Categories
খাদ্য ও পুষ্টি খাদ্য তালিকা স্বাস্থ্য পরামর্শ

করোনায় যা খাবেন আর যা খাবেন না।

 ভাইরাস সারাবিশ্বে মহামারী আকার ধারণ করেছে। ক্রমশ বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার বিকেল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৬ লাখ, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ২৮ হাজার এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার মানুষ ।

এই করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন বা খাদ্য তৈরি, সংরক্ষণ ও পরিবেশন বিষয়ে সচেতনতা জরুরি।

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা জরুরি যা আমরা খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে তৈরি করতে পারি। এ সময়ে আমাদের কিছু বিষয় জানতে হবে এবং সেগুলো মেনে চলার চেষ্টা করতে হবে।

যেসব খাবার খাবেনঃ
১। আমিষ সমৃদ্ধ খাবারঃ পরিমিত মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, বা ডাল এর যেকোন একটি আমিষ সমৃদ্ধ খাবার খান এতে আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

২। স্যুপ বা তরল জাতীয় খাবারঃ ভেজিটেবল বা চিকেন স্যুপ, ডাবের পানি, হালকা গরম পানির সাথে মধু, লেবু বা আদা রস করে খান। সেই সাথে সকাল-বিকাল হালকা গরম চা পান করুন।

৩। ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবারঃ স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত সবজি ও ফল খান। সবুজ শাক-সবজি ও হলুদ ফলমূল যেমন আমলকি, পেয়ারা, কলা, লেবু, কমলা ইত্যাদি ফল খান। ফল ভালভাবে ধুয়ে খেতে হবে, অনেক আগের রান্না সবজি বা কাটা ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৪। নিয়মিত ব্যায়াম করুনঃ ব্যায়াম আপনার শরীরের মাংসপেশীকে অ্যাকটিভ করে রোগ প্রতিরোগ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তাই প্রতিদিন ঘরে বসে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।

যে খাবারগুলো এড়িয়ে চলবেনঃ
১। শর্করা ও চর্বি জাতীয় খাবারঃ শর্করা জাতীয় খাবার যেমন- ভাত, রুটি এবং মিষ্টি জাতীয় খাবার কম খান এবং অতিরিক্ত চর্বি জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

২। প্রক্রিয়াজাতকরণ খাবার বা প্রসেস ফুডসঃ অতিরিক্ত সুগার ও সল্ট জাতীয় প্রসেস ফুডস এড়িয়ে চলুন কারন এ জাতীয় খাবার পুরোপুরি হজম না হওয়ায় আপনার শরীরে টক্সিক উপাদান জমা হতে থাকে যা ক্রমশ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমাতে পারে। তাই এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন।

৩। কাচা সবজি বা অর্ধসিদ্ধ খাবারঃ কাচা সবজি, সালাত ও অর্ধসিদ্ধ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন । ফ্রিজে রাখা খাবার অবশ্যই গরম করে খেতে হবে।

৪। ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবারঃ ধুমপান ও অ্যালকোহল জাতীয় খাবার রোগ ক্ষমতা কমাতে পারে তাই এ ধরনের অভ্যাস থাকলে পরিহার করা ভালো।

বাসায় থাকুন নিরাপদ থাকুন। এখন বাসায় বসেই ভিডিও কলে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে পারেন mDoctor অ্যাপের মাধ্যমে

Categories
খাদ্য ও পুষ্টি স্বাস্থ্য পরামর্শ

গরমে আদর্শ ইফতারের প্লেট

এ বছর রোজা একেবারে বৈশাখ মাসে শুরু হলো। গ্রীষ্মের তেজও এ বছর যেন বেশি। তাই এবার রমজানে রোজাদারদের পানিশূন্যতা, লবণশূন্যতা ও বদহজম যেন না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে বেশি।

পানি আর পানীয়

ইফতার থেকে সাহ্‌রি পর্যন্ত দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করে ফেলতে হবে। ইফতারে রোজা ভাঙার সময় আমরা শরবত পছন্দ করি। লেবু, তোকমা, তেঁতুল, টকদই, দুধ, বেল, কাঁচা আম, ইসবগুলের ভুসি ইত্যাদি উপকরণ দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। ডায়াবেটিসের রোগীরা চিনি না দিয়ে বিকল্প চিনি ব্যবহার করতে পারেন বা ডাবের পানি পান করতে পারেন।

