ করেছে, ক্ষতটি সাধারণত সেই স্থানেই হয়। এটি ৩ সপ্তাহ থেকে ৬ সপ্তাহ থাকে এবং কোনও চিকিত্সা ছাড়াই সেরে যায়। তবুও, প্রাথমিক স্তরে যথেষ্ট চিকিত্সা না করালে সংক্রমণ দ্বিতীয় স্তরে চলে যায়।

দ্বিতীয় অবস্থা

ত্বকে গুটি বেরনো ও শ্লেষ্মা ঝিল্লিতে ক্ষত সিফিলিসের দ্বিতীয় অবস্থা। গুটিগুলি চুলকায় না। গুটিগুলি হাতের তালুতে ও পায়ের পাতার নীচে খসখসে, লালচে বা লালচে খয়েরি দাগের মতও হতে পারে। আবার, অন্য আকারে শরীরের অন্য জায়গাতেও গুটি দেখা দিতে পারে, কখনও কখনও তা অন্যান্য রোগের গুটির মতোও দেখতে হয়। গুটি ছাড়াও, এই অবস্থায় জ্বর, কুঁচকি ফোলা, গলায় জ্বালা, টাক পড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, ওজন কমে যওয়া, মাংসপেশীর খিঁচুনি ও ক্লান্তি প্রভৃতি উপসর্গও থাকতে পারে।

দেরি হলে

দ্বিতীয় অবস্থার উপসর্গগুলি মিলিয়ে গেলেই পরবর্তী অবস্থা ( যা বোঝা যায় না ) শুরু হয়। সিফিলিসের এই অবস্থায় শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রত্যঙ্গ ( যার মধ্যে আছে মস্তিষ্ক, স্নায়ু, চোখ, হৃদযন্ত্র, রক্ত ধমনী, যকৃত, হাড় ও সন্ধি ) ক্রমশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই অভ্যন্তরীণ ক্ষতি বহু বছর পর বোঝা যেতে পারে বহু বছর পর বোঝা যেতে পারে। সিফিলিসের শেষ পর্যায়ের লক্ষণ ও উপসর্গগুলির মধ্যে আছে মাংসপেশী পরিচালনায় অসুবিধা, অসাড়তা, অবশভাব, ক্রমশ অন্ধত্ব ও স্মৃতিভ্রংশ। শরীরের এই ক্ষতি মৃত্যুও ডেকে আনতে পারে।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

গনোরিয়ার উপসর্গ ও প্রতিরোধ

গনোরিয়ার লক্ষণ ও উপসর্গগুলি কী কী?

যৌন সংসর্গে সক্রিয় যে কোনও ব্যক্তির গনোরিয়া সংক্রমণ হতে পারে।

যদিও পুরুষদের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার কোনও রকম উপসর্গ নাও থাকতে পারে, তবু কিছু পুরুষের সংক্রমণের দুই থেকে পাঁচ দিন পরে লক্ষণ বা উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে। আবার উপসর্গ দেখা দিতে ৩০ দিনও লেগে যেতে পারে। উপসর্গ ও লক্ষণগুলির মধ্যে আছে পেচ্ছাব করার সময় জ্বালা বা পুরুষাঙ্গ থেকে সাদা, হলুদ অথবা সবুজ স্রাব নির্গত হওয়া। কোনও কোনও ক্ষেত্রে গনোরিয়া আক্রান্ত পুরুষদের অণ্ডকোষে ফোলা বা ব্যথা হতে পারে।

মহিলাদের মধ্যে গনোরিয়ার উপসর্গগুলি প্রায়ই তত প্রকট নয়। মহিলাদের প্রাথমিক উপসর্গ ও লক্ষণগুলির মধ্যে আছে পেচ্ছাব করার সময় ব্যথা বা জ্বালা, যোনির স্রাব বেড়ে যাওয়া বা দু’টি মাসিক ঋতুস্রাবের মধ্যবর্তী সময়ে রক্তক্ষরণ।

গর্ভবতী মহিলা ও তাঁর শিশুর ওপর গনোরিয়ার কী প্রতিক্রিয়া হয় ?