পানিশূন্যতা রোধে খাবার

ইফতারে ভেজানো চিড়া দিয়ে দই-কলা, শসার রায়তা, নানা রকমের ফল পানিশূন্যতা রোধ করবে। দুধ-মুড়ি, নরম খিচুড়িও ভালো খাবার। ঐতিহ্যবাহী ইফতারি যেমন পেঁয়াজি, বেগুনি, কাটলেট, চপ, কাবাব, জিলাপি, তেহারি ইত্যাদি যেমন ক্যালরিবহুল, তেমনি এই গরমে অস্বস্তিকর হতে পারে। তেল কমানোর জন্য কাঁচা ছোলা বা সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে শসা, পেঁয়াজ, টমেটো, আদা কুচি, পুদিনা মিশিয়ে সালাদের মতো করে খেতে পারেন। চটপটিও তেলবিহীন। ইফতারের প্লেটে একটি বা দুটি তেলে ভাজা খাবার রাখুন, তবে তেল যেন বহু ব্যবহৃত না হয়।

চাই ফলমূল

রমজানে শাকসবজি তেমন খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই তাজা ফল বেশি খাওয়া ভালো। এতে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, আঁশের চাহিদা মেটে, মেলে প্রচুর পটাশিয়াম, খনিজ, ভিটামিন। খেজুরে উচ্চ মাত্রার আয়রন, শর্করা, ক্যালসিয়াম আছে, কিন্তু এতে ক্যালরিও অনেক। বড়জোর দুটি খেজুর রাখুন প্লেটে।

একটি আদর্শ ইফতারের প্লেট

এক গ্লাস শরবত বা ডাবের পানি। হালকা তেলে ভাজা বা সেদ্ধ বা কাঁচা ছোলা আধা কাপ, মুড়ি মাখানো হলে পৌনে এক কাপ, দুটি খেজুর, পেঁয়াজি/আলুর চপ/পাকোড়া/কাবাব—যেকোনো দুটি আইটেম থেকে দুটি করে। যেদিন হালিম থাকবে সেদিন বেসন বা ডালের তৈরি খাবার বাদ দিন। ফল নিন ইচ্ছামতো (মাল্টা, পেয়ারা, চাঁপা কলা, তরমুজ, বাঙ্গি, আনারস)। শসার রায়তা/টকদই দুই চা-চামচ থাকতে পারে।

Categories
স্বাস্থ্য পরামর্শ

গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন

গরমে অসুস্থতার ভয়ে অনেক ধরনের খাবার এড়িয়ে চলেন অনেকই। শরীরের পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা প্রত্যেক ঋতুর অনুযায়ী আলাদা। গ্রীষ্মকালে বিশেষত প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এমন খাবার রাখতে হবে যা সহজে হজম হয়। ডিহাইড্রেশন ঘটাবে না এমন খাবার বেশি করে খেতে হবে।

দেখে নিন কী কী খাবার এড়িয়ে চলবেন আর কী কী খাবার খাবেন:

রোদ থেকে ফিরে ঠান্ডা পানি খাবেন না:

গরমে রোদ থেকে ফিরেই ঠান্ড পানি খাবেন না। এর মূল কারণটা হল, সূর্যের তাপের মধ্যে থাকার পর সাথে সাথে ঠান্ড পানি খেলে দৈহিক গঠনতন্ত্রে সমস্য হতে পারে। এর ফলে গলায়ও সমস্যা হতে পারে এবং হজমের সমস্যা দেখা যায়।

বেশি ক্যাফিন খাবেন না:

গরম কালে ক্যাফিন এড়িয়ে চলুন। ক্যাফিনে ডিউরেটিক উপাদান রয়েছে। আর এই উপাদান শরীরে পানির মাত্রা কমিয়ে দেয়। তাই গরমকালে খুব বেশি কফি বা চা খেলে মাথা ব্যাথা হতে পারে এবং শরীরে পানি কমে যেতে পারে।

ঠান্ডা পানীয় ও জুস এড়িয়ে চলুন:

ঠান্ডা পানীয় ও জুসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে চিনি। এই ধরেনের খাবার সাময়িকভাবে আপনার শক্তিকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে কয়েক দিন পরেই এর উল্টো ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঠান্ডা পানীয় ও জুস জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলুন। তবে প্রাকৃতিক চিনিসমৃদ্ধ তাজা ফলের জুস পান করতে পারেন।

ক্র্যাশ ডায়েট বন্ধ করুন:

অনেক মানুষই গ্রীষ্মকালে ওজন কমাতে তৎপর হয়ে ওঠেন। দ্রুত ফলাফল পাওয়ার আশায় অনেকেই অন্য ধরনের ডায়েটে করা শুরু করেন। যার ফলে শরীরে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ক্র্যাশ ডায়েটিং আলস্য, মাথা ব্যাথা, বমি ভাব এবং ডায়রিয়ার কারণ হতে পারে।

ডিম, মাছ ও চিকেন:

ডিম, মাছ ও চিকেন শরীরে অত্যধিক তাপ উৎপন্ন করে এমন একটি ভুল ধারণা রয়েছে অনেকের। এই কারণে গ্রীষ্মের সময় অনেকেই এসব খাবার এড়িয়ে চলেন। এই তিনটি খাবারই চর্বিযুক্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ। গরমকালে স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপনি গ্রীষ্মের সময় মাটন, গরুর মাংস এড়িয়ে চলতে পারেন।

Categories
স্বাস্থ্য পরামর্শ

ডায়াবেটিক রোগীর জন্য

রোজা এলেই লাখ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মনে অসংখ্য প্রশ্ন উঁকি দেয়। তারা কখন রোজা রাখতে পারবে না, রোজার কারণে কোনো ক্ষতি হবে কি না, ডায়াবেটিসের সঙ্গে হার্ট, কিডনি বা অন্য কোনো রোগ থাকলে রোজা রাখা যাবে কি না ইত্যাদি। তবে ডায়াবেটিসের গবেষণায় অগ্রগামী প্রতিষ্ঠান আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন রোজা রাখার ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগীদের কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। যেমন—

 

অতিশয় উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ

♦ রক্তে সুগারের মাত্রা যদি চারের নিচে নেমে যায়, তখন সেটিকে বলা হয় হাইপোগ্লাইসেমিয়া। এটা হলে বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, হাত-পা কাঁপা, মাথা ব্যথা, চোখে ঘোলা দেখাসহ কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। এমন যদি হয় যে মাঝেমধ্যেই কারো হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস আছে, তাহলে তার রোজা রাখা উচিত হবে না।

♦ এ ছাড়া টাইপ ওয়ান ডায়াবেটিক রোগী, গর্ভবতী, ডায়ালিসিস গ্রহণকারী বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মতো অসুস্থ ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখা যাবে না।

♦ বিগত তিন মাসে কিটোএসিডোসিসসহ ডায়াবেটিসের তাত্ক্ষণিক জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকলে রোজা রাখা যাবে না।

 

উচ্চমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ

অ্যাডভান্সড কিডনি রোগী, অসুস্থ বয়স্ক ব্যক্তি, বাসায় একা থাকে এবং ইনসুলিন নিতে হয় এমন ব্যক্তি, আগে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হয়েছে এবং এখনো জটিলতা বিদ্যমান এমন কেউ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি—এই গ্রুপভুক্ত ডায়াবেটিক রোগীরা রোজা রাখলে ঝুঁকির মধ্যে থাকবেন। তাই তাঁদের রোজা না রাখাই ভালো।

 

সতর্ক থাকুন

ওপরের দুই গ্রুপের বাইরে সচরাচর ডায়াবেটিক রোগীদের রোজা রাখতে তেমন বাধা নেই। তবে কিছু বিষয়ে তাদের ভালোভাবে খেয়াল রাখা উচিত। যেমন—

ব্লাড গ্লুকোজ দেখুন : ইফতারের ১ ঘণ্টা আগে, সাহরির ২ ঘণ্টা পরে এবং শরীর খারাপ লাগলে দিনের অন্যান্য সময় ব্লাড গ্লুকোজ মাপুন। প্রতিদিন না মাপলেও রোজার মধ্যে সপ্তাহে দু-এক দিন মাপা উচিত। গ্লুকোমিটারে স্ট্রিপ টেস্টের মাধ্যমে ডায়াবেটিস মাপলে ধর্মীয়ভাবে রোজার কোনো ক্ষতি হয় না।

ইফতারে সহজ পাচ্য খাবার খান : ইফতারে সহজ পাচ্য শর্করাজাতীয় খাবার খান, যেটা খুব সহজে হজম হয় এবং খাদ্যগুণ যেন অতিদ্রুত রক্তে মিশতে পারে। যেমন—পরিমাণমতো মৌসুমি ফল, শরবত, ছোলা ইত্যাদি। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। তেল ও চর্বিজাতীয় খাবার পরিহার করুন।

সাহরিতে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট : সাহরিতে খান কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট—অর্থাৎ যে খাবারগুলো ধীরে ধীরে হজম হয় এবং খাবার ধীরে ধীরে রক্তে মেশে। যেমন—ভাত বা রুটি। এসবের সঙ্গে রাখুন প্রচুর পরিমাণ শাকসবজি।

ওষুধের ডোজ সমন্বয় করুন : রোজার সময় ডায়াবেটিক রোগীদের সকালের ওষুধ (ইনসুলিন বা ট্যাবলেট) ইফতারের সময়, দুপুরের ওষুধ রাতে, আর রাতের ওষুধ সাহরিতে—এভাবে সমন্বয় করতে হয়। ওষুধের ডোজের পরিমাণ এবং ওষুধ নেওয়ার সময় পরিবর্তন বা সমন্বয়ের কাজটি নিজে নিজে না করে রোজার শুরুতেই একবার চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ব্যায়াম নয় : ডায়াবেটিক রোগীদের সকাল-বিকাল হাঁটাচলার পরামর্শ দেওয়া হলেও রোজার সময় তারাবির নামাজই শ্রেষ্ঠ ব্যায়াম। তবে ইচ্ছা হলে ইফতার ও রাতের খাবারের মধ্যবর্তী সময় হালকা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে।