যদি একজন গর্ভবতী মহিলার গনোরিয়া থাকে, তবে প্রসবকালে জন্মনালীর ভেতর দিয়ে আসার সময় শিশুটি সংক্রামিত হতে পারে। এর ফলে শিশুটির অন্ধত্ব, সন্ধির সংক্রমণ বা জীবনঘাতী রক্তসংক্রমণ হতে পারে। ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা করালে গর্ভবতী মহিলাদের এই সব জটিলতার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনী চিকিৎসার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গনোরিয়া কী ভাবে প্রতিরোধ করা যায় ?

যে কোনও সংক্রমণ প্রতিরোধের সবচেয়ে সুনিশ্চিত উপায় হল যৌনসংসর্গ এড়িয়ে যাওয়া অথবা পারস্পরিক বোঝা পড়ায় যৌনসংসর্গের জন্য একটিমাত্র সঙ্গী বেছে নেওয়া, যার কোনও যৌনসংক্রমণ নেই।

Categories
রোগের লক্ষন ও প্রতিকার

হাইপোগ্লাইসেমিয়া বা রক্তে সুগার মারাত্মক কমে যাওয়ার লক্ষণ

সাধারণত যারা ডায়াবেটিসে ভোগে তাদের রক্তে গ্লুকোজ বা শর্করার (sugar) পরিমাণ কমে গেলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে নানান উপসর্গ দেখা দেয় – যার বাড়াবাড়ি হলে জ্ঞান হারিয়ে কোমা-তে চলে যাওয়া – এমন কি তার থেকে মৃত্যুও হতে পারে। হাইপোগ্লাইসেমিয়া যদি বেশী হয়, তাহলে মস্তিষ্কের স্নায়ুপ্রণালীর ওপর প্রভাব ফেলতে পারে; বারবার হাইপো হলে, অনেক সময় হাইপো অবস্থা সৃষ্টি হবার যেসব ইঙ্গিত আগে থেকে পাওয়া যায়, সেগুলি বুঝতে পারার ক্ষমতাও লোপ পেতে থাকে।

উপসর্গ

বিভিন্ন কারণে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে – ওষুধের প্রভাব, খাদ্য, এক্সারসাইজ, ইত্যাদি। হাইপোগ্লাইসেমিয়ার উপসর্গগুলি দেখা দেয় যখন রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ ৭০mg/dl বা তার কম হয়। উপসর্গগুলি সবার এক রকম নাও হতে পারে। মোটামুটিভাবে উপসর্গগুলি হলঃ

  • মাথা ঘোরা
  • হতচকিত অবস্থা
  • মাথা ধরা
  • খিদে পাওয়া
  • বুক ধড়ফড় করা
  • ঘামা
  • ক্লান্তি বোধ
  • শরীর কাঁপতে থাকা
  • ভয়

এগুলি উপেক্ষা করলে মনোসংযোগের ক্ষমতা হারানো, জিভ এবং মুখ অসার হয়ে যাওয়া , জ্ঞান হারানো বা কোমাতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কেন হাইপো হয়

এর একাধিক কারণ থাকে – সবসময়ে সেগুলি ধরতেও পারা যায় না। বেশী ওষুধ নেওয়া বা নিতে ভুলে যাওয়া, সময়মত খাবার না খাওয়া, কম খাবার খাওয়া, নিয়মের বাইরে বেশী এক্সারসাইজ করা, উষ্ণ আবহাওয়া, বেশী মদ্যপান করা – ইত্যাদি নানা করণে হাইপো হতে পারে।