 

সতর্ক থাকুন

♦ চোখে ঘোলা দেখা, অতিরিক্ত ঘাম দেওয়া, হাত-পা কাঁপা, গলা শুকিয়ে আসা, মেজাজ খিটখিটে হওয়া, মাথা ব্যথা বা ভারসাম্যহীন অনুভব করলে রক্তে সুগারের পরিমাণ চেক করুন। এ সময় রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা যদি ৩.৯ মিলিমলের নিচে চলে আসে বা ১৬.৭ মিলিমলের ওপরে চলে যায়, তাহলে রোজা ভেঙে ফেলুন।

♦ হাইপোগ্লাইসেমিয়া হলে রোজা ভেঙে ফেলুন।

Categories
খাদ্য ও পুষ্টি ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

রোজায় কী খেলে সুস্থ থাকবেন

রমজান মাসে টানা ১৪-১৫ ঘণ্টা না খেয়ে থাকতে হয়। এ সময় দিনের বেলা আমাদের শরীর যকৃৎ ও পেশিতে জমানো শর্করা ও ফ্যাট থেকে শক্তি লাভ করে। শরীরে পানি জমা থাকে না। ঘাম ও প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যায়, পানিশূন্যতা হয় বলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা দেখা দেয়। কাজে মনোযোগ দেওয়া যায় না। এ ছাড়া অ্যাসিডিটি, গ্লুকোজ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দেয় রোজার মাসে।

ইফতারে আমরা অনেক বেশি খেয়ে ফেলি, ভাজা-পোড়া খাবারই বেশি থাকে। এ জন্য পেট ফাঁপা, বুক-গলা জ্বলা, বমি বমি ভাব হয়। পাকস্থলী ফাঁকা থাকার পর শুরুতেই অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার, তৈলাক্ত ও লবণাক্ত খাবার খেলে অ্যাসিডিটি তো বাড়বেই, সঙ্গে পানির তৃষ্ণা এবং খিদে বাড়িয়ে দেয়। ইফতারের পর থেকে সাহ্রি পর্যন্ত তাই উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার, ফল, সবজি, বাদাম এবং পানিকে প্রাধান্য দিতে হবে।

ইফতার
ইফতারে এমন খাবার রাখবেন, যাতে প্রাকৃতিক চিনির জোগান থাকে এবং যা দ্রুত শক্তি জোগাতে সাহায্য করে।
পানীয়: পানি, ফলের শরবত, স্মুথি, দুধ—এগুলো পানীয়ের অন্তর্ভুক্ত। দুধ ও ফল দিয়ে বানানো ড্রিংকস যেমন ব্যানানা শেক, ম্যাঙ্গো শেক প্রাকৃতিকভাবে সুগার ও ক্যালরির ভালো উৎস। অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত বা কৃত্রিম ফলের জুস খাওয়া যাবে না। ঘরে তৈরি ফ্রেশ ফলের জুস নিন।
খেজুর: খেজুর শর্করা ও খনিজ যেমন পটাশিয়াম, কপার, ম্যাঙ্গানিজ এবং আঁশের অনেক ভালো উৎস। ইফতারে তাই দুটি করে খেজুর রাখুন।
ফল: ইফতারে ফল ডিহাইড্রেশন দূর করে। বিশেষ করে পানিজাতীয় ফল যেমন তরমুজ, আনারস, বাঙ্গি, কমলা, মাল্টা, নাশপাতি খান।
স্যুপ: সবজি ও চিকেন দিয়ে তৈরি স্যুপ রাখা ভালো। মাঝেমধ্যে ছোলা, পিঁয়াজু ও বেগুনির বদলে আমরা স্যুপ রাখতে পারি।
দই: দইয়ে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন ও ভিটামিন ডি থাকে, সহজে খাবার হজম করে। ইফতারে তাই দই, চিড়া-মুড়ি মাখানো
খেতে পারেন। সাহ্রিতে খাওয়ার পরও দই খেতে পারেন।
কাঁচা ছোলা: রান্না ছোলার থেকে কাঁচা ছোলায় পুষ্টিগুণ বেশি। রান্না করলে যে তেল মসলা খাওয়া হতো, সেটা থেকেও বাঁচা যায়। ছোলায় ভিটামিন, খনিজ লবণ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস ও উচ্চ প্রোটিন রয়েছে। শরীরে শক্তির জোগান দিতে এর কোনো বিকল্প নেই।

রাতের খাবার
ইফতারের পর রাতে হালকা খাবার খাওয়াই উত্তম। রাতে লাল আটার রুটি, পাস্তা, ভাত অল্প পরিমাণে খাবেন।
প্রোটিনের উৎস হিসেবে বিনস, ডাল ও আঁশের চাহিদা পূরণের জন্য সালাদ থাকতে পারে।

সাহরি
সাহরিতে শস্যযুক্ত খাবার রাখতে হবে। যেসব খাবার ধীরে ধীরে হজম হবে ও সারা দিন এনার্জি দেবে। যেমন:
ওটস/কর্নফ্লেক্স: পানি, দুধ বা দই দিয়ে খাওয়া যায়, সঙ্গে ফল, বাদাম।
সবজি ও সালাদ: সাহ্রিতে খাবারের সঙ্গে ভিটামিন, মিনারেলস ও পানীয়ের উৎস হিসেবে সালাদ ও সবজি থাকবে।
মনে রাখবেন, সাহরি আজানের আধা ঘণ্টা আগে শেষ করবেন। সাহরি শেষে তাড়াহুড়া করে বেশি পানি পান করবেন না। ভাজা-পোড়া, তৈলাক্ত ও মিষ্টিজাতীয় খাবার বর্জন করুন। বিশেষ করে সাহরিতে মিষ্টি খাবেন না, এতে তৃপ্তি হরমোন লেপটিন কমে যায়, ফলে ক্ষুধা বেড়ে যায়। চা, কফি পানিশূন্যতা বাড়ায়। খেজুর ও সাধারণ পানি দিয়ে রোজা ভাঙা উচিত।

Categories
Featured খাদ্য ও পুষ্টি ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

রোজায় সঠিক খাদ্যাভ্যাস

আমাদের দেশে রমজান মাস এলেই খাওয়াদাওয়ার ধুম পড়ে যায়। মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে কী খাবে, কী খাবে না। স্বল্প ভোজনের বদলে চলে অতিভোজনের আয়োজন। অন্য সময়ের চেয়ে তৈলাক্ত, ভাজাপোড়া খাবার প্রবণতা বাড়ে যা অস্বাস্থ্যকর।

ইফতারে যা খাবেন

♦ রমজানে অনেক মুখরোচক খাবার বানিয়ে বিক্রি করা হয়। এসব খাবার স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে কি না কিংবা ভেজাল তেল, বেসন ও কৃত্রিম রং মেশানো হয়েছে কি না, সে দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাই পারতপক্ষে দোকানের তৈরি ইফতারি ও সাহরি না খাওয়াই ভালো।

♦ যে তেলে খাবার ভাজা হয়, সেই তেল একবারের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ একই তেল বারবার আগুনে ফুটালে তা থেকে পলি নিউক্লিয়ার হাইড্রোকার্বন তৈরি হয়। যার মধ্যে বেনজা পাইরিন নামের ক্যান্সার হতে পারে এমন পদার্থের মাত্রা বেশি থাকে। তা ছাড়া অপরিষ্কারভাবে ইফতারি তৈরি করলে পেটের পীড়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সুস্থভাবে বাঁচার জন্য খোলা খাবার না খাওয়াই উচিত। এটা স্বাস্থ্যসম্মতও নয়।

♦ খুব কম ফলই পাওয়া যাবে, যা ভেজালমুক্ত। তা ছাড়া শরবতের পানীয় বিশুদ্ধ কি না তা নিশ্চিত করতে হবে।

♦ ইফতারের জন্য তৈরি প্রায় সব খাবার তেলও উচ্চ চর্বিযুক্ত। সাধারণত বেশি মুনাফার আশায় এসব খাবার মানসম্মত তেলে এবং সঠিক নিয়মে ভাজা হয় না, তাই স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

♦ সুস্থ রোজাদারের জন্য ইফতারে খেজুর, ঘরের তৈরি বিশুদ্ধ শরবত, কচি শসা, পিঁয়াজু, বুট, ফরমালিন অথবা ক্যালসিয়াম কার্বাইডমুক্ত মৌসুমি ফল থাকা ভালো। কারণ ফলে ভিটামিন ও মিনারেল পাওয়া যায়। ফল খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়, সহজে হজম হয়।

♦ বাসায় রান্না করা নুডলস খেতে পারেন।

♦ বেশি ভাজা-ভুনা, তেহারি, হালিম না খাওয়াই ভালো। কারণ এতে বদহজম হতে পারে।

♦ রুচি পরিবর্তনের জন্য দু-একটি জিলাপি খেতে পারেন।

♦ এখন প্রচণ্ড গরমকাল বলে পরিমাণমতো বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত।

♦ এশা ও তারাবির নামাজের পর অভ্যাস অনুযায়ী পরিমাণমতো ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস, ডাল ও সবজি খাবেন।

 

সাহরিতে যা খাবেন

♦ শরীর সুস্থ রাখার জন্য সাহরি খাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

♦ সাহরির খাবার মুখরোচক, সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়া প্রয়োজন। বেশি তেল, বেশি ঝাল, বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।