ডায়াবিটিসকে কব্জা করে রাখতে ইনসুলিন ব্যবহার করা হয়, কিন্তু হাইপো হবার একটা কারণ অত্যাধিক ইনসুলিন নিয়ে ফেলা। ইনসুলিনের ডোজ ঠিকমত নির্ণয় করা সহজ কাজ নয়। তার একটা কারণ, খাওয়াদাওয়ার পরিমাণ, কি ধরণের খাবার, কতটা এক্সারসাইজ করা হচ্ছে – ইত্যাদির উপর নির্ভর করে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ। মদ্যপান রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমায়। গর্ভধারণ করলে বা স্তন্যদানকালে রক্তে গ্লুকোজের পারিমাণ কমে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার চিকিৎসা

যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের রক্তে গ্লুকোজ-এর পরিমাণ নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত। যাদের শর্করা-য়ুক্ত খাবার খাওয়ার পরে রক্তে গ্লকোজের পরিমাণ কমে তারা রি-অ্যাক্টিভ হহাইপোগ্লাইসেমিয়াতে ভুগছে। এক্ষেত্রে চিনি-যুক্ত খাবার না খাওয়া এবং পরিমাণে অল্পকরে খাবার, কিন্তু ঘন ঘন সেটা খাওয়া উচিত। যদি অনেক ক্ষণ অভুক্ত থাকার ফলে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়, তাহলে ঘুমোতে যাবার আগে, প্রোটিন-যুক্ত কিছু খাবার খাওয়া উচিত। যদি ডাক্তার মনে করেন যে, ইনসুলিন বেশী নেওয়া হচ্ছে এবং সেইজন্যেই হাইপো হচ্ছে – সেক্ষেত্রে তার ডোজ কমিয়ে হাইপো হবার সম্ভবনা কমানো যায়।

এছাড়া , হাইপো হচ্ছে বুঝতে পারলে, দু-তিনটে গ্লুকোজ ট্যাবলেট খেলে, বা গ্লুকোজ জেল খেলে উপকার পাওয়া যায়। অনেক সময় আধ-কাপ ফলের রস, এক চামচ চিনি বা সিরাপ, আধ-কাপ কোকাকোলা খেলে হাইপো অবস্থা এড়ানো যায়।

মিষ্টিযুক্ত খাবার খাওয়ার মিনিট পনেরো পরে, রক্তে কতটা শর্করা আছে দেখা উচিত। তখনো 70mg/dl (মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার)-এর কম থাকলে, আরও খাবার খেতে হবে। সবসময়েই হাইপো ঘটলে সময়, সংশ্লিষ্ট ঘটনাবলী, রক্তে শর্করার পরিমাণ ইত্যাদি একটা নোটবিতে টুকে রাখা উচিত। পরে এটি ডাক্তারাকে দেখিয়ে তাঁর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

অনেক সময়ে হাইপো-র ফলে সংজ্ঞা হারানো একটা সম্ভাবনা। সংজ্ঞা হারালে রোগীকে গ্লুকাগন ইঞ্জেকশন দেওয়া দরকার। ডায়াবেটিস রোগীর বাড়ির কেউ যাতে এটি দিতে পারেন, সেটা দেখা দরকার।

হাইপো অবস্থা এড়ানোর উপায়

যারা ডায়াবেটিসে ভুগছে তারা হাইপো অবস্থা এড়াতে পারে, যদি –

  • ডাক্তারের নির্দেশমত এবং ঠিক সময় মত খাওয়াদাওয়া করে
  • খাবার পরে ডাক্তারের নির্দেশমাত এক্সারসাইজ করে।
  • সঠিক পরিমাণ ইনসুলিন এবং ডায়াবেটিসের অন্য ওষুধ নেয়
  • ওষুধের তীব্রতা কখন সবচেয়ে বেশী থাকে – সেই সময়টা জেনে – সেই সময়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকে।
  • পকেটে সবসময়ে চিনির খাবার রাখে
  • রক্তে শর্করার পরিমাণ ডাক্তারের নির্দেশমত নিয়মিত মেপে দেখে এবং সেটি নির্দিষ্ট সীমারেখার বাইরে যাবার আগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।