♦ ভাতের সঙ্গে মিশ্র সবজি, মাছ অথবা মাংস অথবা ডিম, ডাল থাকা প্রয়োজনীয়।

♦ পাকস্থলীতে বেশি উত্তেজনা কিংবা অস্বস্তি সৃষ্টি করে এমন খাবার খাওয়া ঠিক নয়। কারণ গুরুপাক খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়।

♦ বেশি চর্বিজাতীয় খাবার খেলে রোজাকালীন শরীর অসুস্থ লাগতে পারে, ক্লান্তি কিংবা ঘুম আসতে পারে।

♦ রমজান মাস ওজন কমানোর জন্য সুবর্ণ সুযোগ মেদবহুল মোটা মানুষের জন্য। রমজান মাসের রোজাগুলো রেখে এই সুযোগ অবশ্যই গ্রহণ করা উচিত।

♦ যাঁরা ধূমপানে অভ্যস্ত, তাঁদের জন্য রমজানই ধূমপান ছাড়ার উপযুক্ত সময়।

Categories
প্রাথমিক চিকিৎসা স্বাস্থ্য পরামর্শ

এই গরমে ঘামাচি থেকে বাঁচার ঘরোয়া উপায়

ছাতি ফাটা রোদ আর প্রখর তাপে ওষ্ঠাগত হওয়ার সময়ে এসে গেছে। এ সময় ত্বকের সমস্যাও বেড়ে যায়। সারা দিন ঘেমে থাকা শরীরে জায়গা করে নেয় ঘামাচি। আর এই ঘামাচির জেরে লেগেই থাকে চুলকানির সমস্যা।

ঘামাচি অবশ্য থেমে থাকে না। একেক জনের শরীরে এর প্রভাব বিস্তার হয় একেক রকমভাবে। র‌্যাশ, প্রদাহ সব মিলিয়ে ত্বকের ক্ষতি তো হয়ই, সঙ্গে অস্বস্তি ও শারীরিক কষ্টও বাড়ে।

বাজারে কিছু পাউডার বা সাবান এ সমস্যা থেকে দূর করতে পারে বলে প্রস্তুতকারী সংস্থা দাবি করলেও, তাতে নানা রাসায়নিক মেশানো থাকে। ফলে ত্বকের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।

শিশুদের ক্ষেত্রে তো অনেক সময় এই সব সাবান বা পাউডার বিরূপ প্রভাবও ফেলে। ঘামাচির বাড়াবাড়ি রকমের সমস্যা থাকলে তাই অবশ্যই ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। কিন্তু সাধারণত এই ঘামাচির সমস্যায় আরাম দিতে পারে ঘরোয়া কিছু উপায়। দেখে নিন কীভাবে তা সম্ভব।

শুকনো কাপড়ে কয়েক টুকরো বরফ নিয়ে ১০-১৫ মিনিট ধরে ঘামাচির ওপর লাগান। দিনে ৩-৪ বার এভাবে করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

চার টেবিল চামচ মাটির সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগান। কিছু ক্ষণ রেখে শুকিয়ে নিন। এর পর ধুয়ে ফেলুন। উপকার পাবেন।

এক কাপ ঠান্ডা জলে এক চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে নিন। পরিষ্কার কাপড় ডুবিয়ে ঘামাচির ওপর ১০ মিনিট পর্যন্ত রেখে আলতো করে মুছতে থাকুন।

ঘামাচির মোক্ষম নিরাময় হলো অ্যালোভেরা। ঘামাচির ওপর শুধু অ্যালোভেরার রস বা হলুদের সঙ্গে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে লাগান। কিছু ক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন।

নিম পাতা ঘামাচির উপশম হিসেবে ভালো কাজ করে। নিম পাতার রসের সঙ্গে গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগিয়ে তার ওপর নিমের ডাল বোলালেও আরাম পাওয়া যায়।

দুই টেবিল চামচ চন্দনের গুঁড়ার সঙ্গে পরিমাণ মতো গোলাপ জল মিশিয়ে ঘামাচির ওপর লাগাতে পারেন। দ্রুত উপশম পাবেন।

Categories
স্বাস্থ্য পরামর্শ

ডায়রিয়া প্রতিরোধে ৭ পরামর্শ

দিনে তিনবার বা তার চেয়ে বেশিবার স্বাভাবিকের চেয়ে পাতলা পায়খানা হওয়াকে ডায়রিয়া বলে। ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে পানি ও লবণজাতীয় পদার্থ বের হয়ে যায়। শরীরে পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়। সময়মতো পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি পূরণ না করলে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।

সাধারণত অন্ত্রে বিভিন্ন ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের ফলে ডায়রিয়া হয়। ডায়রিয়ার জীবাণু দূষিত খাদ্য ও পানির মাধ্যমে মানুষের পেটে যায়। আক্রান্ত ব্যক্তির মল থেকে ডায়রিয়ার জীবাণুগুলো হাতের মাধ্যমে, মাছি বা তেলাপোকার মাধ্যমে, এমনকি অনেক সময় সরাসরি খাদ্য ও পানিতে সংক্রমিত হয়। এই দূষিত খাদ্য বা পানি গ্রহণ করলে অন্যরাও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়।

ডায়রিয়া হলে যে পানিস্বল্পতা ও লবণের ঘাটতি দেখা দেয়, তা পূরণ করাই মূল চিকিৎসা। খাওয়ার স্যালাইনে পানিস্বল্পতা দূর করা যায়। মারাত্মক পানিস্বল্পতার লক্ষণ দেখা গেলে রোগীকে শিরায় উপযুক্ত স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা করতে হয়। এ জন্য রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করাই ভালো।

ডায়রিয়া প্রতিরোধে করণীয়
১. মলত্যাগে স্যানিটারি ল্যাট্রিন ব্যবহার করুন।

২. পায়খানা করার পর ও খাওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

৩. খাবার তৈরি করা ও পরিবেশন করার আগেও হাত ধুয়ে নিন। ব্যবহার্য থালা-বাসন, চামচ-বাটি ইত্যাদিও ভালো করে ধুয়ে নিন। এসব কাজে নিরাপদ পানি ব্যবহার করুন।

৪. ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শিশুকে শুধু বুকের দুধ খাওয়ান।

৫. বাসি-পচা খাবার, মাছি বসা খাবার এবং বাইরের খোলা খাবার, শরবত বা ফলের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

৬. রান্না করা খাবার বেশিক্ষণ বাইরে রেখে দিলে তাতে রোগজীবাণু দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সুতরাং খাবার খেয়ে নিন গরম গরম। বাড়তি খাবার ঠান্ডা করে রেখে দিন ফ্রিজে। পরে খাওয়ার সময় আবার ভালো করে গরম করে নেবেন।

৭. পরিষ্কার পাত্রে রাখা টিউবওয়েলের নিরাপদ পানি কিংবা ফোটানো পানি ঠান্ডা করে পান করুন। পানি ফুটিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হলে চুলায় পানি ফুটতে শুরু করার পর ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় ফোটাতে হবে। পানি ঠান্ডা হলে মাটির কলস বা কাচের জার বা বোতলে রাখুন। প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার না করাই ভালো।

Categories
খাদ্য ও পুষ্টি স্বাস্থ্য পরামর্শ

সর্দি-কাশিতে ভিটামিন সি কতটা উপকারী?

মৌসুম বদলের সময় সর্দি-কাশি খুবই পরিচিত সমস্যা। সচরাচর আমরা একে ঠান্ডা লাগা বলে থাকি। এর জন্য প্রায় ২০০ রকমের ভাইরাসকে দায়ী করা হয়। সর্দি-কাশি হলে জ্বর থাকতেও পারে, আবার না-ও পারে। তবে ভাইরাস সংক্রমণের কারণে এর সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা অনুভূত হয়, শরীর ম্যাজম্যাজ করে; হাঁচি, সর্দি, মাথাব্যথা, গলাব্যথাসহ নানা রকম লক্ষণ-উপসর্গ প্রকাশ পায়। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রচুর ভোগান্তি হয়।

ভাইরাসজনিত ব্যাধি হওয়ায় এমন সর্দি-কাশিতে অ্যান্টিবায়োটিকও কোনো কাজ করে না। কথায় বলে, ওষুধ খেলে সর্দি-কাশি গড়ে ১৮ দিনে সারে, না খেলেও একই। এসব জানা সত্ত্বেও আমরা সর্দি-কাশির ওষুধের জন্য হন্যে হয়ে পড়ি। সচরাচর প্যারাসিটামল, অ্যান্টিহিস্টামিন ইত্যাদি ওষুধ ব্যবহৃত হয় এই সমস্যায়। কখনো কফের জন্য সিরাপজাতীয় ওষুধ খান অনেকে, যা আসলে তেমন কোনো উপকার করে না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকেরও কোনো ভূমিকা নেই। অনেকে এই সময় ভিটামিন সি বড়ি চুষে খান।

সাধারণ সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি কোনো কাজ করে কি না, তা নিয়ে বিগত সাত দশকের ওপর বিতর্ক চলছে। ভিটামিন সি-এর ব্যবহার সম্পর্কে ৭২টি গবেষণার ফলাফল আবার নতুন করে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, ২০টি গবেষণায় ১১ হাজার রোগীর সর্দি-কাশি প্রতিরোধে ভিটামিন সি ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এতে কোনো ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়নি। মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষেত্রে কিছু উপকার করেছে। তবে যাঁরা প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন (যেমন: ম্যারাথন দৌড়বিদ, মরু এলাকায় কর্মরত সৈনিক), তাঁদের ক্ষেত্রে ভিটামিন সি ব্যবহার করে ভালো ফল পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে সর্দি-কাশির হার প্রায় অর্ধেক কমানো সম্ভব হয়েছে। ৩১টি গবেষণায় ১০ হাজার রোগীর সর্দি-কাশির স্থায়িত্বকাল নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, রোগের সময়কাল কমানোর ক্ষেত্রেও ভিটামিন সি-এর তেমন কোনো ভূমিকা নেই। সবশেষে বিচার করা হয়েছে উপসর্গের তীব্রতা কমানোর ক্ষেত্রে ভিটামিন সি-এর ভূমিকা। সেখানেও কোনো ভালো ফল পাওয়া যায়নি। দেখা যাচ্ছে, শিশুদের দৈনিক ১ থেকে ২ গ্রাম ভিটামিন সি খাওয়ালে তাদের সর্দি-কাশির তীব্রতা কিছু কমে। কিন্তু এত উচ্চমাত্রায় ভিটামিন শিশুদের খাওয়ানো আবার কতটুকু নিরাপদ, সে প্রশ্ন রয়েই যায়।

তাহলে কী দাঁড়াল? সর্দি-কাশির আসলে তেমন জুতসই কোনো দাওয়াই নেই। এ রকম প্রচণ্ড গরমে ও মৌসুম বদলের সময় পরিবেশে ফ্লু জাতীয় ভাইরাস মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আক্রান্ত হলে উপসর্গ কমানোর জন্য কিছু ওষুধ ছাড়া তেমন কিছু করার নেই। প্রচুর পানি পান করুন, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করুন, বিশ্রাম নিন। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চেষ্টা করুন। এ রোগ নিজে নিজেই সারে, তাই অধৈর্য হবেন না।

Categories
ব্যায়াম ও খাদ্য নিয়ন্ত্রণ স্বাস্থ্য পরামর্শ

স্থূলতা যখন কিডনি রোগের কারণ

কিডনি রোগের মূল কারণ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। তবে ধীরগতির কিডনি রোগের অন্যতম কারণ স্থূলতা। স্থূলতা ও কিডনি রোগ বর্তমানে পৃথিবীতে সুপ্ত মহামারির আকার ধারণ করেছে।

যেভাবে ক্ষতি করে
দেহে চর্বি জমা হয়ে মুটিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ অধিক খাদ্য গ্রহণ। এ ছাড়া বংশগত কারণ, কর্ম সম্পাদনে ধীরগতি, নানা হরমোন, ওষুধের প্রভাব ইত্যাদি এর জন্য দায়ী। অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণের ফলে হজমের পর কিছুটা চর্বিতে রূপান্তর হয়ে দেহে জমা হয়। এই অতিরিক্ত চর্বির কারণে স্থ্থূলতা তৈরি হয়, ওজন বৃদ্ধি পায়। তখন কিডনির ছাঁকনিকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। এতে ধীরে ধীরে কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যায়। একসময় দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে যেতে পারে।

শুধু কিডনি রোগ নয়, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি, ঘুমানোর সময় শ্বাসকষ্ট, লিভারে চর্বি বা ফ্যাটি লিভার, পিত্তথলির রোগ, হাড়ের রোগ, মানসিক রোগ, ক্যান্সার, বন্ধ্যাত্ব এবং সর্বোপরি জীবনযাত্রার মানে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটায় এই স্থূলতা।

ফলে পরোক্ষভাবে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ও কিডনির রোগ সৃষ্টি করে। স্থূল রোগীর ক্ষেত্রে আকস্মিক বা হঠাৎ কিডনি অকেজো হওয়া প্রায়ই দেখা যায়।

করণীয়
দেহের স্থূলতা নিয়ন্ত্রণ করে কিডনির কার্যক্ষমতা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য প্রয়োজন ব্যাপক সচেতনতা। স্থূলতাজনিত কিডনি রোগ থেকে মুক্ত থাকতে বা কিডনি সুস্থ রাখতে কিছু করণীয় হলো :

❏সব সময় সুস্থ, সবল, কর্মচঞ্চল থাকার চেষ্টা করা। মুটিয়ে যাওয়া থেকে সাবধানতা অবলম্বন করা।

❏কায়িক শ্রম, ব্যায়াম করে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখা।

❏উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা।

❏টাটকা শাকসবজি, ফলমূল ও সুষম খাবার খাওয়া।

❏ফাস্ট ফুড ও কোমল পানীয় পরিহার।

❏দৈনিক দেড় থেকে দুই লিটার বিশুদ্ধ পানি পান করা।

❏তামাক, সিগারেট ও মদজাতীয় পানীয় বর্জন।

❏চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যথানাশক, হারবাল ও গতানুগতিক স্থানীয় ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকা।

❏কারো উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও স্থূলতা অথবা বংশগত কিডনি রোগ থাকলে সচেতন থাকা।